কিন্তু স্যার হিলারী, তোমার কাজ শেষ না করে তুমি কিভাবে এখান থেকে চলে যাবে? সে আমি ঠিক ব্যবস্থা করে নেব। এরা কি ইচ্ছের বিরুদ্ধে আমাকে এখানে আটকে রাখবে? তাহলে তুমি সব নামগুলি কখন দেবে, রুবি?
দেব, কিন্তু অতগুলি নাম তোমার মনে থাকবে না। একটা কাগজে লিখে নাও। বন্ড এক টুকরো কাগজ ও পেন্সিল নিয়ে তৈরি হল লেখার জন্য।
রুবি শুরু করল, আমার আর ভায়োলেটের পুরো নাম জানা আছে তোমার। লেখ, এলিজাবেথ ম্যাকনন, বাড়ি অ্যাবর্ডিন। তারপরে বেরিল, মরগান, হাফোর্ডশায়ার, পার্ল ট্যাম্পিয়ন, ওর বাড়ি ভেঙনশায়ার। এদের সব গরু, ছাগল, ভেড়ার এ্যালার্জি ছিল। নাম শুনলেই ঘেন্নায় মরে যেত। আর বিশ্বাস করবে–এখন ওদের মাংস খেলে বেচে যায়। আর, সবই হয়েছে এই কাউন্টের জন্যই শুনি চমৎকার লোক।
হ্যাঁ, সত্যি বটে।
ক্যাস্টার বেলী থেকে অ্যানচার্টার। তারপর ক্যারাসী ভেনটর, ন্যাশনাল স্টার্ভে কাজ করত, জানি না কোথায়। ঘোড়া দেখলেই সে তিক্ত হয়ে যেত, আর এখন।
বলে যাও।
রুবি তার কথা শেষ করে দু হাত দিয়ে বন্ডের গলা জড়িয়ে ধরল, ইংল্যান্ডে আবার তোমার সাথে দেখা হবে তো, স্যার হিলারী?
বন্ড চুমু দিয়ে বলল, রুবি নিশ্চয়ই হবে। কুইন ভিক্টোরিয়া স্ট্রীটে কলেজ অফ আরমস্-এ যে কোন সময়েই তুমি আমার দেখা পেয়ে যাবে। দোহাই তোমার তুমি আর স্যার বল না। তুমি এখন আমার বন্ধু।
ঠিক আছে তাই হবে। যাবার সময় খুব সাবধানে যাবে। আমার কি কিছু করার আছে?
কিন্তু মনে থাকে যেন কাউকে কিছু বলবে না।
সে বিষয়ে তুমি নিশ্চিত মনে থাকবে। ঘড়ি দেখে, ইশ লাঞ্চের দশ মিনিট বাকি আছে, পালাই তবে।
রুবি পা টিপে টিপে চলে গেল। বন্ড ঘরে ঢুকল। জানালায় বরফ জমে আছে। তেমনি প্রবল বাতাসের বেগ। মনে মনে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করল যেন রাতেই ঝড়ো বাতাস কমে যায়। আর তবে কি নেওয়া যায়? গগলস্ ও দস্তানা। বন্ড আবার বাথরুমে চলে গেল। চোখে সাবান দিল, চোখটা জ্বলতে থাকল, দেখতে দেখতে লাল হয়ে গেল।
ঘর থেকে বের হয়ে রেস্তোরাঁয় চলে গেল। না তাকিয়েও বুঝতে পারে তাকে সবাই আড়চোখে দেখে যাচ্ছে।
রেস্তোরাঁয় সে যেমন বসে রুবি ও ইরমার কান্টের মাঝখানে। ওদের অভর্থনা যেন তার কানে গেল না। ওয়েটারকে জোড়া ভদকার অর্ডার দিল। ইরমার দিকে দেখে নিয়ে বলল, দয়া করে আমার একটা কাজ করবে?
ইরমা হলুদে চোখে সন্দেহ। বলুন স্যার হিলারী কি কাজ?
চোখ দুটো আমার দেখেছ? এত উঁচুতে সূর্যের আলো খুবই কড়া তার উপর সারাদিন কাগজ পত্রের উপর চোখ রাখার ফলে এমন অবস্থা হয়েছে। একজোড়া স্নো গগলস্ জোগাড় করে দিতে পারবে দু-একদিনের জন্য?
