না, তোমার রিপোর্ট দেখে মনে হল ব্লোফেন্ডের সিদ্ধান্তটা যে কি সেটাই তুমি ঠিকভাবে বুঝতেই পারনি।
না, পারিনি, কোন সূত্রই পাইনি।
কথা হচ্ছে, আমিও পাইনি। কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না কিছুই, বিকেলে যে কয়েকজন বিজ্ঞ লোককে ডেকে পাঠিয়েছি। তারা হয়ত কিছু বলতে পারেন। কিন্তু এদের সঙ্গে যে প্রেতাত্মা সংঘের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আছে এটা তুমি ঠিকই ধরেছ। যে মেয়েটির কথা তুমি বার দুই লিখেছ। ওই শেষ পর্যন্ত তোমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছে তাও লিখেছ। মেয়েটি কে? তোমার পরিচিত কোন
কথা শেষ হল না। M ঠোঁটের কোণ থেকে হাসলেন।
না, কেউ পুরোনো নয় হঠাৎ আলাপ হয়েছে। ইউনিয়ন কোর্স-এর সর্দার ব্র্যাকের মেয়ে। ওর মা ছিলেন একজন ইংরেজ গভরনেস মহিলা।
হুঁ, জন্ম বৃত্তান্তটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার দেখছি। লাঞ্চের সময় হল, না? হ্যামন্ডকে বলেছি আমাদের যেন বিরক্ত না করে। M উঠে পড়লেন, আগুনের কাছে গিয়ে বেলটা বাজালেন। টার্কি ও প্লাম পুডিং দিয়েই লাঞ্চ করতে হবে। বুজলে তুমি? মিসেস হ্যাঁমান্ড অবশ্য ভাল কিছু তৈরি করবার জন্য মাথা খারাপ করে ফেলল। খাবার নিয়ে ভাবপ্রবনতার কোন মানেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কি বল? হ্যামন্ড দরজার কাছে এসে দাঁড়াল।
এস জেমস্, M তাকে ডাকলেন। হল পেরিয়ে খাবার ঘরে চলে এল।M চেয়ারে বসেই বললেন, সর্দারজী এবারে তোমার বাজে খাবারগুলি নিয়ে এস তো, দেখা যাক কি রকম। তারপর সত্যিকারের রুক্ষ গলায় বললেন, কি হে ওগুলো? টেবিলের মাঝখানে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন।
বাজি, স্যার, হ্যামন্ডও তেমনি কড়া গলায় বলল, আপনার সাথে তো অতিথি আছে, তাই। মিসেস হ্যামন্ড ফেলে দাও। বাচ্চাদের দিয়ে দাও। খাওয়ার ঘরটাকে তোমরা নার্সারী করে তুলছ দেখছি।
হাসল হ্যামন্ড। স্যার তা অবশ্য নিয়ে যাচ্ছি।
হ্যামন্ড বাজিগুলি তুলে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। গলাটা ভিজিয়ে নেবার জন্য বন্ড ছটফট করছে।
M দুটো গ্লাসে মদ ঢেলে নিয়ে একটা গ্লাস বন্ডের দিকে এগিয়ে দিলেন। খাও, আবার মনে কর না এটা খুব হাল্কা জিনিস, বেড় কড়া অ্যালজিরিয়ান মদ। প্লাম-পুডিং এল।
.
