এরপর ঘরে বেশ কিছু সময় কোন শব্দ নেই।
বন্ড জানালার কাছে এসে বৃষ্টির শব্দ শুনল। M মাথাটা নিচু করে একটু বিশ্রাম নিচ্ছেন। টেবিলের ওপরে মাঝে মাঝে অস্পষ্ট শব্দ হল কাগজ ওল্টাবার।
বন্ড একটা সিগারেট ধরাল।
501 শেষ পাতাটি ফ্র্যাঙ্কলিন-এর হাতে দিয়ে হেলান দিয়ে বসলেন।
ফ্রাঙ্কলিন পড়াটা শেষ করে ফেললেন। পিন দিয়ে কাগজগুলি এটে টেবিলের উপর রেখে দিলেন। বন্ডের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। আপনার অনেক ভাগ্য যে ওখান থেকে ফিরে আসতে পেরেছেন। বন্ড হাসলেন কিছু বললেন না।
M তাকালেন 501-এর দিকে। হ্যাঁ, তারপর? 501 চোখ থেকে চশমা খুলে রুমাল দিয়ে পরিষ্কার করে নিয়ে বললেন। ব্লোফেল্ড ওখানে কি করছেন সেটা তো জানা গেল। গ্রাম থেকে দশ বার জন মেয়ে তুলে ওখানে নিয়ে গেছে। ওদের ওপর তার মোহ বিস্তার করেছে। এরা সরল গ্রামের মেয়ে। এদের প্রত্যেকেই এলার্জি রোগে ভুগছে এটা অবশ্য আমাদের জানা নেই। তার প্রয়োজনও নেই। পশু পাখি থেকে এলার্জি খুবই সাধারণ ব্যাপার। মনে হচ্ছে ব্লোফেল্ড সম্মোহনের দ্বারা এলার্জি সারানোর ব্যবস্থা করছেন। শুধু সারানো নয়, সেই তার উপর আবার অনুরাগ জন্মিয়েছে যেমন রুবিকে বলা হয়েছে মুরগিকে ভালবাসতে।
তবে এইটুকু বলতে পারি স্যার ব্লোফেল্ড যা করছে তা এমন কিছু একটা নতুন ব্যাপার নয়। 501 চুপ করলেন।
M বললেন, ধন্যবাদ মিঃ লেদার্স। এবার কিন্তু একটু অবৈজ্ঞানিক হল মনে হয়। মিঃ ব্লোফেন্ডের চিকিৎসার বাইরে কিছু যদি থাকে তবে তা ভাববার চেষ্টা করুন। M হাসলেন। বললেন, দেখুন ঘরের বাইরে একথা ফাস হবে না এইটুকু বিশ্বাস করুন।
501 চুলের মধ্যে আঙুল চালাতে লাগল। দেখুন স্যার, আমার মনে হয় সব ব্যাপারটাই হয়ত আজগুবি। তবে রিপোর্টটা পড়ে একটা কথা আমার মনে হয়েছে।
M তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। ব্লোফেল্ড তার প্রতিষ্ঠানের পিছনে অনেক খরচ করেছে। আমি জোর দিয়েই বলে দিতে পারি ওর উদ্দেশ্য অসৎ, এত টাকা ওকে কে দিয়ে যাচ্ছে। আর এই অদ্ভুত গবেষণা নিয়ে হঠাৎ সে মেতে উঠলই বা কেন? আমার বিশ্বাস ওকে টাকা যোগান দিচ্ছে রাশিয়ানরা। লেদার্স, বন্ডের দিকে একটু দেখলেন। কোন রুশ কর্মচারিকে দেখলেন গ্লোরিয়াতে। ক্যাপটেন বোরিশ নামে একজন রাশিয়ান আছে। তা ছাড়া আর কোন রাশিয়ান চোখে পড়ল না। এই তিনজন প্রেতাত্মা সংঘের লোক তাতে কোন সন্দেহই নেই। ওরা ওখানকার কর্মচারি ও মিস্ত্রি। মিঃ ফ্র্যাঙ্কলিন অত্যন্ত পালিশ করা একটা ছোট পাইপ টানল। পাইপটা দাঁত দিয়ে কামড়ে তিনি ব্রিফকেস থেকে কিছু কাগজ বের করল। বৃটেন ও আয়ারল্যান্ডের এক মানচিত্র আলাদা করে টেবিলের উপর মেলে ধরল। এই মানচিত্র দেখলে জানা যাবে বৃটেন ও আয়ারের আবাদী জমি আর পশু সম্পত্তি। ব্লোফেন্ডের এই গবেষণার ব্যাপারেও আমার দারুণ সন্দেহ রয়েছে। আচ্ছা, এই মেয়েগুলির ঠিকানাগুলির ঠিকানাগুলোকে কি বার করা হয়েছে।
