ভালই তো হল, এ যে অবিশ্বাস্য রকম ভাল হল। কিন্তু কিভাবে সবকিছু সামলে গন্তব্য স্থানে যাওয়া যাবে? বন্ড একটু সংকোচ নিয়ে বলল, আপনি যা বললেন, কাউন্ট, তার মানে এর কোন সার্থকতা নেই এমন নয়। যদি দলিলপত্র সবঠিক থাকে আর যদি তা বিশ্বাসযোগ্যও হয় তবে সেগুলি প্রামাণ্য বলে ঘোষণা করা আমার পক্ষে যুক্তি সঙ্গত হতে বাধা কোথায়? বন্ড একটু ভাল করেই হাসল। আশা করছি বুঝতে পারছেন।
গলায় জোর দিয়ে কাউন্ট আবার শুরু করলেন, কি ব্যাপার? তোমার চিন্তার কিছু।
কথা শেষ করার আগেই প্যাসেজে একটু গোলমাল শোনা গেল, তাদের দিকেই শব্দটা এগিয়ে আসছে। দরজাটা কেউ যেন মনে হল ধাক্কা দিয়ে খুলে দিল। মনে হল একটি লোককে কেউ ঠেলা দিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে দিল, লোকটি হুমড়ি খেয়ে মেঝেতে পড়ে গেল। দু জন গার্ড লোকটি পেছনে কোন হুকুমের আশায় দাঁড়িয়ে আছে। তারা কাউন্টের দিকে তাকিয়ে নিল, তারপর মুখটা ঘুরিয়ে দিল বন্ডের দিকে। তারা যেন মনে হল তাকে দেখে বিস্মিত হল কারণ তারা এখানে এভাবে বন্ডকে দেখবে আশা করেনি।
কাউন্ট গড়া গলায় জিজ্ঞেস করল–ব্যাপারটা কি? আর লোকটিই বা কে?
বন্ড এই উত্তরটা জানে। এক মুহূর্তের জন্য তার মৃত্যুভয় জাগল। মুখে বরফের সাথে রক্তের দাগ। এই বন্দিকে বন্ড চিনতে পারল।
লালচে চুল, নৌ-বহরের নাম একজন মুষ্টিযোদ্ধা, নাকভাঙা এই লোকটির সাথে একসময়ে গভীর সক্ষতা তার ছিল। জুরিখের ব্রিটিশ গুপ্তচর বিভাগের z স্টেশনের দু-নম্বর।
.
তাপ বাড়ছে
তার কোন ভুল নেই, ক্যাম্পবেলকে না চেনার কোন কারণ নেই। হায় সৃষ্টিকর্তা! তুমি এ কোন বিপদের মধ্যে আনলে। বন্ডের এই অভিযানের কথা z স্টেশনকে কোনকিছুই জানানো হয়নি। ওরা নিজেরাই মনে হয় পাহাড়ের চূড়ায় ক্লিনিকের খোঁজ করার জন্য পাঠিয়েছে, এমন ব্যাপার কোন অসম্ভবই নয়।
গার্ডদের মধ্যে একজন অশুদ্ধ জার্মান শব্দে বলল, গণ্ডোলার পেছনে স্কিং-রুমে একে পাওয়া যায়। ঠাণ্ডায় জমে গেলে কি হবে? যখনই ধরা পড়ল প্রথমে প্রচণ্ড বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত কাবু করা গেছে। ক্যাপ্টেন বরিস ল্যাবরেটরির জিনিসপত্র কিনে ফিরে আসার সময় এই লোকটি ওকে অনুসরণ করে, এতে কোন সন্দেহ নেই। ও বলছে। যে, ও একজন ইংরেজ টুরিস্ট। জুরিখ থেকে এখানে বেড়াতে এসেছে। ওকে সার্চ করা হয়েছে, ওর পকেট থেকে পাঁচশ সুইচ ফ্রা পাওয়া গেছে। ওর কাছে কোন সনাক্ত পত্র নেই। ওর নাম বলেছে ক্যাম্পবেল।
