তারপর মিঃ কেনেথ ক্যাটালগ হাতে আসরে নামার সাথে সাথে নিলামদার এক লক্ষ দশ হাজার পাউন্ড বললে টেলিফোনের যুবকটি ঘাড় নাড়ছিল। পরক্ষণেই বলে উঠেছিল এক লক্ষ কুড়ি হাজার। কেনেথ ক্যাটালগটা মাথার উপর তুললে, নিলামদার ঘোষণা করে এক লক্ষ তিরিশ হাজার পাউন্ড। তারপর টেলিফোন ধরা যুবকটি অনেকক্ষণ কথা বলার পর ইঙ্গিত করছিল, নিলামদার ঘরের অন্য দিকে তাকিয়ে দেখেছিল কেউ ইশারা করছে কিনা।
তখন কেনেথ বন্ডকে চাপা আওয়াজে মেট্রোপলিটনের দম ফুরিয়ে যাবার কথা বলেছিল। এবং মিঃ বন্ডকে ভাল করে লক্ষ্য করতে বলেছিল যে তার লোকটি হয়ত তখন দাঁড়াবে।
মিঃ বন্ড নিলামদারের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেও কারুর ইশারা বুঝতে পারেনি কিন্তু নিলামদার চিৎকার করে বলে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার পাউন্ড। তখন নিলামদার কেনেথের দিকে তাকালে তিনি হাতে পাঁচটা আঙ্গুল দেখালেন, নিলামদার পঞ্চাশের ঘোষণা করলে দর্শক হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানাল। নিলামদারের দু বার ডাক হয়ে গিয়েছিল।
তারপর ডানদিকের দেওয়ালের কাছে এক ভদ্রলোক কালো চশমা পরে বসেছিল। তার ইঙ্গিত ছিল চশমা খোলা আর রুমাল দিয়ে মোছা।
নিলামদার যতক্ষণ দশ দশ করে নিলামের দাম বাড়াতে থাকে, সেই সুযোগে বন্ড M/S বিভাগের ক্যামেরাম্যানকে লোকটির ফটো তুলতে বললে বেশ কয়েকটি ছবি তুলেছিল। মিঃ কেনেথকে প্রয়োজনীয় লোকটাকে পেতে সাহায্য করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে মিঃ বন্ড নিজের জায়গায় ফিরে গিয়েছিল এবং পরদিন দেখা করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
সেই সময় নিলামদার হাতুড়ি পিটিয়ে কেনেথকেই মরকত গোলকটার বিজয়ী ঘোষণা করেছিল।
নিলাম শেষ হবার পর জেমস বন্ড কালো চশমা পরা লোকটার পিছনে এসেছিল এবং ভাল করে লক্ষ্য করায় বুঝতে পেরেছিল লোকটা রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে পিটার ম্যানিনোকি তার নাম। এরপর সে রাস্তায় নেমে কুইট স্ট্রিটের রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করে।
এরপর পিটার ম্যানিনোসকিকে ফলো করার জন্য M/-এর গাড়িতে উঠে ড্রাইভারকে বললে ড্রাইভার সম্মতি জানিয়েছিল এবং তাকে ফলো করেছিল। পিটার বন্ড স্ট্রিটের মুখে থেকে ট্যাক্সি ধরেছিল, এবং মিঃ বন্ড তাকে দুরত্ব রেখেই ফলো করছিল।
অবশেষে মিঃ বন্ডের ধারণাই সত্যি হল, ভদ্রলোক রাশিয়ান দূতাবাসের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল।
এরপর জেমস বন্ডের চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল M/২-এর ফটো। পররাষ্ট্র বিভাগে পৌঁছলে পিটারকে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণা করতে আর কোন অসুবিধে হবেই না।
তারপরেই জেমস্ বন্ড ট্যাক্সি ড্রাইভারকে ধন্যবাদ জানিয়ে ট্যাক্সি হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যেতে অনুরোধ জানায়।
দি ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান
দি ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান
বলুন, আপনার জন্য কি করতে পারি?