বন্ড পকেট থেকে লিস্টটা বার করল। তারপর ভয় জড়ানো গলায় বলল যে, সব বুঝেছি। তবে এবার ওর মতলবটা টেরও পেয়ে গেছি। তিনি এবার গা এলিয়ে দিলেন। মুখ দেখে মনে হল না যে, এসব তিনি বিশ্বাস করেছেন।
অপর তিনজন পরম আগ্রহে তাকিয়ে থাকল যেন তারাও ভয় পাচ্ছিল, ফ্র্যাঙ্কলিনের মুখ দেখেই তারা বুঝতে পারছে।
ফ্রাঙ্কলিন একটি লাল পেনসিল বার করে মানচিত্রটার উপর নিচু হয়ে দেখতে শুরু করল। মাঝে মাঝে তালিকার দিকে তাকিয়ে নিয়ে মাত্রচিত্রের ওপর লাল বৃত্তের চিহ্ন দিয়ে চলেছেন। অস্ফুট স্বরে বললেন, এ্যাবার ডিন, এ্যাঙ্গাস, ডেভন-রেড পোল, ল্যাংকাশায়ার হাঁস-মুরগির চাষ, কেস্ট ফল, স্যামন আলু। ইস্ট অ্যাঙ্গোলিয়ার ওপর বৃত্তটা একে তিনি পেনসিলটা ছুঁড়ে মারলেন এক দিকে। প্রচুর মুরগি। তাহলে মিঃ ফ্রাঙ্কলিন, বললেন M, আপনার বক্তব্যটা শেষ করুন তো।
কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রী দপ্তরের লোকটি কথার উত্তর না দিয়ে ব্রিফকেস থেকে আরো কিছু কাগজপত্র বের করলেন। খবরের কাগজের একটা কাটিং নিয়ে বললেন, আপনারা কৃষি সম্পর্কে কোন খবর দেখেন তা আমার মনে হচ্ছে না। ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে ডেলী টেলিগ্রাফে এই খবরটি বের হয়েছিল। সবটা পড়ার প্রয়োজন নেই। টমাস নামে একজন কৃষি সংবাদদাতা এই খবরটি কাগজে পাঠায়। শিরোনাম হল মুরগিদের সম্পর্কে উদ্বেগ। মড়কটা লেগেছে মারাত্মক মুরগি কীটের জন্য। তারপরের খবর মুরগির মড়কের জন্য ক্রীসমাসের বাজারে মুরগি না পাওয়ার সম্ভবনা আছে। গত বছর ২১৮,০০০ পাখি মারা গেছে। প্রতি বছর ক্রীসমাসের সময়ে প্রায় ৪,০০০,০০০ পাখি এই সময়ে পাওয়া যায়। কিন্তু ভয়ঙ্কর মড়কের উৎপাতে এবারে কি হবে কিছু বলা যায় না।
কাগজটা সরিয়ে রাখলেন মিঃ ফ্র্যাঙ্কলিন। বললেন, কিন্তু কাগজে যে খবর বের হয়নি তা হল গত চার সপ্তাহের মধ্যে আমাদের তিরিশ লক্ষ মুরগি মারা পড়েছে। তবে এই তো শুরু। বিষাক্ত মুরগি কীটে ইস্ট অ্যাঙ্গোলিয়া ছেয়ে গেছে। স্যাফোক আর হ্যাঁম্পশায়ারেও এই কীটের উৎপাত শুরু হয়েছে। আজকে লাঞ্চে যা খাওয়া হয়েছে তা জঙ্গল থেকে ধরে আনা হয়েছে। বিশ লক্ষ মুরগির সঙ্গে কোথায় এই ব্যাপারটা। সূত্র অবশ্য একটা পাওয়া গেছে।
