বন্ডের মুখ রক্তশূন্য। একটুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে দেখলেন M তারপর দেওয়ালের দিকে মুখ ফেরালেন। তারপর চিফ অফ স্টাফকে বললেন, যাক, যা হবার হল। আমার আগের জন ঐ চেয়ারেই মারা যান এরকম এক পাগল অফিসারের গুলিতে। পাগলদের বিরুদ্ধে তো আইন চলে না। তিনি চিফ অফ স্টাফকে বললেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্যার জেমস মলোনিকে ধরার চেষ্টা করুন। 007-কে নিয়ে যাও ওঁর ওখানে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুব গোপনে।
স্যার জেমসকে আমি আজ বিকালে সব বুঝিয়ে বলব। সংক্ষেপে তোমাকে বলি, কেজিবি র খপ্পরে পড়ে ছিল বেচারা। মগজ ধোলাই করে আর কিছু বাকি রাখেনি। আপাতত হোটেল থেকে ওর জিনিসপত্র আনিয়ে নাও, বিলপত্তর চুকিয়ে দাও। আর প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়ে দাও প্রতিরক্ষা বিভাগ আনন্দের সাথে জানাচ্ছেন যে, জেমস্ বন্ড যিনি গত নভেম্বরে জাপানে নিহত হয়েছেন বলে ঘোষিত হয়েছিল, প্রায় এক বছর পর অত্যন্ত বিপদসঙ্কুল পথে সোভিয়েত রাশিয়ার মধ্য দিয়ে ফিরে এসেছেন। আশা করা যাচ্ছে, তার কাছ থেকে অনেক মূল্যবান তথ্য পাওয়া যাবে। তিনি এখন ডাক্তারের পরামর্শাধীনে সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিচ্ছেন।
বন্ডকে আপাতত ওর পুরানো সেশনেই অর্ধেক রাখা হোক। আর গত বছরের জন্য বেতন আর ভাতা যেন পুরো দেওয়া হয়। যদি 007-কে আবার নিজের পায়ে দাঁড় করাতে পারি তাহলে ও-ই হবে ঐ শয়তানটাকে শায়েস্তা করার উপযুক্ত লোক।
007-কে আর একবার লড়াই করতে পাঠানোই ভাল। কারণ যদি ও জেতে একমাত্র তাহলেই আমরা ওর আজকের ব্যবহার ভুলে যেতে পারব।
দরজায় টোকা দিয়ে ঘরে ঢুকলেন মেডিক্যাল অফিসার। M তাঁকে সম্ভাষণ জানিয়ে মিলিটারি কায়দায় একপাক ঘুরলেন, তারপর সোজা বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে।
.
পিস্তল স্কারামাঙ্গা
ক্লাবে বসে হালকা খাবার খেলেন M। মাঝে খবরের কাগজের পাতা ওল্টাচ্ছিলেন, যদিও আসলে তিনি মোটেই কাগজ পড়ছিলেন না। কিছুক্ষণ পর M দরজার দিকে হাঁটা দিলেন। দুটো বেজেছে। বার্কলে স্কোয়ার আর অক্সফোর্ড স্ট্রিট হয়ে উইগনোর স্ট্রিট পেরিয়ে চললেন রিজেন্ট পার্ক। ড্রাইভারের মাথার পেছন দিকে চিন্তাকুল দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বসে রইলেন। হার্ট বিশেষজ্ঞ স্যার জেমস্ মলোনির চিকিৎসায় বন্ড নিশ্চয়ই সেরে উঠবে, কিন্তু পুরানো সেশনে ওকে আগেকার মত কাজে লাগান স্রেফ বোকামি হবে। জেমস বন্ডের নিশানা অব্যর্থ বহুবার প্রমাণ হয়ে গেছে, তা না হলে তাকে 007 নামটি দেওয়া হত না। এ কাজে সফল হলে সে আবার আগের মত খ্যাতি অর্জন করবে। না হলে, অন্তত সম্মানের সাথে মৃত্যুবরণ করবে। উভয় দিকেই প্ল্যানটা কাজ করবে।
ফাইল হাতে করে তার নিজের ঘরে ঢুকলেন M। বাদামী ফোল্ডার খুলে হাত বাড়িয়ে পাইপটা তুলে নিলেন। তারপর পড়তে শুরু করলেন।
