হ্যাঁ, আমি ডার্লিং। বন্ড চট করে তার পোশাক খুলে ফেলল, অন্ধকারে খুঁজে নিয়ে সে বিছানায় গেল, বিছানার পাশে বসে পড়ল।
অন্ধকারেই তার হাত স্পর্শ করল। একি তোমার গায়ে তো কিছুই নেই। বন্ড এবার হাতটা ধরে ফেলল। হাত দিয়ে খুঁজে নিয়ে রুবির গা স্পর্শ করল। তোমারও তো গায়ে কিছুই নেই। তাই তো হবে।
বন্ড খুব সাবধানে তার বালিশে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ল। খুশি হল যে রুবি তাকে জায়গা করে দিল। প্রথমে আস্তে করে রুবিকে চুমু খেল এবং পরে ভয়ঙ্করভাবে জোরে।
রুবি একটু কেঁপে উঠল ও পরে তার ঠোঁটটা সেও আলগা করে দিল। বন্ডের হাত যখন খোঁজাতে ব্যস্ত রুবি তখন তাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরল। মাখনের মত নরম চামড়া, তারা নেচে উঠল আনন্দে। একটু শব্দ করে সে বন্ডের হাত চেপে ধরল। তুমি কি আমাকে একটু ভালবাস?
সেই চরম প্রশ্ন?
তোমার মত অপরূপ সুন্দরী আগে আমি কখনো দেখিনি। অনেক আগে আমার তোমার সাথে দেখা হওয়ার দরকার ছিল।
রুবি আর কোন বাধা না দিয়ে বন্ডের হাতটা ছেড়ে দিল। এই বাসি মিথ্যেটাই যথেষ্ট।
গ্রীষ্মের সদ্য কাটা ঘাসের মতই তার চুলের গন্ধ, মুখেও পেপসোডেন্টের সুগন্ধ, আর গায়ে বেবি পাউডারের সুরভি। বাইরের হাওয়া বাড়িটাকে স্পর্শ করে যাচ্ছে। এক মধুর বার্তা বাতাসে, এমনকি তার মধ্যে হৃদ্যতার আভাসও পাওয়া যাচ্ছে। যে হৃদ্যতা বাসনার আকুতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
পরম তৃপ্তিতে বাসনার শেষ হল।
তারপরে তারা উভয়ে বাহুবন্ধনে, এই মনে করে পড়ে থাকল যে তারা কোন অন্যায় করেনি। অপকারও করেনি। একে অন্যকে।
আস্তে আস্তে রুবির নিঃশ্বাস আগের মত হয়ে এল। সে ঘুমিয়ে পড়ল। বন্ডেরও খুব ঘুম আসছিল। রুবির বাহুবন্ধন থেকে নিজেকে সে ছাড়িয়ে নিল–তার হাতের ঘড়িটা দেখল যে বারোটা বেজে গেছে।
খাট থেকে নামার সাথে সাথেই বালিশের নিচে, মেঝের নিচে, যেন বাড়ির কোন গহন স্থান থেকে মিষ্টি সুরে ইলেকট্রিক বেল বেজে উঠতে লাগল। রুবি আস্তে নড়ে উঠল। ঘুমের মধ্যে বলে উঠল, এটা কি ব্যাপার? হতচ্ছাড়া!