হ্যাঁ, ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
ইরমা কান্ট হেড ওয়েটরকে ডেকে জার্মান ভাষায় বলল, স্যার হিলারীর ঘরে যেন একটা গগলস্ পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
হ্যাঁ, আর ছোট ফ্ল্যাঙ্কে শ্যাপস্ (schanaps) মদ। আমার ভাল ঘুমও হচ্ছে না, রাতে একটু খাওয়া দরকার। বাড়িতে অভ্যেস আছে তবে সেখানে হুইস্কিই যথেষ্ট। তবে স্ন্যাপস্ ভাল। যে দেশের যা নিয়ম চলে, কি বল? হা-হা-হা।
ইরমা কান্ট কঠিন দৃষ্টি দিয়ে তারের দিকে তাকিয়ে আছে। বন্ড হাসি মুখে তখন ঝড়ের গল্প শোনাতে বসল। আচ্ছা কতক্ষণ এই ঝড়টা চলতে থাকবে। ব্যারোমিটার কি খবর পাঠিয়েছে। ভায়োলেট একবার ইরমার দিক তাকিয়ে সাবধানে বলে ফেলল, গাইডরা মনে করছে যে বিকেলের দিকেই ঝড়টা থেমে যেতে পারে। সাথে সাথেই তার মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে খাবারে মন দিল।
বন্ডের ড্রিঙ্কস চলে এল। দু চুমুকে গ্লাসটা খালি করে দিয়ে সে আর একটার অর্ডার দিল। বারে বারে তার মনে হতে থাকল এমন কিছু করে যাতে সবাই চমকে যায় ও বিরক্ত হয়ে যায়। সেই হতভাগাটার খবর কি ফ্রলাইন ব্রান্ট জানে? হঠাৎ সে প্রশ্ন করে বসল, আরে সকালের সেই লোকটি। দেখে তো মনে হল ওর খুব সঙ্গীন অবস্থা। ও সেরে উঠেছে তো?
হ্যাঁ, অনেকেটাই ভাল আছে।
লোকটি কে? রুবি তখন আগ্রহভরে জিজ্ঞেস করল।
একজন ফালতু লোক, এখানে অনধিকারে ঢুকে পড়েছে। ইরমা চোখে খুবই তিরস্কার দেখা গেল। এসব কথা তোমাদের আলোচনা না করাই ভাল। নিরীহ গলায় বন্ড বলল, তাতে কি হয়েছে? এখানকার একঘেয়েমি জীবনে একটু চাঞ্চল্যকর ঘটনা হলে ভালই তো লাগে।
কান্ট কোন উত্তর দিল না। যেন মনে হল এটাও এক তিরস্কার।
কপালে ভুরু তুলে ভদ্রভাবে ইরমার তিরস্কারটা যেন মেনে নিল। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করল এখানে কি কোন খবরের কাগজ আসে বা কোন রেডিও বুলেটিন? বাইরের জগতের সাথে কোন সম্পর্কের ব্যবস্থা আছে কি?
না।
ইরমার সাথে কথা চালাবার কোন লক্ষণই বন্ড আর দেখল না। সে আশা ছেড়ে দিয়ে খাবারে মন দিল।
অন্যান্য টেবিলের মেয়েরা খাওয়া শেষ করে সবাই একে একে উঠে যাচ্ছে। পরে বন্ডের কফি এল। ইরমা বান্ট চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। বাকি কয়েকজনের উদ্দেশ্যে বলল, মেয়েরা সব চলে এস।
ওরা সবাই চলে যাওয়ার পর কেউ রেস্তোরাঁয় থাকল না, শুধু বন্ড একা, সে কিন্তু তাই চাইছিল। দাঁড়িয়ে উঠে দরজার দিকে এগিয়ে গেল, করিডোর একদম জন শূন্য। দেয়ালের গায়ে একটা বড় আলনা আছে, মেয়েদের বাইরে বেরোনোর জন্য কোট ও দস্তানা ঝুলে আছে। চট করে বড় একজোড়া দস্তানা নিয়ে নিল এবং তা তার কোটের পকেটে পুরে নিল।
