বড়কর্তা M-এর কথা শেষ হওয়া মাত্রই জেমস বন্ড এবং ডঃ ফ্যান্স চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে করমর্দন করেছিল।
ডঃ ফ্যানস কোন মতে জেমস বন্ডের হাত স্পর্শ করেন বটে, কিন্তু সাথে সাথে কাটা কলাগাছের মতন চেয়ারে বসে পড়েছিল। সোজাভাবে জেমস বন্ডের দিকে না তাকিয়ে ডঃ ফ্যান্স একটু আড়চোখেই এক পলক দেখেছিল আর সেই এক পলকেই মানুষের দেহটাকে জরিপ করে সমস্ত খবরাখবর নেবার ক্ষমতা তার ছিল।
বড়কর্তা M জেমস্ বন্ডকে কোন কথা বলতে না দিয়ে নিজেই শুরু করেছিলেন, রাশিয়ার গুপ্তচর বিভাগের মেয়ে হল মিস ফ্রয়েডেন স্টাইন। তাদের সিক্রেট সার্ভিসের বুকে KGB হয়ে সমানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য তারা জেনে শুনেই যোগাযোগ বিভাগের মধ্যেই তাকে চাপে রেখেছে। তার জন্যই পার্পল সাইফার নামে একটা সাংকেতিক সংবাদ-এর অক্ষর বের করেছে।
তার প্রতিদিনের কাজ হল সেই সাংকেতিক সংবাদ অক্ষর ওয়াশিংটনে তাদের CIA. অফিসে পাঠানো। সেই সংবাদ সৃষ্টি করে তাদের সংবাদ বিভাগ ১০০।
তাদের লাইনে ঐ রকম অনেক কাজ আছে যেগুলি ডবল এজেন্টদের করতে হয়। যদিও এদের দেখলে মনে হয়। এরা এক পক্ষের হয়ে কাজ করে। কিন্তু এরা দুপক্ষেরই গুপ্ত খবরাখবর দুপক্ষকে দেয়। সেই জন্যই ১০০ বিভাগের খবর মিথ্যে হয় এবং খবর ছাপার সাথে সাথে শত্রুপক্ষের লোকেরা কাজে লেগে পড়লেও পরে বুঝতে পারে এজেন্টরা ভুল খবর দিয়েছে।
উভয় দেশের কাছে বিশ্বাস হারিয়ে ডবল এজেন্টরা শেষে ঘাতকের হাতে মারা যায়।
মিস্ ফ্রয়েডন স্টাইন সুন্দরী না হওয়ায় কাউকে প্রেমের ফাঁদে ফেলা এবং খবর সংগ্রহ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া গুজগুজ ফুসফুস করে অন্যান্য বিভাগের লোকদের কাছ থেকে খবর নিয়ে রাশিয়াতে পাঠাবার সুযোগ নেই।
তারপরেও কোন খবর সংগ্রহ করতে হলে তাদের যাবতীয় ঝুঁকি নিতে হবে।
পরের অংশটুকু জেমস বন্ড ওরফে o07-কে বলার জন্য বড়কর্তা M ডঃ ফ্যানসকে অনুরোধ করেন।
ডঃ ফ্যান্স জেমস্ বন্ডের মুখের দিকে একবারও না তাকিয়ে নিজের চেয়ারেই একটু নড়ে চড়ে বসে।
নিজের জুতার দিকে তাকাতে তাকাতে মিঃ বন্ডকে জানায় যে ফাবেয়ার্জে একজন রাশিয়ার প্রখ্যাত মণিকার।
অতীতে সে রাশিয়ার জার এবং স্ত্রীদের জন্য নানারকমের অলংকার ইস্টার এগ তৈরি করতো।
তার আগে ও পরে আর কেউ অত সুন্দর মুক্তার জিনিস তৈরি করেনি।
এখনও বিখ্যাত কোন কোন সোনার দোকানে তা পাওয়া গেলেও তাদের দাম পঞ্চাশ হাজার পাউন্ডেরও বেশি।
