জেমস বলল, চোপ কর। কথা বললে, তোমার ওই কদাকার মাথাটায় ফাটল ধরিয়ে দেব। ভিড়, এবার শোন, আমাদের এখন এই দুটোর কাছ থেকে পিস্তল দুটো নিয়ে নিতে হবে। ঘুরে হরর নামের লোকটার পেছনে এসে দাঁড়াও। ওর মেরুদণ্ডের ওপর তোমার পিস্তলের নলটা ঠেকিয়ে রেখে অন্য হাত দিয়ে ওর বগলের তলাটা দেখ। কাজটা সুন্দর নয়, তবে না করলেও চলবে না। যদি পিস্তল আছে বুঝতে পার তো বলবে, তখন কি করতে হবে বলব। খুব ধীরে ধীরে কাজটা করতে হবে। অন্যটাকে আমি সামলাচ্ছি। যদি এই হরর নড়াচড়া করে, তবে পিস্তলের ঘোড়াটা টেনে দিও।
নির্দেশমত কাজ করলাম। রোগা লোকটার পেছনে গিয়ে ওর পিঠে পিস্তলের নলটা ঠেকিয়ে রেখে ওর দক্ষিণ বাহুর নিচে তল্লাসি করলাম। নোংরা বিদঘুঁটে দুর্গন্ধ আসছিল ওর শরীর থেকে এবং ওর কাছে গিয়ে গিয়ে অন্তরঙ্গভাবে ওকে স্পর্শ করতে গিয়ে হয়ত আমার একটা আকস্মিক বিরক্তিভাব এসে থাকবে।
বুঝলাম, তার ফলে আমার হাতটা কেঁপে উঠেছিল। আর এতেই ও সুযোগটা নিতে পারল, হাতের টেলিভিশন সেটটা ফেলে দিয়ে সাপের মত ক্ষিপ্রগতিতে বাঁক নিয়ে, এক চড়ে আমার হাত থেকে পিস্তলটা ফেলে দিয়েই আমাকে জাপটে ধরল, জেমস বন্ডের পিস্তল গর্জন করে উঠল এবং একটা বুলেট হাওয়া কেটে পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল টের পেলাম। এরপর আমি দানবীর মত যুঝতে লাগলাম, লাথি মেরে, খামচে আঁচড়ে দিয়ে। কিন্তু আমি যেন প্রস্তরমূর্তির সঙ্গে লড়াই করছিলাম। সে আরো যন্ত্রণাদায়কভাবে চেপে ধরল, ওর নীরস গলার স্বর শুনতে পেলাম, বহুৎ আচ্ছা, সাহেব। এখন কি হবে। এই মেয়েটি মরুক তাই চাও?
আমি টের পেলাম ও একটা হাত ছাড়িয়ে নিয়ে পিস্তলটা ধরার জন্য হাত বাড়াচ্ছে। আমি আবার ধস্তাধস্তি করতে শুরু করলাম। জেমস্ বন্ড তীক্ষ্ণ গলায় নির্দেশ দিল, ভিড়, তোমার পা দুটো ফাঁক করে দাঁড়াও!
স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই নির্দেশ প্রতিপালন করলাম। আবার তার পিস্তল গর্জে উঠল। রোগা লোকটা চমকে আমাকে ছেড়ে দিল। কিন্তু সেই সঙ্গে আমার পেছন থেকে ছররা ছোঁড়ার মত শব্দ পেলাম এবং আমি মাথা ঘুরে পড়লাম। তার গুলি ছোঁড়ার সময়েই স্লাগসি নিজের মাথা ডিঙিয়ে হাতের টেলিভিশন সেটটা জেমস বন্ডের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছিল। এতে সে কিছুটা ভারসাম্য যেমন স্লাগসি চেঁচিয়ে উঠল, ভাগো হরর! আমি নিচু হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পিস্তলটা তুলে নিয়ে কোনমতে স্লাগসির দিকে গুলি ছুঁড়লাম। সম্ভবত লক্ষটা ঠিকই হয়নি, সে ইতিমধ্যে দৌড়ে পালাচ্ছিল। মাঠের মধ্য দিয়ে ফুটবল খেলোয়াড়ের মত এঁকে বেঁকে ছুটছিল। রোগা লোকটা মরিয়া হয়ে তার পেছনে পেছনে দৌড়াচ্ছিল, আমি আবার গুলি ছুঁড়লাম। কিন্তু পিস্তলটার লক্ষ্য উঁচুতে হয়ে গিয়েছিল এবং ওরা নিশানার বাইরে চলে গেল। স্লাগ্সি ডানদিকে এক নম্বর ঘরের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল।
