ওরা শোবার ঘরে চলে এল। অন্ধকার ঘর, শিশুদের লুকোচুরি খেলার মত করে দরজায় কান রাখল কোন শব্দ শোনা যাচ্ছে কি না। না, কোন সাড়াশব্দ নেই। আরও একটু আস্তে চাপড় দিল। রুবি চলে গেল।
ছ টা বাজল। ছোট লেখার বইগুলির উপর চোখ দেওয়াতে তার মাথা ধরে গেছে। তাছাড়া এত উঁচুতে অক্সিজেনও বড় অল্প। সে বুঝতে পারল তার একটা ড্রিঙ্কসের খুব দরকার। না, একটা হলে হবে না, তিনটের দরকার। সে খুব শীঘ্ৰ গোসলটা সেরে নিল। শরীরটা যাতে ঝরঝরে মনে হয়। তারপর বারে চলে এল। কয়েকটি মেয়ে এর মধ্যে চলে এসেছে। সে এসে বসে পড়ল ভায়োলেটের পাশে। মনে হল ভায়োলেট তাকে দেখে খুব খুশি হয়েছে। বন্ড এসে ড্রিঙ্কসের অর্ডার দিল। বেয়ারা চলে যাবার পর একটা বড় চুমুক দিয়ে তার গ্লাসটা নামিয়ে রেখে দিল। ও এবার একটু স্বস্তি মনে করল। সারা দিন গাধার মত খেটে গেছে। আর তোমরা সূর্যের আলোতে স্কীং নিয়ে মেতে রয়েছ।
কি বলছেন! কথার মধ্যে ওর মনে হল একটু আইরিশ টান আছে। সকালবেলায় দুটো লেকচার শুনে আসতে হল, আর সেটা সে কি বিরক্তিকর ভাবা যায় না। আর বিকেলটাও কেটে গেল পড়ার সব বই নিয়ে। এত দিন ফাঁকিতে চলেছিল তাই এখন চাপটা বেড়ে গেছে।
কি এত বই পড়েন?
কৃষিবিদ্যা। ভায়োলেট সতর্ক হয়ে দেখল আমাদের কিন্তু এসব কথা বলা বারণ। বেশ তো, অন্য কিছু নিয়েই আমরা কথা বলতে পারি। তোমার কোথায় বাড়ির দক্ষিণ আয়ার্ল্যান্ডে স্যামোনের কাছে। বন্ড যেন হঠাৎ অন্ধকারে প্রকট সূত্র পেল মনে হল। জায়গাটি কি আলু চাষের জন্য বিখ্যাত?
ঠিক বলেছেন তো? আমি আলু খেলে সহ্য করতে পারতাম না। আর আলু ছাড়া খাওয়ারও কিছু নেই। আলু ছাড়া কথাও বলা যায় না। কিন্তু এখানেও আমার ভাল লাগছে না। এবার আমার দেশে যাওয়ার জন্য মনটা ছটফট করছে।
তাহলে তো তোমার বাবা-মা বেশি খুশি হবেন।
তাই তো, মাঠে কাজ করার জন্যও মন খারাপ লাগছে। চাষের কাজ আমি ভালই জানি, কিভাবে উন্নত ধরনের ফসল ফলাতে হয় কি কি রাসায়নিক পদার্থ দিলে জমি উর্বরা হয় এমনি ধরনের অনেক বিদ্যেই আমার জানা আছে। চারদিকে সে একবার শীঘ্র তাকিয়ে দেখে নিল। তার কথা কি কেউ শুনতে পেল? না, ধারে কাছে কেউ একটা নেই। সে নিশ্চিন্ত হল এবারে আপনি বলতে পারেন স্যার হিলারী আপনার কাজের বিষয়।
এই-কাউন্টের বংশের কথা নিয়ে কিছু চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিরক্তিকর কাজ।
আমার কিন্তু সেটা মনে হয় না। মিস বান্টকে যা বলতে শুনলাম তা তার খুবই মজার ব্যাপার। সে গলার স্বরটা নামিয়ে নিয়ে বলল, আমার পদবী হল ও নীল। আয়ার্ল্যান্ডের রাজাদের ও নীল পদবী ছিল না? আপনার কি মনে হল– বন্ডের পিছনে তার নজর গেল, ঘাড়ে এমন ব্যথা হল আপনাকে আর কি বলব। আমি ঘাড় একদম ফেরাতে পর্যন্ত পারছি না।
আমি তো স্কীং-এর কিছুই জানি না। বন্ড গলাটা জোর করে বলে গেল। ইরমা বান্ট টেবিলের কাছে এসে দাঁড়াল। এই যে, স্যার হিলারী, বন্ডের মুখের দিকে ভাল করে দেখে নিল, সূর্যের তেজে আপনার গায়ের রঙ কিন্তু একটু তামাটে দেখাচ্ছে। আসুন সবাই এক টেবিলে বসি। রুবি ওখানে একা বসে আছে কেন? চলুন, ওর টেবিলেই বসি।
ওরা টেবিলে গিয়ে বসে পড়ল। বন্ড কিন্তু রুবির পাশে গিয়ে বসল। সবার জন্য নির্দোষ পানীয় চলে এল। বুবোটা আস্তে আস্তে তার মনের জট ছাড়িয়ে দিচ্ছে। খোশমেজাজে তাই বন্ড বলল ওই খেলাটা আবার হবে নাকি?
