মরকত গোলকটা ভাল করে পরীক্ষা করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ডঃ M-এর কাঁধের দিকে তাকিয়ে বলে, ফাবেয়ার্জের তৈরি জিনিস ওয়াটস্কি প্রতিষ্ঠানের লোকেরা বেশি বিক্রি করে।
মিঃ স্নোম্যানকে প্রশ্ন করলে মিঃ স্নো ম্যান একই মত দেয়।
কিন্তু তাদের মনে হয় যাকে এই মূল্যবান জিনিসটা পাঠানো হয়েছে তাকে সরাসরি টাকা না পাঠিয়ে জিনিসটা পাঠিয়েছে এবং নিলামে তুলে টাকা পাইয়ে দেবার মতলব করেছে।
M ডঃ ফ্যানসকে প্রশ্ন করে মরকত গোলকটার নিলামে কত দাম হতে পারে? তবে তার অনুমান ওয়াটস্কির তরফ থেকে ভাল দর উঠবে। সুতরাং তাদের সেখানে বসে কোন অনুমান করাটা ঠিক হবে না।
জেমস বন্ড মনে মনে স্থির করে, ঐ সব বাজে আলোচনা থেকে বড়কর্তা M-কে বাঁচানো দরকার।
তখন সে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলে, সারাক্ষণ সব কথা শুনেছে কিন্তু সে রকম কোন কিছু পায়নি। তাদের যে একজন সহকর্মীর ভাগ্য খুলেছে, সে বিষয়ে তার সন্দেহ নেই।
তারপরেই জেমস বন্ড উঠে দাঁড়িয়ে বলে তাদের বিভাগের গাড়ি করে কি তাকে বাড়ি পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করবে?
পার্কের মধ্যে দিয়ে বেড়াতে বেড়াতে চলে যেতে পারবে বলে এই প্রস্তাব মেনে নেয়নি।
এর পর ডাক্তার ফ্যানস চেয়ারে বসে থাকাটা ঠিক নয় ভেবে সকলের সাথে করমর্দন করে M-এর কাছে বিদায় নিলে জেমস বন্ড তাকে রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে M-এর ঘরে ঢোকে। এবং সেখানে M-কে পুরানোমোটা ফাইল দেখতে দেখে।
বেশ কিছুক্ষণ পরে M আপন মনে বলে ওঠে ডঃ ফ্যান্স ঠিকই বলেছে, মেয়েটির ১৯৩৫ সালে জন্ম।
জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় যে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে ওঠে তাতে তার মা সক্রিয় ভূমিকা নেয় এবং যুদ্ধের পর দূতাবাসে চাকরি নিয়ে সারবোনে চলে যায়।
মিস ফ্রয়েডন স্টাইনকে তাদের দূতাবাসে বিশেষ সুপারিশ করে পাঠানো হয়।
এখানে তার পরেই সে এক বছরের ছুটি নেয় -এর বেশ কিছুদিন খোঁজ খবর করার পর তাকে লেলিনগ্রেডে বৃত্তি শেখাবার এক স্কুলে পাওয়া যায়।
তারপর চিন্তা করে পায় না যে মিস ফ্রয়েডন স্টাইন কাজে এলে তাকে কোথায় বসাবে।
আর এই সমস্যার সমাধান করে তাদের ১০০ বিভাগ। এবং তারাই পার্পল সাইফারের পরিকল্পনার কথা বলে।
তারপর o07-কে M জিজ্ঞাসা করে, তারপর থেকে যা হয়েছে, সে নিশ্চয় জানে।
তবে আপাতদৃষ্টিতে দেখলে দেখা যাবে, সে বিগত তিন বছর তাদের বিভাগে আছে।
