ফিরে এসে স্কারামাঙ্গাকে সে জিজ্ঞেস করল, এখন তার কি কাজ আছে, সে এখন কোথায় থাকবে?
স্কারামাঙ্গা বন্ডের দিকে কঠিন ভাবে তাকিয়ে বলল, আজ বিকেল চারটের সময় জেনারেল মিটিং। এই মিটিং এ আমাকে যেন কেউ বিরক্ত করতে না আসে। এটা দেখাই তোমার কাজ। এই মিটিং এ কারা কারা আসতে পারেন, কোথা থেকে, কি উদ্দেশ্যে আসবেন সব কিছুই কাগজ পেনসিল নিয়ে বন্ড স্কারামাঙ্গার কাছ থেকে লিখে নিল। কিন্তু যে নামটি দেখে সে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হল তা হল মিঃ হেনড্রিক্স এর নাম, যিনি ইউরোপীয় স্বার্থে আসছেন। এটাই যদি তার আসল নাম হয় তাহলে তিনি ওলন্দাজ। কাউন্টারের সামনে হঠাৎ এক ভদ্রলোকের গলা শোনা,গেল, তিনি বললেন, আমি মিঃ হেনড্রিকস। আমার জন্য ঘর থাকার কথা।
.
পরিবেশন হচ্ছে তো?
এক এক করে গাড়িগুলো এসে ঢুকতে লাগল। সামনে দাঁড়িয়ে তোে হাসি দিয়ে স্কারামাঙ্গা সকলকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছিল। বন্ড কাছে দাঁড়িয়ে নামের সাথে চেহারা গুলো মিলিয়ে দেখছিল। সব কটারই এক ধাচের চেহারা। পূর্বদিকের ঘরগুলোতে ওদের ব্যবস্থা হয়েছিল। ওরা চলে যেতে বন্ড লিস্ট বার করে নোট লিখে নিতে লাগল। স্কারামাঙ্গা বউকে বলে গেলেন, বারোটার সময় বারে এসো, তোমাকে আমার পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বলে পরিচয় দেব।
বন্ড তার ঘরে ফিরে এসে কয়েকটি জিনিস পরীক্ষা করে। তার বদ্ধমূল ধারণা হল যে, কোন ফাঁকে কেউ এসে তার ঘরখানা তল্লাসী করে গেছে। বন্ড মনে মনে খুশিই হল, সামনে লড়াই হওয়াই ভাল। বন্ড নিজেকে তৈরি করে নিল বারে যাবার জন্য। কনফারেন্স রুমে ঢোকার পথের উল্টোদিকে পেতলের চাকতি খোদাই করা চামড়ার দরজা ঠেলে ঢুকতে হয় বারে।
বন্ড ঢুকল। দরজাটা নিজে থেকে বন্ধ হয়ে গেল। বন্ডকে স্কারামাঙ্গা আর সবাইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন নিজের সহকারী হিসাবে।
মুখে হাসি ফুটিয়ে বন্ড অতিথিদের আপ্যায়ন করতে লাগল। সে সকলের সাথে নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলাপ করতে লাগল। মিঃ হেনড্রিকস ছাড়া আর সকলেই শ্যাম্পেন খাচ্ছিল। বন্ড হেনড্রিকসের সাথে আলাপ করল।
বারের কাছে রাজকীয় ভঙ্গিমায় এখনো দাঁড়িয়ে স্কারামাঙ্গা। হেনড্রিকস স্কারামাঙ্গার কাছে এগিয়ে গিয়ে অনেকক্ষণ ধরে কিছু গোপন কথা আলোচনা করলেন। বন্ডের ধারণা অনুযায়ী লোকটি হয় মাফিয়া নয় কেজিবি র লোক। হয়ত বাকি পাঁচজনও জানে না ঠিক কাদের লোক হেনড্রিকস কিন্তু বিশেষ শক্তিশালী কোন গোষ্ঠীর সেটা তার ধরন ধারনেই বোঝা যায়।
