হায় সৃষ্টিকর্তা! কি সাংঘাতিক ব্যাপার। আচ্ছা লাইনটা একবার ধরে থাক, দেখছি। বন্ড কিন্তু ওকে চেনে না। শুধু ওর নম্বরের সাথে পরিচয় আছে। সহজেই অনুমান করে নিল যে মুইর জানালার পর্দাটা ধীরে ধীরে তুলে দেখল বাইরে কেউ আছে কিনা।
আবার তার গলা শুনতে পেল, তাঁ, আছে, তোমার কথাই ঠিক হয়েছে। রাস্তার ওপরে একটা কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। দু জন লোক ওর মধ্যে বসে আছে। এখুনি নিরাপত্তার লোক ওদের পেছনে লেলিয়ে দেব।
বন্ড বলল, কিন্তু সাবধানে করবে। আমাদের এই মক্কেলের সাথে পুলিশের খুব খাতির আছে। তা যাই হোক, এক্ষুণি। M-কে সব খবর জানাবে। আর বলে দেবে যে শেষ অবধি যেন লন্ডনে ফিরে যেতে পারি। আর আজই ওর সাথে দেখা করব। আর যদি সম্ভব হয় তবে কৃষি ও মৎস্য দপ্তরের কারো সাথে দেখা করব। কাজগুলি সব ঠিকমত করতে পারবে তো? আচ্ছা, ভাল কথা। আর কোন প্রশ্ন করার আছে?
এয়ারপোর্টে আসতে হবে? দু নম্বরের কিছু খোঁজ নেওয়ার দরকার নয় কি?
না, খোঁজ নেওয়ার কোন দরকার নেই। বরঞ্চ আমার কাছ থেকে দূরে থাকার বন্দোবস্ত করবে। তুমি আপাতত এটা মনে করতে পার যে পিস্তলের মত গরম আছি। আর একটু পরে আরো কিছুটা গরম হয়ে যাব যখন ওরা জানতে পারবে যে পাহাড়ী নদীর নিচে ওদের মারসিডিস গাড়িটা ভেঙ্গে পড়ে আছে। তাহলে এবার ছেড়ে দিলাম। আমি খুবই দুঃখিত তোমার বড় দিনের আনন্দ মাটি করে দিলাম। গুডবাই।
বন্ড রিসিভার রেখে দিয়ে রেস্তোরাঁয় ফিরে এল। ট্রেসী দরজার দিকে মুখ করেই ছিল। তাকে দেখে সে খুশি হয়ে উঠল। বন্ড তার গায়ের কাছে গিয়ে বসল। ট্রেসীর হাত তুলে নিল নিজের হাতে। বন্ড কফি আর ডিমের অর্ডার দিল। মোটামুটিভাবে আমার কাজ একরকম হয়ে গেল। এবারে তোমার কি হবে বল? তোমার গাড়িটা কিন্তু বিপদ ডেকে আনবে। কারণ অনেকেই তোমার গাড়িটা চিনে রেখেছে। পাহাড়ে ঐ লোকটির অনেক চর এখানে ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছে। তাড়াতাড়ি ব্রেকফাস্ট খেয়ে পালিয়ে যাও। আর যতটা সম্ভব হবে সীমান্ত ছেড়ে চলে যাবে।
জেমস্! তোমাকে এখুনি ছেড়ে আমাকে চলে যেতে হবে? কতদিন ধরে তোমার অপেক্ষা করে আছি। চোখের। কোণায় পানি চিকচিক করে উঠল ট্রেসীর।
বন্ডের হঠাৎ মনে হল, চুলোয় যাক সব। আমি কি জীবনে এমন সুন্দর মেয়ে পাব? নারীর কাছে আমি চিরজীবন যা চেয়ে এসেছি, এর কাছে তার সব কিছুই আছে–রোমাঞ্চ, সাহস, বুদ্ধি, প্রেম ও আরো কত কিছু। সব থেকে বড় কথা আমাকে তার সব থেকে প্রয়োজন। বেশি আর যখন তখন এর-ওর সাথে ঘোরাঘুরি করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। কয়েকটা বাচ্চা থাকলে আমার দিনগুলি ভালই কাটবে।
তাই বন্ড জীবনে যে কথা কাউকে বলেনি বা বলবে বলে ভাবেনি, সেই কথাটাই ট্রেসীকে বলল।
ট্রেসী আমি তোমাকে ভালবাসি। তুমি কি আমাকে বিয়ে করতে পারবে?
