তুমি কি করে জানলে যে ও ঠিক মারা গেছে। ব্যাপারটা কি হয়েছিল? ওরা সকাল বেলায় বব-রানটা সমান করছিল, স্কীইং-এর সুবিধার জন্য, যেমন ওরা প্রতিদিন করে। ফ্রিজ আমাকে হঠাৎ বলল, পা পিছলে বব-রান দিয়ে গড়িয়ে পড়ে গেছে। নিচে, কোন একটা গভীর খাদে। এই হচ্ছে আসল ব্যাপার।
এলিজাবেথ, এমন নির্মম কথাবার্তা তুমি কেমন করে বলতে পারছ? যা ঘটল তাই বলে গেলাম, আর তুমিই তো আমার কাছে সব জানতে চাইলে। তা ঠিক বটে, কিন্তু লোকটি কি কোন রকমে নিজেকে বাঁচাতে পারল না।
তুমি একটা বোকার মত কথা বলবে না। ঢালু শক্ত বরফ, অন্ততঃ এক মাইল ডীপ হবে, একবার যদি কেউ পড়ে যেতে থাকে তবে তার বেগ ঘণ্টায় ষাট মাইল। সৃষ্টিকর্তার নাম করার সময় পেয়েছে কিনা সন্দেহ আছে।
কোন বাঁকে ঘুরতে পারল না।
না, ফ্রিতজ বলল, একেবারে সোজা নিচে চলে গেছে। একশ গজের ভিতরেই তার প্রাণটা বেরিয়ে গেছে।
ওঃ এই ফ্রাঞ্জ। মিস–তোমার এখানে কি চাই?
বেয়ারার পায়ের জুতার শব্দ মিলিয়ে গেল। যেমন সবার পেছনে লেগেছিল। সে তার উপযুক্ত শাস্তিই পেয়ে গেল। কিছু অন্যায় করলেই কিন্তু লোকে সাজা পায়।
কি বোকার মত তুমি কথাগুলি বলছ?
এমন কঠিন শাস্তি কি সৃষ্টিকর্তার দেওয়া উচিত হল?
বন্ড একটা সিগারেট ধরিয়ে চেয়ারে ঠেস দিয়ে বসল। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল খুব চিন্তিত মনে। না, মেয়েটির কথাই সত্যি এমন ভাবে কঠিন শাস্তি পাওয়া উচিত হয়নি। সৃষ্টিকর্তা হয়ত দেবেন না কিন্তু ব্লোফেন্ডের দ্বারা সম্ভব। কিন্তু তার আগে কি বিচারসভা এখানে বসেছিল। যেখানে এই শাস্তির রায় দেওয়া হল। বারটিলকে কি ধরে নিয়ে তবে খাদে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল? অতর্কিতে ছোট্ট একটা ধাক্কা।
বন্ড মনে স্থির করে নিল তাই হয়েছে। হায় সৃষ্টিকর্তা! কি নির্মম এই মৃত্যু। এক মাত্র ব্লোফেল্ডই এই রকম মৃত্যু ঘটাতে পারে। প্রেতাত্মা সংঘের প্রথায় অবাধ্যতার চরম শাস্তি মৃত্যু। শাস্তি তো নয় যেন প্রতিশোধ। এটাই নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় রাখার সাধারণ পদ্ধতি। বন্ড ট্রে নিয়ে বই নিয়ে বসে পড়ল। আবার প্রেতাত্মার আবির্ভাব হল তবে। কিন্তু এবারে কোন পথ দিয়ে? এগারটা বাজার ঠিক দশ মিনিট আগে ইরমা বান্ট এল। বন্ড একগাদা কাগজপত্র ও বই বগলদাবা করে বাইরে এল তার সাথে। ক্লাবের পিছনে বাড়ি। ছোট প্যাসেজের সামনেই সাইনবোর্ড লেখা আছে। প্রাইভেট, প্রবেশ নিষেধ, একতলা মজবুত বাড়ি। গ্রানাইট পাথরের তৈরি ছাদের এক কোণায় রেডিও লাগানো আছে। প্রয়োজন হলেই ব্লোফেল্ড এই রেডিও কাজে লাগান। বাড়িটা মালভূমির একেবারে কিনারায়। নিচে পিজ গ্লোরিয়ার চূড়া দেখা যাচ্ছে। এখানে বরফের প্রপাতের ভয় নেই। অনেক নিচে গাছের সারি একেবারে বারনিল উপত্যকায় মিশে গেছে। তারও ওপারে অস্পষ্ট রেলওয়ে লাইন দেখা গেল।
