গলার শব্দটা যতটা সম্ভব নিচু করে বলল, ঘরে এস।
রুবি ঘরে ঢুকে সাথে সাথে দরজা বন্ধ করে দিল। সে ঠোঁটের উপর তর্জনী দিযে বন্ডকে কথা বলতে বারণ করে দিল। বাথরুম দেখিয়ে দিল।
বাথরুমে রুবি ঢুকে গেল আর তার পেছনে বন্ড গেল। সে খুবই অবাক হয়ে গেল। আলো জ্বালালো।
স্যার হিলারী আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনার সাথে একটু কথা বলা খুবই জরুরী। বেশ তো রুবি বল, কিন্তু বাথরুমে কেন?
ও আপনি জানেন না? না, আর আপনি জানবেনই বা কি করে? এটা গোপনীয়। কিন্তু আমি আপনাকে সব বলতে। পারি। আপনি কাউকে কিছু বলবেন না তো?
না, অবশ্যই না।
সব ঘরেই মাইক্রোফোন বসানো আছে।
কিন্তু ঠিক কোন স্থানে আছে তা বলতে পারব না। কিন্তু যখনই আমরা কালো ঘরে গিয়ে কথাবার্তা বলি তখনই সব মিস বান্ট জানতে পারে। মনে হয় কোন লুকানো জায়গায় টেলিভিশন অবধি লাগানো আছে। আমরা জামা খুলি কোথায় জানেন? বাথরুমে। মনে হয় সব সময় কেউ যেন তাকিয়ে দেখছে।
হ্যাঁ তা তো মনে হবেই।
কথা হল, লাঞ্চের সময় আপনি মিস বান্টকে বলেছিলেন যে মিস বান্ট হয়ত বা একজন ডাচেসও হতে পারে। খুবই রহস্যজনক কথা। কিন্তু এটা কি করে সম্ভব?
হ্যাঁ, সম্ভব হবে বৈ কি?
আমার পদবীটা আমি আপনাকে বলে দিতে চাই। উত্তেজনাময় রুবির চোখ দুটি বড় বড় হয়ে গেল। আমার পদবী হল উইন্ডসর।
ও, তাই না কি? এটা তো খুবই চমৎকার।
আমি জানি যে আপনার তাই মনে হবে। বাড়িতে সবাইকে বলাবলি করতে শুনেছি যে রাজবংশের সাথে আমাদের অনেক দূরের সম্পর্ক আছে।
বুঝেছি। বন্ড এমনভাবে বলল যে বিষয়টার উপর সম্ভাবনা থাকতে পারে। এটা একটু তলিয়ে দেখতে হবে। তোমার মা বাবার নাম কি? সেটা আগে আমার জানা দরকার।
বাবার নাম জর্জ অ্যালবাট উইন্ডসর আর মার নাম মেরি পটু। কিছু মনে পড়ছে কি? হ্যাঁ, অ্যালবার্ট নামের তাৎপর্য আছে তো। রীনী ভিক্টোরিয়ার স্বামীর নাম ছিল অ্যালবার্ট।
ইস্। কিন্তু এসব বিষয় জানতে হলে অনেক বই পড়তে হবে। ইংল্যান্ডে তোমার বাড়ি কোথায়? আর জন্মই বা কোথায় হয়েছিল সব আমাকে বল?
