হর্ন আর ব্রেক, ব্রেক আর হর্ন। এখন ট্রেসীর হাসি শোনা গেল। তোমার দিকে তাকানো যাচ্ছে না। তোমার গলার আওয়াজ শুনে তোমাকে আগের থেকে অনেক ভাল বলে মনে হচ্ছে। এবার মুখ থেকে মুখোশটা খুলে ফেল। আমার জামাটাও খুলে নিলে ভাল হয়। গরমে ভেপসে যাবে। আগে তোমাকে যেমন দেখেছি, এখনো ঠিক তেমনিভাবে দেখতে চাই।
তোমার জীবন আবার ফিরে আসছে। এইটুকু ছোট গাড়িতে এই মেয়েটার পাশে বসে খুবই ভাল লাগছে। সে পাহাড়ের সেই ভয়ঙ্কর জীবন ফেলে এসেছে। তার মনে আবার আশার সঞ্চার হয়েছে। পেটের ভিতর নাড়ীভুড়িগুলির জট খুলে যাচ্ছে।
ট্রেসী জিজ্ঞেস করল, কি! তুমি খুশি তো?
জুরিখে গিয়ে সব বলব। পারবে তো পৌঁছে যেতে। জানালার কাঁচ নামিয়ে দিয়ে তার মুখের মুখোশটা রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দিল। জামাটা খুলে ট্রেসীর কাঁধটা ঢেকে দিল। একটা বড় সাইনবোর্ড দেখা গেল। বন্ড বলল, এবারে বাঁ দিকে, ট্রেসী।
ট্রেসী বাঁ দিকে ঘুরে গেল, আর খুব জোরে। একটু হড়কাল গাড়ির চাকাটা। কিন্তু ট্রেসী খুব জোর সামলে নিল।
বন্ড বলে উঠল, দোহাই তোমার আর বাহাদুরি দেখাবে না। বেঘোরে প্রাণটা যাবে না কি? বন্ডের ভয় দেখে ট্রেসী হেসে ফেলল। কিছু ভেব না তুমি, হেলান দিয়ে চুপ করে বসে থাক আর গাড়ির দৌড়টা মজা করে দেখ। ট্রেসীর গলার আওয়াজটা যেন বদলে গেল। সুখ ও শান্তির আভাসে কাঁপছে, যা সে রয়্যালে কখনো দেখেনি। বন্ড মুখ ঘুরিয়ে তাকে ভাল করে দেখতে লাগল। বাস্তবিক এ এক নতুন ব্যক্তিত্ব, স্বাস্থ্যের দীপ্তিতে উজ্জ্বল একখানি মুখ। তার ঠোঁটে একটা প্রশান্তির আভা দেখা গেল।
ট্রেসী তোমাকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। কিন্তু এবারে বল, কেমন করে তুমি সামাডেন এলে? আর কিভাবে যেন কোন মন্ত্রবলে প্রাণটাও বেঁচে গেল।
বেশ ভাল কথা, তবে তুমি আগে বল। এমন জীবন-মৃত্যু অবস্থায় আমি আগে কখনো কাউকে দেখিনি। মনে হল অনেক লোক তোমাকে ধরে খুব মারছে। আচ্ছা, এখন থাক, পরে সব কথা শুনব। আমার গল্পটা সোজা, বাবা একদিন এর মধ্যে সার্মাই থেকে ফোনে আমার খবর নিয়েছে। তোমার সাথে আমার দেখা হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করছিল। আর যখন বললাম যে তোমার কোন খোঁজই জানি না, তখন সে হুকুম দিল যে তোমাকে খুঁজে বার করতে হবে। বাবা তোমাকে দেখে সব ভুলে গেছে। আরও বলল, তুমি যে লোকটির সন্ধান করে যাচ্ছ, বাবা তার ঠিকানা পেয়ে গেছে। তুমিও মনে হয় এর মধ্যে তার খোঁজ পেয়ে যেতে পার। পিজ গ্লোরিয়া ক্লাবে তোমাকে পাওয়া যেতে পারে এটাই ছিল বাবার ধারণা। যদি তোমার দেখা পাওয়া যায়, যেন বলে দিই তোমাকে সাবধান হতে।
