স্লাগসি বেশ কিছু হেসে নিল। মুখ ফিরিয়ে রোগা লোকটাকে উদ্দেশ্য করে বলল, হেই হরর, কান্না মোছর তোয়ালেটা দাও, গুরু। হুঁড়ি বলে কিনা দু শ ডলার দেবে যদি ওকে আমরা চলে যেতে দিই। শুনে রোগা লোকটা শুধু কাঁধ নাচাল, কোন মন্তব্য করল না। স্লাগসি এবার আমার দিকে ফিরে তাকাল, করুণাহীন কঠোর সেই দৃষ্টি। একটু বুঝদার হও, খুকুমনি। এ খেলায় তুমিও সামিল হয়ে গেছ। তোমাকে একটু-আধটু সুড়সুড়ি দেওয়া উচিত যাতে আমারও দোস্ত হররের মত বড়া আদমী ঔর মিস্টার সাল্গুইনেত্তির মত বহুৎ বড়া ওস্তাদ তোমাকে নিয়ে কাজ করতে মজা পায়।
-কি কাজ? কোন কাজের জন্য আমাকে দরকার তোমাদের?
কাল সকালে সব বুঝতে পারবে। স্নাসি বেখেয়ালে বলল।
ততক্ষণ তোমার কিচির মিচির বন্ধ রাখ। তোমার আওয়াজে আমার কানের পোকা বেরিয়ে আসছে। এখন গায়ে ঝাড়া দিয়ে কিছু কাজ করতে চাই আমি। দেখ না কেমন মিঠা বাজনা হচ্ছে। আমরা দুজন ওর তালে তালে পা মিলিয়ে নেচে হররকে দেখাই, এস। দু হাত প্রসারিত করে বাজনার তালে তালে আঙুল নেড়ে সে দ্রুত কয়েক পা নেচে নিল। দুঃখিত। আমি খুব ক্লান্ত। গৃসি কাউন্টারে ফিরে এল। রেগেমেগে বলল, অতবড় গতর থেকে আমাকে একটুখানি দিলে কি তা খয়ে যাবে? যতসব বাজে ব্যাগারবাই দেখাচ্ছ। এমন কিছু তোমাকে দেব যাতে সত্যি সত্যি ক্লান্ত হয়ে পড়। হঠাৎ তার হাতে বিদ্ঘুটে দেখতে একটা চামড়ার আঙটাওয়ালা চাবুক খেলে গেল। কাউন্টারের ওপর সেটাকে আছড়াল সে। ফরমাটার ওপর বেশ দাগ বসে গেল। কাউন্টারের কিনারা বরাবর সে নিঃশব্দে পায়ে এগিয়ে। আসতে লাগল আমার চোখে চোখ রেখে, নিজের মনে গুনগুন করতে করতে। আমি কাউন্টারের শেষ প্রান্ত অবধি পিছিয়ে গেলাম। এটাই আমার শেষ চেষ্টা। আমার ওপর মার শুরু হওয়ার আগেই বদলা মারটা, যে ভাবেই হোক, দিতে হবে। হাতড়ে হাতড়ে কাঁটা চামচের খোলা দেরাজটা খুঁজছিলাম। হঠাৎ তা পেয়ে গিয়ে হাতে দুবিয়ে দিয়ে প্রাণপণ জোরে ছুঁড়তে লাগলাম। মাথা নিচুতে নামিয়ে নামিয়ে কাটাবার চেষ্টা করলেও কাঁটা চামচের বর্ষণ চলতে লাগল তার মাথার উপর দিয়ে। একহাত দিয়ে মুখ ঢেকে শাপ শাপান, করতে করতে সে পিছু হটছিল। আর এক পশলা ছুঁড়ে দিলাম তারপর আরো, কিন্তু তার নোয়ানো মাথার ওপরে তা জোর কোন আঘাত হানতে সমর্থ হল না। রোগা লোকটা এবার দ্রুত এগিয়ে এল। বেকানো ছুরিটা হাত ধরে স্লাগসির দিকে আমি তেড়ে গেলাম। কিন্তু সে আমাকে আগেই লক্ষ্য করে টেবিলের নিচে সেঁধিয়ে গেল, আদৌ ক্লান্তভাব না ফুটিয়ে হরর তার কোট খুলে সেটা। মুড়ে তার বাঁ হাতের বগলদাবায় নিল। তারপর