অর কি?
শুধু অর। হেরান্ডের একজন, যতদূর মনে হচ্ছে ওরা বেডল্যামের খোঁজ পেয়ে গেছে। ক্লোফেন্ডের সাংকেতিক নাম। বেডল্যাম, সত্যি কিন্তু খোঁজ পাওয়া গেল। বন্ডের গলায় সমীহভাব। গুডবাই, আমি এখুনি আসছি।
বন্ড গিয়ে গাড়িতে উঠে পড়ল এবং দ্রুত গাড়ি চালিয়ে দিল। তার মাথায় কিছুতেই আসছে না যে কলেজ অফ আরমস্-এর এই ব্যাপারে কি করার আছে। বংশ পরিচয় নিয়ে এই সংস্থানের কারবার। পূর্বপুরুষদের নাড়ী নক্ষত্র খোঁজে বেড়ায় এরা, রাজকীয় খেতাব বা উপাধি দেয় যোগ্য ব্যক্তিকে। শহরের প্রান্তে কুইন ভিক্টোরিয়া স্ট্রীটে এদের দপ্তর। কোর্ট ইয়ার্ডে গাড়ি রেখে বন্ড ভেতরে ঢুকল। একটি বেয়ারা এগিয়ে এসে দাঁড়াল। বন্ড বলল, সে গ্রীফনের সাথে দেখা করতে এসেছে, এখানে আসবার কথা ছিল।
হ্যাঁ, এই যে এদিকে চলে আসুন।
বেয়ারাটি একটি দরজায় এসে ধাক্কা দিল, নিজেই দরজা টেনে ফাঁক করল, সে এসে জানাল জেমস্ বন্ড দেখা করতে এসেছে। লোকটি টেবিলের ওপাশে বসেছে। মাথায় একটুও চুল নেই। টেবিলের ওপর অসংখ্য বই ও কাগজপত্র এদিক ওদিক ছড়ানো আছে। বন্ড এগিয়ে গিয়ে একটি মাত্র ফাঁকা চেয়ারে এসে দাঁড়াল। লোকটি মুখ নিচু করে পড়ে যাচ্ছে। গালিচার জন্য জুতার শব্দ হয়নি।
বন্ড একটা শব্দ করল মুখ দিয়ে, লোকটি তাকিয়ে দেখল, চোখ পাকাল। অন্যমনস্ক হয়ে হাসল, তারপর দাঁড়াল। উঠে। বন্ড, কমান্ডার জেমস্ বন্ড। বন্ড, বন্ড, বন্ড। আমার মনে হয় তোমার নাম এখানে আছে। এবার লোকটি বসে পড়ল। বন্ডও বসল, সত্যি খুব মজার ব্যাপার তো। কিন্তু আমি এর জন্য দুঃখিত, তোমাকে হতাশ হতে হবে। এই উপাধিটা মুছে গেছে। বাস্তবিকই এটা ব্যারনের একটা উপাধী। তবে সাক্ষীসাবুদ দ্বারা আমরা একটা সম্বন্ধ স্থাপন করতে পারি অবশ্য। বিশাল বইটার খোলা পাতার উপর একটু ঝুঁকে পড়ল সে। বন্ডদের মধ্যে আবার দশটা বিভিন্ন ধরনের পরিবার দেখা যায়। এই নামটা স্যার টমাস বন্ড পর্যন্ত এসে সেটা থেমে গেছে একটি নামী পরিবারে। অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি উনি, তিনি বাস করতেন পেকহ্যামে। কিন্তু একটা বড় দুঃখের কথা যে ভদ্রলোকের কোন সন্তান ছিল না। পসনেটা একবার ঝলকে উঠল–যেন বন্ডকে উৎসাহিত করার জন্যই। মানে কোন বৈধ সন্তান। সে সময় কোন নীতিরীতির কোন ধার ছিল না। এখন আমরা যদি পেকহ্যামের সাথে কোন একটা সম্বন্ধে বিশ্বাসী হই তবে
আমার সাথে পেকহ্যামের কোন সম্পর্ক অবশ্য নেই। আমি
গ্রীন হাত দিয়ে তাকিয়ে থামতে বলেছিল। বেশ শান্ত গলায় বলল, তোমার বাবা-মার বাস কোথায় ছিল? তোমাকে নিশ্চয় সেটা জিজ্ঞেস করতে পারি? এটাই হচ্ছে এটার প্রথম সূত্র। তারপর দেখতে হবে সমারসেট হাউস। গীর্জার নথিপত্র, আর পুরানো সমাধিক্ষেত্র। তোমার মত একজন সম্ভ্রান্ত ইংরেজ নামের আগে–সম্পর্ক বার করা তেমন কোন মুস্কিলের কাজ নয়।
সব বুঝে গেছি। তুমি আমাদের খরচের কথা ভাবছ। সেটা পরে ভাবলেও চলবে। কোন দেশ থেকে তোমার বাবা • গিয়েছিলেন স্কটল্যান্ডে সেটা জান কি?