উঠে দাঁড়িয়ে জেমস্ বন্ডের দিকে ছুটে গেলাম। সে ঘাসের ওপর হাঁটু গেড়ে বসে ছিল, মাথায় একটা হাত রেখে। আমি যেতেই সে হাতটা সরিয়ে নিয়ে হাতটা দেখল এবং শপথবাক্য উচ্চারণ করল। চুলের ঠিক নিচেই বড় মত একটা ক্ষত। কিছু না বলে বার-বাড়ির কাঁচের জানালাটার কাছে গিয়ে শার্সী পিতলের বোট দিয়ে ভেঙে ফেললাম। গরম আঁচ পেলাম ভাঙা জানালা দিয়ে। তবে কোন আগুন ছিল না। ঠিক নিচেই গুণ্ডারা যে টেবিলটা ব্যবহার করেছিল সেটা দেখা যাচ্ছিল। ওর ওপরের ছাদ থেকে খসে পড়া অনেক কিছুর সঙ্গে ফার্স্ট-এইড বাক্সটাও ছিল। জেমস বন্ড চেঁচিয়ে কি যেন বলল, কিন্তু আমি এর মধ্যে জানালার ফ্রেমের মধ্যে উঠে পড়েছি। ধোঁয়ার কুণ্ডলীর মধ্যে নিশ্বাস বন্ধ করে নেমে গিয়ে বাক্সটা ধরে কোন রকমে বেরিয়ে এলাম। ধোয়ায় দু-চোখ জ্বালা করছিল।
ক্ষতটা যতখানি পারি পরিষ্কার করে মাথিওয়েলট এবং বড় এক ফালি ব্যান্ড-এইড বের করলাম। ক্ষতটা গম্ভীর হয়নি কিন্তু শিগগীরই খারাপ ঘা হয়ে যাবে। সে বলল, দুঃখিত ভিড়, সুযোগ নষ্ট করলাম। আমি ভাবছিলাম, হয়ত সে-ও এটা ভাবছিল। বললাম, ওদের গুলি করে মারলে না কেন? ওরা তো সেই দুটো নিয়ে দাঁড়িয়েই ছিল।
সে চট করে বলল, ঠাণ্ডা মাথায় কখনো ওই কাজটা করতে পারিনি। তবে ওই লোকটার পাটা উড়িয়ে দেওয়া আমার উচিত ছিল। শুধু সামান্য ঘসটে গেছে। এখন সে আবার খেলায় সামিল হয়েছে।
আমি গম্ভীরভাবে বললাম, আমার কাছে এটা দারুণ ভাগ্যের ব্যাপার যে তুমি এর মধ্যে এসে পড়েছ। স্নাগুসি তোমাকে মারল না কেন!
-তোমার অনুমান আমার সঙ্গে অবিকল মেলে। মনে হচ্ছে এক নম্বর ঘরে ওদের সদর দপ্তরের মত কিছু একটা আছে। সম্ভবত বৈঠকখানায় কাজকর্ম করার সময়ে তাদের অস্ত্রশস্ত্র ওখানে রেখেছিল। আগুনের কাছাকাছি চলাফেরা করার সময় সঙ্গে তাজা কার্তুজ নিয়ে ঘোরাফেরা করতে চাননি। যাই হোক এখন যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়ে গেছে এবং আমাদের হাতে বেশ কিছু কাজ রয়েছে। প্রধান কাজই হল গাড়িটার দিকে নজর রাখা। ওরা প্রাণপণে চাইবে পালিয়ে যেতে। তবে ওদের পয়লা নম্বর কাজ হবে আমাদের খুন করা। ওরা খুব প্যাঁচে পড়ে গেছে, কাজেই এপার-ওপার করে ওরা লড়বে।
কাটা জায়গাটায় ওষুধ দিয়ে ব্যান্ড-এইড দিয়ে ঢেকে দিলাম। জেমস বন্ড এক নম্বর ঘরটার দিকে তাকিয়েছিল। এখন সে বলল, আড়ালে লুকিয়ে পড়াটাই ভাল হবে। ওদের কাছে ওখানে জোরাল শক্তিশালী কোন কিছু থাকতে পারে। আর এতক্ষণ হরের পা র শুশ্রূষাও সারা হয়েছে। বলে সে উঠে দাঁড়াল। হঠাৎ আমার বাহুতে এক টান দিয়ে সে বলল, এই তাড়াতাড়ি? সঙ্গে সঙ্গে ডানদিকে কাঁচ ভাঙার শব্দ পেলাম এবং কানে তালা ধরানো একটানা গুলি বর্ষণের শব্দ এল। মেশিনগান জাতীয় কিছুর শব্দ বলেই মনে হল, আমাদের গোড়ালির পেছন দিয়ে গুলি বেরিয়ে যাচ্ছিল বার-বাড়ির দিকে।
