BAOR বক্সিং চ্যামপিয়নশিপ-এ লড়তে গিয়ে সে জানতে পারে কিভাবে বিপক্ষ দলে সে যোগ দেবে। রয়্যাল কোর দলের হয়ে পূর্ণিমার রাতে গ্রান্ট লড়ছিল। ক্রমাগত বেল্টের তলায় বে-আইনী করে মারার জন্য তাকে সাবধান করা হয়। কিন্তু সে কথা না শোনার জন্য তাকে বক্সিং রিং থেকে বের করে দেওয়া হয়। রিং থেকে বেরোবার সময় দর্শকরা, এমনকি, তার রেজিমেন্ট পর্যন্ত তাকে টিটকিরি দেয়। পরের দিন তার কম্যান্ডিং অফিসার তাকে বলে রয়্যাল কোর দলের সে লজ্জা। পরের দলের সঙ্গে সহকারী ড্রাইভার হিসেবে তাকে পাঠানো হয় কভেন্ট্রিতে। কিন্তু কেউ তাকে নিয়ে গাড়ি চালাতে রাজি নয় তাই তাকে বদলি করা হয় তার আকাক্ষিত মোটর সাইকেল ডেসপ্যাঁচ সার্ভিসে।
এটাই চেয়েছিল গ্রান্ট। তারপর স্থানীয় সামরিক গোয়েন্দা হেডকোয়াটার্স থেকে এক সন্ধ্যেয় বিলি করার চিঠিপত্র নিয়ে সোজা যায় রুশ এলাকায়।
প্রহরীদের ঘরে তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এক অফিসার প্রশ্ন করে–কি চায় সে গ্রান্ট বলে, রুশ গোয়েন্দা বিভাগকে আমার দরকার। সেখানকার বড় কর্তাকে।
যে সব সৈনিক গ্রান্টকে এনেছিল, তারাই আবার তাকে টেনে বাইরে আনার চেষ্টা করে। অনায়াসে এক ঝটকায় সে তাদের সরিয়ে দেয়। এক সৈনিক তার দিকে টমিগান তোলে।
গ্রান্ট বলে, অনেক গোপনীয় নথিপত্র আছে আমার কাছে–বাইরে মোটর সাইকেলের চামড়ার ব্যাগে। সেই নথিপত্রগুলো তোমাদের গোয়েন্দা বিভাগে না পৌঁছলে তোমাদের দারুণ ফ্যাসাদে পড়তে হবে।
অফিসার ভাঙা ভাঙা ইংরেজীতে বলল, আমাদের কোন গোয়েন্দা বিভাগ নেই। বসো। এই ফর্মটায় লেখ। গ্রান্ট একটা দীর্ঘ ফর্মে নাম, ঠিকানা, কেন যেতে চায় ইত্যাদি লিখল। অফিসার তখন নিচু গলায় সংক্ষেপে টেলিফোনে কথা বলছিল।
গ্রান্টের ফর্ম লেখা শেষ হলে আরো দু জন নিম্নপদস্থ সৈনিক অফিসার ঘরে এল। মাথায় রঙচটা সবুজ টুপি। খাকি ইউনিফর্মে সবুজ ব্যাজ দেখেই তাদের পদমর্যাদা জানা যায়। সীমান্ত অফিসার তাদের একজনের হাতে ফর্মটা দিল। গ্রান্টকে তারা বাইরে নিয়ে, মোটর সাইকেল সমেত একটা বন্ধ ভ্যানে তুলে দরজায় কুলুপ এঁটে দিল। মিনিট পনের ধরে গাড়িটা তীর বেগে ছুটে একটা বিরাট নতুন বাড়ির সামনে থামল। বাড়িটার মধ্যে গিয়ে একটা লিফট দিয়ে ওপরে গিয়ে তাকে একটা ছোট কামরায় আনা হল। একটা লোহার বেঞ্চি ছাড়া কিছুই নেই। একঘণ্টা পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হল একটা সাজানো গোছানো অফিস ঘরে। সেখানে এক অফিসার, তার পোশাকে তিন সারি সম্মান চিহ্ন এবং কর্নেলের সোনার মেডেল। আর ডেস্কে একটা ফুলদানিতে গোলাপ ফুল। দশ বছর পরে তার প্লেনের জানালা দিয়ে। কুড়ি হাজার ফুট নিচেকার জায়গা দেখে অনুমান করল গ্রান্ট এটা খারকোভ। গ্রান্ট একটু হাসল কিন্তু হাসির মধ্যে আনন্দের ছিটেফোঁটা ছিল না।
গোলাপ ফুল। সেই মুহূর্ত থেকে জীবনে তার গোলাপ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। গোলাপ আর গোলাপ সমস্ত পথ গোলাপ বিছানো।
.