লোকটির নামটা শুনে একটু নড়েচড়ে উঠল। উদভ্রান্ত চোখে ঘরের চারপাশে তাকাল। ওর মাথা ও মুখে অনেক লেগেছে। মনে হয়, পিস্তলের বাঁট বা লোহার রড দিয়ে আঘাত করেছে। হঠাৎ তার বন্ডের দিকে নজর পড়তেই একটু সে অবাক হয়ে গেল। তারপর ডুবন্ত লোক যেমন হাতের কাছে খড়কুটোকে ধরতে পারলে যেমন আনন্দিত হয় তেমনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলল, হায়, সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জেমস, তুমি ওদের বলে দাও আমি কে, বল, আমি ইউনিভার্সাল এক্সপোর্টের জুরিখ শাখার একজন সামান্য কর্মচারি। হায় সৃষ্টিকর্তা! জেমস্ তুমি আমাকে বাঁচালে।
কাউন্ট আস্তে আস্তে বন্ডের দিকে মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে তাকালেন। ওর হাসিটা একেবারে কুৎসিত দেখাল। তুমি লোকটিকে চেন নাকি? স্যার হিলারী।
বন্ড তখন মাথা নাড়ল, যেন মনে হল এই হতভাগ্য লোকটিকে না চেনার জন্য বড়ই দুঃখিত। সে ভাল করে জানে যে এতে ক্যাম্পবেলের মৃত্যু নিশ্চিত। আমি ওকে জীবনে কখনো দেখিইনি। বেচারা! মনে হচ্ছে কিছু মাথার দোষ আছে। হয়ত মাথায় জোর আঘাত লেগেছে। নিচে কোন হাতাপাতালে পাঠালে ভাল হয়, মনে হচ্ছে অবস্থা খুবই খারাপ।
ইউনিভার্সাল ব্যাপারটা কি? কাউন্টের গলার স্বরটা রেশমের মত মোলায়েম লাগল। আগে যেন নামটা শুনেছি মনে হচ্ছে। কি জানি, আমি তো ও নামটা শুনিনি, বন্ড সম্পূর্ণ উদাসীন গলায় বলল। প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরিয়ে দিল, একটুও হাত কাঁপল না।
কাউন্ড বলল একে নিয়ে যাও আর কি করতে হবে নিশ্চয় জান?
গার্ড দুইজন নিচু হয়ে ক্যাম্বেলকে দাঁড় করাল। ক্যাম্বেল বন্ডের দিকে শেষবারের মত তাকাল, চোখে তার আকুল প্রার্থনা, মিনতি।
একদিন যে তার বন্ধু ছিল, তাকেও অতি নির্মমভাবে টানতে টানতে নিয়ে চলে গেল। দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল।
বন্ড জানে ওকে কোথায় নিয়ে গেল–জেরা কুঠুরি। সব স্বীকার করার জন্য সবরকম আধুনিক পদ্ধতি তার উপর। চালানো হবে। কতক্ষণ ক্যাম্বেল সহ্য করবে? বন্ড নিজেই বা আর ক ঘণ্টা সময়ই বা পাবে।
আমি ওকে অসুস্থদের কাছে নিয়ে যেতে বললাম। ওখানে ওর যত্ন নেওয়া হবে। কাউন্ট টেবিলের কাগজপত্রের দিকে তাকালেন। এমন একটা বিশ্রী ব্যাপার ঘটে গেল যে, আমাদের কাজের ক্ষতি হল। স্যার হিলারী, এ বেলাটা কাজটা বন্ধ থাক কি বল? তোমারও তো ভীষণ অসুবিধা হল।
না, না, তা কিছুই না। হ্যাঁ, আপনি যা বলেছিলেন মিলেমিশে কাজ করার কথা, আমারও ভালই মনে হচ্ছে। নিশ্চয় আমরা একটা আশাজনক ব্যবস্থায় পৌঁছুতে পারব।
হ্যাঁ, পারব বৈ কি? কাউন্ট একটু সময়ের জন্য সিলিং-এর দিকে চোখ রাখলেন। আচ্ছা, স্যার হিলারী তোমার সাথে ব্রিটিশ গুপ্তচরের বিভাগের কোন যোগাযোগ নেই আশা করি?
