বন্ড আবার কাজে বসে গেল। বিশেষ কিছুই তার সঙ্গে আনার ইচ্ছে হয়নি। সেজন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। এই ছদ্মবেশে তাকে আরো সাবধানে থাকতে হবে। তার খাদের নিচে যাবার একমুখো রাস্তাটা একেবারে পছন্দ নয়।
সে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত অনুসন্ধান শেষ করে নিল। বারান্দায় একটু খুব গোলমাল শোনা যাচ্ছে। সে তার ভূতুড়ে কাজে আর মন দিতে পারল না। অসংখ্য নামের তালিকা, সন, তারিখে বড় কাগজটা প্রায় ভরে এসেছে। এবারে বাইরে এসে একটা সতর্ক গোয়েন্দাগিরি করলে খুব মন্দ হয় না মনে হচ্ছে। চেয়ার ছেড়ে বন্ড ঘর থেকে বাইরে এল। বাঁ দিকে কী ঘর আর একটি ছোট কারখানা। বন্ড ভেতরে ঢুকে গেল। একটি লোক কাজ করছে। হঠাৎ তার চোখে পড়ল মেঝেয় পড়ে আছে অসংখ্য প্লাস্টিকের টুকরো। স্কী বুটে লাগানো হয় এগুলো।
বন্ড কাজ করার বেঞ্চির উপর তার কনুই দিয়ে একটু ঝুঁকে দাঁড়াল, লোকটির কাজের খুব প্রশংসা করতে লাগল। লোকটি কিন্তু কোন উত্তর দিল না। মুখ তুলে একবার তাকালও না। বন্ড চট করে একটা প্লাস্টিক তুলে নিয়ে কোটের হাতায় ঢুকিয়ে রাখল। সে আরও কয়েকটি স্বগতঃ মন্তব্য করে কী ঘর থেকে বের হয়ে এল।
সরু পথ দিয়ে সে আস্তে আস্তে কেবল স্টেশনের দিকে এগিয়ে চলল, কোন এক সময়ে প্ল্যাসটিক টুকরোটি ট্রাউজারের পকেটে ঢুকিয়ে রাখল। সে মনে মনে খুব খুশি হল। একটি ছোট যন্ত্র নেওয়া গেল। চোরেরা যে যন্ত্রের দ্বারা তালা খুলতে পারে। এই তালাই তাদের দরজায় লাগানো থাকে।
ক্লাবের সীমানা থেকে সে পাহাড়ের চূড়ায় চলে এল। এখানে কিছু লোক জড় হয়ে আছে। আর কিছু লোক এর মধ্যে স্কীইং শুরু করে দিয়েছে। বেশির ভাগ লোকই শিক্ষানবীশ। প্রাথমিক এলাকা ছেড়ে খুব বেশি দূরে যাচ্ছে না। তা ছাড়া যাওয়াটাও নিরাপদ নহে। এদের সাথে গাইড ও শিক্ষক দুই-ই আছে। বন্ড তাদের মধ্যে গিয়ে দাঁড়াল। এখানে একটা বড়,নোটিশ টাঙানো আছে দেখতে পেল, জার্মান ভাষায় সাবধান বাণী লেখা আছে। মানে দাঁড়াচ্ছে, লাল ও হলুদ পথ খোলা আছে কালো পথ বন্ধ আছে। মানে হিম প্রবাহের জন্য হুঁশিয়ারি। নোটিশের নিচে একটা মানচিত্রে তিনটে নিশানা। বন্ড ভাল করে দেখতে লাগল, বিশেষ করে লাল চিহ্ন দেওয়া রাস্তাটা। মনে রাখার চেষ্টা করল। কারণ এই ঢালটাই সহজ এবং সাধারণতঃ সবাই ব্যবহার করে। মানচিত্রের উপর আলপিন দিয়ে ছোট ছোট পতাকা আটকানো আছে, লাল হলদে ও কালোয়। বন্ড দূরে তাকিয়ে দেখল এই তিনটি ঢালেই এমনি পতাকা আটকানো আছে। তার যতদুর নজর গেল, ক্ষুদ্রাকৃতি মানুষ সব মিলিয়ে যাচ্ছে হাতে স্কী লাঠি নিয়ে। বেশি লোক আছে লাল পথেই, অনেক নিচে কেবল রেলওয়ে ছাড়িয়ে একেবারে গাছের সাথে মিশে গেছে। তারও নিচে রেললাইন, পাটসিনা সামাডেন রোড। বন্ড সব কিছুই মনের মধ্যে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করল আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল স্কীইং।
