রোগা লোকটা ঘুরে দাঁড়াল, বেশ, আপনি একটা ঘর পেতে পারেন মশাই। কিন্তু আলবেনীর ওই গল্প আমাদের কাছি চালিয়ে সুবিধা করতে পারবেন না। রাজধানীতেও সান্গুইনেত্তি সাহেবের বন্ধু-বান্ধব আছে। হতে পারে, ঘর খালির বিজ্ঞাপনটা আপনার পক্ষে যাচ্ছে। কিন্তু সেই বরাত নিয়ে বেশি লম্ফ ঝম্ফ করবেন না। আমরা এই জায়গাটার দেখাশোনা করতে নিযুক্ত হয়েছি। আমরা যেটা বলব, সেটাই চলবে। ঠিক না? _ব্যস, ব্যস, ওই আমার যথেষ্ট। ধন্যবাদ। ব্যাগটা নিয়ে আসছি।
তিনি বেরোবার জন্য পা বাড়াতেই, আমি তাড়াতাড়ি বললাম, আমি আনছি।
বলে তার আগে আগে বেরিয়ে গেলাম। জামার জিপটা নিয়ে টানাটানি করতে করতে। আমাকে কি রকম দেখাচ্ছিল। ভেবে লজ্জা লাগছিল। সৃষ্টিকর্তার আর্শীবাদে হঠাৎ জিপটা নড়ল এবং আমি সেটাকে গলা অবধি টেনে উঠিয়ে দিলাম।
আমার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি এলেন। আমার নিশ্চিত বিশ্বাস ছিল যে, ওদের মধ্যে কেউ আমাদের ওপর নজর রাখবে। তাই ঠোঁটের এককোণ দিয়ে কায়দা করে বললাম, ধন্যবাদ! সৃষ্টিকর্তাকেও ধন্যবাদ যে আপনি এসেছেন! এরা। আমাকে খুন করতে যাচ্ছিল। কেবল সৃষ্টিকর্তার অসীম অনুগ্রহে বেঁচে গেছি। ওরা গুণ্ডা। ওরা কি চায় জানি না। তবে। নির্ঘাৎ ওদের মতলব খারাপ। আমি পালাবার চেষ্টা করায়, ওরা গুলি পর্যন্ত ছুঁড়েছিল।
আমরা গাড়িটার কাছে এলাম। গাঢ় ধূসর রংয়ের দুসওয়ার থান্ডারবাড গাড়ি। ওপরের অংশটা ঘিয়ে রং-এর। চমৎকার দেখতে। আমি তাই বললাম। তিনি সংক্ষিপ্ত উত্তরে জানালেন যে গাড়িটা ভাড়া করা। গাড়িটার ওপাশে চলুন। গাড়িটার প্রশংসা করছেন এমনভাবে কথা বলুন। তিনি ঝুঁকে নিচু দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকলেন, ভেতরে বসে প্রশ্ন করলেন, ওরা দুজনেই কি সশস্ত্র?
-বলতে পারছি না। বেঁটেটা দারুণ পিস্তল চালায়। বিশ ফুট পর্যন্ত অব্যর্থ লক্ষ্য। অন্যটার কথা বলতে পারব না।
তিনি একটা ছোট কালো সুটকেস্ বের করে মাটিতে রেখে খুললেন। জামাকাপড়ের তলা থেকে কিছু বের করে নিয়ে ভেতরের পকেটে পুরলেন। সুইকেসটার অন্য দিক খুলে কালো এক পাত মত কি যেন বের করে পকেটে রাখলেন; আমার মনে হল ওগুলি কার্তুজের ম্যাগাজিন। তারপর সুইকেসটা বন্ধ করে বললেন, প্রচুর গুলি বারুদ থাকাটা ভালই। বলে বেশ লোক দেখানো ভাবে জোর শব্দ করে গাড়ির দরজাটা বন্ধ করলেন। আমরা দুজনে তখন গাড়ির পেছন দিকে গেলাম, নিচু হয়ে ফেঁসে যাওয়া টায়ারটা পরীক্ষা করলাম।
তিনি বললেন, এখানে টেলিফোন আছে
-কেটে দিয়ে গেছে।
আমাকে আপনার পাশের ঘরটা দেবেন?
