উত্তেজনায় বন্ডের শরীর টানটান হয়ে উঠল। দু-বার পিস্তল থেকে গুলি ছুটল। মৃতদেহ হতে যে উঠে দাঁড়িয়ে। উঠেছিল, ব্যালে নাচিয়ের মত ঘুরপাক খেয়ে থুবড়ে পড়ল মাটিতে। তার ছোরাটা করিমকে স্পর্শ করতে পারেনি। পাথরের ওপর সেটা পড়ল। করিমের কাছে দৌড়ে গেল বন্ড। যন্ত্রণায় যে লোকটার শরীর কুঁকড়ে উঠছিল সেদিকে করিম তাকালেন। তারপর বন্ডের দিকে।
দারুণ রেগে বন্ড বলল, ব্লাডি ফুল! কেন সাবধান হও না।
লজ্জিত মুখে করিম হাসছিল। ও-সবে এখন কাজ নেই, জেমস্। অনেকবার তুমি বাঁচিয়েছ। তোমার ঋণ কখনো শোধ করতে পারব না।
বন্ড বলল, ডার্কো, বোকার মত কথা বল না, পিস্তলটা কাজ করেছিল। তোমারটা করেনি। এটাই মোদ্দা কথা। সময় মত ছোটে–এমন একটা পিস্তল জোগাড় কর। ব্যাপারটা কি? রাতে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। গা ঘিনঘিন করছে। ড্রিঙ্কের দরকার। এস ঐ রাকি র বোতলটা শেষ করি।
করিমের হাত বন্ড ধরল।
টেবিলের কাছে পৌঁছতে ফল-বাগানের ভিতর তীক্ষ্ণ আর্তনাদ শোনা গেল। বন্ড পিস্তলে হাত রাখল।
মাথা নাড়িয়ে বললেন, বুলগানিয়ানগুলোর উদ্দেশ্যটা, আমার লোকেরা জানার চেষ্টা করছে। কি আবিষ্কার করবে অনুমান করতে পারছি। আমার আসাটা এত রাতে ক্ষমা করবে না। তাদের পাঁচজন মারা পড়েছে।
বন্ড বলল, নিহতদের মধ্যে এক মহিলাকে বাঁচিয়েছ, ডার্কো, বোকার মত কথা বল না। জিপসিরা জানত তোমার হয়ে বুলগানিয়ানদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরির কথা।
এক চুমুকে গ্লাস শেষ করল। বাঁকানো ছুরির মুখটা মুছতে মুছতে জিপসি সর্দার তাদের কাছে এল। বন্ডের হাত থেকে এক গ্লাস রাকি সে নিল। তাকে প্রফুল্ল দেখাচ্ছিল। বন্ডের মনের হল লড়াইটা খানিক চললে সে খুশি হত। ধূর্তভাবে সর্দার কথা বলল, ঐ দুটো মেয়েকেই তোমাকে দিতে চাই।
বন্ড সর্দারকে বলল, মেয়ে দুটিকে সামলাতে পারব না। আমার ধারণা খুব ভাল মেয়ে। আজ রাতে বহু লোক মারা গেছে। উপজাতির ভবিষ্যৎ সন্তান ধারণের জন্য এ দুটি মেয়েকে তার দরকার।
বন্ডের কথাগুলো করিম তর্জমা করে দিলেন। সর্দার বন্ডের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে কয়েকটি কথা বলল।
সর্দার বলছে এ ধরনের কঠিন অনুরোধ তোমার করা উচিত নয়। বলছে, তোমার হৃদয় কেমন তাই সে তোমার অনুরোধ রাখবে।
তারপর সর্দার আর করিম আলোচনার পর বললেন, জেমস্! ব্যাপারটা ভারি রহস্যজনক। বুলগানিয়ানদের অর্ডার দেওয়া হয়েছিল ভাল্লা আর তার দলের লোকেদের খুন করতে। তারা জানে, এই জিপসি আমার হয়ে কাজ করত। কিন্তু তোমাকে আঘাত না করে, কিন্তু কেন কে জানে? পাহাড়ের ঘুরপথ দিয়ে এখানে আগে আসে যাতে আমরা গাড়ির শব্দ শুনতে না পাই। এ জায়গায় পুলিশ নেই।
তিনি আবার বললেন, এখন মাঝরাত। এক্ষুনি রোলস আসবে। এখন তাদের অনেক কাজ। এই গণ্ডগোলের চিহ্ন দিনের বেলায় যাতে না থাকে সে সব ব্যবস্থা তাদের করতে হবে। সর্দার তোমাকে এবার যেতে বলছে এবং আবার যেন তুমি এখানে আস। আর জোরা ও ভিদা তোমারই সম্পত্তি।
সর্দারের সঙ্গে করমর্দন করে করিম আর বন্ড বাইরে বেরিয়ে এল। শোফারের পাশে বসে ছিল এক যুবক। তাদের দেখিয়ে করিম বললেন, এটি আমার দশম ছেলে বোরিস। এর সাহায্য দরকার।
যুবকটি বলল, গুড-ইভনিং, স্যার।
শোফারকে করিম বললেন, হিপ্পোডাম স্কোয়ারের পাশের রাস্তায় চল। আমি থামতে বলব। সাজ-সরঞ্জাম এনেছ তো?
