উত্তর দিলেন ফ্রাঙ্কলিন, একটি ছোট বই হাতে নিয়ে বললেন, জীবাণু যুদ্ধে জীবাণু ব্যবহার করা হয়নি। ১৯৪৪ সালে আমেরিকা একবার মনস্থির করেছিল জাপানের সমস্ত চাল বিষাক্ত স্প্রে দ্বারা নষ্ট করে দেবে। কিন্তু যতদূর মনে পড়েছে রুজভেল্ট আপত্তি করেছিলেন।
ঠিক কথা, বললেন ফ্র্যাঙ্কলিন, খুবই ঠিক। বিষয় বস্তুটা এখনোও বিশেষভাবে চালু হয়েছে। আমার মন্ত্রী দপ্তর তো বটেই। কৃষির দিক দিয়ে আমাদের মত উন্নত দেশ আর নেই। অনাহারের হাত থেকে বাঁচার জন্যই এটা আমাদের করতে হবে। সুতরাং, কার্যত আমাদের ওপর আক্রমণই হবে বিশেষভাবে কার্যকর। এটা এমন কিছু অত্যুক্তি নয়। এমন আক্রমণ যদি শুরু হয়, হাঁস, মুরগি, গরু, ভেড়া যদি মরতে শুরু করে আর আমাদের শস্য যদি পুড়িয়ে ফেলা– হয়, তাহলে সর্বনাশ ঘটতে আর কটা সপ্তাহ লাগবে, তখন হাত জোড় করে রুটির জন্য ভিক্ষা করতে হবে।
তা তো বটেই তা তো বটেই, M বললেন।
একটি বই আপনাদের পড়ে শোনাতে হবে।
পড়ুন, মিঃ ফ্র্যাঙ্কলিন।
.
জীবন যুদ্ধ
জীবন যুদ্ধ প্রতিরক্ষার অস্ত্র। জীবাণু, বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ প্রভৃতি যুদ্ধকালীন অস্ত্র স্বরূপ ব্যবহার করা হয়। সৈন্য দপ্তরে পাঁচ রকমের জীবাণুর উল্লেখ করা আছে, আর আছে কয়েকটি রাসায়নিক দ্রব্যের কথা যাদের ছিটালে গাছপালা সব নষ্ট হয়ে যাবে।
জীবাণু আর রাসায়নিক এই দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। কিন্তু তাদের লক্ষ্য এক, হত্যা বা ধ্বংস, রসায়ন প্রয়োগ কাজ সহজেই বোঝা যায়। কিন্তু জীবাণুর ব্যবহার কখনো সহজে হয় না। এবং পরে যখন এক সময়ে জানা যায় তখন প্রতিকার অসম্ভব। জীবাণুর প্রয়োগ শুধু যে মানুষকেই মারা যায় তা নয়, পশু, পাখিও ধ্বংস করা যায় নির্বিশেষে। ব্লোফেল্ড এই নিয়েই গবেষণা করছে, শুধু মুরগি বিনাশ করা তার উদ্দেশ্য নয়, আলু, যব প্রভৃতি প্রধান খাদ্যগুলির ওপরেও তাদের দৃষ্টি আছে।
আসল ব্যাপার হল, যে জীবাণু চোখে দেখা যায় না, এর ফলটাও জানবার উপায় নেই সহজে। খাবারের পানিতে, দুধে, বাড়িতে, কারখানায় সর্বত্র এই জীবাণু ছড়িয়ে দেওয়া যায়। যেখানকার লোকসংখ্যা যত বেশি সেখানে তত বেশি জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।
বিষাক্ত গ্যাস, স্নায়ু গ্যাস এসব আবিষ্কার করেছিল জার্মানরা, আমরা টেক্কা দিলাম এ্যাটম বোম তৈরি করে। কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যে সারা ইংল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ডে-এ জীবাণু ছড়িয়ে পড়বে, তার চেয়ে মারাত্মক অস্ত্র আর কি হতে পারে? ফ্রাঙ্কলিন চুপ করে গেলেন।
M বললেন, ধন্যবাদ মিঃ ফ্র্যাঙ্কলিন। তাহলে এটাই ঠিক যে ব্লোফেল্ট ব্যক্তিটি আমাদের বিরুদ্ধে জীবাণু সংগ্রাম শুরু করে দিয়েছে?
