হ্যাঁ, স্যার, খুবই অসুস্থ।
অন্য ফার্মের খবর কি?
আমাদের সঙ্গে তারা তিন জন ছিল স্যার। একজনের সেই একই অসুখ ধরেছে। তুরস্ক থেকে বেরুবার আগে অন্য দু-জন অসুস্থ বোধ করে। উজুনপোল্ট-তে আমাদের তারা ছেড়ে গেছে–মানে সীমান্তে।
অন্য ফার্মটা তা হলে কারবার গুটিয়ে নিয়েছে?
কল্পনায় বন্ড দেখতে পেল M-কে খবরগুলো খুঁটিয়ে বিচার করতে। তাঁর মাথার ওপর ছাদ থেকে পাখাটা কি ধীরে ধীরে ঘুরছে M-এর হাতে কি সেই পাইপটা? চীফ অফ স্টা কি অন্য লাইনে তাদের কথাবার্তা শুনছে।
তোমার কি ইচ্ছে অন্য পথে তুমি আর তোমার স্ত্রী কি দেশে ফিরতে চাও?
আপনিই সেটা স্থির করুন, স্যার। আমার স্ত্রীকে নিয়ে কোন ভাবনা নেই। স্যাম্পলটা ভালভাবেই আছে। সেটার খারাপ হবার কোন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না। এই যাত্রাটা শেষ করতে এখনো আমার খুবই উৎসাহ। তা না হলে এ এলাকাটা আমাদের কাছে অজানা থেকে যাবে। আমরা জানতে পারব না এখানে কি কি ধরনের সম্ভাবনা আছে।
আমাদের অন্য কোন সেল্সম্যানের সাহায্য চাও?
তার দরকার আছে বলে মনে করি না। তবে আপনি যা ভাল বোঝেন—
ভেবে দেখছি। এই সেলস্ ক্যামপেনের শেষ পর্যন্ত তা হলে দেখবার তোমার ইচ্ছে
কল্পনায় M-এর চোখ দুটো বন্ড দেখতে পেল–তার নিজের মতই M-এর চোখদুটো উত্তেজনায় নিশ্চয়ই জ্বলজ্বল করছে। হ্যাঁ স্যার, বন্ড বলল, মাঝ-পথ পর্যন্ত এসেছি। বাকিটা না দেখলে মনে একটা অনুশোচনা থেকে যাবে।
বেশ, তাই কর। তোমাকে সাহায্য করার জন্য আর একজন সেলসম্যান পাঠাবার কথা ভেবে দেখছি। আর কিছু বলতে চাও?
না, স্যার।
গুডবাই।
গুডবাই, স্যার।
রিসিভার নামিয়ে বন্ড ভাবল M-এর প্রস্তাব মত একজন সাহায্যকারী চাইলেই ভাল করত। যাক শীগগিরই তো তারা এই হতচ্ছাড়া বলকান রাষ্ট্রগুলো ছেড়ে ইটালিতে পৌঁছবে। তারপর সুইজাৰ্ল্যান্ড। তারপর ফ্রান্স–তাদের মিত্র দেশে।
কিন্তু তাতিয়ানা সম্বন্ধে কি? করিমের মৃত্যুর জন্য সে কি দোষী? পাশের ঘরে গিয়ে বন্ড আবার তাতিয়ানার সম্বন্ধে প্রথম দর্শন থেকে সবকিছু খুঁটিয়ে ভাবল। না, তাতিয়ানাকে দোষী বলা যায় না। গুপ্তচর হিসেবে তাকে কাজে লাগান হলেও সেটা ঘটেছে তার অজ্ঞাতসারে। পৃথিবীতে এই বয়সী এমন কোন মেয়ে নেই যে এই ভূমিকায় ধরা না দিয়ে অভিনয় করতে পারে। তাছাড়া, করিমের মৃত্যুর পর প্লটটা সে যাই হোক-স্পষ্ট হয়নি কি? একদিন আসল প্লটটা জানতে পারবেই। কিন্তু বর্তমানে তাতিয়ানা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত নয়।
