মিঃ কেনেথ এ বিষয়ে কিছু গণ্ডগোল আছে কিনা জানতে চাইলে মিঃ বন্ড জানায় বিশেষ কিছু নেই। তবে তাদের কাছ খবর এসেছে গোলকটির দাম অস্বাভাবিক তোলা হবে। আর তার সেই দাম তোলার লোকগুলোকে দেখা দরকার। মিঃ বন্ড বলে যে সবাই সেই গোলকটি পেতে চেষ্টা করবে।
মিঃ কেনেথ তার কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলে, মূল্যবান জিনিস পেতে সকলেরই ইচ্ছা হয়। তবে যা অনুমান হচ্ছে। তাতে মিঃ বন্ডের কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
মিঃ বন্ড বলে, এ বিষয়ে তার সাহায্য দরকার।
তাদের তরফে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে জানাতে পারারও অনুমতি দেয়। এবং বলে। মণিমুক্তা নিয়ে যারা ব্যবসা করে তাদের গোপনীয়তা রক্ষা করে চলতে হয়। কাজেই তার উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস রাখার আশ্বাসও দেয়।
তারপর সে আরও ভাল করে বলল, গোলকটার দাম যারা যত বাড়াবে তারাই হল রাশিয়ার গুপ্তচর। তাদের কাজ হবে ওদের চিনে রাখা। আর তার দরকার পরদিন নিলামের কাছে গিয়ে গুপ্তচরদের চিনে রাখা।
ঐ নিলাম পরিচালনা করবে সাবিরের বড়কর্তা পিটার উইলসন নিজে। কখনও আবার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাদের অস্তিত্বকে আড়াল করার জন্য ইঙ্গিতে দাম বাড়ায়। আর ঐ সব ইঙ্গিত নিলামদারদের সাথে কথা বলা থাকে। কাজেই সতর্ক না থাকলে কে দর বাড়াচ্ছে বুঝতে পারবে না। তবে রাশিয়ান গুপ্তচররা নিঃসন্দেহে দাম বাড়াবে। সেইমত তারাও তাদের খদ্দেরদের জানিয়ে দেবে।
মিঃ কেনেথ একটু থেমে বলে, এই নিলামে ক্রোড়পতি, ডিউক, ডাচেসূদের নিমন্ত্রণ জানান হয়েছে। নিলামটা টেলিভিশনে দেখান হবে এবং প্রেস, জার্নালিস্টরাতো আছেই। এরপর মিঃ বন্ডকে জিজ্ঞাসা করে যে সে গুপ্তচর ছাড়া কি কাউকে দেখতে চায়।
সে মিঃ কেনেথকে বলে যে তার অনুমান ঠিক। কিন্তু তাকে জিজ্ঞাসা করে, এই নিলামে পরিচয় গোপন করে কিভাবে যাওয়া যাবে?
এর পর স্নোম্যান কুমিরের চামড়ার নোটকেস থেকে ছাপানো দুটো কার্ড বের করে তাকে দিয়ে বলে, নিলাম হলে তারা পাশাপাশি বসবে, ঠিক সময় মত পৌঁছে যেতে বলে।
মিঃ বন্ড তার কথায় সম্মতি জানিয়ে তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হীরে পান্নার ঝলমলে পরিবেশ থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। বাকি দিনটা দপ্তরে বসে এ বিষয়ে খুঁটিনাটি সব জেনে নেয় এবং এমন একটা লোকের ফটো নিতে চায় যাকে মিঃ বন্ড চেনেই না।
তারপর মিঃ বন্ড পরিবহন বিভাগের দিকে চলে যায় এবং এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে ফ্রয়েডেন স্টাইনের ঘরে গিয়ে দেখে দু জন সহকারি নিয়ে সে খবর পাঠাতে ব্যস্ত।
