.
ফাঁদের নাম– মানবিক দুর্বলতা
স্যাঁতসেঁতে করিডোর দিয়ে হাঁটার সময় বুকের ভিতর হৃদপিণ্ডের গতি বন্ধ হয়ে আসতে চাইছে। এবারে মনে হচ্ছে। ব্লোফেন্ডের খোঁজ পাওয়া গেলেও যেতে পারে। কে জানে ব্যাসিলি আবার কেমন ধরনের লোক হতে পারে।
ঘরটা পরিষ্কার, সুন্দর আসবাবে ভর্তি, দেওয়ালে ভাল কয়েকখানি ছবি টাঙানো। আর অত্যন্ত সাজানো সব বই পত্র। ঘরের হাওয়াতে অস্পষ্ট টার্কিশ তামাকের গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। একটি তরুণ বন্ডের থেকে অনেক কম বয়সের, চেয়ার থেকে এগিয়ে এল তার দিকে।
আপনি কমান্ডার বউ?
ছোট্ট করে করমর্দন করে সে বলল, আমি আশা করেছিলাম তুমি আসবেই। গ্রীফনের খপ্পরে কি ভাবে পড়লে? মনে হল আগ্রহটা ভদ্রলোকের একটু বেশিই। অবশ্য এখানে আমাদের সবার সম্বন্ধে একই কথা চলে। কিন্তু লোকটি ভারী চমৎকার। এই কাজে প্রায় নিজেকে সমর্পণ করে দিয়েছে বলতে পার।
মিঃ গ্রীফন আমার সাথে বন্ড স্ট্রীটের একটা যোগাযোগ বার করবার চেষ্টা করছিলেন। সাধারণ একজন বন্ড হয়েই যে আমি নিতান্ত খুশি, এ কথাটা বোঝাতে আমার বেশ সময় লেগে গেছে।
ব্যাসিলিস্ক এবার হেসে ফেলল, বসল তার চেয়ারে। চেয়ারে একটা ফাইল এনে বন্ডকে বসার জন্য একটা চেয়ার দেখিয়ে দিল। আচ্ছা, এবার কাজের কথায় আসা যাক তাহলে। আমাদের এখানে অনেক ধরনের কাজ করতে হয়। অনার্স লিস্টে যাদের নাম থাকে, তাদের উপাধি দেওয়ার অনুরোধ আসে আমাদের কাছে থেকেই। কোন উপাধিকারী একদিন ছিল কিন্তু আজ আর নেই। তারই সন্ধান করতে হবে আমাদের। তার উপাধির সন্ধানও। আমাদের ফাইলেও অনেক নকল আছে। যারা হঠাৎ পয়সা করে বা রাজনীতি করে রাতারাতি খ্যাতি অর্জন করেছে।
তারা অনেকেই আবদার করে উপাধি পাবার জন্য। তবে সরকারী জরুরী কাজও আমাদের আছে অনেক। হ্যাঁ, এবার বল তোমার কথা শোনা যাক। ব্লোফেন্ড, বন্ড বলল, এমন একটা শয়তান লোক আছে কিনা তা সন্দেহ আছে। এক বছর আগে থান্ডার বলের ব্যাপারটা মনে আছে নিশ্চয়ই, কাগজে যা বেরিয়েছে তা খুবই যৎসামান্য খবর। কিন্তু আমি এটা বলতে পারি ব্লোফেন্ডই ছিল এর পিছনে।
আমার কিন্তু মনে হয়েছে এটাই সেই লোক। বিশেষ করে পররাষ্ট্র দপ্তর আর দেশরক্ষা বিভাগ থেকে কাল যখন বেশ কয়েকটি জরুরী কল পেয়ে গেলাম। এবারে শোন দরকার গত জুন মাসের দশ তারিখে জুরিখ সলিটেয়র-এর কাছ থেকে অতি গোপনীয় একটা চিঠি আমাদের কাছে এসেছে। চিঠিটা পড়তে শুরু করল।
মাননীয় মহাশয়
আর্নস্ট স্তাভ্রো ব্লোফেল্ড আমাদের একজন খুব ধনী সম্ভ্রান্ত মক্কেল। আপাততঃ সে সঁসিয়ে লি কমাট কলজ্যাথার দ্য ব্লিউভিলি নামে পরিচিত আছে। এই নাম নেবার উদ্দেশ্য হল তার বিশ্বাস তিনি উপাধির উপযুক্ত উত্তরাধিকারী। যদিও আমাদের একটি বিশ্বাস এই উপাধিটা লুপ্ত হয়ে গেছে। ফরাসী বিল্পবের সময় তার বাবা মা দেশ ছেড়ে পালিয়ে জার্মানীতে থাকতে শুরু করে দেয় এবং এখানে তারা ব্লোফেন্ড নাম নিয়ে নেয়। ১৮৫০ সালে জার্মানী থেকে তারা আবার পোল্যান্ডে চলে যায়।
