কারমাঙ্গা নানা রকম আলোচনার পর হোটেল সম্বন্ধে বিরাট ফিরিস্তি দিতে শুরু করলেন। বন্ড শুনতে উৎসাহ বোধ। করছিল না। ফেলিক্স লিটার এর সমস্তটাই রেকর্ড করছে। বন্ডকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে ও। ছিমছাম চেহারা ম্যানেজারটি আসলে সি আই এর লোক, নাম নিক নিকলসন। তার কাজ হেনড্রিকসের ওপর নজর রাখা। এরা প্রত্যেকেই নামজাদা গুণ্ডা। এই প্রথম কেজিবি আর মাফিয়াকে এক সাথে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। যেটা খুব বিপজ্জনক। যে করেই হোক এ কাজ বন্ধ করতে হবে। দরকার হলে এজন্য খুনও করা যেতে পারে। কনফারেন্সের ঘরে স্কারামাঙ্গার টেপ রেকর্ডারের তার খুঁজে বার করে তার থেকে একটা লাইন ট্যাপ করে নিকলসন নিজের টেপ। রেকর্ডারে লাগিয়ে দিয়েছিল, সে একজন ইলেকট্রনিকস বিশেষজ্ঞ। সুতরাং বন্ড এক প্রকার নিশ্চিন্ত। বন্ড এখানে কি সূত্রে এসেছে জানতে পেরে লিটার কম অবাক হয়নি। ওরা ঠিক করেছে তিনজন তিন জনের কাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থেকে নিজেদের কাজ করে যাবে। তবে হঠাৎ প্রয়োজন হলে দেখা করবার জন্য এবং চিঠিপত্র চালাচালি করবার জন্য তারা একটা অর্ধেক তৈরি বাথরুম-কে ডাকঘর হিসাবে ঠিক করে নিল।
স্কারামাঙ্গা তার বক্তব্য প্রায় শেষ করে এনেছিল। তাহলে মোদ্দা কথা হল এই আমাদের এক কোটি টাকা দরকার। আমি বলি একটা হ্যান্ডনোট দিয়ে এই টাকাটা তোলা হোক। ধার হিসাবে এটা আপনারা দিচ্ছেন। দশ বছরে শতকরা দশ টাকা সুদে।
রটকফ চটেমটে বলে উঠল, প্রাণ থাকতে নয়। এক বছর আগে আমি আর আমার বন্ধুরা যে মর্টগেজ দিলাম সাত পার্সেন্টে–তার কি হল? ভেবেছ কি?
বিষাক্ত গলায় কারামাঙ্গা বললেন, রুবি তুমি ভুল করছ। আমরা এই দল গঠন করার সময় শপথ নিয়েছিলাম কেউ কারো বিরুদ্ধে যাব না। তুমি যা বলছ, ভেবে বলছ?
একশ বার ভেবে বলছি।
তারপর আর্তনাদ আর শব্দ দুটো একসাথে। একটা চেয়ার আছড়ে পড়ল। গ্যাংগেরেলা স্থির গলায় বলল, ভালই হয়েছে রুবির ভেগাসের বন্ধুরা ঝামেলা ভালবাসে না।
স্কারামাঙ্গা নিশ্চিন্তভাবে বললেন, কোন চিন্তা নেই। আমরা রুবির সম্বন্ধে কিছুই জানি না। নদীতে অনেক কুমির আছে, তারাই ওকে যেখানে পৌঁছবার পৌঁছে দেবে।
হাল গারফিংকেল ভিতু ভিতু গলায় বলল, এক মিনিট। ঐ যে ইংরেজ লোকটা বাইরে বসে আছে ও তো শব্দ শুনে ফেলেছে। স্কারামাঙ্গা জানালেন, ওসব ছোটখাটো জিনিস নিয়ে তোমাকে মাথা ঘামাতে হবে না। এখানে যতজনকে দেখছ হোটেলে সবই অল্প কদিনের মেয়াদে আনা। শুধু রুবিকে দিয়ে কুমিরের পেট ভরবে না আরো কিছু চাই। তাছাড়া ইংরেজদের আমি দু চোখে দেখতে পারি না।
চাবি খোলার শব্দ। স্কারামাঙ্গা দরজা থেকে বন্ডের দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, অনেক তো শ্যাম্পেন খাওয়া হল। এবার ম্যানেজারকে গিয়ে বল মিঃ রুবি রটকফ আজ রাত্রেই চলে যাচ্ছেন। বাকি সব আমি করছি। আমি ঘরটা বন্ধ রাখতে চাই কেউ যেন না যায়। মিটিং এর সময় একটা ফিউজ উড়ে গেছে। তারপর ড্রিঙ্ক ও ডিনারের ব্যবস্থা তারপর নিচের মেয়েরা আসবে। মাথায় ঢুকছে তো?
