শেষ নয় তো কি?
দেখ তো, কিছু বাকি আছে না কি? মাউথ পীসটা মুখের ওপর চেপে বন্ড চুমু দিল।
এরপর বন্ড মার্ক এ্যানেজেকে ফোন করে তার ঘুম ভাঙাল।
কি ব্যাপার, এত রাতে? মার্ক প্রশ্ন করল।
আমাদের বিয়েতে কি উপহার দেবে?
যা তুমি বলবে? যা আমার আছে, আর যা আমার নেই, অথচ তোমার পক্ষে তা অধিকার করা সম্ভব। তুমি বল কি বলতে চাও?
কালকে সন্ধ্যের সময় বলব। বিকেলে থাকব মার্সাই। আমার সাথে যে দেখা করবে এমন কাউকে পাঠাতে পারবে? দরকার আছে। পরে একসঙ্গে থাকব। তোমার কাজে ডাইরেক্টরদের পাওয়া যাবে তো। একেবারেই সুইজারল্যান্ডে মাল হচ্ছে না। বিক্রিটা যেভাবেই হোক বাড়াতে হবে। নইলে বড়ই লোকসান হবে।
মার্ক এবার বুঝেছে। সত্যিই সুইজারল্যান্ডে কিছুই করা যাচ্ছে না। হ্যাঁ, আমিই ডাইরেক্টরদের সবাইকে খবর দেব। তারা সবাই উপস্থিত হবে। আমি তোমাকে কথা দিলাম। বাইরে যতটা সম্ভব তার সামান্যতম ত্রুটি করব না। গুডনাইট জেমস্, গুডনাইট।
মার্সাই-এ একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার তার জন্য অপেক্ষা করছিল। দস্যর মতই তার চেহারা। কোন জায়গাতে কেউ তাকে আটকাল না। সবাই তো মারিয়াসকে চেনে। সবাইকে একটি দুইটি করে খারাপ ঠাট্টা করে যাচ্ছিল সে, ঠোঁটের কোণায় আধপোড়া সিগারেটের টুকরো।
এয়ারপোর্ট থেকে রাস্তায় এসেই সে বলল, ক্ষমা করবেন আমার এই অশোভনতার জন্য, ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে বলল, আমার উপর আদেশ হয়েছে আপনাকে সাবধানে এখানে নিয়ে আসা। যেন বিশেষ কারুর নজরে আপনি না পড়তে পারেন। এখানকার সব গুণ্ডাদেরই আমি জানি। আমার দিকেই ওদের চোখ থাকুক, এটাই আমি চেয়েছিলাম, বুঝলেন কমান্ডার সাহেব?
বুঝলাম মারিয়াস। কিন্তু আমি তো আর একটু হলেই হেসে ফেলতাম। আপনি এখানকার ভাষা বোঝেন?
খুব বুঝি স্যার।
ও! চুপ করে থেকে, হায়, ওয়াটারলুর পরে আর কি ইংরেজদের হেয় ভাববার সাধ্য কারোর আছে কি?
ওয়াটারলুর পরে ফরাসীদের সম্পর্কেও কি তাই বলা যাবে। ঠিক উল্টোও হতে পারত, বুঝলে?
