ডেরেক হোটেল দ্যা প্যারিস নামে খুব সুন্দর একটা কেতাদুরস্ত জায়গায় নিয়ে গেল। সেখানে মৈকা স্যামন মাছ, মুরগির রোস্ট আর আইসক্রিম নিলাম। এর কাছে নৌকা। আমরা বিদ্যুৎচালিত একটা শালতি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়লাম। ডেরেক একটা পথচলতি গ্রামোফোন এনেছিল। শালতিটায় প্রথমে বসেছিলাম, পরে আমরা পাশাপাশি দু জনে শুয়ে পড়লাম। খুব সুন্দর ছিল সেই অপরাহ্ন বেলা। আমরা চুমু খেলাম। কিন্তু বেশি এগোলাম না। এটা ভাল লাগল ডেরেক আমাকে সহজলভ্য ভাবেনি। শালতিতে করে স্রোতের পিছনে পিছনে চলতে লাগলাম। কিছু পরে ডাঙ্গায় উঠে দ্যা থাচেস হাউস নামে একটি পান্থশালায় কফি আর ডিমের ঝুরিভাজা খেলাম। খাবার পর ডেরেক বলল। এখন সিনেমায় গেলে বেশ হয়।
দ্য রয়্যালটি সিনেমা হলে আমরা ঢুকলাম। বারো শিলিং দিয়ে ওকে বক্স টিকিট কাটতে দেখলাম। প্রোজেকশন রুমের দু পাশে দুটো বক্স। এক একটা বক্সে ছ ফুট পরিমাণ জায়গায়। পাশাপাশি দুটো চেয়ার। ওর চেয়ারটা আমার চেয়ারের কাছে নিয়ে আসল, কাছে বসে চুমু খেতে খেতে সারা শরীরে ওর হাতের ছোঁয়া ছড়িয়ে দিতে লাগল।
প্রথমে খুব খারাপ মনে হল ও কি ওর সব মেয়ে বন্ধুদের এখানে নিয়ে আসে, তারপর যাকে বলে দ্রবীভূত হওয়া তাই হলাম।
ওর হাত তখন আমাকে আবিষ্কার করে চলছিল। ওর স্পর্শ ছিল মৃদু এবং ওয়াকিবহাল। কিন্তু নেহাত্র একটি অপরিচিত জায়গা আমার ভীষণ লজ্জা করছিল। আমি ওর কাঁধে মুখ লুকালাম। নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরলাম মধুর একটা শিরশিরানীতে, ব্যস ওর কাজ শেষ। শরীরের সমস্ত কোষগুলি যেন উত্তাপে ভরে গিয়েছিল। চোখের পানিতে ওর কলার ভিজে গেল। আমাকে মিষ্টি একটা চুমু দিয়ে বলল ও আমাকে খুব বেশি ভালবাসে। সিনেমার বিরতির সময় ও একটা আইসক্রিম নিয়ে আসে আর আমি ভাবি যে কৌমার্য আজ হারিয়েছি তাতে সে আর কখনো সম্মান করবে না। যাক পুরুষদের কথায় আর ভুলব না। ফেরার ট্রেনের জন্য ও আমাকে স্টেশনে পৌঁছে দিল। ঠিক হল পরের শনিবার ঠিক সময়ে আমরা দেখা করব। এরই মধ্যে এসে গেল সেপ্টেম্বরের শেষ শনিবার।
সোমবার সুমান ফিরে আসবে আর আমাদের সম্পর্কের একটা নতুন অধ্যায় শুরু করবে। আমার একটা চাকরির কথা হয়েছে। ডেরেক অক্সফোর্ডে পড়তে যাবে! আমরা ঠিক করেছিলাম ব্যাপারটা যেমন চলছে তেমনই চলবে। হয়। আমি অক্সফোর্ডে যাব নতুবা ডেরেক লন্ডনে আসবে।
