G বললেন, কমরেড কর্নেল, ফটোগুলো এগিয়ে দিল, ব্যাপারটা এই…
G কথা বলে চললেন। ঐনস্টিন ফটোগুলো দেখতে দেখতে ভাবলেন, তাহলে আর একটা হত্যাকাণ্ড ঘটতে চলেছে। পাসপোর্ট ফটো থেকে এনলার্জ করা ছবিটার কঠিন মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে G-র কথা থেকে প্রধান তথ্যগুলো সংগ্রহ করলেন, ইংরেজ গুপ্তচর। বিরাট কেলেঙ্কারি প্রচার করা দরকার। হত্যাকাণ্ডে লোকটা এক্সপার্ট। মহিলাদের প্রতি দুর্বলতা। সুরাশ (মাদকদ্রব্যের কোন নাম উল্লেখ নেই)। ঘুষ নেয় না, খরচের পরোয়া নেই। সব গুপ্তচর বিভাগ থেকে সব রকম সাহায্য পাওয়া যাবে, তিন মাসের মধ্যে পরিকল্পনা করে সাফল্য পাওয়া চাই।
G কর্নেল ক্লেবের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে, কমরেড কর্নেল, এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?
মহিলার স্বরটা কর্কশ ফোঁসফেঁসে ও নীরস স্বরে বলতে লাগল, …কয়েক দিক দিয়ে গৌনলজেনবার্গ কেসের সঙ্গে মিল আছে কমরেড জেনারেল। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে, সেটাও ছিল একটা সুনাম হানি ও প্রাণ হানির ব্যাপার। সেবার ব্যাপারটা সহজ ছিল, সেই গুপ্তচরের কাম লালসা ছিল বিকৃত ধরনের।
ক্রনস্টিন আর জানা ঘটনা শুনলেন না। তিনি ভাবলেন এই ভয়ঙ্কর মহিলা আর কতদিন বহাল থাকবে আর কতদিন এই মহিলার সঙ্গে কাজ করতে হবে?
ভয়ঙ্কর? মানুষ সম্বন্ধে ক্রনস্টিনের কোন উৎসাহ নেই এমন কি নিজের সন্তানদের প্রতিও নয়। তার কাছে ভাল মন্দ বলে কিছু নেই। তার কাছে সব মানুষই দাবার খুঁটি। একটা খুঁটি সরলে অন্য খুঁটিগুলোর ওপর কি প্রতিক্রিয়া হয়– শুধু সে বিষয়েই তার কৌতূহল।
ক্রনস্টিন আবার মহিলাটির কথা ভাবলেন। রোজা ক্লেবের টিকে থাকার ইচ্ছে প্রবল। তা না হলে রাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী মহিলাদের অন্যতম সে হত না। SMERSH-এর অপারেশনস্ ডিপার্টমেন্টের সে প্রধান।
ক্রনস্টিন ভাবতে লাগলেন ক্লেবের উন্নতির প্রধান কারণ হচ্ছে তার অদ্ভুত ধরনের যৌনপ্রবৃত্তি। কারণ রোজা ক্লেব ছিল ক্লীব–যৌন টাইপের মধ্যে যেটা অত্যন্ত দুর্লভ। তার কাছে যৌন আকাঙ্ক্ষা নেহাৎই কৌতূহল–তার বেশি নয়। এই মনস্তাত্ত্বিক আর শারীরিক উদাসীনতার দরুন বহু মানবিক আবেগ, ভাবপ্রবণতা ও কামনা বাসনা থেকে সে একেবারে মুক্ত।
রোজা ক্লেবের বয়েস পঞ্চাশের কাছাকাছি। লম্বায় পাঁচফুট চার ইঞ্চি। হাত দুটো বেঁটে আর মোটা। ঘাড়ে গর্দানে চেহারা। খাকি মোজার ভেতর দিয়ে তার মোটা পা দুটো ঠেলে বেরিয়ে আসছে। মহিলার পক্ষে চেহারাটা ভারি শক্তিশালী।
