বন্ড ম্যাপটা টেনে নিয়ে দেখতে লাগল। মনে হল, এবারেই তার আসল কাজ শুরু হবে। ব্লোফেল্ডকে শেষ করার কাজ, অন্তত দায়িত্বটা যে নিতে হবে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।
হ্যামন্ড ট্রে নিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ল। সোডা, হুইস্কি আর চা টেবিলের উপর রেখে চলে গেল সে। M জানালা থেকে টেবিলে চলে এলেন, বন্ডকে বললেন হুইস্কি ঢেলে নিতে। নিজে এক বড় পেয়ালাতে চা ঢেলে নিয়ে বসলেন, দুধ নেই, চিনি নেই। এক সময় প্রায় একটু অন্যমনস্ক স্বরে বললেন, নোংরা সব নোংরা কাজ এসব, বুঝলে বন্ড। কিন্তু কিছু একটা করতে তো হবেই। আর চুপ করে বসে থাকা যাবে না, লাল ফোনটা কাছে টেনে নিলেন তিনি। হোয়াইট হলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যায়। সারা বৃটেনের বড়জোর পঞ্চাশজন লোকের এই সুবিধা আছে।
রিসিভার তুলে M বললেন, স্যার রোনাল্ডের সাথে কথা বলতে চাই। চায়ের কাপে একটা লম্বা চুমুক দিলেন তিনি। কে, রোনাল্ড নাকি? M বলছি। বিকেলবেলায় বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত।
মনে হল লাইনের অন্য দিক থেকে একটি ছোটখাটো বিস্ফোরণ শোনা গেল; অপ্রাপ্তবয়স্কদের গণিকাবৃত্তি সম্বন্ধে রিপোর্ট পড়েছিলে? কি বলছ তুমি? ক্রীসমাসের সময়? ওসব ছাড়, শোন ভীষণ প্রয়োজনীয় ব্যাপার। ব্লোফেল্ড আর থান্ডারবলের কেস মনে আছে তো? ও আবার অপকর্ম শুরু করে দিয়েছে। দীর্ঘ সে কাহিনী, এখন বেশি বিস্তারিতভাবে বলা যাবে না। সকালে এ সম্পর্কে রিপোর্ট যাবে আপনার কাছে। কৃষি আর মৎস্য দপ্তরের সাথেও এর যোগাযোগ আছে। মিঃ ফ্রাঙ্কলিনকে চেন? কীট তাড়ানোর বিভাগের একজন গণ্য ব্যক্তি। তোমাদের 007-এরই ব্যাপার হ্যাঁ, সেই, ও সব ঘটনা বলতে পারবে তোমাকে। আপাততঃ জরুরী কাজ হল তোমার লোক কি পলী টাসকার নামে একটি মেয়েকে আটকাতে পারবে? পঁচিশ বছর বয়স হবে। ইস্ট অ্যাঙ্গোলিয়ায় তার বাড়ি। হ্যাঁ, আমি তো আগেই জানি জায়গাটা খুবই বড়। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে, মুরগির চাষ করে ওরা। আমার মনে হয় কোন বইতে ওদের নাম পাওয়া যেতে পারে। সুইজারল্যান্ডে কয়েক সপ্তাহ ছিল। নভেম্বরের শেষদিকে দেশে ফিরে এসেছে।
তবে ওর বিরুদ্ধে অভিযোগ হল দেশে মুরগি মারা জীবাণু আমদানি করা, যার কল্যাণে ইংল্যান্ডে মুরগি প্রায় নষ্ট হয়ে গেল। তবে একটা ঘটনা তুমি ওদের বলে দেবে, মেয়েটির উপর যেন কোন অত্যাচার করা না হয়। ও, যা করে চলেছে তার কোন ধারণাই ওর নেই। ওর বাবা মাকে বলা হবে না যে ওর কি হয়েছে বা ভয়ের কোন কারণ আছে। ওকে কিছু জিজ্ঞাসা করেই ছেড়ে দেওয়া হবে।
আরো দশটি মেয়ে শীঘ্র জুরিখ থেকে ইংল্যান্ডে এসে যাবে। সবাইকে আটকাতে হবে কাস্টমস্ অফিসে। 007-এর কাছে এই মেয়েদের তালিকাটি আছে। 07 আজ এই লিস্ট নিয়ে সন্ধ্যেবেলায় স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে যাবে। এখন সব কথা বলা যাবে না, জীবাণু লড়াইয়ের কথা শুনেছ? M কতক্ষণ শুনলেন, তারপর বললেন বেশ–হ্যাপী ক্রীসমাস।
M রিসিভার রেখে দিয়ে বন্ডকে বললেন, তবে এই পর্যন্ত আমাদের দিক থেকে করা হল। এবারে ব্লোফেল্ডের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে আমাদের কাজ। সুইসদের কাছ থেকে আমাদের কোন সাহায্যই পাওয়া যাবে না। সুইসদের কাছ থেকে বাধাই আসবে সব সময়, আর তদ্দিনে ব্লোফেল্ড হয় পিকিং বা অন্য কোন দেশে বসে নতুন মতলব ফাঁদবে। তোমার কি মনে হচ্ছে?