সিক্রেট সার্ভিসের অনেক গোপন ব্যাপার একমাত্র জানেন M আর তার চিফ অফ স্টাফ। হঠাৎ যদি দু জনের মৃত্যু ঘটে তবে কাজের ফিরিস্তি পাওয়ার উপায় হল এক গোপন দলিল। এই দলিলকে বলা হয় ওয়ার-বুক।
নভেম্বরের এক শীতের সকাল ডিফেন্স মিনিস্ট্রিতে যে মেয়েটি সুইচবোর্ডে ছিল সে থামবার সুইচটাকে তুলে তার পাশের মেয়েটিকে বলল, নাও আর এক পাগল। বলছে নাকি জেমস বন্ড। M-এর সাথে দেখা করতে চায়। পাসপোর্ট অনুসারে বন্ডের নাম এখন ফ্রাঙ্ক ওয়েস্টমাকট, কোম্পানি ডিরেক্টর। টেলিফোনের তারে একটি পুরুষ কণ্ঠ, ক্যাপ্টেন ওয়াকার কথা বলছি। বলুন, আপনার জন্য কি করতে পারি?
আমি কমান্ডার জেমস বন্ড বলছি, বন্ডের গলা ধীর ও স্পষ্ট। আপনি কি দয়া করে আমাকে M কিংবা তার সেক্রেটারি মিস মানিপেনির সাথে কানেক্ট করে দেবেন?
-আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে মেজর টাউনসেন্ডের সাথে। চুয়াল্লিশ নম্বর কেনসিংটন ক্লয়স্টার্স। এই হল ঠিকানা আর টেলিফোন : কেনসিংটন ডাবল ফাইভ ডাবল ফাইভ।
কর্নেল বরিসের কথামত লন্ডনে বন্ড উঠেছিল রিজ হোটেলে। কেজিবি র ফাইলে তাকে বর্ণনা করা হয়েছে এমন একটি লোক যার চালচলনে বড়লোকীভাব। বন্ড লিফটে করে নামল আর্লিংটন স্ট্রিট দিয়ে ঢোকার গেটে। এই অবসরে খবরের কাগজের স্টলে দাঁড়ানো একটি লোক টেলিস্কোপিক লেন্স লাগানো ক্যাননফ্লেক্স ক্যামেরায় বন্ডের ছবি তুলে ফেলল। তারপর একটি গাড়ি বন্ডের ট্যাক্সিকে অনুসরণ করে যেতে লাগল। ইতিমধ্যে আর একটি লোক স্পেশাল ব্রাঞ্চের অ্যাকশন রুমে খবরটা জানিয়ে দিল।
একটি সেকেলে বাড়ি–এই হল চুয়াল্লিশ নম্বর কেনসিংটন ক্লয়-স্টার্স। এক সময় কোলাহল নিবারণী সমিতির প্রধান কার্যালয় ছিল এখানে। বন্ড নেমে ঢুকে যাওয়ার পর দরজা বন্ধ হয়ে গেল। মেজর টাউনসেন্ডের সাথে আমার দেখা করার কথা ছিল, জেমস বন্ড জানাল।
আজ্ঞে হ্যাঁ, উনি আপনার জন্যে অপেক্ষা করছেন। আপনার বর্ষাতিটা কি খুলে নিতে পারি? দরজায় যে ষন্ডামার্কা প্রহরীটি ছিল সে বর্ষাতিটা একটা হ্যাঁঙ্গারে আটকে দরজার পাশের সারি সারি হুকের মধ্যে একটিতে ঝুলিয়ে দিল। বন্ড যেই মেজরের কাছে চলে যাবে তখনই ঐ বর্ষাতি চলে যাবে দোতলায় ল্যাবরেটরিতে। সেখানে কাপড়টা পরীক্ষা করে তার সব বৃত্তান্ত জানা হবে।
সরু বারান্দা। একটি মাত্র লম্বা গোছের জানালা সেখানে কার্পেটের মধ্যে লুকানো স্বয়ংক্রিয় প্রতিপ্রভ পর্দা চালু আছে। এর মর্মভেদী চোখ যা দেখে নিচ্ছে তা যাবে বারান্দার ঠিক উপরে ল্যাবরেটরি ঘরে।
