না, অসুবিধা আমার হচ্ছে না। কেমন যেন অবাক লাগছে। তোমাদের সবার নাম ঠিকমত মনে রাখা আমার সম্ভব হবে না। তার গলার স্বরটা খুব নিচু করে বলল, লক্ষ্মী মেয়ে এবার তোমার নামটা বল দেখি।
বেশ কড়া, বন্ডের হুইস্কি চলে এল। সে এতে খুশিই হল। সে একটা লম্বা চুমুক দিয়ে নিল কিন্তু সাবধানে, সে লক্ষ্য করছে মেয়েরা সবাই অরেঞ্জ মিশিয়ে নিয়ে কোকাকোলা বা স্কোয়াশের ককটেল বানিয়ে খাচ্ছে।
রুবি প্রথমে শুরু করল, আপনার ডানদিকে মিস্ বান্ট, আবার ম্যাট্রনও বলতে পারেন। তার পাশে যে ভায়োলেট সোয়েটার গায়ে ও হল ভায়োলেট। পাশের টেবিলে যে সোনালি ও সবুজ শার্ট পরে ওর নাম অ্যানী, তারপরে পার্ল। ওর সাথে আমার সবার চেয়ে বেশি বন্ধুত্ব।
এরকমভাবে চলল একজনের পর আর একজনের পরিচয়। মেয়েদের মধ্যেই সব থেকে বেশি কথা শুরু হয়ে গেল। বন্ডের কানে আসছে–ফ্রিংজ বলেছে স্কীইং আমার ঠিকমত হচ্ছে না। আমারও ঠিক তাই। কাউন্ট বলছে আমার খুবই উন্নতি হয়েছে। কি বল? আমাদের দিনগুলো খুব ভাল কাটছে। যাবার সময় কিন্তু খুব মন খারাপ হয়ে যাবে। পলী কেমন আছে কে জানে? ও তো চলে গেছে মাস খানেক হল। তাদের কথার কোন শেষ নেই। আর যদি কখনো তাদের কথার মধ্যে কাউন্টের প্রসঙ্গ এসে পড়ে। গলায় তাদের সমীহ ফুটে ওঠে। হুট করে একবার ইরমা বান্টকে দেখে নেয়। কারণ ওর মুখ দেখেই ওরা বুঝে নেয় তারা শুধু কথাই বলছে না গণ্ডগোল করছে।
রুবি যেন ক্লাসে পড়ে, তেমনিভাবে নাম ডেকে চলেছে। বন্ড কিন্তু বারে বারে আলপস-এর চূড়ার বন্দিনী সুন্দরীদের তাদের মুখের সাথে মিলিয়ে নিয়ে নামগুলি মনে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে এদের প্রত্যেকের কথায়, ব্যবহারে রয়ে গেছে একটা সহজ সারল্যভাব। ঠিক এমন মেয়েদেরই দেখা যায় ইংল্যান্ডের ভাটখানায় বয় ফ্রেন্ডের সাথে এক গ্লাসে পানীয় হাতে নিয়ে আর নয়ত অনভ্যাসে সিগারেট টানছে, কেউ যদি আপন হতে চেষ্টা করে, বলবে অযথা আমার সন্ধ্যেটা নষ্ট করো না। পুরুষরা কিন্তু একই জিনিসের জন্য সর্বদা ঘুরে বেড়ায়। বাঁ হাতটা সরিয়ে নাও, কেন ঝামেলা করছ। আর এদের সবার কথায় আছে ইংরেজি ভাষার শব্দ, ল্যাংকাশায়ার, ওয়লস্ অথবা স্কটল্যান্ড অঞ্চলের।
আর ঐ যে হচ্ছে বেরিল, গলায় আছে একটা মুক্তার মালা। এবারে কিন্তু সবগুলি নামই মনে থাকবে।
রুবি নীল চোখে একান্ত দৃষ্টি। বন্ড বলে উঠল, সত্যি যদি বলতে হয় না। আমার মনে হচ্ছে স্কুলে মেয়েদের মধ্যে আমি হারিয়ে গেছি। তোমার জন্য কি আর একটা ড্রিঙ্কস বলে দেব? ধন্যবাদ স্যার হিলারী, আমার জন্য বড় জোর একটা আপেল জুস বলে দিতে পারেন।
সামনের টেবিলে ভায়োলেট কাউকে বলছে, না ভাই আমি কোলা খেতে পারব না, খেলে বায়ু হয়।
বায়োলেট! রুবি চাপা গলায় বলল, তুমি কি আজেবাজে কথা বলছ।
ইস যা হয় তো আমি বলব না? আবার খুব হেঁচকিও ওঠে। বললে কিছু অন্যায় হয় নাকি?