ছোটবেলায় আলবার্গ হ্যাঁনস স্লাইডার স্কুলে স্কীইং শিখবার সময় এমন দৃশ্য সে প্রতিদিনই দেখেছে।
স্কীইং-তে সে খুবই ভাল ছিল আর এই জন্য সে মেডেলও পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সে যা দেখছে তার পাশ। থেকে কয়েকজন ভীষণ বেগে নিচে নেমে যাচ্ছে, এর তুলনায় সে দিনের কীইং তেমন বিশেষ কিছুই ছিল না। এই সমস্ত গভীর ঢালে তাকে যদি স্কী করতে হয়। কত দূর কি করবে তাই সে ভাবল। না, তাকে ব্যায়ামটা ভালভাবে চালাতে হবে।
বন্ড এখান থেকে তীরের দৃশ্য দেখে যেতে যেতে গ্লোরিয়া এক্সপ্রেস বয়-রানের দিকে এগিয়ে গেল। কেবল স্টেশনের ঠিক অন্য দিকে। ছোট্ট একটি কাঠের কুঠির রয়েছে এখানে। এখানে স্টার্টার বসানো হয়েছে। টেলিফোন তার গিয়ে মিশে গেছে স্টেশনের সাথে।
স্যার হিলারী, স্যার হিলারী।
বন্ড চমকে উঠে দেখল, ইরমা বান্ট।
লাঞ্চের সময় হয়ে গেছে। লাঞ্চ, বন্ড চেঁচিয়ে বলল আসছি। লক্ষ্য করল তার নিশ্বাসটা হালকা লাগছে। শরীরটাও যেন খুব বেশি ভারী মনে হচ্ছে। কি উঁচু জায়গা বাবা? না, একটু শরীরচর্চা তাকে করতেই হবে।
বন্ড ইরমার পাশে এসে দাঁড়াল। ওকে একটু কঠিন দেখাল। বন্ড খুব দুঃখ প্রকাশ করল। বলল সে মোটেই সময়টা খেয়াল করেনি। ইরমা তার উত্তরে কোন কথা বলল না। হলদে চোখে তাকে খুব নিবিড়ভাবে দেখল। দৃষ্টিতে তার স্পষ্ট ঘৃণা। ৬৯৮ বন্ড ইরমার পিছনে ক্লাবের দিকে চলল। সে কিছু ভাববার চেষ্টা করল। সে কি কোন দোষ করেছে? হয়ত। তাই, কিন্তু কোথায় এবং কখন? রিসেপশন লাউঞ্জে ঢুকে বন্ড বলল, হ্যাঁ, দেখ ফ্রলাইন বান্ট, আমি এই কিছুক্ষণ আগে স্কী রুমে গিয়েছিলাম। ইরমা থামল। বন্ড লক্ষ্য করল রিসেপশনিস্ট-এর মাথাটা ভিজিটর বইয়ের উপর একটু বেশি করেই ঝুঁকে আছে। কি বলছিলেন?
বন্ড পকেট থেকে লম্বা টুকরোটা বের করে বললেন, বোকার মত রুলারটা আনতে ভুলে গেলাম–ভাবছিলাম আমি, এখন কি করা যায়। সে মুখে একটু হাসির রেখা আনল, হঠাৎ এটা পেয়ে গেছে। কাজ হয়ে গেলে আবার দিয়ে দেব। আশা করি কোন অসুবিধা হবে না। কাগজে একটা লাইন টানা থাকলে বংশের নাম, ধামটা লেখা–প্ল্যাসটিক দিয়ে সে শূন্যে কয়েকটা আঁচড় টেনে নিল। আমার মনে হয় এতে তুমি কিছু মনে করনি। তোমাকে আমি বলব বলে ঠিক। করেছিলাম।