দুটো টেবিলে দুপুরের খাবার দেওয়া হল। প্রত্যেক চেয়ারে নাম লেখা কার্ড আঁটা। টেবিলের মাথায় গৃহকর্তার জায়গায় স্কারামাঙ্গা, অন্য টেবিলে বন্ড। রুলেত খেলায় বাজিধরার প্রসঙ্গ তুলে বন্ড একটু তর্কাতর্কি করার চেষ্টা করল, কিন্তু কাকস্য পরিবেদনা। এরপরে আয়-ব্যয় ঘটিত এক মহা জটিল আলোচনা শুরু হল। পাশের টেবিলের দিকে দৃষ্টি দিল বন্ড, সেখানে আরো কম কথাবার্তা চলছে।
খাওয়া শেষ হতে যে যার ঘরে চলে গেল। বন্ড হাঁটতে হাঁটতে গেল হোটেলের পিছন দিকে। কোট আর টাই খুলে নিয়ে সে একটা ঝোঁপের ছায়ায় বসে পড়ে দেখতে লাগল কাঁকড়াগুলোর বালির ওপর যাওয়া আসা। চোখ বন্ধ করে সে ভাবতে লাগল মেরী গুডনাইটের কথা। হঠাৎ ঘড়ি দেখে চমকে উঠল। সাড়ে তিনটে। চট করে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করে, কাঠের টুকরোগুলো যে কাজের জন্য আনা তাতে চলবে কিনা পরীক্ষা করে দেখে বারান্দা দিয়ে হলের দিকে হাঁটা দিল।
ডেস্কের পিছন থেকে ছিমছাম চেহারার ম্যানেজারটি এগিয়ে এসে ডাকলেন, মিঃ হ্যাঁজার্ড, আপনার সাথে আমার
সহকারী মিঃ ট্রেভিসের আলাপ হয়নি বোধহয়? আপনি কি একটু আসবেন আমার অফিসে? উনি ওখানে আছেন।
কনফারেন্স শুরু হচ্ছে এক্ষুনি। পরে এলে হয় না।
এক পা এগিয়ে এসে লোকটি বলল, কিন্তু মিঃ বন্ড, উনি আপনার সাথে এক্ষুনি দেখা করতে চান।
দুই গুপ্তচর নিজেদের চিনে ফেলতে দেরি করল না। বন্ডের মুখ হাসিতে ভরে গেল। মিঃ টেরিভিসও হাসি মুখে বললেন, অধমের নাম ফেলিক্স লিটার। অ্যাকাউন্টেন্ট। আপাতত থান্ডারবার্ড; হোটেল আমাকে ধার নিয়েছে মর গ্যাস গ্যারান্টি ট্রাস্টের কাছ থেকে। অনুগ্রহ করে কি আপনার পরিচয়টা বলবেন?
.
মিটিঙে কি হল?
খুশিতে ডগমগ হয়ে বন্ড ডেস্ক থেকে গোটা কতক পত্রিকা তুলে নিয়ে দেখে মিঃ গ্যাং গেরেলা আসছে। ধাঁ করে বলে বসল নমস্কার। অবশ্য কোন উত্তর পেল না। বন্ড হাজির হল কনফারেন্স রুমের দরজার সামনে। বন্ডকে দেখে কারামাজা বললেন, ওহে আমরা ঢুকে গেলে দরজাটা বন্ধ করে দিও, হোটেল রসাতলে গেলেও খুলবে না।
স্কারামাঙ্গার পিছন পিছন আরো ছ জন গিয়ে ঘরে ঢুকল। কে কোথায় বসেছে এক নজর দেখে নিয়েই বন্ড দরজা বন্ধ করে দিল। চট করে একটা শ্যাম্পেনের গ্লাস তুলে নিয়ে দরজার কাছে চেয়ার টেনে বসল সে, গ্লাসের মুখটা দরজার একটা কার সাথে সেঁটে নিচের দিকটায় কান লাগিয়ে। হেনড্রিকস বলছিল, চেয়ারম্যানের খোঁজে এদিকে এসেছে। বৃটিশ সিক্রেট সার্ভিস-এর লোক।
স্কারামাঙ্গা জবাব দিল, এরা তো আমার জলখাবার। এই তো কিছুদিন আগে ওদের একজন আমার খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল। লোকটার নাম রস। দিলাম ব্যাটাকে সাবড়ে।