এক রকমের চিকিৎসা। এতে কোন কান দিও না। বোধ হয় এখন মাঝরাত।
হা।
ঘুমিয়ে পড়।
রুবির আর কোন শব্দ পাওয়া গেল না।
বেল থেমে গেল, এরপর শুনতে পেল গুনগুন করে শব্দ। তার সাথে চলেছে মেট্রোনামের টিকটিক, যেন মনে হচ্ছে। কেউ ঘুম পাড়ানি ছড়া শোনাচ্ছে। যেন মনে হল দূরে সমুদ্রের অবিশ্রান্ত বাতাসের ঢেউ ভেঙে পড়ছে। এবারে মানুষের গলা পাওয়া গেল, কাউন্টের গলা। তেমনি গুন গুন করে শব্দ, কিন্তু প্রত্যেকটি কথা স্পষ্ট হল : এবারে তুমি ঘুমাবে। তুমি ক্লান্ত, তোমার শরীর ভারী লাগছে। তোমার নিঃশ্বাস শান্ত হয়ে আসছে। চোখ তোমার বন্ধ। দেহে অবসাদ জড়িয়ে আছে। উষ্ণ বিছানায় আরামে শুয়ে আছে। তুমি, ঘুমিয়ে পড় তুমি, ঘুম, ঘুম, ঘুম। তোমার বিছানা পাখির পালকের মত নরম, তেমনি কোমল ও তার স্পর্শ মধুর, মুরগির বাচ্চার মত তুমি আরামে ঘুমিয়ে পড়। ছোট্ট মুরগির বাচ্চা কি মসৃণ আর মনোরম তাদের পালক।
এর পরেই মুরগির ডাক শোনা গেল। আর পাখার শব্দ, প্রিয় মোরগ শিশুরা তোমরা ঘুমিয়ে পড়। মা মুরগির ঘুম। পাড়ানী গান তা প্রায় এক মিনিট এই শব্দের স্রোত বয়ে গেল মিষ্টি ঝরনার মত করে। তারপর আবার ভেসে এল তার। গলার আওয়াজ। এবার প্রিয় মুরগি শিশুরা ঘুমিয়ে পড়ে। ওরা তো তোমারই মত ঘুমেও আরামে ওদের চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। তুমি ওদের গভীর ভাবে ভালবাস। সমস্ত মুরগির বাচ্চাকে তুমি ভালবাস। তারা বড় হবে, সুন্দর হবে, পুষ্টি হবে আর এটাই তোমার মনের কামনা। তুমি শীঘ্র তোমার পাখিদের কাছে ফিরে যাবে। ওদের লালন করবে, ওদের আদর করবে। ইংল্যান্ডের সমস্ত মুরগির দায়িত্ব তোমার উপর এসে পড়বে। এই সব তোমার জীবনের পরম আনন্দ।
কিন্তু এই নিয়ে তুমি কারো সাথে কোন আলোচনা করবে না। কারোকে বলবে না তোমার কাজের কথা। এটা থাকবে তোমার মনের গহনে গোপনে। এই গোপন তথ্যটি লোকে তোমার কাছে জানতে চাইবে, কিন্তু ওদের কাছে কোন কথা বলবে না। তারা তোমার গোপন কথা জেনে নিয়ে তোমার কাজটা নষ্ট করে দেবে কারণ মুখে হিংসা করাই মানুষের স্বভাব। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মুরগির ভবিষ্যৎ তোমার উপর নির্ভর করবে। তাই এই ব্যাপারে কাউকে কিছু বলবে না। তুমি আমার কথা সর্বদা মনের মধ্যে রেখে দেবে।
কাউন্টের গলার শব্দ আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে গেল দূর থেকে দূরান্তে। তারপর শুধু মেট্রো নামের টিকটিক শব্দ। রুবি গভীর ঘুমে ঢলে পড়ল।
বন্ড তার পোশাক পরে ঘর থেকে বের হয়ে এল। কড়িডোরে কোন লোক বা শব্দ নেই। নিজের ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে দিল। পোশাক খুলে নিজের বিছানায় শুয়ে পড়ল। কিন্তু ব্যাপারটা কি হল? মনে হল খুব সরল ও প্রশংসনীয় এদের কাজ। এদের চিকিৎসায় রুবি একদম সেরে গেছে। মুরগি দেখলে তার গা কাঁটা দিয়ে উঠত কিন্তু সে এখন মুরগি ভালবাসে। মুরগি চাষ যার জীবনের পেশা। মুরগির প্রতি এমন ঘৃণা হলে তার চলবে কেন?
কিন্তু চিতাবাঘ তার গায়ের দাগ হঠাৎ বদলাল কেন? দুবৃত্তের স্বভাব যার ছিল সে কি করে জনহিতকর কাজে সঁপে দিল নিজেকে। বন্ড এটাকে কিছুতেই মেনে নিতে পারল না। তাহলে চারিদিকে কেন এত কড়া পাহারা? বিভিন্ন দেশের লোক এনেছে পাহাড়ের চূড়ায়, সে যেন প্রেতাত্মা সংঘের সন্ধান পাচ্ছে। খাদের নিচে খুনটা কেন হল? এই নিরীহ। গবেষণাগারের পিছনেই তার দুরভিসন্ধি নিশ্চয় লুকিয়ে আছে কোথায়ও? কোন গভীর ষড়যন্ত্র। কেমন করে সেটা বের করা যাবে?