এই ফাবেয়ার্জের বিখ্যাত জিনিসগুলোর মধ্যে একটা মারকত গোলক তখন দেশে এসেছে। পরিচিত একজনের নামে জিনিসটা প্যারিস থেকে ইন্সিওর করে পাঠানো হয়েছে। যোগাযোগ বিভাগের কর্মী ফ্রয়েডেন স্টাইনের নামে উপহার হিসাবে জিনিসটা এসেছে। মারকত গোলকের দাম হচ্ছে এক লক্ষ ডলার।
ডঃ ফ্যান্স একটু চুপ করলে 007 তাকে প্রশ্ন করে যে কোথা থেকে এই খবর সংগ্রহ করেছে। এই খবরটা 007-এর খুব জুরুরি।
তার আগেই বড়কর্তা M জানায় যে সে সি.আই.ডি বিভাগের সঙ্গে জড়িত। বিদেশ থেকে মূল্যবান কোন জিনিস পাঠাতে হলে দামের সাথে কাস্টমসূ-এর অনুমতি নিতে হয়।
তারপর পররাষ্ট্র বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে প্যাকেটটা খুলতে হয়। 007 জানায় যে মারকত গোলকের বিবরণ ও নকসা পেলে মারকত গোলককে চিনতে তার কোন অসুবিধা হবে না।
তাছাড়া প্যাকেটের উপরে দাম লেখা ছিল। আসলে মারকত গোলকের দাম অনেক বেশি।
তারপর ডঃ ফ্যানসকে M-এর টেবিলে পড়ে থাকা একটা ফটোস্ট্যাট কপির দিকে তাকিয়ে 007 জিজ্ঞাসা করে সে কি ফটোস্ট্যাট কপিটা মিঃ M-কে দিয়েছে কিনা বলে। কারণ তাতে মিস ফ্রয়েড স্টাইনের প্রকৃত পরিচয় জানানো আছে।
১৯১৭ সালে ফ্রয়েড স্টাইনের পিতামহ ফাবেয়ার্জকেই ঐ মারকত গোলক বানানোর জন্য আদেশ দিয়েছিল।
১৯১৮ সালে ফ্রয়েড স্টাইনের পিতামহের মৃত্যুর পর মারকত গোলকটি তার ভাই-এর কাছে রেখে আসে।
১৯৫০ সালে সেটা আবার তার মায়ের কাছে আসে।
আর একটু খবর নেবার পর জানা যায় যে ফ্রয়েড স্টাইনের মা ছোটবেলায় রাশিয়া থেকে চলে আসে।
অবৈধ সন্তান ফ্রয়েড স্টাইনকে নিয়ে সে বিয়ে না করে রাশিয়ানদের সঙ্গে বাস করে।
তার আগের বছর মিস ফ্রয়েডেন স্টাইনের মা মারা যাবার সময় মারকত গোলকটিকে উইল অনুসারে মার এক শুভাকাঙ্ক্ষী মিস্ ফ্রয়েডেন স্টাইনের কাছে পাঠিয়ে দেয়।
সেই সংবাদ সংগ্রহ করে তার মনে সন্দেহ জাগে, কারণ ফ্রয়েডেন স্টাইনের মাহিনাতে এত দামী জিনিস কেনা সম্ভব নয়।
তাছাড়াও সাদবি নিলামদার কাগজে দুষ্প্রাপ্য জিনিসটার মালিক একজন মহিলার নাম জানিয়ে সাতদিন পরে তার নিলামের খবর দেয়।
তারপর সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে এবং মিস ফ্রয়েডেন স্টাইনের সাথে যোগাযোগ করে তাকে কিছু প্রশ্ন করলে সবকটি প্রশ্নের উত্তর পায়, সে গুলোর খবর তার আগেই জানা ছিল।
অন্য কোন উপায় না পেয়ে কাস্টমসের M/5-এর একজন কর্তা সঙ্গে সব কথা আলোচনা করে। সেই কর্তাই তাকে ঐ বিভাগে পাঠিয়ে দেয়। তারপর সে বিষয়ের উত্তরটা তাদের ওপরই নির্ভর করছে।
তাদের সাহায্য করার জন্য বড়কর্তা M ডঃ ফ্যানসকে ধন্যবাদ জানায়।
তবে বড়কর্তা M সে বিষয়ে দু-একটা প্রশ্ন করতে চাইলে ডঃ ফ্যান্স রাজি হয়।