আমি নিজের ব্যাপারে কিছু জানতে আসিনি। আমি এসেছি ব্লোফেল্ড-এর সম্বন্ধে খোঁজ খবর করতে।
কি ব্যাপার? গ্রীফনের চোখে রাজ্যের বিস্ময়। তোমার কোন বংশে জন্ম সেটা কি তুমি জানতে চাও না? কি সুন্দর হবে তুমিই বল যে যদি তুমি জানতে পার তোমার কোন পূর্ব পুরুষের নামে বন্ড স্ট্রীট হয়েছে? স্যার টমাস বন্ডের নাম জান তো? রাজকীয় খেতাব সম্বন্ধে তোমার কোন উৎসাহ নেই? তোমার ভবিষ্যতের সন্ধান-এর জন্য অন্ততঃ তোমার খোঁজ করা উচিত। মূল্য তো কিছু আছেই এতে।
কিন্তু না আমার এতে কোন আগ্রহই নেই। তাছাড়া আমার তো কোন আত্মীয় স্বজন নেই। কোন সন্তান নেই। হ্যাঁ, এখন যা বলতে যাচ্ছি। এই যে লোকটি একটা প্রবাদ আছে জান তো? পৃথিবীর পরিধি অনেক দূরে বিস্তীর্ণ। তার অনুসন্ধান রাখলেই সীমার মধ্যে হতে পারে না। তোমার আছে সেটা জানার।
এই কথাগুলি খুবই সুন্দর। কিছুই আমার জানার নেই। বন্ড এখন ঘড়ি দেখল। কিন্তু এবারে একটু কাজের কথা বলা যাক। যে জন্য আমি এখানে এসেছি। ফিরে গিয়ে আমার মন্ত্রী-দপ্তরে রিপোর্ট দিতে হবে।
ওঃ, তোমার যদি এই রকম কথাতেও কোন আগ্রহ না থাকে কি আর করা যাবে বল।
মনে হয় আপনার দপ্তর এই লোকটি সম্পর্কে কিছু খোঁজ খবর রাখে।
গ্রীফনের চোখে একটা সন্দেহ দেখা গেল। তোমার নামই তো জেমস্ বন্ড। এখন আবার ব্লোফেন্ডের নাম করছ। ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারছি না।
বন্ড গলায় একটু শান্ত এনে বলল, আমি এখানে এসেছি দেশ রক্ষার মন্ত্রী দপ্তর থেকে। এই বাড়িতেই কোন না কোন অফিসে ব্লোফেন্ড সম্পর্কে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কোথায় গেলে তার খবর পাব?
ব্লোফেল্ড না? আরে সেই কথাই বল। সেটাই বল! গ্রীফনের চোখে তীরস্কার ফুটে উঠল। ক্ষমা কর, কমান্ডার বন্ড। তুমি আমার অনেক সময় নষ্ট করে দিয়েছ। প্রথমে তুমি কেন এই নামটা বললে না, এটাই আমার বোঝার বাইরে আছে। দাঁড়াও দেখছি, ব্লোফেল্ড, ব্লোফেন্ড। হ্যাঁ, সেদিন আমাদের কথাতে নামটা উঠেছিল মনে হল। এই কেসটা যেন কার কাছে আছে। হ্যাঁ ঠিক। বন্ড-এর আড়াল থেকে টেলিফোনটা তুলে নিয়ে বলল, সেল ব্যাসিলিস্ককে একটু দাও।
