–গুণ্ডা বদমাশদের ভাষায় ওর মানে হল গণিকা। সে তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে বলল।
আমারও এই জাতীয় কিছু বলে মনে হয়েছিল।
–তোমার কিন্তু তা হবার কোন লক্ষণই নেই।
শপথ করে বল তুমি আমাকে সে রকম মনে কর না?
প্রতিজ্ঞা করেই বলছি। তুমি শুধু একটা আদরের আহ্লাদী। তোমার ব্যাপারে আমার মনোভাব হল মুগ্ধবোধ।
-তার মানে?
তার মানে একটা মেয়ের প্রতি যার মন মুগ্ধ হয়ে রয়েছে। নাও যথেষ্ট প্রশ্ন করা হয়েছে। এবার ঘুমোও।
–সে আমাকে শান্তভাবে চুমু খেল এবং পাশ ফিরে শুল। আমি তার গায়ে ঘেঁষে পিঠ ও উরুর সঙ্গে লেপটে মিশে গিয়ে শুয়ে পড়লাম।
–ভারি চমৎকার শোবার ধরন এটা ঠিক যেভাবে চামচগুলি রাখা হয়। শুভ রাত্রি, জেমস্।
.
হৃদয়ের শিলালিপি
ওই তার শেষ সংলাপ।
পরদিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখলাম সে চলে গেছে। শুধু বিছানায় পড়ে আছে তার শরীরের ভারে তৈরি হওয়া একটা লম্বা খাজ ও বালিশে তার দেহের গন্ধ। ধূসর রঙের গাড়িটা আছে কিনা দেখে নিশ্চিত হবার জন্য লাফিয়ে বিছানা থেকে নেমে ছুটে গেলাম। সেটা আর দাঁড়িয়ে ছিল না।
দিনটা ভারি চমৎকার। ঘাসের ওপর পুরু শিশির পড়েছে। সেই শিশিরের ওপর দেখলাম তার পায়ের ছাপ আঁকা রয়েছে গাড়িটা যেখানে ছিল সেই অবধি। মালপত্র নামাবার জায়গার ওপর দিয়ে একটি নিঃসঙ্গ পাখি উড়ে গেল। বনের কোন একটা গাছ থেকে একটা শোকার্ত ঘুঘু পাখির বিয়োগব্যথার বিলাপ ধ্বনি গুমরে উঠছিল। হোটেলের ধ্বংসাবশেষ দেখতে লাগছিল বীভৎস ও পোড়া মিশকালো। বার-বাড়ির দগ্ধাবশেষ থেকে অল্প অল্প ধোয়া উঠে ওপরের স্থির বাতাসে মিশে যাচ্ছিল।
আমি ঘরে ফিরে এলাম। শাওয়ারে গোসল করলাম। দুটো ব্যাগে জিনিসপত্র গোছালাম। তখন ড্রেসিং টেবিলের ওপর চিঠিটা দেখতে পেলাম। গিয়ে বিছানায় বসে চিঠিটা পড়লাম। হোটেলের চিঠি লেখার কাগজে পরিষ্কার লেখা; প্রতিটি অক্ষর সমান।
প্রিয় ভিভ,
এই চিঠি তুমি পুলিশকে দেখাতে পার, তাই কাজের কথায় বলছি। আমি প্লেন ফল্সের দিকে যাচ্ছি; ওখানে গিয়ে পুলিশকে ঘটনার পুরো খবর দেব। তবে তার আগে সড়কের ভ্রাম্যমাণ বাহিনীকে তোমার কাছে পাঠাব। আমি ওয়াশিংটনের সঙ্গেও যোগাযোগ করছি। তারা প্রায় সুনিশ্চিতভাবে আলবেণীর কর্তৃপক্ষের ওপরই ঘটনাটার ভার দেবেন। যাতে তুমি খুব বেশি উদ্বিগ্ন না হও এবং তোমার বিবৃতি নিয়েই তারা তোমাকে তোমার পথ-যাত্রার জন্য ছেড়ে দেন; সেজন্য আমি চেষ্টার কোন ত্রুটি করব না। প্লেন ফসে আমার ভ্রমণ সূচি দিয়ে যাব, তাছাড়া আমার গাড়ির নম্বরও দিয়ে যাব; কাজেই আমার কাছ থেকে আরো কিছু জানবার দরকার হলে, বা তোমার কোন সাহায্যের। প্রয়োজন হলে, আমি যেখানেই থাকি না কেন তারা আমাকে খুঁজে