রিপোর্ট পাঠালাম রেজিস্টারী অফিসের বই থেকে সেই পাতাটি কাটা আছে। ঠিক যে পাতার মধ্যে ব্রোফেন্ডের নাম ছিল। অগসবার্গ রেজিস্টারী অফিসেও আমি খোঁজ করেছি। এখানে ব্লোফেন্ডের একটু খোঁজ পাওয়া গেছে। এখানে অনেক ব্লোফেল্ড আছে। জার্মানীতে এটা খুবই সাধারণ নাম হয়। কিন্তু ক্যালভাডোস-এর ব্লিউভিলিদের সাথে এদের কোন যোগসাজস পাওয়া যায়নি। এই হচ্ছে আসল ব্যাপার। সুইস উকিলদের জানিয়েছি আমরা এখনো খোঁজ নিয়ে চলেছি।
তার মানে হল এখনো সমানে খেলা চলে যাচ্ছে। বন্ড একটু মাথায় হাত দিয়ে চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল। হ্যাঁ, অবশ্যই খেলা চলতে থাকবে। ব্রোফেন্ডের ঠিকানা কি তুমি পেয়ে গেছ।
সেবল মাথা নেড়ে সায় দিল যে ঠিকানা পেয়ে গেছে।
তোমরা কি কোন বাহানা দেখিয়ে একজন দূতকে পাঠাতে পারবে, এক রকম ধরে নাও আমাকে? বন্ড একটু হাসল, তোমাদের কলেজ থেকে পাঠাচ্ছ। ব্লোফেন্ডের সাথে একটা ইনটারভিউয়ের জন্য। ধরা যাক, কোন একটি জটিল প্রশ্ন। চিঠির দ্বারা যার মীমাংসা হচ্ছে না তখন মুখোমুখি আলোচনা করতে পারলে যার হয়ত কোন ফল হবে। যা পারা যাবে একটা ব্যবস্থা করতে পারবে?
না পারার তো কিছু নেই, তবে আমাকে মনে হয় একবার গার্টার কিং অফ আরমস্-এর কাছ থেকে আদেশ নিতে হবে, ইনি হচ্ছেন ডিউক অফ নরফোক। কারণ আগে আমরা কখনো এমন বিপদের প্রস্তাব পাইনি। আমরা এইসব ঘটনায় খুবই সাবধান, বোঝা হল তো?
হ্যাঁ, সেটাই তো ঠিক। আমার স্থির বিশ্বাস কোন দিক থেকে কোন আপত্তি আসবে না। তবে কথা হল ব্লোফেন্ড যদি আমার সাথে দেখা করতে রাজি হন, তবে কেমনভাবে যে সে সামলানো হবে তা বোঝা যাচ্ছে না, আর ঐ ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই। ব্রোফেন্ডের কাছে আমার গল্পটার কি হবে? আর আমার ঠিক পরিচয়ই বা কি হতে পারে।
অতি আনন্দের সাথে ব্যসিলি বলল, হ্যাঁ, সে সব ঠিক হয়ে যাবে। ব্লিউভিলিদের সম্পর্কে যা কিছু জানবার সবই আমি তোমাকে শিখিয়ে দেব। ওর বিশ্বাস গ্রহণ করার মুস্কিলই তোমার হবে না।
সেটাই তো মনে হচ্ছে। কিন্তু ব্লোফেল্ড লোকটি খুবই চালাক। ও তো আমার সবকিছুই জানার ইচ্ছে প্রকাশ করবে। এবার কিন্তু আমাকে বলা দরকার আমার মত অনেক চালাক আমার আগে দেখা হয়ে গেছে জীবনের দিক থেকে। কিন্তু উপাধি নেবার বেলায় সবাই তো সমান হয়ে যায়। সবাই খোসামোদ করে বেড়ায়। আর মেয়েরা যখন লেডী খেতাব। নেওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে, তখন তারা নিজেদের কথাই বলতে শুরু করে দেয়। শালীনতার কোন নামই থাকে না। হঠাৎ যেন শান্ত স্মিথ, ব্রাউন-জোনরা তাদের সাধারণ জীবন থেকে উপরে ওঠবার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। ব্লোফেন্ডের জন্য ভাবনা করার প্রয়োজন নেই। সে এর মধ্যে যেন টোপটা খেয়ে ফেলেছে। ও একটা ভীষণ গুণ্ডাও হতে পারে। দেখে মনে হচ্ছে খুব নিষ্ঠুর ও নির্মম। কিন্তু যদি সে কমাট দ্য ব্লিউভিলি নাম-এ চলতে ইচ্ছে করে, তাহলে বোঝা যাবে যে ভোল পাল্টে একজন উচ্চশ্রেণীর লোক হতে চায়। কিন্তু তার উপরেও একটা কথা আছে যে সে একেবারে কাউন্ট হতে চায়। লোকটি কিন্তু বড় লোক, জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে–সে যে ভাবেই হোক না কেন। যতটা মনে হয় ৫৪ বছর বয়স হবে তার। এখন তার সখ হয়েছে নিজেকে বদলাবার। আমি খুব জোর দিয়ে বলতে পারি সে তোমার সাথে দেখা করবে সেই ইচ্ছে নিয়েই, যৌনরোগে আক্রান্ত হলে রোগী যেমন ডাক্তারের সাথে দেখা করতে যায়।
সেবল ব্যসিলিস্ক-এর নজর হয়ে উঠে একান্তভাবে সে একটা চেয়ারে ঠেস দিয়ে বসে পড়ল। একটু পরে একটা সিগারেট নিয়ে ধরাল। টার্কিশ তামাকের গন্ধ বন্ডের নাকে এসে লাগল। এটাই হল গিয়ে ব্যাপার স্যাপার। লোকটি কিন্তু ভাল করেই জানে সে অসৎ লোক। সমাজের নোংরা জীব। আর কার্যক্ষেত্রেও তাই। এখন সে একেবারে নতুন ভাবে বাঁচতে চায়। সুতরাং চিন্তার কোন কিছুই নেই। ঠিকই ও ফাঁদে পা দেবে।
.