নিউম্যাটিক দরজাটা অস্পষ্ট একটা হিস শব্দ করে উঠল। লম্বা কড়িডোর এবং একেবারে শব্দহীন। বন্ধ দরজার ওপাশে। কি ঘটেছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। বন্ড তখন জিজ্ঞেস করল।
ল্যাবরেটরি, সবই ল্যাবরেটরি, ও লেকচার রুম। তারপরেই কাউন্টের থাকবার ঘর। কাউন্ট তার কাজকর্ম নিয়েই থাকেন, স্যার হিলারী।
বেশ, বেশ।
ইরমা করিডোরের প্রান্তে গিয়ে বন্ধ দরজায় করাঘাত করল।
তখন দরজা খুলে গেল। ওরা ভিতরে ঢুকে গেল। উত্তেজনায় সে জানে যে আগের ব্লোফেল্ডকে সে দেখতে পাবে না–কুড়ি স্টোন ওজন, দীর্ঘদেহী, বিবর্ণ ভাবলেশহীন চোখ মুখ, ব্রু কাট ছাট, কালো চোখ, আর সাদ হল চোখের মনি।
মঁসিয়ে লে কিমাট দ্য ব্লিউভিলি তাকে দেখে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়ালেন, হাত বাড়িয়ে দিলেন আন্তরিক অভ্যর্থনার জন্য।
না, সে ব্রোফেন্ডের বর্ণনা ফাইলে দেখেছেন, তার চিহ্নটুকুও খুঁজে পেলেন না। বন্ড খুব দমে গেল। ছোট চুলের বদলে লম্বা কেয়ারী করা একমাথা চুল। ওজন বারো স্টোনের বেশি হবে না, শরীরের কোথাও কোন মেদ নেই। মধ্য বয়সীর লোকের যে রকম হয় আর কি, কপালে তার অনেক রেখা দেখা গেল। ফাইলের লেখা অনুযায়ী নাক ছোট আর মোটা নয়। বরং বেশ টিকালো। ডানদিকটা ক্ষয়ে গেছে সিফিলিসে। চোখে ঘন সবুজ রঙের চশমা দেওয়া আছে।
বন্ড টেবিলে বইগুলি রেখে ব্লোফেন্ডের হাতটা তুলে নিল নিজের হাতের মধ্যে।
স্যার হিলারী, সত্যিই খুশি হলাম।
বললেন ক্লোফেন্ড।
আমি খুবই দুঃখিত যে একুশ তারিখে আসতে পারিনি বলে। সে সময়ে আমার বড় কাজের চাপ পড়ে গিয়েছিল।
হ্যাঁ, ফ্রলাইন বান্ট আমাকে বলেছে। নতুন আফ্রিকান রাষ্ট্রের কাজ। অনেক সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে। তবে এখানেই একটু বসা যাক। তাই না? অথবা আমরা বাইরে গিয়েও বসে থাকতে পারি। আমি কিন্তু আবার সূর্যের ভক্ত আছি। তারই জন্য আমি এই রঙিন চশমার ব্যবস্থা করছি। তা না হলে এত উঁচুতে আলট্রা ভায়োলেট আলোয় কথাটা আর শেষ করলেন না।
বন্ডের পরণে ছিল পুরানো ধরনের স্কী ট্রাউজার্স, ইচ্ছে করেই সে এমন পোশাক পরেছে, আর গায়ে দিয়েছে গলফ খেলার জ্যাকেট। তারা দুইজনে গিয়ে বারান্দায় বসল।
আচ্ছা এবার তাহলে শুনে নেওয়া যাক। কথাটা বললেন, কটে দ্য ব্লিউভিলি আপনাদের অনেক কষ্ট করে আসতে হল, কি এমন ব্যক্তিগত ব্যাপার আছে? তবে আপনি আসাতে আমি বাস্তবিকই খুবই খুশি হয়েছি স্যার হিলারী।