সে সময়ে গুপ্তচর বৃত্তির জন্য রাশিয়ানদের কাছ থেকে কোন টাকাই পায়নি। কারণ ওর ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখেছে বিগত তিন বছর ধরে যা বেতন পেয়েছে, তাই সে ব্যাংকে জমা দিয়েছে। সেই জমা টাকা তুলে এখন জীবিকা নির্বাহ করছে।
জেমস্ বন্ড চিন্তিত ভাবে বলে, এ বিষয়ে তাদের একটু সতর্ক হওয়া উচিত।
যা ব্যবস্থা করা হয়েছে সেই যথেষ্ট।
তারপর কিন্তু যে গুপ্তচর প্রধানটি লন্ডনে বসে সকলকে পরিচালনা করছে, তাকে বের করা উচিত।
হ্যাঁ, জানা উচিত। কারণ, তারা তখনও পর্যন্ত জানে না, সেই ভদ্রলোকটিকে।
স্যারকে বলে, এখন তা জানার সুযোগ এসেছে। প্রথমত রাশিয়ানরা সেই অমূল্য সম্পদের মূল্য বোঝে না। কিন্তু এই দ্রব্যটি যাতে নিলামে আবার রাশিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তার জন্য প্রধান গুপ্তচর ছদ্মবেশে নিলামেও উপস্থিত থাকবে। চড়া দরে মরকত গোলকটা কিনবে। সে সময় তারা ওকে চিনতে পারবে। ফলে, অবাঞ্ছিত লোক ঘোষণা করে তাকে ইংল্যান্ড থেকে বার করে দেওয়া সম্ভব হবে।
একবার ফেরত পাঠালে আবার নতুন করে রেসিডেন্ট ডিরেক্টর পদে যোগ্য লোক পাঠাতে বেশ কিছু সময় লাগবে।
বড়কর্তা M-এর জেমস বন্ডের কথা পছন্দ হয়। এবং রিভলবিং চেয়ারটাকে তার দিকে ঘুরিয়ে বসে, বসে ঠিক আছে।
তারপর তাকে চীফ অফ স্টাফের সঙ্গে সব কথা বলে ব্যবস্থা করতে বলে।
আর যেহেতু ব্যাপারটা M/২-এর এক্তিয়ারে বলেই তাদের সঙ্গে সব কথা তিনিই বলবেন বলেন। তবে নিলামে গিয়ে তাদের ডাকের সাথে থেকে দরিয়া হতে বারণ করেন। তার উদ্দেশ্য রাশিয়ায় ইংল্যান্ডে যে গুপ্তচর প্রধানটি আছে তাকে খুঁজে বের করা।
বড়কর্তার মত পরিবর্তন করে ফেলার ভয়ে বন্ড আর এক মিনিটও অপেক্ষা না করে বেরিয়ে আসে।
সব ব্যবস্থা করার পর জেমস বন্ড ওয়াটস্কির দোকানে আসে। এখানে প্রচুর মূল্যবান জিনিসপত্র সাজানো আছে, সব জায়গাটাই সুন্দর দেখতে। ঐ সব জায়গায় সাধারণত সমাজের ওপর তলার মানুষেরা যাতায়াত করে।
পরিকল্পনা মত জেমস্ বন্ড কেনেথ স্নোম্যান-এর সাথে দেখা করে এবং তার মনে বিশ্বাস জন্মাবার জন্য নিজেকে সি.আই.ডি অফিসার বলে পরিচয় দেয়।
মিঃ কেনেথের মুখে বেশ বুদ্ধির ছাপ আছে। সে একটিবার জেমস বন্ডের দিকে তাকিয়ে তাকে মাটির ঘরে আসতে বলে।
মিঃ কেনেথ মিঃ বন্ডকে কার্পেট মোড়া সিঁড়ি দিয়ে অন্ধকার ঘরে নিয়ে আসে।
বড় ঝলমলে ঘরটার চারদিকের দেওয়ালে কাঁচের আলমারি এবং তাতে সোনা মণিমুক্তা ভরা। মোটা গদিতে ঢাকা বসবার চেয়ার। মূল্যবান ধনরত্ন একটু উঁচু জায়গায় রাখা আছে।
জেমস বন্ড সিগারেট ধরিয়ে মগজের বুদ্ধির গোড়াকে সতেজ করে নিয়ে বলে, কাল সবির নিলাম খানায় ফাবের্জের মরকত গোলক নিলাম হবে। আর সেই নিলাম সম্পর্কে তার কিছু জানার আছে।