মিঃ বন্ড সহকারি দু জনের সঙ্গে রসিকতা করলে ফ্রয়েডেন স্টাইন কাজ করতে করতে মুচকি হাসে।
তাকে দেখতে মোটেই ভাল নয়, গায়ের রঙ ফ্যাকাশে, চুল কালো। দেখে মনে হয় কোন দিন বোধহয় গোসল করেনি। এ ধরনের যুবতীরা সাধারণত ভীষণ রাগচটা হয় এসং সমাজের উপর এদের রাগ ও ঘৃণা থাকে। সমাজের উপর প্রতিশোধ নেবার স্পৃহাও এত বেশি থাকে যে এরাই সমাজের শত্রু হয়।
মিঃ বন্ড ভাবল মিস্ ফ্রয়েডেন স্টাইন ধনী হয়ে যাবে এবং সুন্দরী হবার জন্য ভাল ডাক্তার দেখাতে পারবে। তাকে চেনাও যাবে না। ঠিক সময় ট্যাক্সি করে বন্ড নিলাম খানার সিঁড়ি বেয়ে দরজার দিকে এগোয়।
একজন ইউনিফর্ম পরা লোক তার কার্ড পরীক্ষা করে তার হাতে একটা ক্যাটালগ ধরিয়ে দিয়ে সামনের দিকে যেতে অনুরোধ করে। প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে নিজের জায়গাটা খুঁজে বের করে দিখতে পেল মিঃ কেনেথ আগেই এসে বসে আছে। নিলাম ঘরটা একটা টেনিস কোর্টের মতন লম্বা আর চওড়া এবং ঘরের দেওয়ালে কারুকার্য করা জিনিস ছিল।
একদিকে মঞ্চে কাগজ ও টেলিভিশনের কর্মীরা ছিল।
তাদের মধ্যেই সানডে টাইমসের প্রেস ফটোগ্রাফার যথাযথ নির্দেশ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
পঁচিশ হাজার ডলারে একটা হীরের নেকলেস ও পরে হীরে চুনীর-চুড়ি বিক্রি হবার সময়-জেমস্ বন্ড পিছনের ভিড়ে মিশে গিয়েছিল। কারণ পিছনের লোকদের নজর রাখার জন্য।
পেছন থেকে জেমস্ বন্ড সকলকেই তার সন্ধানী দৃষ্টি দিয়ে একবার দেখে নেয় বটে, কিন্তু সবাই নিজেকে কালো চশমা দিয়ে গোপন করতে চেষ্টা করছিল।
তারপর মিঃ বন্ড নিজের চেয়ারে এসে বসলেন মিঃ কেনেথ তাকে নিলামদার পিটার উইলসনের চোখের দিকে নজর রাখতে বলে। কার দিকে তাকাবে বা কে কানে, চোখে হাত দিচ্ছে সেগুলোই লক্ষ্য করতে বলে, কারণ ঐ গুলোই দাম বাড়াবার ইঙ্গিত।
সে যাকে খুঁজছে, সেই লোকটাকে কি দর দেওয়া যায় সে জেনেছে। কাজেই তারপর লোকটা আর দর দেবে না।
তারপর নিলামের বেদিতে উঁচু টুলে করে একটা বাক্স নিয়ে এসেছিল।
তারপর বয়স্ক একজন পরিচালক মখমলের কাপড়ের উপর মরকত গোলকটা বসিয়ে দিল।
সেটাকে দেখার পর জনসাধারণের মধ্যে একটা চাপা গুঞ্জন শুরু হল।
সঙ্গে সঙ্গেই নিলামদরে দামের ইশারাও শুরু হয়েছিল। তারপর গোলকটির দাম ৪০ হাজার পাউন্ড ওঠার পর সাময়িক চুপ থাকে। তারপর এক লাফে এক লক্ষ পাউন্ডে উঠে পড়ে।
সেই সময় সকলের দৃষ্টি যায় নিলামদারের বাঁদিকে থাকা তিনজনের উপর। তারা অনবরত টেলিফোনে কারুর সাথে কথা বলছিল।
একজন ছোকরা এক লক্ষ পাউন্ডের ডাক দিয়েছিল।
মিঃ কেনেথ মিঃ বন্ডকে বলে যারা সবসময় ফোন করছিল তারাই মেট্রোপলিটনের লোক ছিল। টেলিফোনে মেট্রোপলিটনের নির্দেশে নিলামদারের লোকই এক লক্ষ পাউন্ড ডাক দেয়।
