পাইলট রেগে বলল, ফেডারেল এয়ার কন্ট্রোল। তোমরা জেনিভা ইন্টারন্যাশনাল অফিসে খোঁজ কর। আমি মাত্র একজন সামান্য পাইলট। পাইলট আবার বলল, তোমরা যদি কাগজপত্র হারিয়ে ফেল সেটা কি আমার দোষ? ফের বলছি, তোমরা জেনিভার সাথে যোগাযোগ কর।
উত্তরে ওরা বলল, পাহাড়ে দারুণ অস্পষ্ট, কারা তোমাদের যাত্রী আছেন?
বিশ্ব সংবাদপত্রের প্রতিনিধিবর্গ। মনে কর না তারা তোমাদের পাগলামি শুনছে না। কাল ভোরে কাগজের খবর কি। থাকবে তা একবার ভেবেছ? সারা বিশ্ব তোমাদের নিন্দা করবে। এবারে তোমরা একটু শান্তিতে উড়তে দেবে কি? আর দয়া করে তোমাদের নোট বইতে লিখে নাও, সোভিয়েত এয়ারফোর্স থেকে সুইজারল্যান্ড আক্রমণ করতে আসেনি।
কোন শব্দ পাওয়া গেল না।
উপত্যকার উপরে এসে পড়ল।
বন্ড ঘড়ি দেখল আর দশ মিনিট।
মার্ক এ্যানজে এবং অন্যান্য সবাই তার দিকে তাকিয়ে দেখছে। সূর্যের শেষ আলোয় তাদের মুখগুলি সব রক্তাভ হয়ে উঠেছে। চোখের নজর সব একাগ্র।
.
নারকীয় উল্লাস
দেখা যাচ্ছে।
বন্ড তখন আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। পাইলট যখন নামবে ভাবছে এমনি সময়ে রেডিওতে অত্যন্ত রাফ ভাষায়। প্রথমে জার্মান পরে ফরাসী ভাষায় শোনা গেল–নামা নিষেধ। এটা ব্যক্তিগত এলাকা, আবার বলছি নামবেন না।
পাইলট হাত দিয়ে রেডিও বন্ধ করে দিল। ভাল করে নামার জায়গাটা দেখে নিল। তারপর ধীরেসুস্থে নেমে পড়ল।
ইঞ্জিন বন্ধ করল।
মার্ক তার দলবল নিয়ে নেমে পড়ল। অতি কঠোরভাবে বলল, ফেডারেল পুলিশ এ্যলপাইন ডিউটি। ক্রীসমাস সন্ধ্যায় এখানে গোলমাল হয়েছে। অনুসন্ধানের জন্য এসেছি। হেড-ওয়েটার দ্রজ বলল, স্থানীয় পুলিশ সব খোঁজ নিয়েছে। রিপোর্টও পাঠানো হয়ে গেছে। অতএব তোমরা চলে যাও। পাইলট বন্ডের গায়ে খোঁচা দিয়ে বাঁদিকে দেখিয়ে দিল। কাউন্ট যেখানে থাকে, সেই বাড়ি। বাড়ি থেকে একটা লোক বেরিয়ে এল, ছুটতে লাগল কেবল স্টেশনের দিকে, এক্ষুনি আর দেখা যাবে না।
বন্ড চিৎকার করে উঠল তাড়াতাড়ি, পালের গোদা পালিয়ে যাচ্ছে। হেলিকপ্টার থেকে লাফিয়ে পড়ল সে।
একজন জার্মান ভাষায় বলল, সেই লোকটা, মানে সেই গোয়েন্দা।
বন্ড তখনই ছুটতে থাকল।
আর সেই সময়ে শুরু হল নরক গুলজার। একসাথে অনেক গুলো গুলির শব্দ, বন্ডের পাশ দিয়ে কয়েকটি গুলি চলে গেল। পরক্ষণেই স্টেনগান চালাতে থাকল মার্ক-এর দল। লোকটি বন্ডের চোখের বাইরে চলে যেতে পারল না। বন্ড ছুটে গিয়ে সেই একই ঘরে ঢুকে পড়ল। পায়ে বব স্কী তাড়াতাড়ি করে এটে নিয়ে লোকটি আবার ছুটতে থাকল। চাঁদের আলো তার মুখে পড়তে, বন্ড চিনে ফেলল ব্লোফেল্ডকে। বন্ড তাড়া করে গেল।
ব্লোফেল্ড হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেল, আর তাকে দেখা গেল না।