একটা লম্বা চুমুক দিয়ে সাবধানে হুইস্কির গ্লাস নামিয়ে রাখল বন্ড। সে কথা বলতে লাগল, গলার স্বরে একটু জরুরি ইঙ্গিত আছে। আস্তে আস্তে সে তার বক্তব্য পেশ করতে লাগল। M-এর মুখ ক্রমশই গম্ভীর হয়ে আসছে। শেষকালে বন্ড বলল, স্যার আমার মনে হয় এটাই একমাত্র উপায়। আমার শুধু দুই সপ্তাহের ছুটি চাই। তার বেশি কিছু লাগবে না। যদি খুব প্রয়োজন হয় তবে একটা পদত্যাগ পত্রও দিতে পারি।
M আগুনটা তাকিয়ে দেখলেন। আগুনটা নিভে যাচ্ছে।
বন্ড নিঃশব্দে আছে উত্তরের অপেক্ষায়। সে আশা করছে M রাজি হয়ে যাবেন। আবার রাজি নাও হতে পারেন। হঠাৎ মুখ ঘুরিয়ে M বললেন, আচ্ছা 007 এগিয়ে যাও। কিন্তু সব সময় মনে করে রাখবে, কোন গণ্ডগোল যেন না হয়, আমার চাকরি চলে যাক ক্ষতি নেই, কিন্তু কোন সরকারী কেলেংকারির মধ্যে জড়িয়ে পড়তে চাই না।
স্যার, সব বুঝতে পেরেছি। দু সপ্তাহের ছুটি তাহলে দেবেন?
হা।
.
বিবাহের উপহার
বন্ড প্লেনের জানালার কাছে বসে আছে। কোমরে পিস্তল। ক্যারাভেল পেরিয়ে যাচ্ছে ইংলিশ চ্যানেল। প্রায় আবার স্যার হিলারী-ব্রেন মত মনে হচ্ছে নিজেকে।
সে তার নতুন রোলেক্স ঘড়িতে সময় দেখে নিল। প্লেন ঠিক সময় মতই যাবে। বন্ড ট্রেসীকে মিউনিকে ফোন করেছিল। তখন কিনা মাঝরাত। ট্রেসী বলেছিল, আমার সাথে কিছুই নেই, টুথ ব্রাশ আর গাদাখানেক বই। কাল যাব জুগস্ পিজ, বসে থাকা যাবে রোদ্দুরে সুন্দরী হয়ে, তোমারই জন্য জেমস্।
ট্রেসী আমার কথা শোন।
আমার ভালবাসার নিঃশ্বাস তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?
পাচ্ছি। শোন আমি আমার জন্মপত্র কাল ডাকে পাঠিয়ে দেব। ব্রিটিশ কনসালের কাছে লেখা থাকবে এই মর্মে যে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে দু এক দিন সময় লাগতে পারে। তুমি তাড়াতাড়ি জন্মপত্র যোগাড় করে কনসাল অফিসে জমা দেবে। এ্যা, জমা করে দিয়েছ? বন্ড হাসল। তবে তো সবই ঠিক আছে। তিনদিন লেগে যাবে আমার কাজ শেষ করতে। কাল যাচ্ছি তোমার বাবার সাথে দেখা করতে, বিয়ের জন্য একটা অনুমতি তো দরকার। না তুমি যেখানে আছ সেখানেই থাক। তোমাকে এখানে আসতে হবে না। আজ এই পর্যন্ত থাক। এবারে ঘুমাও। ব্যাস, এখানেই শেষ করবে?
