বল।
বন্ড তাকে আগাগোড়া সব কাহিনীই বলতে লাগল। এমন কি রুবির কথা পর্যন্ত বাদ দিল না। আগে থেকেই এই লোকটির প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে। হয়ত একটু ভালও বেসে ফেলেছে। ঠিক বলতে হয়ত পারব না। তবে এটা ঠিক, এমন প্রবল ব্যক্তিত্বের মানুষকে অগ্রাহ্য সে কোন ভাবেই করতে পারবে না।
মার্ক এ্যানজের মুখে কোনই ভাবান্তর লক্ষ্য করা গেল না, শুধু তার জান্তর চোখ দুটি তাকে অনবরত দেখে যাচ্ছিল। বন্ডের কথা শুনে নিয়ে সে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে পড়ল। আস্তে আস্তে চেয়ারে বসে একটা সিগারেট ধরিয়ে বলল, সত্যিই খুব খারাপ ব্যাপার। এটাকে একেবারে শেষই করে দিতে হবে, না শেষ নয়। নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে লোকটিকে। জেমস্ আমি একদম ভাল লোক নই। আমি খুবই খারাপ। আমার বহু গণিকা ভবন আছে। আমি চোরা মালের ব্যবসা করি। টাকার বিনিময়ে আমি লোকের খবরদারি করে থাকি। কেউ যেন তাদের গায়ে হাত না দিতে পারে যারা আমার সাহায্য চায়। অতি বড়লোক-এর টাকা আত্মসাৎ করার স্বভাব আমার আছে। অনেক সময়েই আইন অমান্য করতে হয় আমাকে, আর সেই জন্যই চারটে খুনও করতে হয়।
কে জানে আজ, নইলে দু দিন পরে আমাকে স্বভাব বদলাতে হবে। তবে যা বলতে যাচ্ছি এই ব্লোফেল্ড লোকটি অতি শয়তান। ব্লোফেন্ডের একটা ব্যবস্থা করার জন্য তুমি এখানে এসেছ। আমি সবই জানি, আমাকে কিছু বলতে হবে না। অবশ্য সরকারীভাবে কিছু করতে পারব না। তোমার মালিক ঠিকই বলেছেন। তুমি আমার সাহায্য চাও এই তো? হঠাৎ সে হেসে উঠল। এটাই তুমি বিয়ের উপহার হিসাবে চাও! তাই না বন্ড।
হ্যাঁ, তাই চাই। কিন্তু আমার যেটুকু করবার তা আমি করব। সেখানে আমি থাকব। আমিও নেব ব্রোফেন্ডের ভার।
হবে, হবে। এবার ডাকি আমার লোকদের? ওদের কোন কারণ শোনার দরকার নেই। আমি যা হুকুম দেব তাই করবে। খুব শীঘ্র কাজটা সমাধান করতে হবে। পরিষ্কার কাজ, কোন এলোমেলো ব্যাপার নয়।
মার্ক এ্যানজে ফোন তুলে কথা বলল।
এক মিনিট পরে দুইজন লোক এসে ঘরে ঢুকল। একবার মাত্র বন্ডের দিকে তাকিয়ে চেয়ারে বসে পড়ল। বন্ডের পাশে যে বসে ছিল তাকে একদম ষাড়ের মত দেখতে। নাকটা ভাঙ্গা, কোন এক সময়ে হয় মুষ্টিযোদ্ধা নয়, কুস্তিগীর ছিল।
মার্ক বলল, এর নাম চে চে।
বন্ড তার হলদে চোখের দিকে তাকাল। চোখ দুটো তার মুখের উপরই স্থির আছে। আর এ হল টুস্যা, সবাই একে লেপুফ বলে ডাকে।