–নিশ্চয়ই।
–ঠিক আছে। চলুন যাই। ওরা যাই বলুক আর করুক না কেন, সব সময় আমার কাছে কাছে থাকবেন।
–হ্যাঁ ধন্যবাদ।
তিনি উঠে দাঁড়িয়ে হেসে বললেন, এ থেকে আমরা নিষ্কৃতি না পাওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরুন।
আমরা একসঙ্গে হেঁটে ফিরে এলাম। স্লাগসি দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ছিল। আমরা ঢুকতেই সে দরজা বন্ধ করে লক করে আটকে দিল। পরে কিছুটা ভেবে নিয়ে সে ঘর খালি আছে লেখা নিওন আলোর বিজ্ঞপ্তিটা সুইচ টিপে নিভিয়ে দিল। বলল, এই যে সাহেব, আপনার চাবিটা। চাবিটা টেবিলের ওপর ছুঁড়ে দিল সে। চাবিটা তুলে দিয়ে তার নম্বরটা দেখলাম। চল্লিশ নম্বর ঘরের চাবি। বাঁ দিকের শেষ ঘরটা। আমি দৃঢ় স্বরে বললাম, দ্রলোক দশ নম্বর অর্থাৎ আমার পাশের ঘরটায় থাকবেন।
বলে স্লাগসি যে সবগুলি চাবি নিয়ে নিয়েছে তা ভুলে, রিসেপশন টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলাম।
স্লাগসি আমাকে অনুসরণ করল। সে দাঁত বের করে হাসল, আর ঘর নেই, খুকুমনি। এই লোকটি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। তাই আমি আর হরর তোমার ঘরের দু পাশের দুঘরটায় শোব। যাতে তোমার কোন ব্যাঘাত না ঘটে তা দেখার জন্য। বাকি চাবিগুলি নিয়ে যাবার জন্য ভরে নেওয়া হয়েছে।
সে ইংরেজ ভদ্রলোকের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করল, হেই মশাই, আপনার নামটা কি?
বন্ড। জেমস বন্ড।
–বেশ শক্ত নাম। তা ইংল্যান্ড থেকে আসা হচ্ছে?
–ঠিক ধরেছেন। রেজেস্ট্রি খাতাটা কোথায়? আপনাদের সুবিধার জন্য আমার নামের বানান বলে দিচ্ছি।
–বুদ্ধিমত্ত লোক বটে, হুঁ তা কি করা হয় সাহেবের?
পুলিশের কাজ করি।
স্লাগ্সির মুখটা হাঁ হয়ে গেল। জিভটা ঠোঁটের ওপর বুলিয়ে নিল। আগের জায়গায় উপবিষ্ট হররের দিকে ফিরে সে বলল, হেই হরর। ভাবতে পার? এই সাহেবটা পুলিশে কাজ করে। টিকটিকি!
হরর মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, মনে হচ্ছে সেটা আমি আঁচ করতে পেরেছিলাম। কেইবা তোয়াক্কা করছে? আমরা কোন অন্যায় করিনি।
-হ্যাঁ। সেটা ঠিক কথা। স্লাগসি বলল। তারপর এই মিস্টার বন্ডের দিকে ফিরে বলল, এখন এই মেয়েটির কোন কথা শুনবেন না। আমরা বীমা কোম্পানি থেকে আসছি। মিস্টার সান্গুইনেত্তির তরফে কাজ করি আমরা। ট্রয় শহরে তিনি খুব প্রভাবশালী বড় মানুষ। তিনিই এই প্রতিষ্ঠানের মালিক। তা, ম্যানেজারদের কাছ থেকে তিনি কিছু টাকা চুরি যাবার অভিযোগ পান। অন্যান্য জিনিসও খোয়া গেছে জানা যায়। সেজন্য একটা তদন্ত করবার জন্য আমরা এখানে এসেছি। এই ভবঘুরে মেয়েটিকে দেখে যখন এ বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করি উনি একটা বরফ তোলার চিমটে দিয়ে। আমার বন্ধুর মাথায় বেদম জোরে আঘাত করেন। নিজেই দেখুন না। হররের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করান স্লাগসি।
