আর এই রোমানোভা মেয়েটি–সেকি কাজের উপযুক্ত।
অনিচ্ছাসত্ত্বেও ক্লেব বলল, মেয়েটা দারুণ রূপসী। তাকে দিয়ে কাজ হাসিল হবে। সে কুমারী নয়, কিন্তু তার মধ্যে শালীনতার ভাব প্রবল। তাছাড়া যৌন চেতনাও এখনো পুরোপুরি জাগেনি। তাকে উপযুক্ত নানা নির্দেশ দেওয়া হবে। সে ইংরেজী খুব ভাল বলে। তাকে বলেছি, সে সহযোগী হয়ে কাজ করতে রাজী। কর্তব্যে কোন অবহেলার লক্ষণ দেখলে উপযুক্ত ব্যবস্থা আমরা নেব। তার কয়েকজন আত্মীয়ের ঠিকানা আমাদের কাছে আছে। তার মধ্যে কয়েকটি শিশু। তার ভূতপূর্ব প্রেমিকদের নামও জোগাড় করব। দরকার হলে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইসব লোকেদের জামিন হিসেবে আটক রাখা হবে। কিন্তু তার স্বভাব স্নেহশীল। সে কোন গণ্ডগোল করবে বলে আমি মনে করি না।
এই বন্ড লোকটার হদিশ জানা গেছে। ক্রনস্টিন বললেন।
হ্যাঁ। ইংল্যান্ডের MGB দপ্তর জানিয়েছে সে এখন লন্ডনে। দিনে তার সদর দপ্তরে যায়। রাতে লন্ডনের চেলসি এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটে ঘুমায়।
এটা ভাল খবর। আশা করি পরের কয়েক সপ্তাহ সেখানেই থাকবে। তার মানে তার হাতে এখন কোন কাজ নেই। ইংরেজরা আভাস পেলেই আমরা যে টোপ ফেলেছি তার খোঁজে পাঠাবে। কালো চিন্তিত চোখে ক্রনস্টিন ছাদের একটা জায়গায় তাকিয়ে বললেন, বিদেশের কোন জায়গাটা উপযুক্ত ইতিমধ্যে সেটা আমি বিচার করে দেখেছি। আমি স্থির করেছি ইস্তামবুলে প্রথম যোগাযোগ হওয়াই দরকার। সেখানে আমাদের সংগঠন খুব ভাল। ইংরেজ গুপ্তচর বিভাগের অফিসটাও ছোট। শুনেছি সেই স্টেশনের যে প্রধান, সে লোকটা খুব কাজের। তাকে লোপাট করে দেওয়া হবে।
জায়গাটা আমাদের পক্ষে সুবিধের। লন্ডন থেকে বেশ খানিকটা দূরে। যেখানে বন্ডকে খুন করা হবে, সে জায়গা আর মেয়েটির সঙ্গে তার দেখা হবার পর কিভাবে সেখানে তাকে আনা হবে সে সম্বন্ধে আমি প্ল্যান করছি। সেটা ফ্রান্স নয়তো তার কাছাকাছি কোন জায়গা। ফরাসি প্রেসকে খুব ভাল করে চাপ দেবার হাতিয়ার আমাদের আছে। এ ধরনের গল্প তারা ফলাও করে ছাপবে। এ্যানিৎস্কি ঠিক কখন কাজে নামবে সেটাও স্থির করতে হবে। ক্যামেরাম্যান এবং অন্যান্য অপারেটিভদের এখন ইস্তামবুলে চালান করা বিশেষ দরকার। সেখানে আমাদের কাজকর্ম যাতে লোকের নজরে না পড়ে সে বিষয়েও আমাদের বিশেষ সাবধান হতে হবে। সব বিভাগকে সাবধান করে দিতে হবে, তুরস্কের সঙ্গে বেতারে খবরাখবর আদান প্রদান যেন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা হয়। যে সব ব্রিটিশ কর্মচারি আড়ি পেতে বেতারের খবর শোনে তাদের মধ্যে সন্দেহ জাগাতে চাই না। SPEKTOR মেশিনের খোলটা তাদের দিলে নিরাপত্তার দিক দিয়ে কোন আপত্তি হবে না বলে আমাদের সংকেত বিভাগ জানিয়েছে। তাদের পক্ষে এটা দারুণ লোভের ব্যাপার।