শৌখিন ছদ্মবেশ
তোমাকে কি আরো সাপ, ব্যাঙ সাজতে হবে, বল তো?
M-তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। সাধারণতঃ M-এ ভাবে কথা বলেন না। একমাত্র বোকার মত কথা বলতে দেখলেই খুব রেগে যান M। M-এর মতে বন্ড যা করছে তা বোকামী ছাড়া আর কিছু নয়। সেই অদ্ভুত দপ্তরের বাইরে চলে এসে বন্ডের মনে কেমন যেন সন্দেহ হল। হয়ত M যা ভাবছেন তাই হয়ত সত্যি।
আমি কিন্তু হব কলেজ অফ আরমস্-এর দূত। বউ বলল, ব্যসিলিস্ক বলে দিয়েছে যে কোন উপায়ে হোক একটা উপাধি নিতেই হবে। এই নিয়ে অনেক আগে সব রকম সমালোচনাও হয়ে গেছে। আমার মনে হয় বাগে ওকে ঠিকই পেয়ে যাবে।
আমার কিন্তু মনে হয় সব ব্যাপারটাই একেবারে ফালতু। বললেন, M, তবে তুমি যখন বলছ, চেষ্টা করে দেখতে পার একবারের জন্য। কি উপাধিটা তুমি নেবে শুনি? যাই বল হাসবার মতই ব্যাপার।
যদি সব ব্যাপারেই লজ্জা থাকত তাহলে বন্ড লাল হয়ে যেত। স্যার হিলারী ব্লে নামে একজন লোক আছেন। ও সে ব্যসিলিঙ্ক-এর বন্ধু। আমারই সমবয়স্ক, দেখতেও মোটামুটি আমারই মতন। ন্যান্ডির কোন জায়গায় এর পূর্বপুরুষেরা থাকেন। শোনা যায় যে এরা উইলিয়াম দি কঙ্কারারের বংশধর। সেবল ব্যসিলিক্স বলছিল ওর কাছে কথা বলে একটা ব্যবস্থা করে নেওয়া দরকার। হাইল্যান্ড-এর কোন এক নির্জন উপত্যকায় বাস করেন স্যার হিলারী। আকাশে পাখি দেখে ও শুধু খালি পায়ে নানা পাহাড়ে ঘুরে বেড়াতে থাকেন। তাই কারুর সাথে দেখা করেন না। আর ওখানে যাবেই বা কে দেখা করার জন্য। সুইজারল্যান্ডে-এর কোন লোকই তার নাম জানে না। আর সেই কারণে আমিই স্যার হিলারী হব, আর এতেই কাজ হবে বলে মনে হয়। স্যার হিলারী ব্লে? M-এর রঙ্গটা গোপন রাখার চেষ্টা করলেন। বেশ হবে, তারপর আল্পস পর্বতে ঘুরে বেড়াতে হবে, পতাকা ওড়াবে। কিন্তু বন্ড এতেও দমল না। পাসপোর্ট কন্ট্রোল থেকে একটি ভাল পাসপোর্টের ব্যবস্থা করতে হবে প্রথমেই। তারপর হিলারীর সব ইতিহাস জেনে নিয়ে যেতে হবে সুইজারল্যান্ডে। কথাবার্তা বলার পর সেখানে ব্লোফেন্ড যদি টোপ খায়। বই আর কাগজপত্র নিয়ে সুইজারল্যান্ডের বাইরে চলে আসব বংশ খোঁজার ব্যাপার। তারপর কি হতে পারে।
