গাড়িতে তিনজন আছে। ওরা যদি আমাদের ধরতে পারে তবে কি মেরে ফেলবে?
তাই তো মনে হচ্ছে। কিন্তু কাছে তো কোন অস্ত্র নেই, ট্রেসী। আর থাকলেই বা কি হবে। তাছাড়া তুমি যখন আমার সাথে আছ তখন বিপদটাও কম হবে না। আমাকে ওরা সাংঘাতিক শত্রু মনে করেছে। সত্যিই কি তুমি তাই?
কোন সন্দেহ নেই। ট্রেসী আয়নার দিকে তাকিয়ে বলল–কিন্তু এগোচ্ছে। গাড়িতে মাত্র দু গ্যালন তেল আছে। মাঝখানে ফিলিসুরে না দাঁড়িয়ে উপায় নেই। সেখানে এত রাত্রে কেউই জেগে থাকবে না। তাই ঘুম থেকে তুলতে হবে। এসব কাজে দশ মিনিট লেগে যাবে। ততক্ষণে ওরা আমাদের নিশ্চয় ধরে ফেলবে। তাড়াতাড়ি কিছু বুদ্ধি বার কর। ট্রেসী এবার মোড় নিল। পেছনের গাড়িটা আর দেখা যাচ্ছে না। সামনের সাইনবোর্ড থেকে জানা গেল রাস্তাটায় বিপজ্জনকভাবে ধ্বস নেমেছে। এ রাস্তাটা পাহাড়ের পাশ দিয়ে চলে গেছে। কোনদিকে গাড়িটাকে চালাতে হবে তার নির্দেশ করে দেওয়া আছে।
গাড়ি থামাও বলে বন্ড চিৎকার করে উঠল। ট্রেসী তখন গাড়িটাকে থামিয়ে দিল।
গাড়ি থেকে একটা লাফ দিয়ে বন্ড নেমে পড়ল। তুমি এগিয়ে যেতে থাক। সামনের বাঁকটা পেরিয়ে অপেক্ষা কর। এটাই হল আমাদের একমাত্র সুযোগ।
ট্রেসী আর কোন প্রশ্ন না করে অদৃশ্য হয়ে গেল। বন্ড দৌড়ে গিয়ে তীরের বোর্ডটা চট করে ধ্বসের মুখে ঘুরিয়ে দিল। মাটি থেকে বেড়াটা তুলে ফেলে দিল। কাঠিগুলি ছুঁড়ে দিল অনেক দূরে।
দূরে একটা আলোর চিহ্ন দেখল। বন্ড দৌড়ে গেল পাহাড়ের ছায়ার দিকে। মাটিতে সে শুয়ে পড়ল। নিশ্বাস বন্ধ করে ওদের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল।
তীব্র বেগে মারসিডিস ধেয়ে আসছে। যেদিকে তীরের চিহ্ন সেইদিকে গাড়ি ছুটল। একটি মুহূর্তের জন্য গাড়ির মধ্যে কয়েকটি মুখ বন্ড দেখতে পেল। ঠিক তার পরেই মানুষের আর্ত চিৎকারে রাতের বাতাস কেঁপে উঠল। গাড়িটা। খাদের ধারে উল্টো হয়ে পড়ে গেল, তারপর তারা তলিয়ে গেল খাদের অন্ধকারের মধ্যে। কয়েকটি মুহূর্ত, তারপর। গাড়িটা পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেল প্রচণ্ড শব্দে। আরো কয়েকটি সংঘর্ষের শব্দ শুনতে পেল বন্ড। দৌড়ে গিয়ে খাদের মধ্যে তাকিয়ে দেখল। মনে হচ্ছে গাড়িটা ছিটকে বাতাসে উড়ে যাচ্ছে। তখন গাড়ির আলো জ্বলতে দেখা গেল। আর যেই আর একটা ধাক্কা গাড়ির সাথে পাহাড়ের লাগল তখন আলোটা নিভে গেল। চাঁদের আলোটা গাড়ির উপর পড়ে ক্ষণিকের জন্য চৰ্চ করে উঠল। তারপর বরফপানিতে গিয়ে শেষে ঝাঁপ দিয়ে পড়ল।
তখনও বন্ড দাঁতে দাঁত চেপে থাকল। সে তারপর আস্তে আস্তে নিশ্বাস ফেলল। তারপর আবার তীরের নিশানা যেমন ছিল তেমনি করে দিল। বরফের সাথে আবার লাঠিগুলি লাগিয়ে দিল। তার হাতের ঘামটা ট্রাউজারে মুছে নিয়ে আস্তে আস্তে বাঁদিকে এগিয়ে যেতে লাগল।
ছোট গাড়িটা রাস্তার ধারে অপেক্ষা করছে। আলোটা নেভানো আছে। বন্ড গিয়ে উঠে পড়ল গাড়িতে। সীটে যেন ভেঙে পড়ল। ট্রেসী গাড়িতে স্টার্ট দিয়ে নিঃশব্দে আবার চালাতে লাগল।
ফিলিসুর-এর আলো দেখা গেল। ট্রেসী হাত বাড়িয়ে বন্ডের একটা হাত শক্ত করে চেপে ধরল। একদিনের পক্ষে। যথেষ্ট হয়েছে। এবার তুমি একটু ঘুমাও। আমি তোমাকে ঠিক জুরিখে পৌঁছে দেব।
বন্ড কথা বলল না, দরজা আর সীটের কোণায় মাথা রেখে সাথে সাথে সে ঘুমিয়ে পড়ল। ডাকলেও তার কেন সাড়া পাওয়া যাবে না।
.
