গাড়ি বাইরে। স্ট্রেঞ্জওয়েসকে মনে আছে? ওরই গাড়ি–সানবিম আলপাইন। ফ্রোমের সব থেকে শাসাল মক্কেলের নাম টোনি হিউগিল। আগে নৌবাহিনীতে কাজ করেছে। ভাল লোক। এবছর কিউবার খুব দুঃসময় গেছে। ঝড় হয়েছে প্রচণ্ড। আর বৃষ্টি। ইতিমধ্যে ক্ষেপনাস্ত্র কেলেঙ্কারীকে রাশিয়ার প্রচুর টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন কিউবাকে বাঁচাবার জন্যে আরো টাকা আর জিনিসপত্র ঢালতে হচ্ছে। সারা পৃথিবী জুড়ে চিনি নিয়ে এক বিরাট দাবা খেলা চলছে–চিনির ভবিষ্যৎ নিয়ে। যতদূর সম্ভব জ্যামাইকার ফসল নষ্ট করে দেওয়া কিউবার স্বার্থ। মেরি একটু থেমে গ্লাসে চুমুক দিল।
বন্ড জানতে চাইল, তোমার কর্তা রস কোথায় গেছে?
গুডনাইট চিন্তিত মুখে বলল, সত্যি বলতে কি আমি নিজেই জানি না। গত সপ্তাহে, ট্রিনিদাদে কি কাজে ওকে যেতে হয়েছিল। স্কারামাঙ্গা বলে একটা লোকের পিছনে।
বন্ড আবার জানতে চাইল, সাড়ে তিন নং লাভ লেন সম্বন্ধে কোন খোঁজ আছে? মেরী গুডনাইট লজ্জিত মুখে বলল, পাইনি আবার? নাক কুঁচকে জানাল, মানে সাভানা লা মারের একটা নামকরা খারাপ জায়গা।
ওর অবস্থা দেখে হো-হো করে হেসে উঠল বন্ড।
.
সাড়ে তিন নম্বর লাভ সেন
প্রচণ্ড রোদ। একের পর এক পার হয়ে যেতে লাগল স্প্যানিশ টাউন, ব্লাক রিভার। বিকেল চারটা নাগাদ ওরা পৌঁছাল ছোট্ট শহর সাভানা লা মারের শহরতলীতে। সুন্দর বাংলো প্যাটার্নের বাড়িগুলো, সামনে একটু করে ঘাস জমি, বুগনভিলার ঝাড় আর ক্রোটনের কেয়ারী।
সমুদ্রতীরের পুরানো পাড়াটা বাদ দিলে বাকি শহরটা মোটেই জ্যামাইকা ধাচের নয়। মেরী পথ দেখাবার জন্য বন্ডের সাথে এসেছিল। কাজ শেষ হতে সে বন্ডের কাছ থেকে বিদায় নিল। বন্ড জানাল যে, কাজ হয়ে গেলেই সে ফিরবে। আবার দেখা হবে।
লাভ লেন খুঁজে বের করতে বেশি দেরি হল না বন্ডের। বাড়িটার দিকে ভাল করে তাকিয়ে সে বুঝল এটা এককালে কোন শাসাল ব্যবসাদের বাড়ি ছিল। এখন ভগ্নদশা। রাস্তা পার হয়ে সিঁড়ি বেয়ে ঝোলানো পুঁথির পর্দা ঠেলে ভেতরে ঢুকল জেমস্। কাউন্টারের কাছে গিয়ে দেখল গোলাপি ছোট ফ্রক পরা একটি মেয়ে।
বলুন।
আমি একটা রেড স্ট্রাইপ পেতে পারি?