বন্ড মাথা নাড়ল। একেবারে পানির মত পরিষ্কার।
.
কেমন ধরনের নাচ?
পিছনের অফিসে ওদের তিনজনের বৈঠক বসেছিল। নিকনিসলসন আর ফেলিক্স লিটার যা টেপ করেছিল সেটা কারামাঙ্গাকে ফাঁসিতে ঝোলাবার পক্ষে যথেষ্ট। তাছাড়া বন্ড সাক্ষী তো আছেই।
বন্ড শুয়ে রইল আটটা পর্যন্ত। এবার ডিনারের সময়। কারামাঙ্গা আর হেনড্রিক্স ছাড়া অন্যেরা বেশ নেশা করল। কিন্তু বন্ডকে কেউ বিশেষ আলোচনার মধ্যে টানতে চাইছিল না। ঘরটিকে আসন্ন নাচের উপযোগী করে সাজিয়ে ফেলা হল, রাশি রাশি টবের গাছ, পর্বতপ্রমাণ কমলালেবু নারকেল আর কলার ঝাড় দিয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে সোনালি লাল ঘাগরা পরা মেয়েরা এসে হাজির। ব্যান্ড বাজতে লাগল। বাজনা থামতে একটি প্রচণ্ড সাজগোজ করা মেয়ে গান গাইতে লাগল। মেয়েটির মাথায় নকল আনারস টুপির মত বসানো। বন্ড স্কারামাঙ্গার কাছে গিয়ে বলল, সে শুতে যাচ্ছে।
টিকটিকির মত চোখে তাকাল স্কারামাঙ্গা, বল্লেই হল শুতে যাচ্ছি। যদি তোমার মনে হয় জমছে না, তাহলে জমাও দেখি। এই জন্যই তোমাকে টাকা দিয়ে রাখা হয়েছে। অনেকদিন এভাবে বন্ডকে কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি। সবাই একদৃষ্টে তার দিকে তাকিয়ে। বন্ড স্কারামাঙ্গার কাছে গিয়ে একশটা ডলার আর পিস্তলটা চেয়ে নিল। ঘরে একটিমাত্র জোরালো আলো মেয়েটির ওপর। হঠাৎ বন্ড বো করে ঘুরে হাঁটু গেড়ে বসে হাত সোজা করে গুলি ছুঁড়ে দিল। বিকট আওয়াজ। গান বাজনা সব বন্ধ। মেয়েটির মাথার আনারস বন্ডের গুলিতে উড়ে গিয়েছিল। তার একটা টুকরো থপ করে কিসের ওপর যেন গিয়ে পড়ল। হোটেলের স্টুয়ার্ড ছুটতে ছুটতে অন্ধকারের মধ্যে এসে উপস্থিত। বন্ড মেয়েটির কাছে গিয়ে বলল, আমি তোমার আনারসটা টিপ করেছিলাম তোমাকে নয়। একশ ডলারের নোটটি তার বুকের মধ্যে খুঁজে দিয়ে বলল, পরের নাচটার জন্য তৈরি হও। এবার বাজনাদারদের কাছে গিয়ে বলল, আমি রাম পাঠিয়ে দিচ্ছি টেনে বাজাও। তারপর স্কারামাঙ্গাকে পিস্তলটা ফিরিয়ে দিল। এবার শুরু হল ব্যান্ডে উত্তাল বাজনা।
দেখা গেল হৃষ্টপুষ্ট চেহারার চারটি মেয়ে পরনে লজ্জা নিবারণ করার মত যৎসামান্য পোশাক ছাড়া আর কিছুই নেই, তারা অঙ্গভঙ্গি সহকারে নাচ জুড়ে দিয়েছে। ড্রামের তাল আরো বাড়ল। এবার দেখা গেল সর্বশরীর নাচাতে নাচাতে সম্পূর্ণ নগ্ন একটি মেয়ে হাজির হল। তার গায়ে কষে নারিকেল তেল মাখা। দেখে মনে হয় মেয়েটির শরীরে চীনে রক্ত আছে। কারামাঙ্গার চোখের দৃষ্টি মেয়েটির ওপর। সব মিলিয়ে কদর্য আবহাওয়া। স্কারামাঙ্গা তালি বাজিয়ে বাজনা দলের প্রধানকে ডেকে তার হাতে একটি নোট দিয়ে কি যেন বললেন। বন্ড আন্দাজ করল আজ রাতের জন্য কনের ব্যবস্থা হয়ে গেল মহাপ্রভুর। বন্ডের আর ভাল লাগছিল না, সে বাথরুমে যাবার নাম করে পালাল। সে যখন ঘরে পৌঁছল তখন রাত বারোটা। জানালাগুলো অর্ধেক খুলে দিয়ে তারপরে গোসল করে বিছানায় লম্বা ঘুম।
