বন্ড জোরে হেসে উঠল। হাসিটা চাপা উত্তেজনারই প্রতিধ্বনি হল। হায় সৃষ্টিকর্তা, না, না। আমাদের যে কোন গুপ্তচর বিভাগ থাকতে পারে তাই জানা নেই। এসব কি যুদ্ধের পর উঠে যায়নি? মনে হল এটা খুবই কৌতুকের কথা তাই সে মুখ টিপে হাসতে লাগল। আমি তো ভাবতেই পারি না নকল গোঁফ লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা।
বন্ডের হাসি কিন্তু কাউন্টের মুখে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। সে ঠাণ্ডা গলায় বলল, তবে আমার প্রশ্নটায় কিছু মনে কর না। স্যার হিলারী। লোকটির কথা আমার কিন্তু খুবই সন্দেহ হয়েছিল। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই ধরনের ঘটনায় কাজের গন্ডগোল হয়ে যায়। তাতো বটেই। বন্ড চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। টেবিল থেকে সব কাগজপত্র তুলে নিল। আমার অনেক কাজ বাকি আছে। চতুর্দশ শতাব্দীতে এসে পড়া গেল। কালকে আপনাকে আরও কিছু কাজ দেখাতে পারব।
কাউন্ট অমায়িক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে পড়ল। বন্ড দরজা খুলে বেরিয়ে গেল। সেই সময়েই কিন্তু ঘরে গেল না, কয়েক মিনিট পায়চারী করে নিল কোন শব্দ শোনার অপেক্ষায়, কিন্তু কিছুই শুনতে পেল না। করিডোরে মাঝামাঝি শুধু দরজার ফাঁকে লাল আলো তার নজরে পড়ল। বন্ড ভাবল এবার মনে হয় সে গেল।
একটু সামনে গিয়েই সে দরজাটা ঠেলে দিল। ভিতরটা গলা বাড়িয়ে দেখে নিল। লম্বা ঘর, ল্যাবরেটরির জিনিসপত্র ভর্তি ঘর। একটা বেঞ্চিতে অসংখ্য টেস্টটিউব, দেওয়ালের তাকের পর তাকে রয়েছে সব টেস্টটিউব ও ওষুধের শিশি। সাদা পোশাক পরা তিনজন লোক মন দিয়ে কাজ করছে। চোখের নিচ থেকে গজ-কাপড় দিয়ে তাদের নাক-মুখ ঢাকা আছে, মাথায় আগে সার্জিকাল ক্যাপ। বন্ড তার গলাটা বের করে নিল। করিডোর পার হয়ে তার ঘরে চলে গেল। তুষার ঝড় শুরু হয়ে গেল। বন্ড তার সোয়েটার টান করে মাথার উপর তুলে দিল। দ্রুতপায়ে নিজের ঘরে ঢুকে পড়ল। কাগজগুলি টেবিলে রেখে সে চেয়ারে বসে পড়ল। এবার কি করা যায়? সে কি ক্যাম্বেলকে বাঁচাতে পারত? যদি টুক করে বলে দিত–হ্যাঁ, হ্যাঁ আমি একে চিনি। সম্মানীয় একজন লোক লন্ডনে আমরা একসাথে কাজ করেছি। তোমার এমন অবস্থা কেমন করে হল?