আর এ, বলে বন্ডের মুখের দিকে তাকাল। আমার বন্ধু, আসল বন্ধু, লে কম্যানড্যান্ট। এবারে কাজের কথা বল। এতক্ষণ সে ফরাসী ভাষা বলছিল। এবারে বলতে লাগল কর্সিয়ান ভাষা। বন্ড কিছুই বুঝতে পারল না। কথার মাঝখানে একটা বড় মানচিত্র দেরাজ থেকে বের করে টেবিলের উপর রেখে দিল। এক মুহূর্ত দেখে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে তার আঙ্গুল রাখল। বেশ মনযোগ দিয়ে লোক দুটি দেখতে লাগল।
চে চে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে কিছু বলল। মার্ক এ্যানজে খুব উৎসাহে ঘাড় নাড়ল। বন্ডকে একখণ্ড কাগজ ও পেনসিল দিয়ে বলল, এখানে সবকিছু লিখে নাও। সবকিছু যেন কোন রকম ভুল না কর। মনে কর এটাই পিজ গ্লোরিয়ার বাড়ি, দাগ দিয়ে রাখ।
মার্ক বলতে শুরু করল, বন্ড বর্ণনার সময় প্রত্যেকের কি কাজ সব লিখে নিল। ফোন বেজে উঠল।
বন্ড রিসিভার কানে দিয়ে কয়েকটি শব্দ লিখে রাখল কাগজে। ফোন রেখে বন্ডের দিকে এমনভাবে দেখল যে তার চোখে এক মিনিটের সন্দেহ।
লন্ডন থেকে টেলিগ্রাম, সে বলল, সই করেছে ইউনিভার্সাল। লিখেছে পাখিরা সব শহরে একসাথে জড় হয়েছে। কালই সব চলে যাবে, এটা কি ব্যাপার বল তো।
বন্ড বলল, দেখ কি কাণ্ড। তোমাকে বলতে আমি একদম ভুলে গেছি যে এ রকম একটা তার তোমার নামে আসবে। এর মানে হচ্ছে ঐ মেয়েগুলি জুরিখে এসে পৌঁছেছে। কাল ইংল্যান্ডে যাবে। খুবই ভাল খবর।
নিশ্চয় ভাল। তা ঠিকই করেছ তোমার নামে টেলিগ্রাম না করতে। তোমার এখানে থাকার কথা নয় যা আমাকে জানান যায়।
আরো কিছুক্ষণ কর্সিয়ান ভাষায় ওদের সাথে কথা বলার পর সভা শেষ হল। বন্ডের লেখা কাগজটা মার্ক পরীক্ষা করে টুসঁার হাতে দিল। টুসা কাগজটাকে ভাঁজ করে পকেটে রেখে দিল। বন্ডের দিকে মুখ করে মাথা ঝুঁকিয়ে দু জন ঘর থেকে বের হয়ে গেল।
মার্ক চেয়ারে হেলান দিয়ে বলল, কাজ ভালই এগোচ্ছে কি বল? সবাই এরা অনেক টাকা পাবে। আর সেটা যে কাজে বিপদ আছে তা করবার জন্য ছটফট করতে থাকে। ওরা আরো খুশি হয়েছে যে আমি দলের নেতৃত্ব দেব। তোমার সম্বন্ধে ওরা সন্দেহ করছিল। আমি বলে দিয়েছি তুমি সব চাইতে ওস্তাদ। যেমন তোমার পিস্তলের তাক, তেমনি জোর কব্জির। মার্ক হেসে বলল কি, ঠিক বলেছি তো?
ধন্যবাদ পিস্তলের কথা ঠিকই আছে। কিন্তু হাতাহাতি? ওরে বাবা!
আমি ওদের ভিতর পাঁচজনকে নেব। আর আমি ও তুমি নিয়ে মোট সাতজন। পাহাড়ে সবসুদ্ধ, ক জন বলেছিলে?
বড় কর্তাকে বাদ দিয়ে আটজন হবে।
হ্যাঁ, বড়কর্তাই বটে। ওটা যাতে না পালাতে পারে সেই দিকে নজর রাখতে হবে।
মার্ক দাঁড়াল, এবারে ডিনার। সেরা ডিনারের অর্ডার দিয়েছি–এ ঘরেই দিয়ে যাবে।
তারপর তুমি শুতে যাবে, হয়ত মুখে মদ ও রসুনের গন্ধ থাকবে।
ঠিক আছে? এর থেকে ভাল আর কি হতে পারে? বন্ড মন থেকে কথাগুলি বলল।
