রোজা ক্লেব বেশ খুশি হয়ে বলল, কাজের কথা সব শেষ। এখন, এস আমরা আরাম করি। আমি পরিপাটি হয়ে আসছি এবার গল্প করব। চকলেটগুলো খাও।
তাতিয়ানা খাড়া হয়ে বসল। কাজটা সহজ। মিছি মিছি সে ভয় পেয়েছিল। তাতিয়ানার মত তখনো খুব ভাল। এমন সময় শোবার ঘরের দরজাটা খুলল, কেমন দেখাচ্ছে
রোজা ক্লেবের পরনে একটা স্বচ্ছ গাউন। তার নিচে গোলাপী রঙের ব্রা।
তাকে দেখাচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিত বুড়ি বেশ্যার মত।
আলোটা নেবাও। আমার পাশে এসে বোস।
দরজার কাছে গিয়ে তাতিয়ানা আলো নেভাল। তারপর দরজা বন্ধ করে ঊর্ধ্বশ্বাসে করিডোর দিয়ে ছুটল।
.
শেষ প্রস্তুতি
পরের দিন সকাল।
SMERSH এর ভূগর্ভে কর্নেল ক্লেবের সদর দপ্তর। ঘরটা বড়। নিজের টেবিলের সামনে ক্লেব বসেছিল।
ক্লেবের ফোলা-ফোলা গোমড়া মুখ। সেখানে অনেক অত্যাচার অনাচারের ছাপ। চোখের তলায় যেন ফোস্কা। পড়েছে। চোখের সাদা অংশে ঠিকরে উঠেছে লাল লাল শিরা।
তার পাশের তিনটে টেলিফোনের একটা মৃদু শব্দ করে বাজল। ক্লেব রিসিভার তুলে বলল, লোকটাকে পাঠিয়ে দাও।
ক্লেব ক্রনস্টিনের দিকে তাকাল। ক্ৰনস্টিন বসে চিন্তিতভাবে দাঁত খুটছিলেন। গ্রানিং স্কি।
ঘরে এসে রেড গ্রান্ট সাবধানে দরজা বন্ধ করল। টেবিলের কাছে এসে বিনীতভাবে মাথা নামিয়ে তার কম্যান্ডিং অফিসারের দিকে তাকাল। ঠাণ্ডা চোখে রোজা তার দিকে তাকিয়ে, কাজের জন্য তুমি তৈরি?
হ্যাঁ, কমরেড কর্নেল।
দেখি তোমাকে কেমন দেখাচ্ছে। জামা কাপড় ছাড়। রেড গ্রান্ট অবাক না হয়ে কোটটা খুলল। তারপর নির্বিকারভাবে অন্য সব জামাকাপড় ছেড়ে জুতা জোড়া লাথি মেরে ছুঁড়ে ফেলল। খুব সহজ ভঙ্গিতে গ্রান্ট দাঁড়াল।
রোজা ক্লেব কাছে গিয়ে গ্রান্টের শরীরটা এমনভাবে টিপে টিপে দেখল যেন সে একটা ঘোড়া কিনছে। পেছনে গিয়ে তাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল। জ্যাকেটের পকেট থেকে একটা চকচকে ধাতু বার করল।
ঘুরে এসে ক্লেব লোকটার পেটের কাছে দাঁড়াল। তার ডান হাতটা নিজের পেছন দিকে। লোকটার দিকে তাকাল কেব। তারপর ধা করে অসম্ভব জোরে পেতলের ধুলো ঝাড়া বুরুশটা দিয়ে তার তলপেটে মারল।
উফ!