ট্রেসীর মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল এক মিনিটে। মনে হল একটু বিভ্রান্ত চোখে সে বন্ডকে দেখল, ঠোঁটটা কেঁপে উঠল, পরে বলল–সত্যি বলছ?
হ্যাঁ, সত্যি। এটা আমার অন্তরের কথা। ট্রেসী তার হাত থেকে বন্ডের হাতটা নিয়ে মুখের উপর চেপে ধরল। তার পরেই সে আবার হাতটা সরিয়ে নিল। তার মুখে হাসির আভা দেখা দিল। জেমস্ আমি মনের মধ্যে হয়ত এই স্বপ্নটাই। দেখছিলাম। তাই হঠাৎ তোমার মুখে আমার মনের কথা শুনে চমকে উঠলাম। অবশ্যই আমি তোমাকে বিয়ে করব। হ্যাঁ, আর বসব না, হয়ত এরপরে আমি কোন ছেলেমানুষি করে ফেলব। একটা ছোট্ট চুমু দাও, আমি এখনি চলে যাব। সে মুখটি আমার দিকে এগিয়ে দিল।
বন্ড তাকে চুমু দিল।
ট্রেসী উঠে দাঁড়াল।
আমি মিউনিক চলে যাব, সেখানে গিয়ে আমি তোমার জন্য হোটেলে অপেক্ষা করব। আর পৃথিবীর এই হোটেলটাই আমার সব থেকে প্রিয়। ওরা আমাকে চেনে। জিনিসপত্র ছাড়া আমাকে জায়গা দিতে হয়ত নাও পারে। আমার সব কিছু পড়ে আছে সামাডেনে। তুমি আমাকে ফোন করবে তো? ফোনে আমার সাথে কথা বলবে, কেমন? বিয়েটা আমাদের কবে নাগাদ হবে বলে তোমার মনে হয়? বাবাকে এই খবরটা দেওয়া দরকার। বাবা জানতে পারলে কি যে খুশি হবে, তোমাকে সেটা বোঝাতে পারব না।
বন্ড বলল, আমার ইচ্ছে কনসুলেট-বাড়িতেই বিয়ে হবে। ওখানে আমার অনেক জানাশোনা লোক আছে, তাড়াতাড়ি কাগজপত্র পেতে আমাদের অসুবিধা হবে না। পরে কোন ইংরেজ গীর্জায় বা স্কটিশ গীর্জায় আমার বিয়ে করব। আর আমার বাড়ি তো স্কটল্যান্ডেই। তবে এই কথা রইল তো, আজ রাতে তোমাকে ফোনে ডেকে কথা বলব। আর কাল সকালে, যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি। তার আগে অবশ্য এ-কাজ আমাকে শেষ করতে হবে।
আমাকে কথা দাও, সাবধানে থাকবে?
বন্ড হাসল। দিচ্ছি। কেউ যদি গুলি করতে আসে, পালাব।
তাহলে এই পর্যন্ত। তোমার গলার রুমালটা খুলে দাও, খুব ছিঁড়ে গেছে, আমি সেলাই করে দেব।
গলা থেকে লাল রুমালটা খুলে ট্রেসীর হাতে দিল। মনে পড়ে গেল পাহাড়ের খাদ দিয়ে নিচে নামবার সময় রুমালের কোনাটা সে চিবোছিল।
রুমালটা হাতের মুঠোর মধ্যে নিয়ে ট্রেসী আর দ্বিতীয়বার মুখ ফিরিয়ে দেখল না। রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে গেল।
বন্ড বসে থাকল।
একটু পরেই তার ব্রেকফাস্ট এসে গেল। সে তখন খেতে শুরু করে দিল, কিন্তু মন তার অন্যদিকে। সে কি করছে? ঝোঁকের মাথায় সে এটা কি বলে বসল?