মুরগির মড়ক
স্টাডিতে এল ওরা লাঞ্চ শেষ করে। এখানে কফি খাবার পর ওরা M-এর সরু কালো চুরুট ধরাল। চুরুট টানতে গিয়ে বন্ডের জিভে ছ্যাকা লাগল।
M নৌ-বহরের গল্প চালিয়ে যেতে লাগলেন। বেশির ভাগই যুদ্ধের কাহিনী, বন্ড যা শুনতে ভালবাসে। যুদ্ধ, সমুদ্রের ঝড়, খুনি, উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে মরণ বচন সংগ্রাম। আর ছিল উন্মাদ নৌ-কর্মচারি বাহিনী, সামাজিক আদালতের বিচার। প্রতিটি ঘটনা সত্যি। আর সত্যি বলেই বন্ডের কাছে এত বাস্তব আর জীবন্ত মনে হয়েছে। তিনটে বাজল।
বাইরে এসে গাড়ি থামল, পাথরের সঙ্গে চাকার একটা শব্দ শোনা গেল। বিকেলের রোদটা ম্লান হয়ে এসেছে।
ঘরে গোধূলির ছায়া। M চেয়ার থেকে উঠে বাতি জ্বালিয়ে বললেন, খুব সম্ভব 501, হয়ত আগে তোমার সাথে দেখা হয়ে থাকবে। সায়েনটিফিক রিসার্চ সেকশনের কর্তা। ফ্র্যাঙ্কলিন নামে আর একজন লোক আসবার কথা। কৃষিমন্ত্রী দপ্তরে কাজ করে, পেস্ট কন্ট্রোল বিশেষজ্ঞ। মন্ত্রিমশাই কি একটা গোলমালের সন্ধান পেয়েছেন। আমকেও বলবেন না। দপ্তর ভাবছে তোমার খবরটা ভীষণ জোরাল। তোমার রিপোর্টটা ওদের পড়তে দেব। দেখি ওরা কি বলে।
হ্যাঁ সার।
হ্যামন্ড দরজা খুলে ধরতে দু টি লোক ঘরে ঢুকল।
গুপ্তচর বিভাগের 501-এর নাম বন্ডের মনে আছে। নামটা লেদার্স, চোখে পুরু কাঁচের চশমা, ছোটখাটো লোক, বিজ্ঞানে অসাধারণ তার মেধা। টুইডের পোশাক পরে, হাতের বোনা পশমের টাই। M-এর প্রতি সৌজন্যর কোন অভাব নেই।
আর অন্য লোকটি খুবই চঞ্চল। তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, মুখে মৃদু হাসির আভাস লেগে আছে। মন্ত্রিদপ্তরের উচ্চতম একজন প্রতিনিধি। ঘন নীল রঙের পোশাক। কালো পালিশ করা জুতা চকচক করছে। হাতে আছে মোটা ব্রিফকেস। তার অভিবাদন সংযত, কোন ভনিতা নেই। আর গোড়া থেকে নিচ অবধি ঘটনার মধ্যে আছে রহস্য।
কুশল দেওয়া-নেওয়ার পর যখন ওরা চেয়ারে এসে বসল, M বললেন, মিঃ ফ্র্যাঙ্কলিন, কিছু মনে করবেন না, আপনাকে একটা কথা বলে রাখা দরকার। এখানে যা কিছু শোনা বা দেখা যাবে, তা কিন্তু অত্যন্ত গোপনীয়। আপনার মন্ত্রী দপ্তরেও নিশ্চয় এমন গোপনীয় ব্যাপার হয়ে থাকে, আর দেশ রক্ষার বিভাগেও তো তাই হয়। তাই এই বিষয়ে অভিহিত থাকা দরকার সেটাই আমার একটা অনুরোধ।
আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। এ সম্পর্কে আমার দপ্তর আগেই আমাকে সাবধান করে দিয়েছে। আপনারা যা চান আমার সামনে আলোচনা করতে পারেন, এবার কি ব্যাপার বলে ফেলুন। আমি যতটা শুনেছি দূর আল্পস পাহাড়ের চূড়ায় এক ভদ্রলোক আমাদের দেশের কৃষি এবং গরু, ভেড়া, ছাগল ও মোষ, পায়রা, হাঁস-মুরগি প্রভৃতি উন্নতমানের প্রাণী পালনের জন্য নানারকম গবেষণা করছেন। সত্যিই তো ভাল লাগে। কিন্তু হালে দপ্তর এমন সব ভাব দেখাচ্ছে যেন ভদ্রলোক গোপন পারমাণবিক তথ্য চুরি করে নিয়ে গিয়েছে।
আপনি যা বলছেন, তাই উনি একবার করেছিলেন, বললেন M, লোকটার সম্পর্কে আপনাদের সম্যক ধারণা হবে যদি আপনারা আমার এই প্রতিনিধির রিপোর্টটি পড়ে দেখেন। এর মধ্যে কিছু সাংকেতিক শব্দ রয়েছে। যার মধ্যে কয়েকটি বিষয়ের উল্লেখ আছে সেগুলি না বুঝতে পারলে আপনাদের বিশেষ একটা অসুবিধা হবে না। M রিপোর্টটা এগিয়ে দিলেন 501-এর দিকে। প্রায় সবই আপনার কাছে হয়ত নতুন ঠেকবে। আপনি একটা করে পাতা পড়ে মিঃ ফ্র্যাঙ্কলিনকে দিন। তাহলে এক সাথে দুজনেরই পড়া হয়ে যাবে।