মেয়েরা সবাই রাজি হল। গ্লাস আর কাগজের ন্যাপকিন নেওয়া হল। ওরা প্রায় সবাই সিগারেট ধরাল। এই খেলায় সবাই মেতে উঠল। এমনকি ইরমা বান্টও হাসতে লাগল।
একটা বাজি শেষ হবার পর বন্ড বসে পড়ল। সে বলল, মেয়েরা যেন একটা বাজি রাখে।
মেয়েরা বাজি ধরে আবার খেলা শুরু করল।
বন্ড ইরমা বান্টকে বলল, আচ্ছা যদি সময় পাওয়া যায় তো কেবল দোলনার উপত্যকাটা দেখে এলে কেমন হয়?
কিন্তু স্যার হিলারী, সিলভার যাবার কোন নিয়ম এখানে নেই, এখানকার অতিথি ও কর্মচারি কারোরই নেই। টুরিস্টরা অবশ্য যেতে পারে। আমরা নিয়ম ও গবেষণা নিয়েই সর্বদা থাকি। সেটাই তো ভাল, তাই না?
হ্যাঁ, তা তো বটেই।
কিন্তু আমি তো আর তোমাদের মত নিজেকে রোগী করে ভাবতে পারি না। আমাদের বেলায় কি তোমাদের একই নিয়ম মানতে হবে। না, তা ঠিক নয়, এটা বলতে পারেন কাউন্টের আদেশ বা নির্দেশ। আর তাছাড়া কাউন্টের সব কাজ সেরে আপনারা সময় কোথায় পাচ্ছেন?
স্যার হিলারী আমি খুবই দুঃখিত। আপনার এই অনুরোধটা আমি রাখতে পারব না। এবার ইরমা খেলার দিকে মন দিল। হাতে তালি দিয়ে বলল, এই মেয়েরা তোমরা খেলাটা বন্ধ কর। খাবার সময় হল।
বন্ড মাত্র একটা চেষ্টা করল। তার কথাটার প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য।
ইরমার পিছন পিছন খাবার ঘরে ঢোকার সময় টাইট উঁচু পেছনে একটা লাথি মারার লোভ অনেক কষ্টে তাকে সামলাতে হল।
.
স্বপ্ন, দুঃস্বপ্ন
রাত এগারটা।
চারদিকে কবরের নীরবতা। অন্ধকারে সিলিংয়ের দিকে চোখ রেখে চুপ করে শুয়ে ছিল বন্ড, এবার শব্দ না করে উঠে পড়ল, টাউজার্স ও শার্টটা পরে নিল। প্লাস্টিকের মধ্যে টুকরোটা দরজার ফাঁকে ঢুকিয়ে নিয়ে চাপ দিতেই দরজা খুলে গেল। কান পেতে থাকল কিছুক্ষণ, তারপর দরজার ফাঁক দিয়ে মাথাটা প্রথমে বার করল। করিডোর-এ কোন লোক নেই। সে ঘর থেকে বাইরে বের হল। কয়েক পা এগিয়ে তিন নম্বর ঘরে এল। ধীরে ধীরে দরজার হাতল। ঘোরাতে থাকল। দরজাটা খোলাই ছিল। ভিতরে ঢুকে পড়ল। ঘরটা অন্ধকার, বিছানায় অল্প শব্দ হল, তুমি? বিছানায়। শুয়ে ফিসফিস করে কেউ কথা বলল।