মনস্থির করে বাথরুমের দরজায় টোকা দিল বন্ড। তাতিয়ানা বেরিয়ে এলে তাকে জড়িয়ে ধরে সে চুমু খেল। তাতিয়ানাও তাকে জড়িয়ে ধরে, আমার কাছে তুমি ফিরে এসেছো, জেমস। –কি খুশি যে হয়েছি কি করে বোঝাই? এসো, এখন খাওয়া-দাওয়া করে আবার আমাদের জীবন শুরু করি।
খাওয়ার পর টেম্পো এসে তাদের নিয়ে গেল সেই এক্সপ্রেস ট্রেনে। বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে প্ল্যাটফর্মের ভীড়ে সে অদৃশ্য হল।
ঠিক ন-টায় নতুন ইঞ্জিন এসে ট্রেনটাকে নিয়ে চলল সাভা উপত্যকার মধ্য দিয়ে।
কন্ডাক্টরের সঙ্গে বন্ড গেল তাকে টাকা দেবার আর নতুন যাত্রীদের পাসপোট দেখার জন্য।
জাল পাসপোর্টের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্যই বন্ডের জানা–ধ্যাবড়া লেখা, অতি অস্পষ্ট রবারস্ট্যাম্পের ছাপ, ফটোর পাশে পুরনো আটার দাগ, ইত্যাদি। কিন্তু নতুন পাসপোর্টের পাঁচটা ছিল। কিন্তু তাতে কোন জালিয়াতির কিছু নেই। দুটো, স্যুইস। আর তিনটে আমেরিকান। রুশী জালিয়াতরা স্যুইস্ পাসপোর্টের পক্ষপাতি। কিন্তু দুটি স্যুইস দম্পতির পাসপোর্ট, যাদের বয়েস সত্তরের বেশি। বন্ড নিজের কামরায় ফিরে এল।
ভিনকোভসি এল। তারপর ব্রড । ভোরে জাগরেব। তারপর তারা ছুটে চলল স্নোভেনিয়ার পাহাড়ের মধ্য দিয়ে। ট্রেনটা যখন লজুরিয়ানার মধ্যে দিয়ে চলেছে-তাতিয়ানার ঘুম ভাঙল। ডিম ভাজা, শুকনো বাদামী রুটি আর কফি দিয়ে ব্রেকফাস্ট সারল তারা। রেস্তরা-কারে হাসিখুশি ইংরেজ আর আমেরিকান যাত্রীদের ভীড়। বিকেলের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিম ইউরোপে তারা প্রবেশ করবে এবং বিপজ্জনক তৃতীয় রাতটা শেষ ভেবেই বন্ডের মনটা হালকা হল।
সেজানা পর্যন্ত ঘুমল বন্ড। এলো যুগোশ্লাভিয়ার রাগী চেহারার সাদা পোশাকের কর্মচারি। তারপর এলো পোগগিওরিয়েল আর সেই সঙ্গে ইটালিয়ান অফিসারদের হাসিখুশি কথাবার্তা। ভনেজিয়া র মধ্যে দিয়ে তারা চলল ট্রিয়েস্ট আর নীল উজ্জ্বল এ্যাড্রিয়াটিক সাগরের দিকে।
বন্ড ভাবল কাজটা তাহলে হাসিল হল। ট্রেনটা থামল ঝলমলে ট্রিয়েস্ট স্টেশনে। জানালা দিয়ে দু জন হাসিখুশি লোকজনদের দেখতে লাগল।
হঠাৎ একটি লোকের মাথায় টুপির তলা থেকে তার সোনালি চুল রোদে ঝলসে উঠল। ঠোঁটের ওপর পাতলা সোনালি গোঁফ। বন্ডের মনে হল এই ইংরেজ লোকটি তার চেনা।
তার এক হাতে একটা পুরনো রেভেনেশন সুটকেস। অন্য হাতে মোটা একটা বই আর কতকগুলো খবরের কাগজ। লোকটাকে দেখে মনে হল পেশাদার টেনিস খেলোয়াড়। বিদেশে নানা টুর্নামেন্টে খেলে দেশে ফিরছে।
লোকটা কাছে এসে বন্ডের দিকে তাকাল। লোকটা কি তার চেনা? না। অন্ততপক্ষে চোখ দুটো তার মনে থাকত। কিন্তু এই চোখ দুটো তাকে কি যেন বলতে চায়? সেগুলোর মধ্যে কি চিনতে পারার ভাষা? নাকি কোন সতর্কতার বাণী?
