বন্ড বলল, আফ্রিকার মেয়েদের আবার বার্থ কনট্রোলে বড় অরুচি। সেদিকে আশা করি হুশিয়ার হয়েছিল ফিলিপ মাস্টার্স।
বন্ডের পাথির্ব ভাবনায় ব্যাজার হলেন গভর্নর। মুখে বললেন, যৌনতত্ত্ব নিয়ে কিন্তু এ গল্প আমি কঁদিনি। কাফ্রি মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করার কথা কোনদিন কল্পনাই করেনি ফিলিপ। জোয়ান ছেলেদের মধ্যে যৌন অজ্ঞতা আজকাল হামেশা দেখা যাচ্ছে ইংল্যান্ডে। সে আমলেও একরকম ছেলে দেখা যেত। যেমন ফিলিপ মাস্টার্স। শরীর মনে নিখুঁত পুরুষ, সুসভ্য নাগরিক। অথব মেয়ে পাগল নয় মোটেই।
ব্র্যাভিতে চুমুক দিল বঙ। গল্পটা জমেছে ভাল।
গভর্নর বললেন, নাইজেরিয়ার প্রথম শ্রমিক সরকারের আমলেই ফিলিপের চাকরি শুরু। লেবার গভর্নমেন্ট প্রথমেই পররাষ্ট্র নিয়ে ভাবতে বসে। ফলে, নয়া গভর্নর আসে নাইজেরিয়াতে। অধিবাসীদের প্রগতি চিন্তার শুরুতেই গভর্নর অবাক হলেন ফিলিপকে দেখে। হোকরা সরকারী পুলিশের তোয়াক্কা না রেখে বহু আগে থেকেই স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে জমিয়ে বসেছে। খুব উৎসাহ দিতে লাগলেন গভর্নর। উঁচু পদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের ভারও দিলেন। ফিলিপের বদলির সময় হতেই এমন উচ্ছ্বাসপূর্ণ প্রশস্তি দিয়ে সুপারিশ করলেন যে এক ধাক্কাতেই ডবল প্রমোশন হয়ে গেল। ফিলিপ বারমুডায় বদলি হল অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির পোস্টে।
বারমুডায় আমারই সহকারী হয়ে এল ফিলিপ। কিন্তু বারমুডা পৌঁছানোর আগের কাহিনীটা আগে বলে নিই। নাইজেরিয়া থেকে লম্বা ছুটি নিয়ে আকাশপথে লন্ডন এল ফিলিপ। নাইরোবি থেকে ইম্পিরিয়াল এয়ারওয়েজ বি.ও.এ.সি.-র প্লেন সার্ভিস ছিল। ফিলিপের সেই প্রথম আকাশ-যাত্রা। মাটি ছেড়ে আকাশে ওঠার সময়ে একটু ভয় ভয় করেছিল। এয়ার হোসটেস একটা লজেন্স দিয়েছিল মুখে রাখতে। সিট-বেল্টাও এটে দিয়ে গিয়েছিল। তেমন বেশি যাত্রী ছিল না। একটু পরেই এয়ার-হোেসটেস ফিরে এল। মিষ্টি হেসে বলল, এবার খুলতে পারেন বেল্ট।
কিন্তু বেল্ট খুলতে গিয়ে চোখ মুখ লাল করে ফেলল ফিলিপ। মেয়েটির মিষ্টি রূপ দেখে প্রথম থেকেই মজেছিল বেচারা। অথচ যেচে আলাপ জমাবার সাহস নেই। অবস্থা দেখে মেয়েটি নিজেই হেঁট হয়ে খুলে দিল বেল্ট। জীবনে এত কাছে কোন যুবতাঁকে পায়নি ফিলিপ। ফলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হল আরক্ত-মুখে। মেয়েটি তাই দেখে মোহিনী হাসি হেসে বসল চেয়ারের হাতলে। জিজ্ঞেস করল কদ্দূর যাওয়া হচ্ছে কোত্থেকে আসা হচ্ছে। দেখতে দেখতে আলাপ জমিয়ে ফেলল এয়ার-হোসটেস। প্রায় সমবয়েসী এমন রূপসী চেহারার মেয়ের সঙ্গে এত সহজভাবে আলাপ করা যায় দেখে ফিলিপ নিজেই অবাক হল। আফ্রিকা সম্বন্ধে অনেক কথা শুনতে চাইল মেয়েটি। ফিলিপকে উপলব্ধি করিয়ে ছাড়ল যে ফিলিপ সামান্য লোক নয়।
