পাতা উলটিয়ে G আবার পড়তে লাগলেন, লোকটা তার বাঁ হাতে সর্বদাই একটা খাপে ভরা .২৫ বেরেটা অটোমেটিক পিস্তল নিয়ে ঘোরে। শোনা যায় তার বাঁ বাহুতে স্ট্র্যাপ দিয়ে আঁটা ছুরি থাকে। তার জুতার সামনের অংশটা ইস্পাতের। তার জুজুৎসুর প্রাথমিক জ্ঞান আছে। সে মরীয়া হয়ে পড়ে এবং প্রচণ্ড কষ্ট সহ্য করে (পরিশিষ্ট B দ্রষ্টব্য)।
G আবার পড়লেন? নানা এজেন্টদের রিপোর্টের কাটা কাটা অংশগুলো। শেষের পৃষ্ঠার নিচে তিনি পড়লেন? উপসংহার–এই লোকটা একজন সর্বনেশে পেশাদার সন্ত্রাসবাদী গুপ্তচর। ১৯৩৮ সাল থেকে সে ব্রিটিশ গুপ্তচর বিভাগে কাজ করছে। বর্তমানে সেই বিভাগের গোপন 007 নম্বরের সে অধিকারী। এই ডবল জিরো (০০) নম্বরের অর্থ, গুপ্তচরের কাজ করার সময় অতীতে সে মানুষ খুন করেছে এবং ভবিষ্যতে কাজ হাসিল করার জন্য সে মানুষ খুন করতে পারবে। আর দুজন ব্রিটিশ এজেন্টের এই অধিকার আছে। ১৯৫৩ সালে এই গুপ্তচরকে CMG খেতাব দেওয়া হয়েছিল। গুপ্তচর বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করার সময়েই সাধারণতঃ এই খেতাব দেওয়া হয়। কিন্তু সে খেতাবটা আগেই পায়। তাই বোঝা যায় লোকটার কদর কতখানি। কর্মক্ষেত্রে তার সম্মুখীন হলে খবর সদর দপ্তরে জানাতে হবে।
G ফাইলটা বন্ধ করে সশব্দে তার মলাটে হাত চাপড়ালেন। কমরেডস্-আমরা তাহলে একমত?
জোর গলায় নিকিতিন বললেন, নিশ্চয়ই।
ক্লান্ত স্বরে স্নাভিন বললেন, হ্যাঁ।
ভজদভিশেনস্কি বললেন, হ্যাঁ-মানে, ইয়ে–সেটাই ভাল।
অফিসের নিজস্ব টেলিফোনের রিসিভার তুলে কড়াস্বরে পার্শ্বচরকে তিনি বললেন, জেমস বন্ড-এর নামে ডেথ ওয়ারেন্ট (মৃত্যুর পরোয়ানা) তৈরি কর। পরিচয় ও ইংরেজ গুপ্তচর। অপরাধ–আমাদের রাষ্ট্রের শত্রু। রিসিভার নামিয়ে তিনি বললেন, এবার উপযুক্ত একটা চক্রান্ত খুঁজে বার করা। এমন একটা চক্রান্ত যেটা বিফল হবে না। তার মৃদু হাসির মধ্যে একটা ভয়ংকর হিংস্র ভাব ফুটে উঠল। বললেন, আমরা চাই না খোকনভ ব্যাপারের মত আর একটা কেলেঙ্কারি ঘটে।
দরজা খুলে একটা উজ্জ্বল হলদে কাগজ নিয়ে পার্শ্বচর এল। G-র সামনে সেটা রেখে বেরিয়ে গেল। কাগজটায় তিনি লিখলেন হত্যা করতে হবে। MGB-র প্রতিনিধির হাতে কাগজটা দিলেন। পড়ে সে লিখল, খুন করুন– নিকিতিন। কাগজটা এল GRU-এর বড়কর্তার হাতে। তিনিও লিখলেন, খুন করুন।–স্লাভিন। RUMID-এর প্রতিনিধির পাশে সাদা পোশাকের যে প্রতিনিধি বসেছিল, একজন পার্শ্বচর কাগজটা তার হাতে দিল। ভজদভিশেনস্কি কাগজটা খুঁটিয়ে পড়ে G-র দিকে তাকাল। G-তাকে লক্ষ করছিল। চোখ না নামিয়ে অন্যদের সই-এর নিচে সে লিখল। খুন করুন। আর নিজের নাম। সে উঠে দাঁড়িয়ে কমরেড জেনারেল, আর কোন কাজ আছে। চেয়ারটা পেছনে ঠেলে দিল।