ধন্যবাদ কর্নেল কমরেড। আপনার কথাগুলো খুব দামী। কমরেড ক্রনস্টিন আপনার আর কিছু বলার আছে? দয়া করে সংক্ষেপে বলুন। এখন রাত দুটো। কাল আমাদের অনেক কাজ। ক্ৰনস্টিনের দিকে তাকালেন G, বেশি কথা বলার লোক সে নয়। কিন্তু তার প্রত্যেকটি কথা বাকি সবার বক্তৃতার চেয়ে মূল্যবান।
ক্রনস্টিন অত্যন্ত মৃদু স্বরে বলতে শুরু করল, কমরেড জেনারেল, ফুঁসে নামক এক ফরাসী ভদ্রলোক বলেছিলেন– কোন লোককে শুধু হত্যা করে লাভ নেই, যদি-না তার সুনামকে নষ্ট করা হয়। এই বন্ড নামে লোকটাকে খুন করা শক্ত নয়। কিন্তু এ কাজের দ্বিতীয় অংশটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কঠিন–লোকটার সুনাম নষ্ট করা। কাজটা করা দরকার ইংল্যান্ডের বাইরে যেখানে প্রেস ও রেডিওর ওপর আমাদের প্রভাব আছে। এখন প্রশ্ন হল, লোকটাকে কি করে সেখানে নিয়ে যাওয়া যায়। যে টোপটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হবে, যা কেবল ঐ লোকটাই ধরতে পারে, তাহলে সে যেখানেই থাকুক না কেন, টোপ ধরার জন্য তাকে পাঠান হবে।
ক্রনস্টিন থেমে মাথা নামালেন যাতে G-র ঠিক কাঁধের ওপর তার দৃষ্টি পড়ে। নীরস গলায় বললেন, এমন একটা ফাঁদের কথা আমি ভেবে বার করব। বর্তমানে শুধু এটুকু বলতে পারি ফাঁদটা যদি তার শিকারকে আকর্ষণ করতে সফল হয়, তাহলে, এমন একজন গুপ্তঘাতকের দরকার, যার ইংরেজিতে দখল আছে। আমাদের আরো দরকার একটি পরমাসুন্দরী মেয়ে।
.
সুন্দরে টোপ
নিজের ঘরের জানালায় বসে রাষ্ট্র নিরাপত্তার কর্পোরাল তাতিয়ানা রোমানোভার মনে হল–এর চেয়ে সুখী জীবনে আগে কখনো সে হয়নি।
সাদোভায়া-চের্নোগ্রিয়াজঙ্কে উনিৎসার বিরাট ফ্ল্যাটে বাড়ির মধ্যে এ ঘরটা ছোট একটা বাক্সের মত। এই পথে রাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের মহিলা কর্মীদের নানা ব্যারাক। এই সুন্দর আটতলা বাড়িতে দু হাজার ঘর। উচ্চতর তলা উচ্চতর পদস্থ কর্মীদের। কর্পোরাল রোমানোভা প্রথমে ছিলেন সার্জেন্ট। ধাপে ধাপে তিনি উঠেছেন লেফটেন্যান্ট, ক্যাপটেন, মেজর এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল। একদিন কর্নেল হয়ে তিনি আটতলার স্বর্গে পৌঁছবেন।
কিন্তু এখন তিনি সম্পূর্ণ তৃপ্ত। মাসে তার বেতন ১২০০ রুবল, নিজস্ব একটা ঘর। বাড়ির একতলার দোকান থেকে খাবার আর পোশাক, ব্যালে আর অপেরার জন্য মাসে মিনিস্ট্রির অন্তত দুটো টিকিট বরাদ্দ, বছরে দুসপ্তাহের পুরো বেতনের ছুটি এবং সর্বোপরি মস্কোতে এমন একটা চাকরী যেখানে ভবিষ্যত আছে।
খাবারের কথা মনে পড়তে কর্পোরাল রোমানোভা জানালার পাশে চেয়ার থেকে উঠে পাত্রের সুপটা পরীক্ষা করলেন, তাতে আছে কয়েক কুচি মাংস আর খানিক ওঁড়ো মাশরুম। সুন্দর গন্ধ ভুরভুর করছে। স্টোভটা নিভিয়ে তিনি হাত-পা-মুখ ধুতে গেলেন।
