বড়কর্তা M জরুরী তলব দিলে জেমস্ বন্ড তার অফিসে এসে দেখা করে। কিন্তু বড়কর্তা M তাকে অন্যান্য দিনের মতন সেদিন সামনের চেয়ারে বসতে বলেন না। গম্ভীরভাবে জানালার দিকে তাকিয়ে চিন্তা করতে থাকেন।
কিছুক্ষণ পরে বড়কর্তা M তার রিভলবিং চেয়ারে ঘুরে জেমস্ বন্ডের দিকে ভাল করে দেখে নিয়ে তাঁকে সামনের চেয়ারে বসতে বলেন।
জেমস্ বন্ড চেয়ারে বসার পর বড়কর্তা M তার টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসলে তার কপালের রেখাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং আস্তে আস্তে বন্ডকে বলেন, তিনি যার কথা বলবেন তাঁকে সে চেনে না, সে হল ২৭২। লোকটা একজন ভাল কাজের লোক ছিল। আগের যুদ্ধে সে শত্রুপক্ষের কাছে ধরা পড়েছিল। দীর্ঘ দিন বন্দী থাকার পর বহু কষ্টে বন্দীদের শিবির থেকে পালিয়ে সে ঐ শহরেই লুকিয়ে আছে? এবং আমাদের খবর পাঠিয়েছে আগামী তিনদিনের কোন দিন সন্ধে ছটা-সাতটার মধ্যে সীমানা পেরোবে।
২৭২-এর পিছনে KGB ও পূর্বজার্মানির গুপ্তচরেরা ঘুরছে, তাকে পেলে হত্যা করবে। ২৭২-এর এখন আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন।
২৭২-এর কাছে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমা, রকেট এবং বার্লিনের ভবিষ্যতের পরিকল্পনার খবরও আছে।
এসব খবর ঠিক হলে রাশিয়ার দম্ভ ধূলিসাৎ তো হবেই তার সাথে পশ্চিমী দেশগুলোতে শান্তি ফিরে আসবে।
কিন্তু আমরা যার মারফত খবর পেয়েছি সে ডবল এজেন্ট। যদিও সে আমাদের W.B.-এর কাছে ধরা পড়েছে। তার ব্যবস্থাও হবে। তবে মুস্কিল হল KGB জানতে পেরেছে, ২৭২ কবে কোন পথে পেরোবে।
আমাদের W.B.-র লোকেরা KGB-এর সংবাদ পাঠোদ্ধার করে ২৭২-কে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনের মাঝামাঝি যে রাস্তা গেছে সেই চৌরাস্তায় তাদের নতুন এক্সপোজ অভিযানে তাকে গুলি করা হবে।
২৭২-কে হত্যার জন্য ট্রিগার নামে একজন ঘাতককে ভার দেওয়া হয়েছে। সে এক গোপনীয় স্থান থেকে এক টিপেই তাকে হত্যা করবে।
দেশের সীমানার কাছাকাছি কোন এক গুপ্ত জায়গায় মেশিনগান বসাবে। সেখান থেকে গুলি ছোঁড়া হবে, কারণ বার্লিনে শান্তি বিরাজ করছে। এই শান্তি বজায় রাখার জন্যই এই কৌশল।
বড়কর্তা M চুপ করলে বন্ড প্রশ্ন করে, 00 বিভাগের কাজ কি?