খুশি হলেন G। তার ধারণা ঠিক। নিজের সন্দেহের কথা সেরভকে জানাতে হবে। তিনি বললেন, একটু অপেক্ষা করুন, কমরেড জেনারেল। এই ওয়োরেন্টে কয়েকটা কথা আমাকে যোগ করে দিতে হবে।
কাগজটা নিয়ে তিনি আগের লেখাগুলো কেটে লিখলেন : এমনভাবে তাকে হত্যা করতে হবে যাতে তার সম্মানহানি হয়।
তিনি মধুর হেসে বললেন, ধন্যবাদ কমরেডস্। এখন আর কিছু করার নেই। আমাদের সুপারিশের ওপর প্রিসিডিয়ামের সিদ্ধান্তের কথা আপনাদের জানাব। গুড নাইট।
সভার লোকজন বেরিয়ে গেলে G উঠে ডেস্কের সামনে বসে টেপরেকর্ডারের সুইচ বন্ধ করে ঘন্টা বাজিয়ে পার্শ্বচরকে ডাকলেন। হলদে কাগজটা তার হাতে দিয়ে G বললেন, এখুনি এটা জেনারেল সেরভকে পাঠাও। ক্রনস্টিনকে খুঁজে বার করে গাড়িতে এখানে নিয়ে এস। ঘুমিয়ে থাকলে বিছানা থেকে তুলে আনবে। তাকে আসতেই হবে। ২নং বিভাগ জানে সে কোথায় আছে। দশমিনিটের মধ্যে কর্নেল ক্লেব-এর সঙ্গে আমি দেখা করব।
ঠিক আছে, কমরেড জেনারেল, লোকটা বলল।
vch রিসিভার তুলে জেনারেল সেরভকে চাইলেন G, নিচু গলায় পাঁচ মিনিট ধরে কথা বললেন তিনি। শেষে বললেন, কাজের ভারটা আমি কর্নেল ক্লেব আর প্ল্যানার ক্রনস্টিনকে দিচ্ছি। একটা উপযুক্ত চক্রান্তের খসড়া নিয়ে আমরা আলোচনা করব। কাল তারা খুঁটিয়ে আমাকে তাদের প্ল্যানের কথা জানাবে। কমরেড জেনারেল, এটাই ঠিক তো?
জেনারেল সেরভের শান্তস্বর শোনা গেল, ঠিক আছে। লোকটাকে খুন করুন। কিন্তু কাজটা যেন ভালভাবে হয়। সকালে প্রিসিডিয়াম এই সিদ্ধান্তের সরকারী অনুমোদন জানাবে।
লাইনটা স্তব্ধ হয়ে গেল। তারপর অফিসের টেলিফোন বেজে উঠল। রিসিভার তুলে G বললেন। ঠিক আছে। রিসিভারটা রাখার সঙ্গে সঙ্গে পার্শ্বচর বড় দরজাটা খুলে ঘোষণা করলে, কমরেড কর্নেল ক্লেব।
ব্যাঙের মত চেহারার একজন ডেস্কের কাছে এগিয়ে এল। পরনে তার জলপাইয়ের মত সবুজ রঙের ইউনিফর্ম তার ওপর অর্ডার অফ লেনিনের একটি মাত্র লাল ফিতে।
মুখ তুলে কনফারেন্স টেবিলের সবচেয়ে কাছের চেয়ারটা দেখিয়ে G বললেন, গুড ইভিনিং কমরেড়। মোটা হোঁতকা লোকটা হেসে বলল, গুড ইভনিং জেনারেল। SMERSH-এর ২ নং বিভাগের প্রধান নিজের স্কার্টটা খানিক তুলে চেয়ারে বসল। এই মহিলাটির ওপরেই পরিকল্পনা এবং কার্যসিদ্ধির সম্পূর্ণ দায়িত্ব।
.
গুপ্তচরের কাম লালসা
দাবার ঘড়িটার দুটো মুখে বিভিন্ন সময়। ক্রনস্টিনের ঘড়িতে একটা বাজতে কুড়ি মিনিট। তার ঘড়ির পেণ্ডুলামটা দুলছে–পার হচ্ছে এক একটি মুহূর্ত। তার প্রতিদ্বন্দ্বীর ঘড়িটা স্তব্ধ। সাধারভের ঘড়িতে একটা বাজতে পাঁচমিনিট। খেলার মাঝখানে সে সময়টা নষ্ট করেছিল। তার হাতে এখন পাঁচ মিনিট সময় মাত্র। ক্রনস্টিন কোন ভুল না করলে তার সমূহ বিপদ, তার হার অবধারিত। ক্রনস্টিন যে সে রকম ভুল করবে সেটা কল্পনার অতীত।