নিতে পারবে। তোমার সকালের ব্রেকফাস্ট করা হবে না বলে আমি ভ্রাম্যমাণ বাহিনীকে তোমার জন্য ফ্লাস্ক ভর্তি কফি ও কিছু স্যান্ডউইচ নিয়ে যেতে বলব। যদি মিস্টার সাগুইনেত্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হত, তবে তোমার কাছে থাকতে চাইতাম! তবে তিনি আজ সকালে আসবেন কি না, সে বিষয়ে আমার ঘোরর সন্দেহ আছে। আমার অনুমান যে তিনি তার দুই সশস্ত্র ওস্তাদ সাকরেদের কাছ থেকে। কোন খবর পাবেন না এবং ঝটতি মেক্সিকোয় কেটে পড়ার জন্য সকালের দক্ষিণ-যাত্রী যে কোন প্লেনে চেপে বসবেন। আমি ওয়াশিংনে আমার অনুমানের কথা জানাব এবং বলব যে একটু চেষ্টা করলেই তারা একে ধরতে পারবেন। এজন্য তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ওই যাকে বলে অদ্য হইতে কারাগারে… ইত্যাদি শাস্তি হতে পারে। এখন শোন, তুমি এবং কতকাংশে আমি, বীমা কোম্পানির অন্তত পাঁচ লক্ষ ডলার বাঁচিয়ে দিয়েছি। এর জন্য ওরা বড়সড় রকমের পুরস্কার দেবে। বর্তমানে চাকরির শর্তানুযায়ী কোন পুরস্কার গ্রহণ করা আমার পক্ষে নিষিদ্ধ। তাই এ নিয়ে কোন তর্কের অবকাশ থাকছে না যে, তুমি এই ঘটনার প্রধান দায়িত্ব গ্রহণ না করে থাকলেও, তুমিই এর নায়িকা। কাজেই ব্যাপারটা। নিয়ে কাগজপত্রে সেরকম ব্যবস্থা করতেই চাই। এক্ আশা করি বীমা কোম্পানি যথার্থ সুবিচার করবেন। আরেকটা কথা, একথা শুনে আমি আদৌ অবাক হব না যদি দেখি এই দুটো গুণ্ডার বা একটার বিরুদ্ধে পুলিশের গ্রেফতারী পরোয়ানা ঝুলছে বা এদের মাথার জন্য কোন নগদ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। আমি সেদিকটাও দেখব। ভবিষ্যতের জন্য খুব সাবধানে বাকি পথটা পাড়ি দিও। আর, দুঃস্বপ্ন দেখ না, এই জাতীয় ঘটনা ঘন ঘন ঘটে না। মনে করে নাও, যেন একটা সাংঘাতিক মোটর দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলে এবং ভাগ্যক্রমে উদ্ধার পেয়ে গেছ। তোমার লাবণ্য অক্ষুণ্ণ রেখে এগিয়ে যাও। যদি কখনো আমাকে বা আমার সাহায্যের প্রয়োজন বোধ কর তবে টেলিফোন করো না, নিচের ঠিকানায় তার পাঠিও বা চিঠি লিখ।
অবধারক ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
স্টোরিজ গেট
লন্ডন
এন. উরু. ১..
—তোমার চিরদিনের
জে.বি.
পুনশ্চ : দক্ষিণাঞ্চলের পথের পক্ষে তোমার টায়ারে হাওয়ার চাপ বড্ড বেশি। সেটা কম করে নিতে যেন ভুল না।
পুনশ্চ : গেলেনর ক্লোর দ্য আলপস সাবানটা ব্যবহারের চেষ্টা করে দেখ ক্যামেওর বদলে!
.
পথে মোটরবাইকের গর্জন শুনতে পেলাম। তারা থামলে তাদের পরিচিতি-জ্ঞাপন একটা সাইরেন বাজল। চিঠিটা আমার ওভারলের বুকের দিকে ভেতর পকেটে রেখে দিলাম। জিপটা টেনে বন্ধ করে দিলাম। তারপর পুলিশের সঙ্গে দেখা করতে বাইরে গেলাম।