বড় টাইপে লেখা ফ্রান্সিসকো পিস্তল স্কারামাঙ্গা। তারপর ছোট টাইপে পেশাদার খুনে। প্রধানত কেজিবি র অধীনে, কিউবার হাভানা থেকে ভিএসএস মারফত কাজ করে। এ বছর থেকে হঠাৎ স্কারামাঙ্গারও খুব শক্তিবৃদ্ধি হতে দেখা গেছে। এসব দেশে পুলিশের সাবধানতা সত্ত্বেও লোকটা যথেচ্ছ ঘুরে বেড়ায়। তার প্রধান অস্ত্র সোনার পাতে মোড়া লং ব্যারেল সিংগল অ্যাকশন কোল্ট 45। সোনার পিস্তলধারী বলেই সে সাধারণত পরিচিত। তার বুলেটগুলো বিশেষভাবে তৈরি, ২৪ ক্যারেট সোনার উপর রূপা দিয়ে মোড়া দমদম বুলেট। বয়স প্রায় পঁয়ত্রিশ, ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি। রোগা পাতলা চেহারা। দু হাত সমান চলে। যে কোন প্রকার স্ত্রীলোেকে আসক্ত এবং খুনের আগে যৌন সংসর্গ করে থাকে। এই বিশ্বাসে যে তাহলে টিপ অব্যর্থ হয়। এ নামের কাটালান সার্কাসের দলের সাথে আত্মীয়তা আছে। ছেলেবেলা তাদের সাথে কাটিয়েছে। লা ভেগাসে জুয়ার আড্ডায় চাকরি করত। ঐ সময় এক লক্ষ ডলার হস্তগত করে। সেই টাকায় ক্যারিবিয়ানের বিভিন্ন অঞ্চলে শেয়ার কেনে। ১৯৬৯ সালে হাভানায় বসবাস করতে শুরু করে। কিউবার কূটনৈতিক পাসপোর্টও আছে। পুলিশ রেকর্ড না থাকার জন্য যথেচ্ছ ঘুরে বেড়াবার স্বাধীনতাও আছে। নানারকমের ক্রেডিট কার্ড এবং জুরিখের ইউনিয়ন ব্যাংকে একাউন্ট আছে। M আবার পাইপটা ধরালেন তারপর পড়তে শুরু করলেন।
সি.সি. নামে আত্মগোপনকারী ব্যক্তিটি আসলে অক্সফোর্ডের ভূতপূর্ব ইতিহাসের অধ্যাপক। M লোকটিকে বিশেষ পছন্দ করতেন না। কিন্তু লোকটির তীক্ষ্ণ মেধা আর জ্ঞানের প্রশংসা না করে পারতেন না। এই লোকটি একটি অদ্ভুত চরিত্র। সহকর্মীদের, যাদের প্রতি এর কোন ব্যক্তিগত আক্রোশ নেই, কেবল মালিকের ইচ্ছা অনুসারে হত্যা করার এই যে প্রবৃত্তি, আমাদের মনে হয় তার পূর্ব জীবনের এক ঘটনা থেকে এর কিছুটা ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে। এর বাবা এনরিকো স্কারামাঙ্গার একটি ভ্রাম্যমান সার্কাস দল ছিল। সেই দলে একে নানা রকম কাজ করতে হত। ম্যাক্স বলে একটি হাতিকে সে ভীষণ ভালোবাসত কিন্তু কোন বিশেষ কারণে পুলিশ হাতিটাকে গুলি করলে স্কারামাঙ্গা পুলিশের সেই লোকটির বুকের মধ্যে সোজা গুলি করে ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। তারপর সে জাহাজে করে সোজা আমেরিকায় পালায়।
আমার মনে হয় এই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মধ্যে লোকটার পরিবর্তনের বীজ নিহিত আছে। পরবর্তীকালে এই স্কারামাঙ্গাই মারাত্মক বন্দুকবাজ বলে খ্যাত হয়। টাইম পত্রিকায় আমি পাশ থেকে লোকটার যে ছবি দেখেছি, তাতে ওর যৌন অস্বাভাবিকতা সম্বন্ধে আমার ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে। টাইম পত্রিকায় স্কারামাঙ্গার বিবিধ গুণাবলীর মধ্যে তার শিক্ষা দেবার অক্ষমতার কথাও ছিল। যাই হোক, এই লোকটি সিক্রেট সার্ভিসের যা ক্ষতি করেছে সেই কথা মনে করে এবং অন্য সব দিক বিচার করে আমি এই সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য হচ্ছি যে, লোকটিকে যতশীঘ্র সম্ভব ধরাধাম থেকে বিদায়ের ব্যবস্থা করা দরকার। স্বাক্ষর সি.সি.।