যন্ত্রণায় ভ্যাবাচাকা খেয়ে গ্রান্ট ঝাঁকিয়ে উঠল। মুহূর্তের জন্য তার হাঁটু জোড়া কুঁকড়ে গেল। আবার সে খাড়া হয়ে দাঁড়াল। দারুণ যন্ত্রণা মুহূর্তের জন্য সে চোখ বুজল। তারপর চোখ মেলে কটমট করে তাকাল ক্লেবের হলদেটে চোখের দিকে। তার বুকের হাড়ের নিচে একটা জায়গা শুধু টকটকে লাল হয়ে উঠল। সেটা ছাড়া এই নির্মম আঘাতের আর কোন প্রতিক্রিয়া তার শরীরে দেখা গেল না। সাধারণত এই প্রচণ্ড আঘাতে যে কোন লোক মাটিতে পড়ে যন্ত্রণায় ছটফট করত।
মৃদু একটা শুকনো হাসি হাসল রোজা ক্লেব। পেতলের বুরুশটা পকেটে ভরে নিজের টেবিলে এসে ক্ৰনস্টিনের দিকে তাকিয়ে সগর্বে বলল, লোকটা বাস্তবিকই খুব তাগড়া।
ক্রনস্টিন কথাটা মেনে নিলেন।
বিবস্ত্র মানুষটা খুশি হয়ে ধূর্ত হাসি হাসল। নিজের হাত দিয়ে নিজের পেট রগড়াতে লাগল।
ক্লেব চিন্তিত চোখে লোকটার দিকে তাকিয়ে। কমরেড গ্রনিৎ কি! তোমাকে একটা খুব দরকারি কাজ করতে হবে। এরকম কাজ তুমি আগে করনি। এই কাজের জন্য তুমি একটা মেডেল পাবে।
গ্রান্টের চোখ দুটি চকচক করে উঠল।
যাকে খতম করতে হবে সে ভারি সর্বনেশে লোক। বিদেশে যেতে হবে তোমাকে। তোমাকে সাহায্য করার কেউ থাকবে না। বুঝলে?
বুঝলাম, কমরেড কর্নেল। গ্রান্ট উত্তেজিত হয়ে বলল।
তোমার শিকার হচ্ছে একজন ইংরেজ গুপ্তচর। কোন ইংরেজ গুপ্তচরকে খুন করতে চাও?
খুব চাই, কমরেড কর্নেল।
অনেক সপ্তাহ ধরে তোমাকে তালিম নিতে হবে। ইংরেজ এজেন্টের ছদ্মবেশে কাজটা করতে হবে তোমাকে। তোমার হাবভাব ও চেহারা কুৎসিত। এখানে এক ইংরেজ ভদ্রলোকের কাছে তোমার দ্র ব্যবহার এবং অন্যান্য শিক্ষা নিতে হবে। তিনি আগে লন্ডনের পররাষ্ট্র বিভাগের কর্মচারি ছিলেন। তার কাজ হবে তোমাকে এমনভাবে গড়ে পিটে তৈরি করা যাতে লোকে ভাবে তুমি একজন ইংরেজ গুপ্তচর। ইংরেজরা নানা ধরনের লোককে কাজে বহাল করে। তোমাকেও সেরকম একজন বানাবে। কাজটা করতে হবে আগস্টের শেষের দিকে। অনেক অনেক কাজ। পোশাক পরে আমার পার্শ্বচরের কাছে যাও। বুঝলে?
বুঝলাম, কমরেড কর্নেল। গ্রান্ট চটপট পোশাক পরে নিল। জ্যাকেটে বোম আটকাতে আটকাতে দরজার কাছে গিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে সে বলল, ধন্যবাদ, কমরেড কর্নেল।
রোজা ক্লেব এই সাক্ষাঙ্কারের ওপর নোট লিখছিল। গ্রান্ট চলে গেলে ক্লেব বলল, কমরেড ক্রনস্টিন। পুরোপুরি কাজ শুরু করার আগে আর কোন বিষয়ে নিয়ে আলোচনার দরকার আছে। আপনাকে জানাচ্ছি প্রিসিডিয়াম শিখার মনঃপুত করে মৃত্যুর পরোয়ানার অনুমোদন জানিয়েছে। কমরেড জেনারেল এবোজায় চিকভকে আপনার প্ল্যানের মোটামুটি কাঠামোটা জানিয়েছি। তিনি তাতে সম্মত আছেন। কাজ হাসিল করার পুরো প্ল্যানিং আর অপারেশনের মিলিত কর্মীদের বাছাই করা হয়েছে। তারা এখন অপেক্ষায় আছে। কমরেড, নতুন আর কিছু কি আপনি ভেবেছেন? ক্রনস্টিন বললেন, এই গ্রানিৎস্কি লোকটা বিশ্বাসী? তাকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশ্বাস করতে পারবেন। সেখানে সে নিজের খুশি মত কাজ করবে না তো?
লোকটাকে প্রায় দশ বছর ধরে পরীক্ষা করা হয়েছে। পালাবার বহু সুযোগ সে পেয়েছিল। তার সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নেই। লোকটার অবস্থা অনেকটা মাদকাসক্ত লোকের মত। সে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছেড়ে যেতে চায় না। কোকেন খোররা যেমন ছাড়তে চায় না কোকেন দেশ। লোকটা সবচেয়ে বড় জল্লাদ। ওর চেয়ে ভাল জল্লাদ আর নেই।
