মনে হয় না কেউ আছে। ভারী গলায় বন্ড বলে গেল।
বন্ডের দিকে তাকিয়ে মিঃ মুইর বললেন, হা সৃষ্টিকর্তা! তোমার এ দশা কি করে হল? এস একটু মদ খাও, তবে বেশ সুস্থ বলে মনে হবে। ওরা বসার ঘরে চলে এল। জায়গাটা দেখিয়ে দিয়ে বললেন মিঃ মুইর, যেটা ভাল লাগে তোমার, ঢেলে নাও। আমি ফিলিসকে ডেকে তোমাকে একটু চাঙ্গা করে দিতে বলি।
না, না, অনেক ধন্যবাদ। পেটে একটু গেলেই ঠিক হয়ে যাবে। বেশ ভালই লাগছে। যতদিন বাঁচব আর যেন আমাকে বরফের কাছে না আসতে হয়।
আমি এক্ষুনি আসছি।
মুইর চলে গেল।
কথাবার্তা কানে এল বন্ডের এখানে বসেই। মুইর ফিরে এসে বলল, তোমার শোবার ব্যবস্থা করে দিয়েছে ফিলিস্। বন্ডকে দেবার জন্য গ্লাসে হুইস্কি আর সোডা ঢেলে দিলেন। ছোট একটু চুমুক দিলেন।
কি আর বলব? সেদিনের ব্যাপার। এক সময়ে তোমাকে সবই বলব। তোমার এখানে আসার লক্ষ্য হল M-কে। একটা সিগন্যাল পাঠাতে হবে। টেলিপ্রিন্টারে পাঠিয়ে দেবে।
অবশ্যই মুইর ঘড়ি দেখে নিল। আড়াইটে। তোমার ব্যাপারে তুমি বুঝে রাখ। দেওয়ালের কাছে গিয়ে দেখলেন সারি সারি বই সাজানো আছে। একটা বই ঢুকিয়ে একটা ফাঁকে হাত দিলেন। কি যেন নাড়াচাড়া করলেন।
ক্লিক করে শব্দ হতেই একটি ছোট দরজা খুলে গেল। একটা সিন্দুক দেখা গেল। তার থেকে পোর্টেবল টাইপরাইটারের মত একটা বাক্স বের করলেন। তাকে টেলিপ্রিন্টারের পাশে রাখলেন। বাক্সটার তালা খুলে নিয়ে। হাতল ঘুরিয়ে বন্ডকে কাছে আসতে বললেন ইশারা করে।
বন্ড কাছে যেতে মুইর বললেন, ঠিক আছে। এবার তোমার ম্যাসেজ পাঠাতে পার।
বন্ড যন্ত্রটিকে ঝুঁকে পড়ে দেখতে লাগল। মনে মনে সে তাল রেখেছে, এমনভাবে ম্যাসেজ পাঠাতে হবে যাতে M বুঝতে পারেন অথচ মুইর না বুঝতে পারে সব। তার দিকে থেকে পরিষ্কার থাকবে। সে বলতে শুরু করল, সন্দেহের কোন কারণ নেই। সব খবর দেওয়া হচ্ছে না মালিককে একা অনুসরণের জন্য। দুঃখের কথা আটকাতে পারা যায়নি। সম্পূর্ণ রিপোর্ট পাঠানো হল। দশ দিনের ছুটির জন্য কৃতজ্ঞ 007।
.
সুখের সন্ধানে
মিউনিক এয়ারপোর্টের পাসপোর্ট কন্ট্রোল অফিসের বাইরে ওদের দেখা হয়ে গেল। ছোট ন্যানসিয়া গাড়িতে ওঠার আগে পর্যন্ত ট্রেসী কোন কথা বলেনি।
গাড়িতে উঠে সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না, ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল। তোমার একি অবস্থা হয়েছে। জেমস? সে বলল, ওরা কি করেছে তোমাকে বউ ওকে দু হাতে কাছে টেনে নিল। আমার কিছু হয়নি সে বলল। আমি ঠিক আছি। কেন অযথা উতলা হচ্ছ?
