কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? শুধোয় জুডি
লন্ডনে, বলল বন্ড। এক বৃদ্ধ সেখানে তোমায় দেখবার জন্য উতলা। তার আগে যাব কানাডায়। তোমার পাসপোর্টর একটা গতি করতে হবে। তোমার কিছু জামাকাপড় জিনিসপত্র তো চাই। দিন কয়েক লাগবে। থাকব কো জী হোটেলে।
জুডি শুধু তাকাল। মেয়েটা যেন হঠাৎ পালটে গিয়েছে। নরম গলায় বলল, হোটেলে এর আগে কখনো থাকিনি। বেশ হবে।
হেঁট হয়ে রাইফেল আর হ্যাঁভারস্যাক কাঁধে তুলে নিল বন্ড। আর এক কাঁধে ঝুলল জুডির ধনুক আর তুণ। এগলো মেঠো পথে। পেছন পেছন এল জুডি হ্যাভলক। হাঁটতে হাঁটতেই খুলে দিল মাথার ফিতে। এক রাশ হাল্কা সোনালি চুল এলিয়ে পড়ল দু কাঁধে।
ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ (পার্ট ১)
ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ
Red গ্রান্ট
সুইমিং পুলের সামনে নগ্ন হয়ে যে লোকটি মুখ গুঁজে শুয়ে ছিল, মনে হয় সে আর বেঁচে নেই। বোধ হয় পানিতে ডুবে মরেছে। পুকুর থেকে তুলে তাকে শুকোবার জন্য খাদের ওপর শুইয়ে রাখা হয়েছে। অপেক্ষা করা হচ্ছে যতক্ষণ পুলিশ বা লোকটির নিকট-আত্মীয় কেউ না আসে। মাথার কাছে ঘাসের ওপর টুকিটাকি জিনিসগুলো সাজানো। জিনিসগুলো এমনভাবে রাখা হয়েছে যাতে কেউ সন্দেহ না করে যে, তাকে যারা তুলেছে তারা কোন জিনিস হাতিয়েছে।
সব টুকিটাকি জিনিসগুলো দেখলে সহজেই বোঝা যায়–লোকটা ছিল ধনী। জিনিসগুলোর মধ্যে আছে বড়লোকদের ক্লাবের মেম্বারশিপ ব্যাজ, শ চারেক টাকা দামের সোনার তৈরি নোটের তাড়া রাখার ক্লিপ। তার মধ্যে অজস্র নোট, সোনার বোম, সোনার সিগারেট কৌটা, নীলকান্তমণি খচিত কারুকার্যময় গড়ন দেখলেই বোঝা যায় সেটা ফার্জ কোম্পানির তৈরি। আর ছিল একটা বই, রাধো বুককেস থেকে যেটা নিয়ে বাগানে বেড়াতে বেরোয়। একটা লিটন নাগেট–পি.জি. উডহাউসের আগেকার বই। আরো ছিল সোনার একটা ভারি রিস্টওয়াচ, তার বেল্ট চামড়া দিয়ে তৈরি। সেকেন্ডের কাঁটাটা এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে। তার নিচে দুটো ছোট্ট ছোট্ট গর্ত যেগুলো দিয়ে মাস, তারিখ, চন্দ্রকলার কথা জানা যায়, তারিখ ১৫ই জুন, সময় দুপুর তিনটা, আর চন্দ্রকলা দ্বাদশীতে পড়েছে। যে বাগানে লোকটা শুয়ে, সেটার আয়তন কয়েক মিটার। ভারি ছিমছাম জায়গা, তিন দিকে ঘন গোলাকার। অন্যদিক থেকে মৌমাছিদের একটানা গুনগুনানি ভেসে আসছে।
সবে তখন বিকেল। কোন দিকে কোন পথে একটা মোটর গাড়ির শব্দ শোনা গেল। গাড়ির দরজা বন্ধ হওয়ার ঝনঝনানি শব্দ, তারপর থামল গাড়িটা। দু বার দরজা বন্ধ হওয়ার ঝনঝনানি শব্দে সুইমিং পুলের পাশে নগ্ন লোকটা নড়াচড়া করল। দরজা খোলার ঘন্টা আর গাড়ি চলে যাবার শব্দ শুনে চোখ মেলে তাকাল। সঙ্গে সঙ্গে তার মনে পড়ল সে শুয়ে আছে, দিনটা কোন বার এবং শব্দগুলো কোথা থেকে আসছে সে বুঝতে পারল। নীল চোখ দুটো ধীরে ধীরে বুজে এল, ঠোঁটে হাসি। বিরাট একটা হাই তুলল। ঘাসের ওপরেই সে অপেক্ষা করতে লাগল।
