আমি ওকেও টুপি পরিয়ে নিয়ে যাব আমার সাথে। এক সাথে কাজ করলে অনেক সুবিধা আছে এবং কাজটাও খুব দ্রুত হয়ে যায়। আর এটাই আমার চালাকি। আশা করছি এটার ব্যাপারে ও নিশ্চয় টোপ গিলবে। সীমান্ত পেরিয়ে এলেই ওকে আমি সঙ্গে করে নিয়ে আসতে পারব।
তোমার প্ল্যান খুবই প্যাচালো। দেখ কি করতে পার। চীফ অফ স্টাফকে বল আমার এতে মত আছে। ব্লোফেন্ডের খোঁজ পেয়ে গেছি। আর এই খবরটা মনে হয় প্রধানমন্ত্রীকে জানানো প্রয়োজন। ঠিক আছে 007, তুমি এখন তোমার কাজে যেতে পার।
শুভরাত্রি, ধন্যবাদ।
বন্ড তখনও বাইরে চলে যায়নি, দরজায় সবে হাতটা রেখেছে, সবুজ টেলিফোনে M কথা বলে উঠলেন। দয়া করে প্রধানমন্ত্রীর সাথে লাইন যোগ করে দিতে হবে, M কথা বলছি।
বন্ড এবার ঘর থেকে বেরিয়ে গেল, সে দরজাটা শব্দ না করে বন্ধ করে দিল। নভেম্বর পার হয়ে ডিসেম্বর মাস এসে, গেল। বন্ড খুব জোরদার পড়াশুনা শুরু করে দিয়েছে। যেন স্কুলের ফাইন্যাল পরীক্ষার আর দেরি নেই। সে পড়ে যাচ্ছে। মধ্যযুগীয় ফরাসী ও ইংরেজ ইতিহাস। তখনকার দিনের গল্প ও পৌরাণিক কাহিনী। এর মধ্যে তার সেক্রেটারী একদিন তাকে স্যার হিলারী নামে ডাকাতে বন্ড একেবারে সেই মেয়েটির দিকে তেড়ে এল।
সেবল ব্যসিলিক্স-এর সাথে ব্লোফেল্ড উকিলের চিঠি পত্রের দেওয়া নেওয়া চলেছে ঠিক শামুকের গতিতে। ওদের আর প্রশ্নের শেষ নেই। আর পাল্টা প্রশ্ন ও ব্যসিলিস্ক সমানে চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যাসিলিক্স জানাল সে প্রত্যক্ষ যোগাযোগের জন্য কলেজ অফ আরমস্-এর দূত স্যার হিলারী ব্লে শীঘ্র চলে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ডে।
সুইজারল্যান্ড থেকে স্যার হিলারীর একটা ফটো চেয়ে পাঠিয়েছে। অনেক চেষ্টার চরিত্র করে বন্ডের ফটো পাঠানো হয়ে গেছে। হিলারী ব্লে সাজতে গেলে ছোটবেলা থেকে তার সব নাড়ীর খবর জানা দরকার। বন্ডের এ সব কিছুই মুখস্থ হয়ে গেছে। বলা তো যায় না হঠাৎ ব্লোফেল্ড কি প্রশ্ন করে বসতে পারে। আর যদি কোন প্রসঙ্গ এসে যায় হঠাৎ এই আলোচনায়।
যাচাই করার জন্য ব্যসিলিস্ক আরো টাকা চেয়ে পাঠাল, রিসার্চ-এর খরচ হিসাবে। আর সাথে সাথে এক হাজার পাউন্ডের একটা চেক এসে গেল। ব্যসিলিস্ক বন্ডকে ফোন করল, এবার ওকে গেঁথে ফেলেছি। তার পর দিনই জুরিখ থেকে একটা পত্র এল তাদের মক্কেল স্যার হিলারীর সঙ্গে দেখা করতে রাজি আছে। ১০৫ নম্বর ফ্লাইটের প্লেন জুরিখ সেন্ট্রাল এয়ার পোর্টে এসে হাজির হবে ঠিক একটায়। স্যার হিলারী এই প্লেনে এলে কি তার সুবিধা হবে? অবশ্যই যেন আগে খবর দেওয়া হয়।
বন্ডের কথা অনুযায়ী ব্যসিলিস্ক ফেরত ডাকে ওদের জানিয়ে দিল, ২১ শে ডিসেম্বর স্যার হিলারীর অসুবিধা আছে। ঐ দিন স্যার হিলারীর সাথে ক্যানাডিয়ান হাই-কমিশনারের সাথে দেখা করার দিন ঠিক হয়ে আছে। হাডস বে। কোম্পানীর বিষয়ে খুব দরকারী আলোচনার ব্যাপার। ২২ তারিখ অবশ্য স্যার হিলারীও যেতে পারবেন।