দুজনেই দুটো চেয়ার তুলে নিয়ে, তার পায়াগুলো আমার দিকে ষাড়ের শিং-এর মত বাগিয়ে ধরে, দু দিক থেকে আমাকে চেপে এগিয়ে এল। আমি একটা হাত চালিয়ে ব্যর্থ একটা প্রচেষ্টা করলাম ওদের থামাবার জন্য কিন্তু একটু পরেই আমার হাত থেকে ছুরিটা খসে পড়ে গেল। এ অবস্থায় আমার একমাত্র করণীয় ছিল কাউন্টারের প্রাকারের পেছনে অবস্থান গ্রহণ করা।
তখনও চেয়ার বাগিয়ে স্লাগসি এগিয়ে আসছিল আমার দিকে আর আমি দুহাতে দুটো রেকাবি নিয়ে তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। নোগা লোকটা ক্ষিপ্তভাবে কাউন্ডার ডিঙিয়ে পেছনে এসে আমার চুলের গোছা চেপে ধরল; আমি পাশ দিয়ে রেকাবি দুটো ছুঁড়ে মারলাম কিন্তু সে দুটো মেঝের ওপর গড়িয়ে চলে গেল। এরপর আমার মাথা কাউন্টারের ওপর টেনে নামানো হল, স্লাগসি আমার ওপর এসে পড়ল।
-হরর ঠিক আছে, ছেড়ে দাও। এবার আমার দেখার পালা। ম্যায় দেখুঙ্গা।
আমার দেহ বেষ্টন করে ওর শক্তিশালী বাহুর পীড়ন যেন আমাকে পিষে ফেলতে চাইছিল। ওর মুখ আমার মুখের কাছে এনে বর্বরের মত নির্মমভাবে আমাকে চুমু খেতে খেতে হাত দিয়ে আমার ঘাড়ের নিচে জামার জিপ ফাস্নারের মাথাটা খুঁজে নিয়ে এক টানে কোমর অবধি নামিয়ে দিল।
ঠিক সেই মুহূর্তে সামনের দরজার কলিং বেল বেজে উঠল। শব্দটা শুনতেই সবাই নিশ্চল নিথর হয়ে গেল।
দি স্পাই হু লাভড মি (পার্ট ২)
কে ও?
–ক্রাইস্ট। কে ও? স্লগসি তার চামড়ার কোটের নিচে হাত ঢুকিয়ে পিছিয়ে এসে স্বগতোক্তি করল। হররই প্রথম নিজেকে সামলে নিল। তার মুখে শীতল ক্রোধের অভিব্যক্তি ফুটে উঠেছিল–স্লাগসি, দরজার পেছনে গিয়ে দাঁড়াও। আমি না বলা পর্যন্ত পিস্তলে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাক। আর তুমি-যেন থুথু ফেলছ এভাবে আমাকে কথাগুলো বলে চলল,
আর তুমি নিজেকে একটু সভ্য ভব্য করে নাও। তুমি আমাদের হয়ে প্রথমে কথা বলবে। যদি ঠিকঠাকভাবে কাজ না কর তবে জানে খতম করে দেব। বুঝেছ? গুলি করে মারব। এবার দরজা খুলে দ্যাখো লোকটা কে? আমাদের সময় দরজা খুলে যা যা বলেছ, ওকেও তাই তাই বলবে। বুঝেছ? এখন তোমার মুখের ওই বোকা বোকা ভাবটা ছাড়। যা বলছি তা শুনলে কেউ তোমাকে মারবে না। জিপটাকে টেনে তুলে দাও।
পুরো ব্যাপারটা বুঝবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম।
–বেশ, হাতের জিনিসপত্র বুকের কাছে ধরেই এগিয়ে যাও। আমি তোমার ঠিক পেছনেই আছি। ভুল না একটা বেফাঁস কথা বললেই তোমার পিঠে গুলি বিধে এফোঁড় ওফোড় হয়ে যাবে। আর ওই লোকটাও মরবে। নাও, এখন যাও ওদিকে।