ল্যাংকাশায়ার মোর কমবেবে-তে। হ্যাঁ, মুরগি চাষের জন্য এ জায়গাটি বিখ্যাত হয়ে আছে। এবারে বুঝতে পারলাম তুমি মুরগি খেতে কেন ভালবাস।
না, না, তা কেন হবে, ব্যাপারটা কি জানেন? চিকেন খেলে আমার এ্যালার্জি হত। আমি এটা একেবারেই সহ্য করতে পারতাম না। মাংস খাওয়ার পরই গায়ে চাকা দাগ বের হত। একটা বিশ্রী ব্যাপার হত। বাবা, মা খুবই বিরক্ত হয়ে পড়তেন। ওঁরা মুরগির চাষ করেন তাই মুরগি খেতে খুবই ভালবাসতেন। হঠাৎ একদিন পোলট্রি ফার্মস গেজেট কাগজে একটা বিজ্ঞাপন চোখে পড়ল। কেউ যদি চিকেন অ্যালার্জিতে কষ্ট পায় তবে সে সুইজারল্যান্ডে গবেষণাগারে নিরাময়ের জন্য দরখাস্ত করে দেখতে পারেন। এখানে চিকিৎসাকালীন কোন খরচ লাগবে না। কিন্তু তার উপর আবার হাত খরচ হিসাবে দশ পাউন্ড দেওয়া হবে।
বন্ড বলল, এবার বুঝেছি।
আমি তারপর দরখাস্ত করে দিলাম। এরা আমাকে লন্ডন থেকে সুইজারল্যান্ড আসবার খরচ অবধি পাঠিয়ে দিল। আজ দু মাস হয়ে গেল এখানে এসেছি। এখানে খুব একটা খারাপ লাগছে না। এখন মনে হয় মুরগির মত পাখি পৃথিবীতে আর একটিও নেই আর। তবে এখানকার নিয়ম খুবই কড়া, এই যা। কিন্তু কাউন্ট আমাকে সম্পূর্ণ সারিয়ে দিয়েছেন।
ভারী মজার ব্যাপার তো। বন্ড রীতিমত অবাক হয়ে গেল। আচ্ছা এবার তোমার নামের কথায় আসা যাক। আমি আজ থেকে এটা শুরু করে দেব। কিন্তু কেমনভাবে তোমার সাথে এই নিয়ে আলোচনা করব। আর তোমার সাথে একা দেখাই বা করব কেমন করে।
রাতে তো? নীল চোখ দুটি তার বড় হয়ে গেল, আশংকা ও উত্তেজনায়।
তাছাড়া আর তো উপায় দেখছি না। বন্ড এগিয়ে গিয়ে তার মুখে একটা চুমু খেল। দু হাতে তাকে বুকের কাছে টেনে এনে বলল, রুবী তোমার মত এত সুন্দর মেয়ে কোনদিন দেখিনি, জান?
ওহো! স্যার হিলারী!
কিন্তু রুবিও তার বাহু থেকে নিজেকে মুক্ত করে নেবার চেষ্টা পর্যন্ত করল না। এক সুন্দর পুতুলের মত দাঁড়িয়ে রইল। হয়ত ভাবছে একদিন রাজকুমারী হয়ে যাবে। ঘর থেকে আপনি কিভাবে বের হবেন। বাইরে চৌকিদার সর্বদা ঘুরে বেড়ায়। তার পাশে কিন্তু আমার ঘর আছে–তিন নম্বর। যদি কোনভাবে বেরোতে পারেন।
বন্ড তার পকেট থেকে এক ইঞ্চি প্লাস্টিকের টুকরোটা বার করে আনল। আমি জানতাম আমার কাছাকাছি কোন ঘরে নিশ্চয় তুমি আছ। নিজেকে বড় কাছে মনে হল। যুদ্ধে যখন ছিলাম তখন দু-একটি কৌশল শিখেছিলাম। তালার পাশে এই যন্ত্রটা দিয়ে দরজার ফাঁকে ঢুকিয়ে দিয়ে চাপ দিলেই দরজা খুলে যাবে। এই রাখ তোমার কাছে, কিন্তু একদম লুকিয়ে। আমারও একটা আছে। প্রতিজ্ঞা কর কারও কাছে কিছু বলবে না।
কি যা তা বলছেন। আমি কাউকে বলে দেব না। আপনার কাছে প্রতিজ্ঞা করছি। উইন্ডসরের কাছে আপনি আশা করতে পারেন। রুবি বন্ডের গলাটা জড়িয়ে ধরল। তার বড় বড় চোখে রাজ্যের বিস্ময় ফুটে উঠল।
কিছু আছে তো বটেই। তবে তুমি এর উপর নির্ভর করে থাকবে না। বন্ড তার আত্মসম্মান কিছুই উদ্ধার করার চেষ্টা করতে থাকল। আমার বইগুলি একবার চোখ বুলিয়ে নিই। তারপর তোমাকে বলে দেব। হাতে আমার বেশি সময় নেই। রুবিকে এবার একটি সুদীর্ঘ চুম্বন করল সে। রুবিও এই মুহূর্তে সাড়া দিল। আর সেটা খুবই গভীরভাবে। বন্ড তার পিঠে হাত বুলিয়ে বলল, নাও, আর দেরি করো না। এবার তোমার এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া দরকার।