কাঁচের দরজা খুলে একটি তরুণী উঠোন পেরিয়ে সেই লোকটির দিকে এগিয়ে এল। তার পরণে সুতির শার্ট আর স্কার্ট। হাঁটার ভঙ্গিতে পুরুষালী ছাদ। তার হাতে ঝোলানো ব্যাগ। লোকটার কয়েক গজ দূরে ঘাসের ওপর বসে ধুলো মাখা জুতা জোড়া খুলে, দাঁড়িয়ে তার শার্ট এবং স্কার্ট খুলে ব্যাগের পাশে রাখল। পরনে সাঁতার কাটার পোশাক। উরুদ্বয় নিটোল। সর্বাংশে স্বাস্থ্য উপছে পড়ছে যেন। তারপর ব্যাগ খুলে বার করল একটা পুরনো সোডার বোতল। তার মধ্যে এক গাঢ় বর্ণহীন তরল পদার্থ ভরা। লোকটার পাশে হাঁটু গেড়ে সে বসল। তরল পদার্থটা পাতলা অলিভ তেল। তাতে গোলাপ ফুলের গন্ধ। লোকটার ঘাড়ের পাশের মাংসপেশীর ওপর সে তেল রগড়াতে লাগল।
এই মালিশ করার কাজটা সহজ নয়। মানুষটা ভীষণ তাগড়া। সমস্ত শরীরের শক্তি দিয়ে ও লোকটার ঘাড়ের নিরেট মাংসপেশীগুলো একেবারে দাবানো যায় না বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে। লোকটাকে মালিশ করতে করতে সে ঘেমে ভিজে যায়। তখন ঝাঁপিয়ে পড়ে সুইপিং পুলের পানিতে। তারপর উঠে গাছের ছায়ায় এসে ঘুমোয় যতক্ষণ না গাড়ি আসে তাকে নিতে।
গত দু বছর ধরে যে কথাটা সে ভেবে এসেছে আবার সেই কথাটাই তার মনে হল, কেন এই লোকটার নিখুঁত শরীরটাকে সে ঘৃণা করে।
হাত দুটোকে বিশ্রাম দেবার জন্য মেয়েটি থেবড়ে বসল। তার শরীরের সুন্দর উপরভাগ ঘামে চিকচিক করছে। হাত দিয়ে কপাল মুছে সে তেলের শিশিটা থেকে প্রায় এক চামচ তেল লোকটার শিরদাঁড়ায় ঢেলে আবার আঙ্গুল দিয়ে ঘষতে লাগল।
এই লোকটার সবকিছুই আলাদা, কেমন যেন ভূতুড়ে ধরনের। গোড়া থেকেই মনে হচ্ছে একটা জড় মাংসপিণ্ড। গত দু বছরে মেয়েটির সঙ্গে একটি কথাও বলেনি সে। তার পিঠে মালিশ করার পর মেয়েটি তার কাঁধে টোকা দিতেই চুপচাপ ঘুরে চিৎ হয়ে শুলল। আধবোজা চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে মাঝে মাঝে সর্বাঙ্গ কাঁপিয়ে হাই তুলতে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল তার দেহে প্রাণ আছে।
মালিশওয়ালী দাঁড়িয়ে উঠে ধীরে ধীরে কাঁধ ঝাঁকাল। হাত দুটোকে মাথার ওপর তুলে ধরল যাতে সেখান থেকে রক্ত নিচে নেমে আসে। তারপর সে তার ব্যাগের কাছে গিয়ে তোয়ালে বার করে মুখ আর শরীরের ঘাম মুছল।
লোকটার দিকে দেখল। লোকটা এক হাতে মাথা রেখে অন্য হাতটি ঘাসের ওপর রেখে তার জন্য অপেক্ষা করছে। এগিয়ে গিয়ে হাতের তেলের অনেকটা তেল ঘষে, লোকটার হাত তুলে নিয়ে, তার আধখোলা বেঁটে মোেটা আঙুলগুলো রগড়াতে লাগল।