ক্রনস্টিন থামলেন। ধীরে ধীরে ছাদ থেকে চোখ নামিয়ে চিন্তিতভাবে উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, কমরেড, এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না। অনেক সমস্যা দেখা দেবে। দৈনন্দিন সেগুলো সমাধান করতে হবে। আমার মতে কাজটা এখন নির্বিঘ্নে শুরু করা যেতে পারে।
কমরেড, আমিও আপনার সঙ্গে একমত। প্রয়োজনীয় নির্দেশ আমি জারি করছি। আপনার সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
ধন্যবাদের বিনিময়ে নস্টিন এক ইঞ্চি মাথা নামালেন। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
রোজা টেলিফোনে এক নাম্বার ডায়াল করল।
অপারেশন রুম, পুরুষের গলা শোনা গেল।
কর্নেল ক্লেব বলছি। ইংরেজ গুপ্তচর বন্ডের বিরুদ্ধে চক্রাতের কাজ এখন থেকে শুরু হবে।
.
মসৃণ জীবন
মসৃণ জীবনের তৈলাক্ত হাত দুটো বন্ডের গলায় জড়িয়ে ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করে আনছিল। সে যোদ্ধা লোক। দীর্ঘকাল যুদ্ধ না থাকলে ভারি মনমরা হয়ে পড়ে। তার কর্মস্থলে প্রায় এক বছর ধরে শান্তি বিরাজ করছে। এই শান্তির আবহাওয়ায় তার দম বন্ধ হয়ে আসছিল।
১২ই আগস্ট, বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে সাতটায় কিংস রোডের কাছে তার সুন্দর ছিমছাম ফ্ল্যাটে বন্ডের ঘুম ভাঙল। দারুণ একঘেয়েমিতে ভরে উঠল তার মন। ঘণ্টা বাজিয়ে তার অতিশয় নিপুণা স্কটল্যান্ডীয় গৃহকর্মীকে ব্রেকফাস্টের কথা জানিয়ে দিল। তারপর ঝট করে চাদরটা সরিয়ে দাঁড়িয়ে উঠল।
একঘেয়েমি কাটাবার জন্য ধীরে ধীরে কুড়িবার বুক ডন দিল সে, করে চলল ছাতির আর হাতের ব্যায়াম। শেষে এই শারীরিক পরিশ্রমের দরুন হাঁপিয়ে বাথরুমে গিয়ে প্রথমে খুব গরম তারপর কনকনে ঠাণ্ডা পানির শাওয়ারে দাঁড়িয়ে। পাঁচ মিনিট ধরে গোসল করল।
দাড়ি কামিয়ে গাঢ় নীল রঙের সুতির শার্ট আর ট্রপিক্যালের ট্রাউজার পরে, কালো চামড়ার চপ্পলে খালি পা দুটো গলিয়ে শোবার ঘরের মধ্যে দিয়ে এল বসার ঘরে। অন্তত সাময়িকভাবে নিজের শরীর থেকে একঘেয়েমি ভাবটা ঝেড়ে ফেলে সে এখন তৃপ্ত।
গৃহকর্মী বয়স্কা মহিলা। চুলে পাক ধরলেও মুখটা সুদর্শন। ঘরে এসে জানালার পাশের টেবিলে সে নামাল খাবারের ট্রে আর একটা খবরের কাগজ–The Times, এটা ছাড়া বন্ড কোন কাগজ পড়ে না। তাকে সুপ্রভাত জানিয়ে বন্ড ব্রেকফাস্ট খেতে বসল। বন্ড কাগজের মাঝের পাতা যখন খুলল, সে বলল, টেলিভিশন বিক্রি করার জন্য সেই লোকটা গতকাল রাতে এসেছিল।
হেডলাইনের ওপর চোখ বোলাতে বোলাতে বন্ড প্রশ্ন করল, কোন্ লোকটা?