বন্ড তার চুল ঠিক করে দিয়ে পরম স্নেহে পকেট থেকে রুমাল বার করে চোখ মুছিয়ে দিল।
ট্রেসী তার ব্যাগ থেকে আয়না বার করে মুখের রং ঠিক করে নিল।
আমি জানি যখনই তুমি আমার কাছে এলে না তখন আরো কিছু কাজ বাকি আছে। তখনই বুঝে গেছি। মার্ক অ্যানেজে টেলিফোনে তোমার খোঁজ করেছিল ও প্রশ্ন করেছিল তোমার সাথে আমার দেখা হয়েছে কিনা। কেমন যেন রহস্যজনক মনে হল ওর কথাবার্তা। তাছাড়া একটু চিন্তিত মনে হল। যখন বললাম যে আমার সাথে দেখা হয়নি তখনই ফোন ছেড়ে দিল।
ওঃ।
ওঃ আবার কি? তুমি ভাবছ আমি প্লিজ গ্লোরিয়ার খবর কাগজে পড়িনি? সকালবেলা যখন ফোন করলে তোমার মুখে তো কোন কথাই তখন ছিল না। ফোন করেছ তুমি জুরিখ থেকে। তুমি ভাবছ আমার মাথায় কোন বুদ্ধিই নেই।
না, তা ভাবব কেন? বন্ড হেসে অবস্থাকে তরল করার চেষ্টা করল। ট্রেসী আয়নাটা ঢুকিয়ে রাখল ব্যাগে। ঠিক আছে, সে বলল, আমি কোন প্রশ্ন করব না।
রাগ করলে?
না, রাগ করিনি। উত্তপ্ত গলায় ট্রেসী বলল, পাহাড়ে গেছ, রেড ইন্ডিয়ানের খেলা দেখতে। স্বার্থপরতার একটা সীমা কিন্তু আছে। বন্ড হাত বাড়িয়ে হুইল-এর উপর ট্রেসীর হাতটা জোরে চেপে ধরল। নাটকীয় দৃশ্য কোনদিন সে বরদাস্ত করতে পারে না। কিন্তু ট্রেসীর বক্তব্যে কিছু পরিমাণ সত্যতা সে অস্বীকার করতে পারল না। ভেবেছে সে, কাজের কথা ছাড়া তার কথা কিছুই ভাবেনি।
ট্রেসী গাড়িতে স্টার্ট দিল। অনেক ভিড়ের মধ্যে ও নিপুণ হাতে তার ছোট গাড়িটা চালিয়ে যেতে লাগল।
বন্ড বলল, আমি খুবই দুঃখিত ট্রেসী। কিন্তু এই কাজ না করে আমার উপায় ছিল না। তুমি হয়ত জেনে থাকবে কোন কাজ থেকে পিছনে চলে আসা আমার স্বভাব বিরুদ্ধ। বাঁ-হাতে বন্ডের চিবুক স্পর্শ করল ট্রেসী। তুমি যদি দস্যু না হতে, সে বলল, তাহলে আমি কি তোমাকে ভালবাসতে পারতাম? তোমার এই জীবনে আমি একদিন অভ্যস্ত হয়ে যাব, তোমার কোন চিন্তা নেই। তোমার স্বভাব উল্টে ফেলার প্রয়োজন নেই। বন্ড হাসল। পাশ থেকে খবরের কাগজটা তুলে নিল সে। অনেকক্ষণ কাগজ না দেখে আর থাকতে পারছিল না। প্রথম পাতাতেই চোখে পড়ল।
প্লিজ গ্লোরিয়াতে রহস্যজনক বিস্ফোরণে লক্ষপতির শৈলাবাস ধ্বংস হয়েছে।
তারপরেই আছে—
পুলিশ হেলিকপ্টারের যাচ্ছে অনুসন্ধান করার জন্য।
এর ঠিক নিচেই একটা ছোট খবর
বিভিন্ন ব্রিটিশ এয়ারপোর্টে নয়জন তরুণী আটক করা হয়েছে। আশংকা করার কারণ আছে যে, এরা জুরিখ থেকে পোলিও রোগের সংক্রমণ নিয়ে আসছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের একজন মুখপাত্র-এর মতে এমন সতর্কতা একটি নিত্য কর্ম ছাড়া আর কিছু নয়।
বন্ড দেখে হাসল। কাগজটা রেখে দিল। ছোট একটা নিঃশ্বাস নিল।