ভোরের প্রেম
ধূসর সকালে জুরিখের এয়ারপোর্ট নিরানন্দ চেহারা। আর কোন লোকজনই প্রায় চোখে পড়ছে না। সুইস-এয়ার ক্যারাভেল অপেক্ষা করছে, লন্ডনের উদ্দেশ্যে উড়ে যাবে বলে। অবশ্য এত দেরি হল কুয়াশার জন্য।
বন্ড ট্রেসীকে রেস্তোরাঁয় বসিয়ে রেখে কফি আর ডিমভাজার খাবার ফেলে রেখে টিকিট কিনতে গেল। টিকিট কেনার পর পাসপোর্টে স্ট্যাম্প মারা হয়ে গেলে সে টেলিফোন বুথে ঢুকে পড়ল, এবার দরজাটা বন্ধ করে দিল। সে ডায়ালটা ঘুরিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল।
কয়েক মিনিট এভাবে থাকার পর এক ঘুম গলার শব্দ শুনতে পেল।
মুইর কথা বলছি।
1410, অসময়ে বিরক্ত করার জন্য আমি খুবই দুঃখিত। আমি 007, এয়ারপোর্ট থেকে কথা বলছি। খুব জরুরী দরকার। হাতের কাছে কাগজে পেন আছে কি? এক নিমেষে লাইনের ওপারে ঘুমের জড়তা কেটে গেল। লাইনটা ধরে থাক, এবারে বল কি বলবে?
প্রথমেই বাজে খবরটা জানাব। তোমাদের দুই নম্বরটা ধরা পড়ে গেছে। এতক্ষণ মনে হয় আর বেঁচে নেই। আর এই টেলিফোনে সেটা বলা যাবে না। আর ঘণ্টাখানেক পর লন্ডন পৌঁছে যাব। সুইস-এর এয়ার ফ্লাইট ১১০। এবার শোন। কয়েক দিনের ভেতরেই দশটা মেয়ের একটি দল হেলিকপ্টারে করে এখানে আসবে। আমি লন্ডন থেকে আজই যে কোন সময়ে টেলিপ্রিন্টারে তাদের নাম ঠিকানা তোমার কাছে পাঠিয়ে দেব। আমার স্থির বিশ্বাস যে, তারা ইংল্যান্ডের কোন না কোন স্থানে থাকে। তারা এখান থেকে কখন কোন প্লেনে যাবে তা তুমি অবশ্যই খোঁজ খবর নিয়ে লন্ডন অফিসে জানিয়ে দেবে। এটা খুবই ছোট কাজ কিন্তু অত্যন্ত জরুরী।
আর কিছু করতে হবে।
আরও আছে। অপারেশন বেডল্যাম মনে আছে তো। হাল আমলে যার কাজটা পাল্টানো হয়েছে। আর ঐ হচ্ছে। পালের গোদা। ওর রেডিও আছে। যতটা সম্ভব তুমি ভেবে নেবে আমি তোমার সাথে সকালেই যোগাযোগ করব। জানালার বাইরে তাকিয়ে একবার দেখে নেবে কেউ তোমাদের কোন রূপ পাহারা দিচ্ছে কিনা। আর এটা নিশ্চয় মনে রাখবে তাদের জুরিখেও চর আছে।