কিন্তু না বলে ভালই করেছে সে। তবে কি সে বেঁচে থাকত? ইউনিভার্সালের পরিচয় জানে না এমন লোক ক জন। আছে? ব্লোফেল্ড তো জানবেই। ক্যাম্বেলকে বাঁচানোর কোন চেষ্টা করলে তাকেও যেতে হবে ওর সাথে। ওকে ওই। ভয়ঙ্কর নেকড়েদের মাঝে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া কোন পথ আর ছিল না।
ক্যাম্বেলের উপর অত্যাচার হওয়ার আগে সে যদি বুঝতে পারে যে, সে নিশ্চয় কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এই রকম করেছে। তাকে চিনতে না পারাটা নিশ্চয় বন্ডের খুবই জরুরী ছিল।
কিন্তু বন্ডকে না চেনবার ভান করে সে কতক্ষণ সহ্য করে থাকবে। এত অমানুষিক অত্যাচার সহ্য করে। নিশ্চয়ই মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এটাই হচ্ছে তাদের প্রধান প্রশ্ন। দ্বিতীয় প্রশ্ন হল এই ঝড়টা কতক্ষণ স্থায়ী হবে। এই ঝড়ে কিছুই করা যাবে না। ঝড় থামলে সে একটা সুযোগ পাবে হয়ত। অবশ্য খুবই সূক্ষ্ম সুযোগ। ক্যাম্বেল মুখ দিয়ে কিছু বললে কোন সুযোগই থাকবে না। থাকবে শুধু যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু। তার একমাত্র হাত ও পা ছাড়া কোন অস্ত্র নেই। আর আছে দাড়ি কামাবার ব্লেড, ভারি রোলেক্স একটা হাত ঘড়ি। ইস্পাতের মোটা ব্যান্ড। বন্ড উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। জিলেট সেফটিরেজার থেকে ব্লেটটা বার করে ট্রাউজারের পকেটে রেখে দিল। আর কিছু নেবার আছে? সে ঘরের চারদিকে দেখে নিল। না, এখানে আর কিছু নেই। রুবির কাছে মেয়েদের নামগুলো জেনে নিতে হবে। যদি সব না হয়, তবে কয়েকটা নিলেই হবে। আর যদি সম্ভব হয় তবে, তাদের ঠিকানাটাও। তার কোন কারণে মনে হয়েছে এদের ঠিকানা জানা দরকার। এদের এভাবে রাখার মধ্যে মনে হয় ব্লোফেন্ডের কোন গুপ্তরহস্য আছে।
সাড়ে বারোটার সময় একটা অস্পষ্ট দরজার হাতল ঘোরাবার শব্দ বন্ডের কানে এল। মুখ ফেরাবার আগেই রুবি ঘরে ঢুকে পড়ল। ঠোঁটের উপর তর্জনী রেখে সে বাথরুমে গিয়ে ঢুকল। বন্ডও তার পিছনে ঢুকে পড়ল।
রুবির বড় চোখ দুটি ভয়ে বিস্ফারিত হয়ে গেছে। তুমি কি বিপদে পড়েছ? তুমি কি করেছ?
কই আমি কিছু করিনি তো? হয়েছে? আমাদের উপর আদেশ হয়েছে তোমার সাথে কথা বলা নিষেধ। ওরা কি আমাদের ব্যাপারটা ধরে ফেলেছে বলে মনে হয়।
না, না জানবার কোন কারণ নেই। তবে আর একটা ব্যাপার বুঝতে পেরেছি। সকালবেলা কাউন্ট বলছিলেন আমি এখানে আসার ফলে তোমাদের চিকিৎসা ঠিকমত হচ্ছে না। বলেছেন আমি যেন আমার কাজ নিয়ে সর্বদা ব্যস্ত থাকি। ব্যাপারটা এই, সত্যি তোমরা সবাই এত ভাল মেয়ে, বিশেষ করে তুমি। আমার ইচ্ছে হচ্ছে তোমাদের কোন কিছু একটা উপকার করি।
তুমি কিভাবে আমাদের উপকার করবে?
তোমাদের পদবীগুলি জানাতে পারবে? এই তো কাল রাতে ভায়োলেটর সাথে কথা হয়েছিল তার এতে খুব উৎসাহ আছে। অন্যরাও তাদের বংশপরিচয় জানতে চাইছে। বলা তো যায় না কার পূর্বপুরুষ কি ছিল? তাছাড়া এখান থেকে পালাতে পারলে বেঁচে যাই। এখানে আর ভাল লাগছে না। তুমি যদি সব মেয়েদের নামটা লিখে দাও তবে আমি ফিরে গিয়ে সবার ব্যাপারটা গবেষণা করে জানাতে পারি যখন তোমার ইংল্যান্ডে ফিরে যাবে।
