নিশ্চয়, তুমি নিশ্চিন্তে থাকতে পার। আচ্ছা কাউন্টের সাথে কখন দেখা হবে। আমার অসুবিধা হচ্ছে, বড় ব্যস্ত লোক আমি, নানা দরকারী ব্যাপারে আমি জড়িয়ে আছি। আমার অপেক্ষায় লন্ডনে কিছু কাজ বাকি আছে। বন্ড গলার আওয়াজটা খুব শান্ত করে ফেলল, নতুন যে-সব আফ্রিকান রাষ্ট্র হল, তাদের জন্য আমাকে পতাকা প্রস্তুত করে দিতে হবে। কেমন হবে তাদের নতুন পয়সা, স্ট্যাম্প, মেডাল, এ সব নিয়ে অনেক মাথা খাটাতে হয়। কলেজে আপাতত লোক কম আছে। কাউন্টের সমস্যা হল ব্যক্তিগত, তারও অনেক গুরুত্ব আছে। কিন্তু সরকারী সমস্যার স্থান প্রধান।
ইরমা বান্ট তার কথায় প্রচুর আগ্রহ দেখাল, অবশ্যই স্যার হিলারী। আজকের রাতটা, কাউন্ট বলেছেন, তাকে ক্ষমা করে দেবেন। কাল সকালে এগারটার সময় দেখা করলে কাউন্ট খুশি হবেন খুবই, কি বলছেন?
নিশ্চয়ই, ততক্ষণে আমিও আমার কাগজপত্র গুছিয়ে নিতে পারব। আর যদি আমাকে আর একটা টেবিল দেওয়া হয় তবে আমার কাজের পক্ষে খুবই সুবিধা হবে। আমার বই পত্র অনেক আছে, তাই সেগুলি গুছিয়ে নিতেও আমার অনেক সময় লাগবে। আর জায়গাও আমার একটু দরকার আছে।
তা নিশ্চয়, আমি এখুনি আপনাকে একটা টেবিলের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। ইরমা দরজার কাছে গিয়ে একটা ঘণ্টা বাজিয়ে দিল।
আপনি ঘর থেকে বাইরে যাবার আগে বেলটা টিপে দেবেন, বুঝেছেন তো? আমাদের রোগীদের জন্যই এই ব্যবস্থা করতে হয়েছে। ওরা সুবিধা পেলেই দরজা দিয়ে ঢুকে ভিতরে এসে গল্প জুড়ে দেবে। বাজে গল্প করা ওদের পক্ষে ঠিক নয়। আচ্ছা! মনে আছে তো এখানে দশটায় শুয়ে পড়ার নিয়ম। তবে রাতে একজন বেয়ারা থাকবে এখানে কারণ যদি কখনো আপনার কোন দরকার লাগে। বার-এ ককটেল হয় ছ টার সময়। সেখানে আমরা সবাই হাজির থাকি। আপনি। এসেছেন তা মেয়েরা জানে। তারা আপনার সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষায় আছে। দরজাটা খুলে গেল। খুব স্বাস্থ্যবান একটা লোককে দেখতে পাওয়া গেল। তার তামাটে চোখ, ভূমধ্যসাগরের একটু ছোঁয়াচ আছে বলে মনে হল। মার্ক এনজের দল থেকে যে কয়জন কর্সিকান এখানে এসে জমে গেছে তাদের আবার কেউ না তো? ইরমা তাকে খুব অপটু ফরাসী ভাষায় বলল, ডিনারের পর স্যার হিলারীর ঘরে একটি টেবিলের প্রয়োজন। লোকটি শুধু শুনে চলে গেল।
তাহলে আজ এই পর্যন্ত থাক স্যার হিলারী। ডাক নিয়ে যায় এখান থেকে দুপুর বেলায়। রেডিও-টেলিফোনের ব্যবস্থা আছে। স্বচ্ছন্দে আপনি ব্যবহার করতে পারেন। কাউন্টকে গিয়ে কিছু বলতে হবে কি? হ্যাঁ, বলবে। কালকে দেখা করার আশায় রইলাম। সে সুটকেসের মধ্যে তাকাল। এই জিনিসপত্রগুলি গুছিয়ে নিতে হবে অবশ্যই। ক্ষমা করবেন, আপনার অনেক সময় নষ্ট করে গেলাম। ইরমা বান্ট দরজার বাইরে গিয়ে আবার দরজা বন্ধ করে দিল।