অন্য বিভাগের কাজ ফিরিয়ে দিতে পারেন না বলেই বিরক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাকে এই কাজ করতে হয়।
জেমস বন্ডের প্রশ্নে M-এর স্বচ্ছ নীল চোখের দৃষ্টি বরফের মত শীতল হয়ে জেমস বন্ডের মুখের ওপর স্থির হয়।
M আস্তে আস্তে বলেন ২৭২-এর হত্যার ট্রিগারকে হত্যা করে সীমানা পেরোবার কাটা পরিষ্কার করতে হবে।
বন্ড জানে M-এর বেশি কিছু বলবে না। তাই সে দাঁড়িয়ে চীফ অফস্টাফের কাছ থেকে বাকি খবর সংগ্রহ করবে বলে M-এর ঘর থেকে চলে আসে।
বেরিয়ে এসে চী অফ স্টাফের ঘরে আসে। সেও এ জাতীয় কাজ জেমস বন্ডকে দেওয়ার দুঃখ প্রকাশ করে। কিন্তু বন্ড কে নির্বাচন করার কারণে বলেন যাকে তাকে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানো যাবে না বলে বন্ডকে নির্বাচন করা হয়েছে। জেমস বন্ডের লক্ষ্যভ্রষ্ট না হওয়ার জন্য তাকে বন্দুক চালান অভ্যাস করানো হচ্ছে।
তারপর বন্ডকে প্লেনে বার্লিন গিয়ে ট্যাক্সি ভাড়া করে নির্দিষ্ট হোটেলে উঠতে হবে। হোটেলের চারতলায় সে থাকবে। ট্যানকোয়েরে দুই নম্বর তার জন্য অপেক্ষা করবে। একদিনে যদি কাজ না হয় তাহলে তিন দিন ওখানে বসে থাকতে হবে। রাইফেল দূতাবাসের মাধ্যমে পাঠানো হবে।
ঠিক সময়ে নির্দেশ মত পূর্ব বার্লিনে আসে বন্ড। বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি করে বস্ত্রাস ও উইল হেডস্ট্রাস-এর এক কোণে একটা পুরানো ছয়তলা বাড়ির সামনে নামে। বাড়িটা জঙ্গলে ভর্তি এবং তাতে যুদ্ধের বোমার চিহ্ন স্পষ্ট।
কলিং বেলের ফ্লিক আওয়াজটার সাথে সাথেই দরজা খুলে যায়, জেমস্ এন্ড ঢুকে গেলে দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
বাড়ির ভেতরকার গলি পার হয়ে সেখানে সেকেলে লিফটের কাছে আসে এবং চড়ে চারতলায় যায়। সেখানে সিক্রেট সার্ভিসের W.B.-র একজন দুনম্বর কর্তা তাকে অভ্যর্থনা জানায়।
W.B.-র দু নম্বর লোকটিকে বন্ডের একদম ভাল লাগে না, কারণ মাঝবয়সী ঢিলে ঢালা পোষাক পরা লোকেরা সাধারণত উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়। এদের সাথে প্রাণ খুলে মেশা যায় না।
ক্যাপ্টেন পল সেন্ডারকে নির্বাচিত করা হয় বন্ডকে সাহায্য করার জন্য। কিন্তু পল সেন্ডার এই কাজে খুশি নন। তবু কর্তব্য স্বরূপ বন্ডকে তার ফ্লাটে নিয়ে যায় এবং কি কি করতে হবে পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দেয়।
ক্যাপ্টেন পল সেন্ডার ঘরের একমাত্র খাটটাকে রাস্তার ধারের জানালার কাছে টেনে নেয়। খাটের ওপর তিন থাক পুরু বিছানা। পল সেভার বন্ডকে প্রশ্ন করে, এখানে আপনাকে কি করতে হবে তা এখন বুঝে নিতে হবে।
পথকষ্টে জেমস বন্ড ভীষণ ক্লান্ত ছিল। তবুও কর্তব্যের খাতিরে সম্মতি জানায়।
ক্যাপ্টেন পল জানালার পর্দা না তুলেই বলেন শত্রুপক্ষের লোকেরা যদি ২৭২-কে রক্ষা করছে জানতে পারে তবে তাদের পরিকল্পনা নষ্ট করে দেবে। পল সেন্ডার ফ্লাটের আলো নিভিয়ে দিয়ে খাটের উপর উবু হয়ে শুয়ে জানালার পর্দা দিয়ে সাবধানে মাথাটা জানালার রডের কাছে নেয়, এবং ফিসফিস করে বন্ডকে বলে রাস্তার ওপারের জানালা দিকে তাকান। ওখানে কোন জানালারই পাল্লা নেই। জানালায় যে কাঁচের পাল্লা দেওয়া আছে, সেগুলো প্রয়োজনে ওপর নিচ করা যায়। বন্ড সামনের বাড়ির পাশে ঝোঁপ ঝাড়ের ওপর দিয়ে শ দেড়েক গজ দূরে দেখল পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির সীমানা।