হ্যাঁ, তাই তো মনে হচ্ছে।
মিঃ ফ্রাঙ্কলিন মানচিত্রটা আবার দেখতে বসে গেলেন। ইস্ট অ্যাঙ্গেলিয়ার চারপাশে বেশি মুরগির চাষ হয়। একসময় পোলট্রীর মুরগির প্রতি এ্যালাজী ছিল। উন্নত মুরগি পালনের অস্ত্র নিয়ে দেশে দেশে ফিরে এল। তার ফেরবার এক সপ্তাহের মধ্যেই মুরগির মড়ক শুরু হয়ে গেল। কি সাংঘাতিক! ইংল্যান্ডের ইতিহাসে আর এই রকম দেখা যায় না।
লেদার্স তার উরুতে হঠাৎ চাটি মেরে বললেন, ধরেছ ফ্র্যাঙ্কলিন, তুমি ঠিক ধরেছ। বল, বল।
পলীর সাথে ওরা জীবাণু মেশানো এরোসল দিয়েছিল, বলেছিল স্প্রে করতে, তবে মুরগির কোন রোগ আর হবে না। একটা বোতলই তবে যথেষ্ট। ওতে আরো বলা হয়েছিল যেন ব্যাপারটা গোপন থাকে। কেননা ওষুধটার পেটেন্ট নেওয়া হয়নি। এই টনিক যদি চালু হয়ে যায় তবে পলীকেও একটা বোনাস দেওয়া হবে। মনে করা যাক অলিম্পিয়া পাখির শোতে তার যাবার নির্দেশ ছিল। সেখানে একদিন স্প্রে করে এলেই তো কার্য সমাধা হয়ে যাবে। স্পের পাখি চলে যাবে ইংল্যান্ডের সর্ব জায়গায়। তারপর মড়ক শুরু হতে আর কদিন লাগবে? এ পর্যন্ত আমাদের দপ্তরে হিসাব মত প্রায় তিরিশ লক্ষ মুরগি মারা গিয়েছে। আর এখনও মরে যাচ্ছে।
M-এর মুখটা খুবই বিরক্তিকর বলে মনে হল। বন্ডের দিকে ফিরে প্রশ্ন করল এতে তোমার কি মনে হয়? স্যার, আমারও তাই মনে হচ্ছে। যদি ব্লোফেল্ডের চরিত্র না জানা থাকত তবে হয়ত অন্য কিছু ভাবা যেত। সে কোনখান থেকে টাকা পাচ্ছে তা আমাদের জানার দরকার নেই। কিন্তু দেশের এখন ঘোরতর বিপদ।
M একটু থামলেন, তিনি বললেন, মিঃ ফ্রাঙ্কলিন আপনি যা এখানে শুনলেন তা আপনার মন্ত্রী দপ্তরে গিয়ে বলার ব্যবস্থা করুন। তিনি, তারপর যা ভাল বুঝবেন তা প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী সভাকে জানাবেন। এ দিকে আমি এখানে পলীকে আটকে রাখার ব্যবস্থা করব। অবশ্য এদের সাথে খুবই ভাল ব্যবহারের নির্দেশ থাকবে। কেননা, দোষ তো ওদের নয়। এরপর ভাবতে হবে মিঃ ব্লোফেল্ড সম্পর্কে কি করা যেতে পারে। বন্ডের দিকে তাকিয়ে, তুমি একটু থেকে যাবে। কোন তাড়া তো নেই।
এরা দুইজনে উঠলেন, হ্যামন্ড তাঁদের নিয়ে গেল বাইরে বিদায় দেওয়ার জন্য।
M আবার বেলটা টিপে দিলেন। হ্যামন্ড এল।
হ্যামন্ড আমাদের চা খেতে দাও। নাকি হুইস্কি সোডা, জেমস?
স্যার হুইস্কি হলেই কিন্তু ভাল হত। বন্ড স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল।
M হ্যামন্ডকে হুইস্কিও এনে দিতে বললেন। আর বাইরেটা দেখলেন জানালা দিয়ে।