বন্ড এবার উঠে পড়ল, এবং বার-এ গিয়ে ওদের জন্য ড্রিঙ্কসের অর্ডার দিয়ে এল। এসো তো, আমি তোমাদের একটা খেলা দেখাব। যে হেরে যাবে সে ড্রিঙ্কসের দাম দিয়ে দেবে। পানি ভর্তি একটা গ্লাস নিল সে, তার উপরে একটা পেপার ন্যাপকিন রেখে দিল। পকেট থেকে সে কিছু খুচরা বের করে একটা পাঁচ সেন টাইম মুদ্রা কাগজের উপর রাখল। যারা সিগারেট খাচ্ছে, ছাইটা ঝেড়ে ফেলে দিতে হবে, এক এক করে কাগজটার গায়ে ছ্যাকা দিতে হবে। কাগজে ছোট ছোট ফুটো হবে। বন্ড জ্বলন্ত সিগারেট লাগাতেই ছোট একটি ফুটো হয়ে গেল। আর ইতিমধ্যে সব মেয়েরা টেবিলের পাশে এসে জুটে গেছে। তারা সব হৈচৈ লাগিয়ে দিয়েছে। শেষ অবধি যার ছ্যাকায় কাগজ ফুটো হয়ে পয়সাটা পানির নিচে গিয়ে পড়বে তাকেই দিতে হবে। কি? সবাই কি খেলাটা বুঝে নিয়েছ তো? তারা বুঝে গেছে তা সবাই সায় দিল। সত্যি কি সুন্দর খেলা। কোথায় আপনি শিখলেন স্যার হিলারী?
যুদ্ধে, দেখি কে কে সিগারেট খাচ্ছ? তখন তিনজন মেয়ে সিগারেট হাতে নিয়ে চলে এল। তারা খুব সাবধানে ছাই ঝেড়ে নিয়ে কাগজে ছ্যাকা দিতে লাগল। যাতে ফুটোটা বড় হয়ে না যায়।
শেষে বন্ড সিগারেট লাগিয়ে একটি ছিদ্র বেশ বড় করে দিল যাতে সেন টাইমটা পড়ে যেতে পারে।
মুদ্রাটি পড়ে ডুবে গেল। সবাই তখন হাতে তালি দিয়ে উঠল।
তাহলে তোমরা দেখলে সেব মেয়েরা। ইরমা বান্ট এমনভাবে বলে গেল যেন এই খেলাটির আবিষ্কারক সে ড্রিঙ্কসের দাম স্যার হিলারীকেই দিতে হল। তোমরা তাড়াতাড়ি ড্রিঙ্কস শেষ করে ফেল। খাবার সময় হয়ে গেছে, মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি আছে।
এবার অনুরোধ এল, আর একবার।
শুধু আর একবার।
পাঁচ মিনিটে একবার হয়ে যাবে।
বন্ড কিন্তু তার হুইস্কির গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল, বলল, আমরা কালকে আবার খেলব। এবারে দেখছি তোমরা সবাই সিগারেট খেতে শুরু করে দেবে। তামাকের কারখানাগুলিই মনে হয় এই খেলাটি আবিষ্কার করেছে, কি বল?
সবাই বন্ডকে ঘিরে দাঁড়িয়ে হেসে উঠল। বন্ডও সবাইকে নিজের দলে এনে খুব খুশি হল।
এবারে হয়ত ওরা কোন সংকোচ না করে কথা বলবে। খুব আনন্দিত হয়ে ইরমা বান্টের টাইট প্যান্টের পিছনে পিছনে বন্ড চলে এল খাবার ঘরে। সময় সাড়ে সাতটা। হঠাৎ তার কেমন ক্লান্তি মনে হল, অভিনয় শেষ করার পর যেরকম ক্লান্তি আসে, সেরকম। এর উপর আছে ব্লোফেল্ড আর পিজ গ্লোরিয়ার রহস্য। বেজন্মাটা যে কি নিয়ে মেতে উঠেছে? সে ইরমার ডানদিকে বসে আছে। এর আগে যেমনভাবে বসেছিল। তার পাশে রুবি ও ভায়োলেট ঠিক তার। সামনে। বিরাট ঘরের এক পাশে জানালার নিচে তিনটি টেবিলে তাদের বসার জন্য জায়গা হয়েছে। ঝাড় লণ্ঠনটা সিলিং থেকে ঝুলছে। দেওয়ালে আছে কোন সম্ভ্রান্ত লোকের তেল রং-এর ছবি। এমন জমকালো ব্যাপারে দশ লক্ষ্য স্টার্লিং-এর কম খরচ করেনি ব্লোফেল্ড। শুধু কেবল রেলওয়ে তৈরি করার খরচাটাই তো হয়েছে প্রচুর।