জ্বি হ্যাঁ।
বেশ জোরে চালাও। বিছানায় শুয়ে পড়বার এখন সময় হয়েছে।
খানিক পরে করিম বললেন, জিপসি সর্দার বলছিল আমাদের দুজনের মৃত্যু আসন্ন। সে বলেছে, তুষার দেশের সন্তানদের কাছে আমি যেন সাবধানে থাকি, জিপসিরা ভারি হেঁয়ালিতে কথা বলে। কিন্তু সে বলেছে ক্রিলেনসু ঐ দুটো ধরনের কোনটাই নয়।
কেন?
কারণ যতক্ষণ-না লোকটাকে খুন করতে পারি ততক্ষণ আমি ঘুমাতে পারব না। ক্রিলেনসুকে খুন না করলে তৃতীয়বারের বার সে আমাকে খুন করবে। তাই সারারাতে এখন আমরা তার সঙ্গে মোলাকাত করতে চলেছি।
.
মেরিলিন মনরোর ঠোঁট
জনশূন্য পথ ধরে গাড়িটা ছুটে চলল। কলম্ অব কলসটালিনে পৌঁছে ডান দিকে ঘুরে পৌঁছাল একটা চকে।
আস্তে, মৃদুস্বরে বললেন করিম। চকটা ঘুরে লাইম গাছের ছায়ায় তারা এগিয়ে চলল, থাম।
লাইম গাছের ছায়াঘন অন্ধকারে গাড়িটা থামল। করিম দরজার হ্যাঁন্ডেলে হাত দিলেন। জেমস, আমাদের বিশেষ দেরি হবে না। ড্রাইভারের সিটে গিয়ে বস। কোন পুলিশ এলে বল, Ben Bey Kerim in ortagiyim। কথাগুলোর মানে, আমি করিম বে-র পার্টনার। কথাগুলো শুনলে তারা আর তোমাকে ঘাটাবে না।
বন্ড বলল, ধন্যবাদ। কিন্তু শুনে হয়ত অবাক হবে আমিও তোমার সঙ্গে যাব। আমি না থাকলে নিশ্চয়ই তুমি ফ্যাসাদে পড়বে। এখানে বসে পুলিশদের ধাপ্পা দেবার চেষ্টা যে করব না সে-বিষয়ে নিশ্চিত থেকো। কোন ভাষার গুটিকয়েক কথা জানার অনেক অসুবিধে। তুর্কি ভাষায় পুলিশ আরো অনেক প্রশ্ন করতে পারে। উত্তর দিতে না পারলে নিশ্চয়ই তারা সন্দেহ করবে। তর্ক করতে এসোনা ডাকো।
বিব্রতসুরে করিম বললেন, ব্যাপারটা তোমার ভাল না লাগলে আমাকে কিন্তু দোষ দিয়ো না। ঠাণ্ডা মাথায় খুন করতে যাচ্ছি। আমাদের দেশে, আমরা ঘুমন্ত কুকুরকে ঘাটাই না, কিন্তু জেগে উঠে কামড়ালে তাকে গুলি করি। তার সঙ্গে ডুয়েল লড়তে যাই না। ঠিক আছে?
