আরো আধ ঘণ্টা তার মাথায় চিন্তার ঝড় বয়ে গেল, অবশেষে সে ঘুমিয়ে পড়ল, তার নটার সময় ঘুম ভেঙ্গে গেল। জানালা খুলে দিল। সাদা কুয়াশায় আকাশ ভরে আছে। তার মানে একটু পরেই তুষারপাত হবে। বাতাস জোরে বইছে, কেবল রেলওয়ে থেকে ঘড়ঘড় শব্দ শোনা যাচ্ছে না। ঝোড়ো বাতাসে গণ্ডোলা চালানো বিপদ। বন্ড জানালা বন্ধ করে দিয়ে ব্রেকফাস্টের জন্য ঘণ্টা বাজাল।
ব্রেকফাস্টের সাথে একটি চিঠি।
এগারটার সময় দেখা করলে কাউন্ট খুশি হবেন।–আই. বি.।
ব্রেকফাস্ট সমাপ্ত করে বন্ড ব্লিউভিলি পরিবারের তৃতীয় পাতায় শুরু করল। অনেক কাজ কাউন্টকে দেখাতে হবে। কাউন্টের স্টাডিতে দেখা হল ঠিক এগারটার সময়।
সুপ্রভাত স্যার হিলারী। ঘুম ভাল মতন হয়েছে তো? মনে হচ্ছে আজকে বরফ পড়বে। কাজের পক্ষে দিনটি বেশ ভালই। কাজে নির্বিঘ্নে মন দেওয়া যাবে। কি বলেন?
আপনার মেয়েরা তো সেই মনোযোগটা নষ্ট করে ফেলছে। সত্যি? এই মেয়েগুলি খুব ভাল। কিন্তু ওদের কি রোগ। হয়েছে? সবার তো দেখছি স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালই আছে।
ওরা এলার্জিতে সবাই ভুগছে স্যার হিলারী। সবাই ওরা গ্রামের চাষীর পরিবারের মেয়ে। এদের জীবিকা হল চাষ আর আমি যখন এই রোগ সারাবার পদ্ধতি আবিষ্কার করে ফেলেছি তাই ওদের উপকার করছি। সবাই খুবই ভাল ফল। পাচ্ছে।
হঠাৎ টেলিফোনটা বেজে উঠল। কাউন্ট বলল, ক্ষমা করবেন। ফোনটা তুলে নিয়ে সামান্য কথা বললেন। বন্ড তখন তার নিজের কাগজপত্র দেখতে লাগল।
একজন গবেষণাগারের লোক। ল্যাবরেটরীর জন্য কিছু জিনিষপত্র কিনতে চাইছে। কেবল রেলপথ বন্ধ হয়ে গেছে কিন্তু ওর জন্য একটা বিশেষ বন্দোবস্ত ওরা করে দেবে। লোকটি খুবই সাহসী, কিন্তু বেচারা অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। আচ্ছা, স্যার হিলারী, আমাদের কাজটা শুরু করে দেওয়া যাক।
বন্ড বড় বড় কাগজগুলি টেবিলের উপর মেলে ধরল। গর্বের সাথে আঙ্গুল দিয়ে কাউন্টের দীর্ঘ বংশ-তালিকাগুলি দেখিয়ে দিল।
কাউন্টকে বড় খুশি দেখাল। চমৎকার সত্যিই আপনি অনেক বড় কাজ করেছেন। এখানে লিখেছেন ব্লিউভিলি মনোগ্রামে ভাঙ্গা তরোয়ালের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কখন ওদের এটা দিয়ে ছিল?
বন্ড নর্মাল অভিযান থেকে শুরু করেছিল তার গাঁজাখুরি গালগল্প।
মনে হয় কোন যুদ্ধের পর এই ভাঙ্গা তরোয়াল তাদের উপহার দিয়েছিল। লন্ডনে গিয়ে পুঁথিপত্র ঘেঁটে ঘটনাটা বের করতে হবে।
অবশেষে সেই বড় আকারের কাগজগুলি গুটিয়ে নিয়ে রেখে নোট বইটা বন্ড নিল। এবারে আপনার সাথে তথ্যগুলি মেলাতে হবে। আপনি জিডাইনিয়াতে জন্মেছেন, জন্মের তারিখ ২৮ শে মে, ১৯০৮ সাল, তাই তো?