ডেরেক সারা সপ্তাহের বৈচিত্র্যহীন দিনগুলির মধ্যে শুধু শনিবারের জন্য অপেক্ষায় বসে থাকে। সেদিন ডেরেক একটু বেশি করেই অনুরাগরঞ্জিতভাবে এসেছিল। ও আমাকে ব্রিজ হোটেলে নিয়ে গেল। সেখানে তিন রাউন্ড জিন টনিক খেলাম, এরপর ডিনারের সঙ্গে শ্যাম্পেন খেলাম। তারপর সিনেমা হলটায় গিয়ে পৌঁছালাম। আমাদের দু জনেরই একটু ধরেছে। এটা ভাবলাম যে আগামীকাল থেকে আবার ছকবাধা জীবন কাটাবে হবে। কিন্তু নিয়মমত ও আমাকে বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করল না, আমি ওর হাতটা ধরলাম, জিজ্ঞাসা করলাম, কি হয়েছে, কি ব্যাপার।
পর মুহূর্তে জেদী গলায় ও বলল, আমি তোমার সঙ্গে শুতে চাই। শোয়া বলতে যে অর্থ বোঝায় সেই অর্থের কথাটা বলেছি।
কণ্ঠস্বরের রুক্ষতায় চমকে উঠলাম। এই ব্যাপারে আগে কথাবার্তা হয়েছিল। প্রতিবারেই এটা আমরা মেনে নিয়েছিলাম যে, এই ব্যাপারটা পরবর্তী সময়ে আসবে। কিছুটা হতভম্ব হয়ে আমি আগেকার যুক্তিগুলি ব্যবহার করলাম। আমাদের শেষ সন্ধ্যাটিকে কেন সে নষ্ট করে দেবে? সে পাল্টা তর্ক করল। আমি নাকি পোক্ত কুমারী এটা ওর পক্ষে খারাপ। প্রেমিক প্রেমিকা হয়ে কেন আমরা প্রেমিক প্রেমিকার মত আচরণ করব না। আমি বাচ্চাকাচ্চা হবার ভয়ের কথাটা বলাতে সে নির্ভয়ে বলল, সে ব্যাপারে সোজা পথ আছে। এখানকার অসুবিধার কথা বলে আমি আটকাতে চেষ্টা করলাম। এখানে কোন মতেই কাজটা করা সম্ভব নয়।
সে বলল এখানেই সম্ভব, এখানেই বেশ জায়গা রয়েছে।
অক্সফোর্ডে যাবার আগেই কাজটা সমাধা করে যেতে চায় ও। এটা এক ধরনের বিয়ের মত।
কথাগুলি ভাবতে ভাবতে সমস্ত শরীর থরথর করে কাঁপতে শুরু করল। ভালবাসার ওপরে এটা হবে সীলমোহরের মত। আমার ভয় করছিল।
ইতস্তত করে বললাম, সে সব জিনিস সঙ্গে আছে নাকি? সে বলল না। তবে এখানে একটা ওষুধের দোকান সারা। রাত খোলা থাকে, সেখানে থেকে কিনে আনবে। আমাকে চুমু খেয়ে আগ্রহের সঙ্গে উঠে বক্স থেকে বেরিয়ে গেল।
অর্থহীনভাবে পর্দার দিকে তাকিয়ে রইলাম। আর ফেরানোর উপায় নেই। সে এই এল বলে। এই নোংরা সিনেমার নোংরা বক্সে সেটা হবে সাংঘাতিক কেলেঙ্কারী। পিছিয়ে যাওয়ার জন্য হয়ত পরে আমাকে ঘেন্না করবে ও আঘাত পাবে। একটা ঝোঁক এল এখান থেকে উঠে পালিয়ে গিয়ে স্টেশন থেকে পরের ট্রেন ধরে লন্ডনে ফিরে যাবার জন্য। কিন্তু তার ফলে ও দারুণ খেপে যাবে। ওর অহমিকা ক্ষুণ্ণ হবে। খেলার নিয়মভঙ্গ হবে। দু জনের রঙ্গ যা আমাদের বন্ধুত্বের ভিত্তি, তার ছন্দ তরঙ্গ বিধ্বস্ত হয়ে পড়বে।
ওকে এ থেকে বঞ্চিত রাখাটা কি সঙ্গত? হয়ত পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যাপারটা না পাওয়ার, ওর পক্ষে সত্যি খারাপ হচ্ছে। সম্ভবত ব্যাপারটা চুকিয়ে ফেলা ভাল, ওকে রাগিয়ে না তোলার জন্য আমি ভাবতে লাগলাম।