মাবিয়াস অতি নির্বিঘ্নে তার গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে অন্য ড্রাইভারদের প্রতি দু একটা বাঁকা বা কটু কথা বলতে শোনা যাচ্ছে ঠিক। বন্ড সমুদ্রের গন্ধ পেল। ফায়েতে অ্যাকর্ডিয়ন বাজছে।
একটি বাড়ির সামনে এসে মারিয়াসের গাড়িটা থেমে গেল। রাস্তা থেকে শোরুম দেখা গেল। টেলিভিশন সেট, রেডিও, গ্রামোফোন, ইলেকট্রিক ইস্তিরি, পাখা এবং আরো নানা জিনিসপত্রে ঘর বোঝাই হয়ে আছে।
বন্ড নেমে পড়ল গাড়ি থেকে। মারিয়াস চট করে তার সুটকেসটা তুলে নিয়ে ফুটপাত পেরিয়ে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল। বন্ড এল তার পেছনে। শো-রুম পার হয়ে গালিচা পাতা ছিল। একটি লোক নেমে এসে মারিয়াসের হাত থেকে সুটকেসটা নিয়ে নিল। মারিয়াস বন্ডের হাতটা তুলে নিয়ে হাড় কাঁপানো একটা ঝাকুনী দিয়ে চোখটা টিপে দিল ও হেসে ফেলল, তারপর চোখের পলকে ঘরের বাইরে অদৃশ্য হয়ে গেল।
সুটকেস হাতে লোকটি লিফটের পাশে এসে দাঁড়াল। বন্ড লক্ষ্য করল যে বগলের কাছে ডানদিকে একটু উঁচু আছে। জামাটা। তবে কি পিস্তল। বন্ড লিফটে ঢুকে পড়ল। লোকটি তারপর ঢুকে দরজা বন্ধ করে বোতাম টিপে দিল।
একেবারে উপরে গিয়ে লিফট থেমে যেতেই দেখা গেল প্রায় একই পোশাক পরা আর হাবভাবে একই রকম দেখতে আর একটি লোক অপেক্ষা করছে। সুটকেসটা অন্য হাতে গেল। লোকটি গালিচা পাতা কড়িডোের পেরিয়ে একটি ঘরের দরজা খুলে ফেলল। শোবার ঘর, চারদিকে আরামের উপকরণ দেখা গেল। খোলা দরজা দিয়ে গোসলের নানা রকম ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে। বন্ডের তখন মনে হল জানালার পর্দাটা উঠালেই বন্দরের নানা রকম দৃশ্য দেখা যাবে। লোকটি সুটকেসটা রেখে দিয়ে বলল, সিয়ো জ্যাকোর সাথে এখুনি আপনাকে দেখা করতে হবে।
লোকটিকে অপেক্ষা করতে বলে বন্ড গোসলের ঘরে ঢুকে পড়ল। তাকে পীয়ার্স ট্রান্সপ্যারেন্ট সাবান দেখে অবাক হয়ে গেল।
একেবারে খাঁটি ইংরেজ সাবান, সে অনেকক্ষণ ধরে গোসল করে গেল। তারপর বাইরে বেরিয়ে এল।
সেই লোকটির সাথে করিডোরের শেষ প্রান্তে একটি ঘরের সামনে এসে হাজির হল। লোকটি দরজা খুলে দিল। বন্ড তাকে ঢোকার সাথে সাথেই বন্ধ হয়ে গেল।
বড় টেবিলের অন্য দিকে একটা চেয়ারে মার্ক এ্যানজে বসে আছে। যেন মনে হল পাথরের খোদাই করা একখানা মুখ। আর সোনা দিয়ে বাঁধানো হাসি। মার্ক উঠে দাঁড়াল চেয়ার থেকে, এগিয়ে এসে বন্ডের কাঁধে হাত রাখল, দু গালে। দু টো চুমু খেল। বন্ড কেমন হয়ে যাচ্ছিল দেখে সামনে নিল। মার্ক এ্যানজের চওড়া পিঠটা চাপড়ে দিল।
মার্ক একটু হেসে উঠল, মাপ কর, এমনটি আর হবে না। এই প্রথম ও শেষ, এসো একটু পান করি। আরাম করে বস। বল তোমার জন্য আমি কি করতে পারি। ট্রেসীর ব্যাপারে তুমি মত বদলে ফেলনি তো? সব ঠিক আছে তো?
অবশ্যই সব ঠিক আছে। ব্যবস্থাও সব করে রেখেছি। এ সপ্তাহের শেষের দিকে আমরা বিয়ে করব। আমি সপ্তাহ দুই ছুটি নিয়েছি। বিয়েতে তুমি থাকছ তো? আসব তো, মার্ক গর্জন করে উঠল। শেষ পর্যন্ত তোমরা আমাকে তাড়িয়ে দেবার চেষ্টা করবে। দেখে নিও, আমার খুব চালাক দু জন অনুচর বাইরে অপেক্ষা করছে। তার আগে তোমাকে কয়েকটি জরুরী কথা বলা দরকার। তবে দয়া করে সর্বদাই মনে রাখবে যে এটা খুব গোপনীয়।