হ্যাঁ।
আচ্ছা, আপনার বাবার নাম–
বাবার নাম আর্নস্ট জর্জ ব্লোফেল্ড আর মা হলেন মারিয়া স্তভরো মাইকেলোপুলোরা। তাদেরও জন্ম জিডাইনিয়াতে?
হ্যাঁ।
এবার আপনার পিতামহের নাম?
আর্নস্ট স্টিফান ব্লোফেল্ড আর পিতামহীর নাম এলিজাবেথ লুবেমিরস্কায়া।
হুঁ, তাহলে দাঁড়াল যে আর্নস্ট আপনাদের পারিবারিক নাম।
তাই তো মনে হচ্ছে, আমার প্রপিতামহও ছিলেন আর্নস্ট।
এটা কিন্তু সত্যিই জরুরী খবর। আগসবার্গে দু জন ব্লোফেল্ড পাওয়া গেছে।
এর বিশেষ কিছু তাৎপর্য আছে বলে আপনি কি মনে করেন?
আছে, নাম অনেক সূত্রের সন্ধান দিতে পারে। এ পর্যন্ত অনেক কিছু জানা গেছে। এর আগের কথা কিছু মনে পড়ে আপনার? আমরা প্রায় ১৮৫০ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারি। আরো পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে যেতে পারলেই আমরা অগসবার্গ পৌঁছে যাব। না, কাউন্টের গলায় যেন কিসের আর্তনাদ শোনা গেল। আমার প্রপিতামহের আগে আর কিছুই জানি না। তবে–। ব্লটিং পেপারের উপর তার হাতটা কয়েকবার কেঁপে উঠল। খরচের ব্যাপার! কিছু সাক্ষী সেখানে পাওয়া যাবে। দেখ ডিয়ার স্যার হিলারী, আমরা হলাম অভিজ্ঞ লোক, এই তুমি ও আমি। আমরা উভয়কে কখনো ভুল বুঝব না। গীর্জার খাতা, রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল এগুলি সব কিছুই যেন আসল হতে হবে তার কি কোন প্রয়োজন আছে?
এবার তোমাকে বাগে পাওয়া গেল, বুড়ো ধূর্ত শিয়াল। বন্ড এমন ভান করল যে সে বুঝতে পারেনি, অমায়িক স্বরে সে বলল, কাউন্ট আপনার কথাটা ঠিক বুঝতে পারলাম না। আপনি কি বলতে চাইছেন আমাকে বুঝিয়ে বলতে পারেন? স্যার হিলারী তুমি খুবই পরিশ্রমী লোক। স্কটল্যান্ডের কোন দূর পাহাড়ের সরল জীবন যাপনে তুমি অভ্যস্ত। কিন্তু তোমার জীবনটা আরো অনেক সুখের করা যেতে পারে। হয়ত কিছু সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কামনা-বাসনা তুমি মনের মধ্যে জমিয়ে রেখে দিয়েছ–যেমন, মোটর গাড়ি, হয়ট, পেন্সন। শুধু তোমার মুখের কথাই যথেষ্ট। যে কোন সংখ্যা আমাকে নিঃসংকোচে বলে দেখতে পার। বন্ড কিন্তু জানে সে রঙিন চশমার ভিতর থেকে দুটি চোখ তার দিকে স্থির হয়ে দেখছে। শুধু একটুখানি সহযোগিতা করলেই হবে। বুঝলে তো? শুধু কয়েকটি জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হবে। পোল্যান্ড, জার্মানী ও ফ্রান্স। অবশ্য তার জন্য তোমার অনেক খরচা হয়ে যাবে। ধরে নাও পাঁচ পাউন্ড প্রতি সপ্তাহে। দলিল এবং অন্যান্য কাগজপত্র যা যা প্রয়োজন হবে। সে সবের আমিই ব্যবস্থা করে দেব। তার জন্য তোমাকে কোন কিছু ভাবতে হবে না। এরপর তোমার শুধু সাক্ষ্য-প্রমাণ বাকী থাকবে। তাই নয়? প্যারিসের বিচার মন্ত্রীদপ্তর কলেজ অফ আরমস্-এর সিদ্ধান্তকে সৃষ্টকর্তার আদেশ বলে মেনে নিতে হবে।