ট্রেসী হেসে উঠল। বাবার কথাই তাহলে ঠিক হল, কি বল? আমি জ্যাভোস ছেড়ে চলে এলাম। তারপর থেকেই সুস্থই আছি। তুমিও তো তাই বলতে চেয়েছিলে, পরশু সামাডেন এসেছি। সকালে তোমার খোঁজে পিজ গ্লোরিয়া ক্লাবে যাব ঠিকই করে রেখেছিলাম। আর এই হল গল্প। এবার তোমার কথা বল শোনা যাক।
রাস্তাটা পাহাড় থেকে নিচে নেমে গেছে। তারা বেশ জোরেই নেমে যাচ্ছে। বন্ড পেছনের দেখার আয়নার দিকে। তাকাল। প্রায় এক মাইল পেছনে একটা গাড়ির হেডলাইট সে দেখে ফেলল।
ট্রেসী বলল, আমি কিন্তু জানি, আয়নায় আমিও দেখেছি। ওরা একটু একটু করে কাছে এগিয়ে আসছে। ড্রাইভারটা খুব পাকা, তার পথও জানা আছে সবরকম। তবে এটাও ঠিক যে ওরা আমাদের মনে হয় না ধরতে পারবে। এবার বলতে শুরু কর। কি সব কাণ্ড-কারখানা করে বেড়াচ্ছ? এখানে এই পরিস্থিতিতে বিস্তারিতভাবে বলা যাবে না। বন্ড সংক্ষেপে বলল পাহাড়ের নাম ভাড়িয়ে বাস করছে একজন গুণ্ডা সর্দার। ইংল্যান্ডের পুলিশ তাকে এখনো খুঁজে বেড়াচ্ছে। বন্ডের সাথে পুলিশ দপ্তরের একটা যোগ আছে। আর আছে দেশরক্ষা বিভাগের সাথে।
তুমি মনে করছ আমি বোকা? বন্ড অবাক হয়ে গেল।
বাবা বলেছে।
বেশ। তবে শোন, এরা পাঠিয়েছে আমাকে সত্যি-মিথ্যে যাচাই করার জন্য। দেখলাম এই সেই লোক যার খোঁজ আমরা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় ওরা আমাকে চিনতে পেরে গেছে। তাই তো তাড়াতাড়ি চলে আসতে হল। আপাততঃ তার পরেও আমরা পালাতে চাইছি। ডালকুত্তা পেছনে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
ট্রেসী বন্ডের গল্পটা একটু ভাল করে ভেবে নিয়ে প্রশ্ন করল। ডার্লিং জেমস্ এবারে সত্যি কথাটা বলে ফেল তো। তুমি ওদের কটাকে খুন করে এসেছ?
কেন?
কৌতূহল। আর কিছু নয়।
কোথাও গল্প করবে না তো?
নিশ্চয় নয়। আমার তোমার কথা কেউই জানতে পারবে না।
ক্লাবের গাড়িটা খুব সম্ভব ভোগে গেছে। তাছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না। নইলে ওরা আমাকেই মেরে ফেলে দিত। তুষার ধ্বসে একজন মরে গিয়েছে। আমাকে বিশেষ কিছু করতে হয়নি। একজন আমাকে গুলি করে মারতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাকে বাধ্য হয়ে তার বুকে স্কী লাঠি ঢুকিয়ে দিতে হয়েছিল। এটাকে তুমি আত্মরক্ষাও বলতে পার। আর একজন ট্রেনে কাটা পড়েছে আমাকে ধরতে গিয়ে। আর এই লোকটিই আমাকে ছটি গুলি করেছিল তবু আমার গায়ে লাগেনি।
আপাতত আর কয়জন বাকি থাকল? একথা জিজ্ঞেস করে ট্রেসী।
জানতে চাইছি, আমাকে তুমি বিশ্বাস করতে পার।
পাহাড়ে সবশুদ্ধ জন পনের ছিল। যদি চার জন মরে যায়, আরো এগার জন আছে। তাছাড়া গুণ্ডা সর্দার।