বন্ড ঘরের মাঝখানে চুপচাপভাবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। একটি শব্দ করে নিঃশ্বাস নিল। তার খুব বিরক্তি হতে লাগল। তার ইচ্ছে করল ঘরের কোন জিনিসের গায়ে জোরে লাথি মারে। হঠাৎ তার নজরে পড়ে গেল সিলিং থেকে চারখানা বাতি ঝোলাবার স্থানে তিনটি বাতি জ্বলছে আর চতুর্থের স্থানে একটি ছোট ফুটো। ক্লোসড় সারকিট টেলিভিশনে নয় তো আবার? আর যদি মনে করি তাই হয়, তবে এর আওতা কত দূর হতে পারে? হয় তো ঘরের আকৃতি অবধি। নাকি মাইক্রোফোন? বন্ডের মনে হতে থাকল চব্বিশ ঘণ্টা পাহারায় রাখার ব্যবস্থা আছে এই ঘরে। এতে কোন সন্দেহ নেই। সে সুটকেস খুলে নিজের জিনিসপত্র বার করে নিল। এরপর তাকে গোসল করতে হবে। তারপরে আবার তৈরি হয়েও নিতে হবে। মেয়েরা আবার সভায় হিলারীর সাথে দেখা করার জন্য ছটফট করছে।
.
দশ রূপসীর মেলা
বার-টা একেবারে নতুন মনে হল, কোন লুকানো লাউড স্পীকার থেকে মৃদু বাজনার ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ঘরের মধ্যে যেতেই সবাই চুপ করে গেল। তারা সবাই আগে কথা বলতে ব্যস্ত ছিল কিন্তু। অনেকে আবার আড়চোখে দেখছে। একদল খুব সুন্দরী ও চটকদার মেয়ে। ইরমা এদের কথাই বলছিল।
স্যার হিলারী। ইরমা বান্ট হাতটা ধরে ফেলল, আসুন, আসুন, এই মেয়েদের সাথে আপনাকে আলাপ করে দিই। এই ঘরটা কিন্তু প্রচণ্ড গরম লাগছে। টেবিল থেকেই মেয়েদের সাথে হাত মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে যেতে বন্ডের কপালে ঘাম জমে উঠল। রুবি, ভায়োলেট, পার্ল, অ্যানী, এলিজাবেথ, বেরিল–সবগুলির নাম বলে যাচ্ছে ইরমা– রোদে পোড়া তামাটে তাদের মুখের রং, আর যৌবন দীপ্ত বুক। অবশেষে বন্ড তার নির্দিষ্ট চেয়ারে এসে বসে পড়ল, তার পাশে এসে বসল ইরমা, আর অন্য পাশে এক পরমা সুন্দরী। বেয়ারাটা এসে অপেক্ষা করছে। বন্ড তাকে অর্ডার দিল হুইস্কি আর সোডা। বেশ খানিকটা সময় নিয়ে একটা সিগারেট ধরাল। আবার ধীরে ধীরে কথা শুরু হয়ে গেল চারপাশে। যে সব কথা ছিল শুধু হৃদয়হীন। দশটি মেয়ে আর ইরমা, কোন মেয়েরই পদবী তার জানা হল না। মনে। হয় সবাই এখানেই কাজ করে। হঠাৎ একজন অপরিচিত পুরুষের প্রবেশ ঘটাতে সবাই সচকিত হয়ে উঠল। মনে হয় যেমন তেমন লোক ইনি নন। স্বয়ং ব্যারন। বন্ড তাদের দিকে তাকিয়ে নিয়ে বলল, খুব দুঃখিত, তোমাদের নামগুলি ঠিকমত মনে নেই।
আমার নাম রুবি, মার্জিত রুবির গলা, সৌহার্দ্যের সুরে একটি মেয়ে জবাব দিল। আমরা এতগুলি মেয়ে আর আপনি শুধু একমাত্র পুরুষ, নিশ্চয় আপনার খুব অসুবিধা হচ্ছে তাই না?