শেষের কয়েকটা দিন হেডকোয়ার্টার্সে চীফ স্টাফের সাথে পরিচয়-এর সাথে গল্প-কথায় কেটে গেল। বন্ড ব্লোফেন্ডের কাছে যাওয়া হবে পরিষ্কার হয়ে। তার কাছে কোন অস্ত্র রাখা যাবে না, কোন সুকানো যন্ত্রপাতি। বন্ডের সঙ্গে কোন প্রহরী বা সাথী থাকবে না। এমনকি দূরেও না। এবার সেল ব্যাসিলিস্কের সাথেই তার চিঠিপত্র দেওয়া নেওয়া থাকবে। অবশ্য সবই নির্ভর করছে বন্ড ব্লোফেন্ডের কতখানি কাছাকাছি আসতে পারবে তার উপর। আর এটাই হল আগের কথা। ব্লোফেল্ড সম্পর্কে যা কিছু তথ্য পাওয়ার কথা সেদিকেই নজর থাকবে বন্ডের। ওর কার্যকলাপ, কাদের সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক, ওকে সুইজারল্যান্ড থেকে হরণ করা কতদূর সম্ভব।
এরপর বন্ডের নিজস্ব নিরাপত্তার কথা আলোচনা করা হল। ব্লোফেন্ড যে একজন দুর্ধর্ষ দম্রাট এবং নিতান্তই বিপজ্জনক। এটা অবশ্য কেউই হেডকোয়ার্টার্সে অমান্য করতে পারল না। তার ক্ষমতা ও নির্মমতার কথা কারোই। কোন সন্দেহের ব্যাপারই নেই। যদি কোন ভাবে বন্ডের আসল পরিচয় জানতে পারে তবে স্যার হিলারী অংকের ওখানেই সমাপ্ত হয়ে যাবে। দ্বিতীয় কথা হল স্যার হিলারীর থাকাটা যে কোনভাবেই হোক ব্লোফেল্ড-এর প্রয়োজনীয় করে তুলতে হবে।
তার নিজের অফিসে বন্ড ফিরে এল। সে তার সমস্ত বইপত্র গুছিয়ে নিল। সোনার ঘড়ি আর ব্লে শীলমোহর মারা চেনের কথাও ভুলে গেল না। তার সেক্রেটারী তাকে বলল, অনেক কিছুই হল কিন্তু তার সাথে একটা রিভলবার অবধি থাকবে না, এটা আমার মনোপূত হচ্ছে না। স্তূপীকৃত বইয়ের দিকে আঙ্গুল তুলে বলল, তবে এই বইয়ের কোন অর্থ নেই। তুমি যাই বল এ তোমাকে মানাচ্ছে না। কিন্তু দয়া করে খুব সাবধানে থাকবে, কি থাকবে তো?
হ্যাঁ, হ্যাঁ, একটা রেডিও ট্যাক্সি ডেকে দাও। ইউনিভার্সাল এক্সপোর্ট-এর সামনে থাকবে। বই, খাতাপত্র ব্যাগে ঢুকিয়ে দাও।
দিচ্ছি! গুড লোক বন্ড, আর হ্যাঁপী ক্রীসমাস। জেমস বন্ড যখন বেরিয়ে গেল তারপর আস্তে করে দরজাটা বন্ধ করে দিল।
সুইজারল্যান্ডে আবার ট্রেসীর সাথে দেখা হতে পারে। বন্ড ভাবল, সেখানে একটি নামী ক্লিনিক আছে। সেখান থেকেই ট্রেসী তাকে তিনটি পোস্টকার্ড দিয়েছে। বন্ড সুন্দর করে পত্র লিখেছে ট্রেসীকে খুব স্নেহের সাথে। এই চিঠি পোস্ট করার ব্যবস্থা করে দিল আমেরিকা থেকে। সে লিখেছে খুব তাড়াতাড়ি দেশে ফিরে আসবে। তখন ট্রেসির সাথে দেখা হবে। সত্যিই কি সে দেখা করবে? আর দেখা করেই বা কি হবে? হঠাৎ সে খুব একা মনে করল নিজেকে। মনে হচ্ছে সব দায়িত্ব তার একা বহন করতে হবে। সে তার সিগারেটটা নিভিয়ে দিল। সোজা লিফট থেকে নেমে সে ইউনিভার্সাল এক্সপোর্টের দরজার বাইরে এসে দাঁড়াল। ট্যাক্সি তার জন্য অপেক্ষা করেছিল। বন্ড এবার উঠে গেল। ট্যাক্সি দৌড়াতে শুরু করল। সে তার ফ্ল্যাটে চলে যাবে। একটি সুটকেসে তার দরকারী জিনিসপত্র গুছিয়ে নেবে। তারপর সে ভদকা খাবে দুই গ্লাস, আর টনিক সাথে। খেতে যাবে, মে-র বিরাট স্পেশাল ডিশ। পরে নিল আরো দু টো ভদকা ও টনিক। একটু নেশা অবস্থায় আধ গ্রেন সেকোনাল খেয়ে বিছানায় দুম করে পড়ে থাকবে।