ঢালু বরফের নিচের দিকে ঘণ্টায় পঞ্চাশ মাইল বেগে সে ভেসে চলতে লাগল। কতদূর যেতে পারে ব্লোফেল্ড। যখনই সে হেলিকপ্টারের শব্দ শুনেছে আর তখনই সব বুঝে গেছে।
সামনে সেই s অক্ষরের মত বাঁক। তখন বন্ড কোন কৌশলের কথা চিন্তা করল না। বরফের ওপর চাপ দিয়ে তার বেগ কমানোর চেষ্টা করল। বাঁক নেবার সময় তার কনুয়ের মাংস ছিঁড়ে গেল। যন্ত্রণায় কাতর হয়ে উঠে বন্ড দাঁতে দাঁত চেপে ধরল। কিছু দূর চাঁদের আলোয় আবার ব্লোফেল্ডকে দেখা গেল। তবু তাকে একটা সুযোগ নিতেই হবে। সে স্তূপের পাশ দিয়ে ছুটতে থাকল। পেছনে বরফের স্তূপ। সামনে যতদূর দেখা যায় চাঁদের পরিষ্কার আলোয় বরফের। স্তূপ। আর মাত্র পঞ্চাশ গজ দূরে আরোও একটি লোককে ছুটতে দেখা গেল।
নিঃশ্বাস বন্ধ করে বন্ড ছুটতে থাকল। ব্লোফেল্ড মুখে ঘুরিয়ে গুলি ছুঁড়তে থাকল। কিন্তু এ অবস্থায় তাক করা যায়।, দুটো গুলি ফস্কে গেল। সামনে বরফের ছায়া পড়ল। ব্লোফেল্ড আর ত্রিশ গজ দূরেও নেই। ওট কি? গ্রেনেড?
বরফে বুটের ধাক্কার বেগ কমাতে সে চেষ্টা করল। ব্লোফেল্ড কি বোমা গড়িয়ে দিয়েছে? বন্ড ভয় পেয়ে গেল।
থমকে পড়া যাবে না। ঐ গড়ানো বোমার পাশ দিয়ে যাওয়া ছাড়া বন্ড আর কোন উপায় দেখল না।
পরক্ষণে বিদীর্ণ শব্দ করে বোমা ফাটল। বন্ড কয়েক হাত শূন্যে উঠে গেল। মনে হল শূন্যেই সে উঠে যাচ্ছে। তারপর নরম বরফের উপরই পড়ে গেল। একমুঠো বরফ তুলে বন্ড কপালে ও কনুয়ে ঘষতে থাকল। চাঁদের আলোতে রক্তটা কালো দেখাচ্ছে। স্কীটাকে পরীক্ষা করে দেখল। দু-একটা বন্টু খুলে গেছে ও বেঁকে গেছে কিছুটা।
পায়ের স্কীটা ঠিক করেই দৌড়াতে লাগল। সাবধানে এগুতে লাগল, ঘণ্টায় দশ মাইলের বেশি হবে না।
গাছ পেরিয়ে সে রাস্তায় এসে পড়ল। চারদিকে তাকিয়ে পা থেকে স্কী খুলে নিল। ব্লোফেল্ড কি এখানে কোথাও লুকিয়ে আছে।
না ব্লোফেল্ড কোথাও নেই। থাকলে এতক্ষণ বন্ডকে গুলি করত, এতক্ষণে সে হয়ত বারলিনা পাশ পেরিয়ে গেছে। বন্ড এগিয়ে গেল, সে ভাগ্যক্রমে ট্রেনটা পেয়ে গেল। z স্টেশনের কর্তা ফ্ল্যাটের সমানে সে যখন ট্যাক্সি থেকে নামল তখন রাত দুটো, ট্রেনে যদি সে একটু ঘুমিয়ে নিত। সে বেল বাজিয়ে নিয়ে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়াল।
এলোমেলো চুল, পাজামা পরা একটা লোক দরজা খুলে দিল।
কি ব্যাপার? কে তুমি এত রাতে বিরক্ত করতে এসেছ।
007, বন্ড বলল।
ভিতরে চলে এস। দরজা খুলে দিলেন মিঃ মুইর। বন্ড ঢুকে যাবার পর রাস্তার দু দিকে দেখে নিয়ে বললেন, পেছনে কেউ আছে নাকি? দরজাটা তিনি বন্ধ করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দিলেন।