ফলে, নিচের মেঘমালার দিকে তাকিয়ে উন্মনা হল ফিলিপ। এরকম নিখুঁত রূপ বড় একটা দেখা যায় না। নাতিদীর্ঘ তনু সুঠাম সুগঠিত। দুধে-গোলাপে মেশানো রঙ। ঝিকিমিকি চুল, ছিমছাম কায়দায় উঁচু করে বাঁধা। চেরী। ফলের মত টুকটুকে রঙ, হাসি-হাসি অধর। নীল-নীল চোখে কৌতুকোজ্জ্বল দুষ্টুমি। নাম রোডা লোয়োলিন।
রোডাকে নিয়ে আকাশ-পাতাল কল্পনায় মত্ত হল ফিলিপ। মুখ-চোরা ছেলেমাত্রই প্রেমে পড়লে স্বপ্নসৌধ রচনা করে মনে-মনে। ডিনারে নেমন্তন্ন করলে বা একসঙ্গে থিয়েটার দেখতে চাইলে রোডা মুখ বেঁকিয়ে না-বলে বসবে না। তো? এখনো দুটো দিন তো রোডার সঙ্গে কাটাতে হবে। তারপর? তারপর কি আর দেখা হবে? রোডার সাহচর্যের প্রত্যাশী নিশ্চয়ই অনেকেই। রোভা কি বিবাহিতা?
দুপুরের খাবার নিয়ে এল রোডা। ট্রে-টা দুই হাঁটুর ওপর রাখতে গিয়ে চুলের ঘষাটা লাগল ফিলিপের গালে। সেলোফেনের মোড়ক খুলে-খুলে কিভাবে খেতে হয়, দেখিয়ে দিল রোডা। কিভাবে স্যালাড ড্রেসিং-এর প্লাস্টিক ঢাকনি খুলতে হয়, তাও বুঝিয়ে দিল। সংক্ষেপে, ফিলিপকে নিয়ে এমন কাণ্ড করল যেন সে একটি খোকা, কিসসু জানে না।
আকাশ-যাত্রা শেষ হলে ঘামতে-ঘামতে ডিনার খাওয়ার নেমন্তন্ন জানাল ফিলিপ। ভেবেছিল হাসতে-হাসতেই তা প্রত্যাখ্যান করবে রোডা। কিন্তু কি সাংঘাতিক অ্যান্টি-ক্লাইম্যাক্স! এক কথাতেই রাজি হয়ে গেল রোডা। একমাস পরেই ছাড়ল ইম্পিরীয়ান এয়ারওয়েজের চাকরি। বিয়ে হয়ে গেল দু জনের। তারও এক মাস পরে ছুটি ফুরোতে বারমুডা রওনা হল ফিলিপ।
এই পর্যন্ত শুনে বন্ড বলল, আমার তো মনে হয় যে স্রেফ লোভে পড়ে ফিলিপ মাস্টার্সকে বিয়ে করেছিল রোডা। সমাজের উঁচু মহলে ওঠার লোভ, গভর্নরের টি-পার্টিতে রূপ দেখানোর আকাঙ্ক্ষা। গল্পের শেষে নিশ্চয় দেখা যাবে, বউ-হত্যা করেছে মাস্টার্স, তাই না।
না বললেন গর্ভনর। তবে ধরেছেন ঠিকই। উদ্দেশ্য নিয়েই ফিলিপকে বিয়ে করেছিল রোডা। আকাশে ওড়ার চাকরিতে বিপদ অনেক, ঝুঁকি অনেক। খুব সম্ভব সেই কারণেই চাকরি-জীবনে ইতি দিয়ে ঘর-সংসারে মন দিল রোডা। বারমুডা এসে হ্যাঁমিল্টনের উপকণ্ঠে বাংলো নিল। সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। বিশেষ করে বোডার। তার প্রাণোচ্ছলতা, তার মিষ্টি মুখের কথায় বশ মানল সবাই। মাস্টার্স নিজেও যেন পালটে গেল। দেখে দুঃখ হত। বউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হিমসিম খেত বেচারী। জামাকাপড় ঝকঝকে রাখা, চুল চকচকে রাখা, সামরিক গোঁফ রেখে তাগড়াই চেহারা বানানো, ইত্যাদি বহুবিধ কষ্টকর ব্যাপার নিয়ে অষ্টপ্রহর সে কি প্রাণান্ত পরিশ্রম!
