বুঝতে পারলাম লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠেছি, জেদীভাবে বললাম, তুমি কি মনে কর? তাতে আমার কিছু আসবে যাবে না, জেমস্, তবে আজ রাত্রে তোমাকে ছেড়ে থাকতে পারব না। তুমি দুই কিংবা তিন নম্বর ঘরের মধ্যে একটা বেছে নাও। আমি মেঝেতে শুয়ে থাকব।
সে হেসে আমাকে বুকে টেনে নিল নিবিড় আলিঙ্গনে, যদি তুমি মেঝের ওপর শোও, তবে আমিও মেঝেতে শোব। কিন্তু এত চমৎকার জোড়া বিছানাটা অপচয় করা হবে। এস তিন নম্বরটাই নিই, সে থামল এবং আমার দিকে তাকাল, নাকি দু নম্বর ঘরটা নেবে?
–না। তিন নম্বর ঘরটাই হবে আমার স্বর্গ।
.
বিম্বো
তিন নম্বর ঘরটা বাতাসহীন এবং চাপা মতন। গাছপালার ভেতর থেকে জেমস বন্ড আমাদের মালপত্র নিয়ে আসছিল। এদিকে আমি জানালার কাঁচের শার্সী খুলে দিয়ে যুগল খাটের শয্যার ওপরের চাদরটা পালটে দিলাম, অস্বস্তি লাগা উচিৎ হলেও আমার সেরকম কিছু লাগছিল না। চন্দ্রালোকে তার জন্য গৃহস্থালীর কাজ ও শয্যারচনা ভালই লাগছিল। এরপর শাওয়ারটা পরীক্ষা করে দেখলাম। অলৌকিক ঘটনার মতই দেখলাম তখনও তাতে পানির পূর্ণ সরবরাহ রয়েছে, যদিও আর একটু এগোলেই নিশ্চয় নলের অনেক শাখা-প্রশাখা এই অগ্নিকাণ্ডে গলে গিয়ে থাকবে। প্রথমদিকের কেবিনগুলি পানি সরবরাহের মূল কেন্দ্রের কাছে।
আমি গায়ের সব জামাকাপড় খুলে ফেলে এক জায়গায় জড়ো করলাম এবং ধারা যন্ত্রের নিচে গেলাম। ক্যামে নতুন একটা প্যাকেট খুলে নিয়ে গায়ে ঘসে সারা শরীরে প্রচুর ফেনা যোগ করে নিলাম, তবে আঁচড় লাগা বা ছিলে যাওয়া জায়গাগুলির জন্য সযত্ন সাবধানতা অবলম্বন করেছিলাম।
শাওয়ারের নিচে ঝর্ণার জলকল্লোলের মধ্যে সে যে বাথরুমে এসে ঢুকেছে তা টেরই পাইনি। অকস্মাৎ আরও দুটি হাত আমার গায়ে ময়দা তোলার কাজে লেগে গেল এবং আমার দেহে আরেকটি নগ্ন শরীরের স্পর্শ অনুভব করলাম।
বারুদ ও ঘামের গন্ধ পেলাম। মুখ ঘুরিয়ে তার দৃঢ় মুখাবয়বের দিকে তাকিয়ে হেসে উঠলাম। ততক্ষণে আমি তার বাহুবন্ধনে বন্দিনী হয়ে গেছি; আমাদের ওষ্ঠাধার এক শেষবিহীন চুম্বনে পরস্পরের আস্বাদ নিচ্ছে।
জলবিন্দু অঝোরে ঝরে পড়ছিল ধারাযন্ত্র থেকে! ঝর্ণার ধারার জন্য চোখ বন্ধ রাখতে হচ্ছিল।
আমার নিশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে আসছিল। সে আমাকে ধারা যন্ত্রের তলা থেকে টেনে সরিয়ে নিয়ে এল। আবার আমরা চুমু খেলাম খুব ধীরে ধীরে। তার দুই হাত আমার সারা শরীরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। আচ্ছন্ন তন্দ্রার তরঙ্গের মত আদিম বাসনা ভেসে আসছিল। আমি আর সইতে পারছিলাম না। বললাম–এই নাঃ নাঃ জেমস! লক্ষ্মীটি না! আমি কিন্তু মাটিতে পড়ে যাব। অত দস্যপনা কর না! এই লাগছে!