নিশ্চয়ই।
কাউন্টারের পিছনে গিয়ে অনাবশ্যকভাবে একটু বেশি নিচু হয়ে আইসবক্সের দরজা খুলল মেয়েটি বন্ডের নজরে এল তার সুগঠিত বুকের একঝলক। হাটু দিয়ে দরজায় ধাক্কা মেরে বন্ধ করে সে দক্ষ হাতে ছিপি খুলে একটা ময়লা মত গ্লাসের পাশে বোতলটি বসাল। এক শিলিং ছ পেন্স দাম।
বন্ড দাম দিয়ে একটা টুল টেনে নিয়ে বসল। তারপর সে জানতে চাইল, এখানে ঘর ভাড়া পাওয়া যায় নাকি? মেয়েটির নাম টিফি। সে জানাল, ঘর ভাড়া দেওয়া হয়, তবে গোলমাল বেশি হয় এই যা।
ঘরের পিছনে পুঁথির পর্দার শব্দ হল। বন্ড আস্তে আস্তে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। সুটকেসটা মাটিতে নামিয়ে রেখে এগিয়ে এল লোকটা। স্কারামাঙ্গা সামনে এসে কাউন্টারে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। চেহারার বর্ণনা রেকর্ডের সাথে হুবহু এক। গলায় টাই-এর বদলে সাদা সিল্কের স্কার্ফ বাঁধা তাতে পিন আঁটা সোনার পিস্তল।
বন্ড বিয়ারের বাকিটা শেষ করে উঠে দাঁড়াল। স্কারামাঙ্গার পাশ কাটিয়ে চলে যাবে হঠাৎ লোকটা বাঁ হাত দিয়ে খপ করে ওর বাইসেপস চেপে ধরল। সোনার পিস্তলটা সে এমনভাবে বন্ডের সামনে ধরল যেন একটা গোলাপ।
স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গেল বন্ড, হাত ছাড় ন । কাউন্টার ঘেঁষে চলে গেল বন্ড। সে লক্ষ্য করল স্কারামাঙ্গার দৃষ্টিতে কৌতূহল আর ঘৃণা।
.
হাত বাড়ালে হাজার টাকা
টিফির পাশে হাঁটু গেড়ে বসে বন্ড প্রথমে তার ডান গালে তারপর বাঁ গালে গোটাকতক চড় মারল। ভিজে চোখে এতক্ষণে দৃষ্টি ফিরে এল। বন্ডের দিকে অবাক হয়ে চাইল টিফি। বন্ড একটা কাপড় নিয়ে পানিতে ভিজিয়ে সস্নেহে তার মুখ মুছিয়ে দিতে লাগল। তারপর বলল, ওঠ টিফি, মুখটা ঠিক করে নাও। এক্ষুনি খদ্দের আসতে শুরু করবে।
টিফি ব্যাগটা খুলে তাকাতেই ওদিকে কারামাঙ্গার দিকে নজর গেল। ঘৃণায় মুখ বেঁকিয়ে বলল, আমি তোমাকে শায়েস্তা করছি শয়তান। অরেঞ্জ হিলের ওদিকে মাদার এড়োনাকে গিয়ে সব বলছি, কালই যাব। বন্ড অবশ্য ওর কথাগুলো শুনতে পেল। একটা আয়না বের করে মেকআপ করতে লাগল টিফি। বন্ড পাঁচটা এক পাউন্ডের নোট তার ব্যাগে গুঁজে গিয়ে বলল, এ নিয়ে আর ভেবো না।
স্কারামাঙ্গা বন্ডের দিকে ঘুরে বলল, দাঁড়িয়ে ক টা কথার উত্তর দিয়ে যাও। ফেউ নাকি হে তুমি? পুলিশের গন্ধ পাই যেন?
বন্ড একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসে বলল, আমি কি করব না করব একথা কারো কাছ থেকে শোনার লোক আমি নই। বেশি ওস্তাদি করার চেষ্টা করলে সুবিধে হবে না।
স্কারামাঙ্গা এগিয়ে এসে একটা চেয়ার নিয়ে ঘুরিয়ে সেটার উল্টো দিকে বসে পড়ল। দু হাত টেবিলের ওপর রেখে হাসিমুখে বন্ড বলল, আমি পুলিশের কেউ নই। আমার নাম মার্ক হ্যাঁন্ডার্ড। কাজ করি যে কোম্পানিতে তাদের নাম ট্রান্সওয়ার্ল্ড কনসর্টিয়াম। ফ্রোমের আমের খেতে কাজ করছি আপাতত।
আপনার পরিচয়টা?
স্কারামাঙ্গা। ফ্রান্সিসকো স্কারামাঙ্গা।
বন্ড পায়ের ওপর পা তুলে বসল। তারপর বলল, আপনি কুয়োর মধ্যে ব্যাঙ রাজা ভাবছেন নিজেকে।
স্কারামাঙ্গা কিন্তু চটে উঠল না। একটু ভেবে বলল, তা হবে। ক্যারিবিয়ন কুয়ো ছাড়া আর কি। তবে লাভের জায়গা। এখানকার লোকে সোনার পিস্তলটার জন্য আমাকে চেনে। তোমার মত লোক ঢের দেখেছি। ও পুলিশের গন্ধ চিনতে আমার দেরি হয় না বাবা। খোঁজখবর পাওয়া গেল কিছু?