SMERSH-এর প্রধান জল্লাদ
মিস্টার গ্রান্ট, তুমি তাহলে সোভিয়েত ইউনিয়নে কাজ করতে চাও।
আধঘণ্টা পরে MGB-র কর্নেল তাকে প্রশ্ন করল। কর্নেল ভাবল প্রয়োজনীয় সবরকম খুঁটিনাটি সামরিক তথ্য এই কদাকার ব্রিটিশ সৈনিকের কাছ থেকে সে নিংড়ে বার করে নিয়েছে। লোকটার ব্যাগে যে সব গোপনীয় তথ্য পাওয়া গেছে তার জন্য লোকটাকে মামুলি ধন্যবাদ জানিয়ে তারপর পাঠানো হবে হাজতে। তারপর তাকে পাচার করা হবে দূরের কোন এক শ্ৰম শিবিরে।
হ্যাঁ, আপনাদের কাছে কাজ করতে চাই।
কি কাজ তুমি করতে পার, মিস্টার গ্রান্ট? আমাদের সুদক্ষ শ্রমিক, ট্রাক ড্রাইভার সবই আছে। বক্সিং লড়বার অনেক লোক আছে।
মানুষ খুন করার কাজে আমি এক্সপার্ট। খুন করতে আমার ভাল লাগে।
লোকটার কথা শুনে কর্নেল ভাবল যে, সে মনের কথাই বলছে। শ্রম শিবিরে এর জন্য খাবার নষ্ট করার চেয়ে গুলি মারাই ভাল।
আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না? এখানে আপনাদের হয়ে খুনোখুনি কাজ কে করে? রুশীদের মার্ডার স্কোয়াডের একটা দল আছে। তাদের সঙ্গে আমাকে কথা বলতে দিন। তাদের হয়ে যে কোন লোককে খুন করতে আমি প্রস্তুত, এখুনি।
তার দিকে বিতৃষ্ণা ভরা চোখে তাকাল কর্নেল। অপেক্ষা কর বলে কর্নেল পাশের ঘরে এল, ঘরের ডেস্কে তিনটে ফোন। মস্কোর সঙ্গে MGB-র ডিরেক্ট লাইনের রিসিভারটা সে তুলল। সামরিক অপারেটার সাড়া দিলে সে বলল, SMERSH SMERSH। উত্তর দিলে সে বড়কর্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইল।
দশ মিনিট পরে সে রিসিভারটা নামিয়ে রাখল। কি সৌভাগ্য! এই ইংরেজ ছোকরা সফল হলে তো কথাই নেই। সে বিফল হলে পাশ্চাত্য এলাকা প্রচুর ঝামেলা দেখা দেবে ঝামেলা ব্রিটিশদের, কারণ গ্রান্ট তাদের লোক। ঝামেলা জার্মানদের। কারণ গ্রন্টের প্রচেষ্টায় তাদের বহু গুপ্তচর আতঙ্কিত হবে। ঝামেলা আমেরিকানদের। কারণ বগার্ডেন চক্রকে অধিকাংশ অর্থ সাহায্যই তারা করেছিল। খুশি হয়ে অফিসে ফিরে গ্রান্টের সামনে বসল।
তুমি যা বললে সে-কথা সত্যি?
নিশ্চয়ই।
তোমার স্মৃতিশক্তি ভাল?
হ্যাঁ।
ব্রিটিশ এলাকায় ডাঃ বগার্টেন নামে এক জার্মান আছে। সে থাকে ২২ নং কুরফুরস্টেন্ড ম্যানে ৫ নং ফ্ল্যাটে, জায়গাটা চেন?