গোসল খানায় জ্যোত্সার ফিকে আলোয় তার দুই চোখ দুই হিংস্র সরু ফালির মত দেখাচ্ছিল। এখন তারা কোমল ও হাস্যোজ্জ্বল হয়ে উঠল।
দুঃখিত ভিভ। আমার কোন দোষ নেই। এটা আমার হাতের দোষ। ওরা তোমাকে ছেড়ে থাকবে না। অথচ তাদের উচিত আমাকে গোসল করিয়ে দেওয়া। আমার গায়ে কি ময়লা রয়েছে। তোমাকেই তা করতে হবে। ওরা আমার কথা শুনছে না।
আমি তার দিকে তাকিয়ে হাসলাম এবং তাকে টেনে পানির ঝর্ণার নিচে টেনে আনলাম। বললাম, বেশ ঠিক আছে। আমি কিন্তু আস্তে আস্তে দিতে পারব না। যখন আমার বার বছর বয়েস তখনই শেষবার কাউকে গোসল করিয়ে দিয়েছি। সেটা ছিল একটা টাট্ট ঘোড়া, আমি কিন্তু মোটেই দেখতে পাচ্ছি না যে কখন তোমার শরীরের কোথায় হাত দিচ্ছি! আমি সাবানটা নিলাম মুখ নিচু কর। তোমার চোখে যাতে বেশি সাবান না লাগে তার চেষ্টা করছি।
-যদি চোখে সাবান যায়, তবে আমি…
আমার হাত বাকি কথাটাকে থামিয়ে দিল; আমি তার মুখ ও চুলে সাবান দিয়ে ঘষে, বুকে ও বাহুতে দিচ্ছিলাম। সে মুখ নিচু করে দু-হাতে পানির নল ধরে দাঁড়িয়েছিল।
আমি থামলাম, বাকিটা তোমাকে নিজেই করে নিতে হবে।
–নিশ্চয়ই না। তুমিই সেটা ঠিকভাবে কর। তুমি জানই না। একটা বিশ্বযুদ্ধ থামতে পারে এবং তোমাকে নার্স এর কাজ নিতে হতে পারে। তোমার এটা জানাও উচিত, যে একজন পুরুষকে কিভাবে গোসল করিয়ে দিতে হয়। সে যাই হোক, এটা কি সাবান? আমার গা থেকে যেন ক্লিওপেট্টার মত সুবাস বেরুচ্ছে।
-এটা খুব ভাল। এতে খুব দামী ফরাসি সুরভি সার মেশানো আছে। প্যাকেটটির উপর সেরকমই তো লেখা। আর স্বাদ গন্ধে ভরপুর হয়ে উঠছ যে তুমি। তোমার ওই বারুদের গন্ধের চেয়ে এটা ঢের ভাল।
সে হাসল, বেশ মাখাও, তবে তাড়াতাড়ি। কাজেই ঝুঁকে পড়ে আমি ওকে সাবান মাখাতে লাগলাম; আর সত্যি এক মিনিটের মধ্যেই আবার আমরা দুজনে দুজনের আলিঙ্গনে বাঁধা পড়লাম। শাওয়ারের নিচে এবং আমাদের শরীর সাবান ও পানিতে ধৌত হয়ে পরিষ্কার ও তকতকে হয়ে উঠেছিল। সে কল ঘুরিয়ে ঝর্ণা বন্ধ করে দিল এবং আমাকে তুলে নিয়ে এসে গোসলের তোয়ালে দিয়ে বহুক্ষণ ধরে আমার গা মুছিয়ে দিতে লাগল; আমি তার বাহুর ওপর হেলান দিয়ে তার সেবা নিলাম। এরপর তোয়ালেটা নিয়ে তাকে মুছিয়ে দিলাম। তারপর আর অপেক্ষা করা বোকামির কাজ হত। সে আমাকে তার দুই বাহুর মধ্যে তুলে নিল ও বয়ে নিয়ে চলল। শোবার ঘরে এভাবে আমাকে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল। আধখোলা চোখের পলকের ভিতর দিয়ে আমি পরদা ফেলে দেওয়া, দরজা বন্ধ করা এসব কাজে নিরত সুঠাম দেহ দেখছিলাম।