বর্তমানে আমাদের এই ঘটনার সত্যতা নির্ণয়ের ভার আমাদের উপরই ছেড়ে দেয়। কেননা তিনি তাদের লুপ্ত উপাধি দ্য ব্লিউভিলি ফিরে পাওয়ার জন্য বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। আপনাদের রিপোর্টপাওয়া গেলে আমরা দলিল তৈরি করে পাঠিয়ে দিতাম প্যারিসের বিচার বিভাগে।
এই অবসরে আমাদের মক্কেল এই মনের ভাব প্রকাশ করেছেন যে নথিপত্র ঠিক না হওয়া পর্যন্ত দ্য ব্লিউভিলি উপাধি ব্যবহার করেছেন।
আমরা জানি যে আপনারই একমাত্র প্রতিষ্ঠান আছেন যার সম্বন্ধে কিছু জানার ব্যাপারে লিপ্ত আছেন ও তার নেবারই যোগ্য। আপনাদের সাথে যোগস্থাপন করার জন্য আমাদের উপদেশ দিয়েছে এবং অনুরোধ করেছে যেন এই বিষয়টা নিতান্তই গোপনীয় বলে মনে করা হয়।
আমার মক্কেলের অর্থের সংগতি প্রশ্নাতীত। অর্থ ব্যয় করা তার কোন সমস্যাই নয়। এই কাজের ভার আপনারা গ্রহণ করবেন জেনে নিয়ে আমরা অগ্রিম টাকা আপনাদের পছন্দ অনুযায়ী ব্যাংকে এক হাজার পাউন্ড স্টার্লিং সম্মতি মাত্রই পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।
শুধু তাড়াতাড়ি উত্তরের অপেক্ষায় আছিঃ
আপনাদের একান্তভাবেই বিশ্বাসী
প্রেডার গামপোন্ড-মুসফার, অ্যাডভোকেটস।
চিঠিটা পড়া বন্ধ করে সেবল ব্যাসিলিস্ক তাকাল। বন্ডের চোখ এখন উত্তেজনায় জ্বলে উঠল। সে একটু হাসল। আমাদের ইচ্ছে মনে করো না তোমাদের থেকে কম নেই। আর এই কাজটা আমার উপরই পড়েছে।
তারপর কি হল? তোমরা কি কোন উত্তর দিয়েছ? কাজটা কি নিয়ে নিয়েছ।
হ্যাঁ, নিয়েছি, আর আমি কথাও দিয়ে দিয়েছি যে কাজটা গোপনেই করব। সরকারী সিক্রেট অ্যাক্ট–এরই কথা বলে ও দেশরক্ষার-মন্ত্রী দপ্তরের নাম নিয়ে তুমি আমার মুখের থেকে গোপন কথা বার করে নিয়েছ, নয় কি?
হ্যাঁ, তা অবশ্য ঠিক, বন্ড খুব জোর দিয়ে বলল। আমি প্রথমেই ওর জন্ম ঠিকুজী চেয়ে নিয়েছি। জবাবে ওরা বলেছে যে জন্ম পত্র হারিয়ে গেছে। ওরা আরো বলেছে এই ব্যাপারে যেন চিন্তা করতে হবে না আমাদের জন্য। কাউন্ট ব্লোফেল্ড-এর জন্ম হয়েছিল জিডাইনিয়ায়, বাবা হলেন পুলিশ, বা গ্রীক। এই যে আমার লেখা আছে ২৮ শে মে, ১৯০৮ সাল।
এর মধ্যে লাইব্রেরী থেকে সামান্য জানতে পেরেছি যে সতের শতাব্দীতে ক্যালভাডোসের ব্লনভিলিসুর মার শহরে ব্লিউভিলি নামে এক পরিবার থাকত। তা আমার ধারণা অনুযায়ী ব্লোফেন্ড নিজে অবশ্য এ খবর জানে, তা না হলে হঠাৎ-এ নামটার উপর বা কেন তার ঝোঁক থাকবে। একবার গরমের ছুটিতে আমি ফ্রান্সে গিয়েছিলাম। ইংল্যান্ডের সাথে ফ্রান্সের সম্পর্ক অনেকদিন থেকেই আছে। প্রচুর মালপত্র সব ঘাঁটাঘাঁটি করে নিলাম। এর মধ্যে আমাদের ওয়ারশ অ্যামবাসাডর-কে লিখেছি একজন উকিল ঠিক করে দিতে জিভাইনিয়ার জন্ম রেজিস্টারী অফিসে যদি কোন কিছু করতে পারা যায়, বা কোন গীর্জায় খোঁজ করতে, কারণ সে যদি বা খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়ে থাকে।
